বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি: সুনেতৃত্ব ও সৎ সাফল্যের উজ্জ্বল উদাহরণ

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২১

বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি: সুনেতৃত্ব ও সৎ সাফল্যের উজ্জ্বল উদাহরণ

আমিনুল ইসলাম
আমি গত ৯জুন ২০২১ তারিখ বিকাল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ বিস্তারিতভাবে পরিদর্শন করি। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, আমি ২০১৯ সালে আরেকবার সমিতিটি এর কার্যক্রম সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে অবহিত হয়েছিলাম এবং সমিতির আয়োজনে সদস্যদের শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী সন্তানদের মাঝে সনদ, সম্মাননা ও অর্থ-পুরস্কার বিতরণ করেছিলাম।
এবার পরিদর্শন ছিল নিবিড় , গভীর ও বিস্তারিত। পরিদর্শনের সময় ঋণদান কার্যক্রম নিবিড়ভাবে দেখি। ঋণ নিতে আসা এবং কিস্তির টাকা জমা দিতে আসা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের হাতের পাসবই জমা বই পরীক্ষা করেছি। অন্যদিকে সমিতির ঋণদান প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভার প্রতিবেদন এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পড়ে দেখেছি। সবশেষে সমিতির নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা পরিষদের সঙ্গে খোলামেলা মত বিনিময় করেছি। পরিদর্শনকালে সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী গোলাপ বানু এবং ১২ সদসবিশিষ্ট বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভানেত্রী ও সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা হচ্ছেন:
ক. জনাব আকলিমা বেগম—সভানেত্রী;
খ. জনাব নিলুফার ইয়াসমিন—সহ সভানেত্রী;
গ. জনাব মাসুমা আক্তার—সম্পাদিকা;
ঘ.জনাব নাছিমা আক্তার— ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য
ঙ. মোসাঃ রেহেনা বেগম— ঐ
চ. জনাব রোমানা আক্তার—ঐ
ছ. জনাব নাজমা আক্তার—ঐ
জ. মোসাঃ রাবেয়া আলম—ঐ
ঝ.জনাব আমেনা ছিদ্দিকী—ঐ
ঞ. জনাব রেহেনা বেগম—ঐ
ট. মোসাঃ মমতাজ বেগম—ঐ
ঠ. জনাব মর্জিনা আক্তার—ঐ
পরিদর্শনকালে সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত থেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন সমিতির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অদ্যাবধি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বপালনরত জনাব নিত্য অধিকারী। আমার পরিদর্শন অভিজ্ঞতা আনন্দদায়ক। সেকথাই পরে আসি। আগে সমিতির পরিচিতি সম্পর্কে একটু বলি।
২। সমিতির অবস্থান ও অফিস
ঢাকা শহরের ভাটারা থানার নুরেরচালা নামক বাজারের মাঝে সমিতির নিজস্ব ৭.৫ কাঠা জমি । তোর ৪ কাঠা জমি ওপর ৬ তলা বিশিষ্ট নিজস্ব বিল্ডিং। এখানেই সমিতির অফিসঘর এবং ঋণদান কার্যক্রমের স্থাপনা। বাকি জমিতে সাড়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। রাজউকের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।
৩। সমিতির কার্য এলাকা:
ঢাকা জেলার ভাটারা বাড্ডা গুলশান খিলক্ষেত রামপুরা দক্ষিণ খান উত্তরখান খিলগাও ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় পিছিয়ে পড়া মহিলাদের নিয়ে গড়ে উঠে বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ। ২০ জন সদস্য নিয়ে জেলা সমবায় কার্যালয়, ঢাকা থেকে নিবন্ধন নং-২১৯/৯৬, তারিখ- ০১/০১/১৯৯৬ নিয়ে কাজ শুরু করে।
সমিতির কার্য এলাকা হচ্ছে: (১) খিলবাড়ীরটেক (সম্পূর্ণ) (২) নুরেরচালা(সম্পূর্ণ) (৩) সাতারকুল ও পদরদিয়া, মেরুল , মগারদিয়া, বেরাইদ (৪) বাড্ডা (সম্পূর্ণ) উলন ও রামপুরা, গুপীপাড়া (৫)শাহাজাদপুর, গুলশান, মহাখালী ও নাখালপাড়া (৬) ভাটারা, নতুন বাজার, ফাসেরটেক, নয়ানগর, বারিধারা , ছোলমাইদ, কোকাকোলা (৭) জগন্নাথপুর , বসুন্ধরা ও কুড়াতলী (৮) কালাচাঁদপুর, নদ্দা, কুড়িল, জোয়ার সাহারা ও ক্যান্টনমেন্ট (৯) খিলক্ষেত, উত্তরা, বরুয়া, কাওলা, এয়ারপোর্ট, উত্তর খান ও দক্ষিণ খান এলাকার বসবাসরত মহিলা কর্মজীবীদের মধ্যে সদস্যপদ সীমাবদ্ধ।
৪। সমিতি গঠনের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ নামে একটি আর্ন্তজাতিক এনজিও ১৯৮৯ সনের ১লা সেপ্টেম্বর থেকে তাদের কার্যক্রম নিয়ে অত্র এলাকায় কাজ শুরু করেন। প্রথম দিকে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন বাধা থাকা সত্বেও থেমে থাকেনি। এক পর্যায় ১৯৯০ সনের ১লা অক্টাবর থেকে কিছু সংখ্যাক অশিক্ষিত মহিলাদের নিয়ে সাতারকুল ফাসেরটেক খিলবাড়ীরটেক নুরেরচালা জগন্নাথপুর বাড্ডা নতুন বাজারসহ বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং এক এলাকার সর্বোচ্চ ২০ জন মহিলাকে নিয়ে এক একটি দল সংগঠিত হয় । মোট দলের সংখ্যা ছিল ২০টি ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪০০ জন। বয়স্ক শিক্ষার সাথে সমবায় সমিতির ধারণা ও আমাদের দেশের সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করা হতো এবং পরবর্তীতে সকলের বোধগম্য হওয়ায় প্রয়োজনীয়তার তাগিদে যখন সকলে সচেতন ও নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য উৎসাহী হলেন পরবর্তী মাস থেকে সমবায় সমিতির জন্য চাঁদা দেয়া শুরু করলেন। মোট পাঁচটি দলে ১০০ জন মহিলাকে বা শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমবায় সমিতির যাত্রা শুরু হয় প্রথমে একজনের মাসিক চাঁদা ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা করে মোট ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা মূলধন জমা করা হয়। দলগুলোর এলাকা ছিল গুলশান থানার মধ্যে নুরেরচালা, খিলবাড়ীরটেক, বাড্ডা, জগন্নাথপুর ও ফাসেরটেক। সমিতিকে প্রাথমিকভাবে গঠন করার জন্য যারা সর্বদা উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন এবং অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে মি: নিত্য অধিকারী (বর্তমান ম্যানেজার) ও প্রাক্তন সভানেত্রী মিসেস গোলাপ বানু অগ্রগণ্য।
ঢাকা জেলা সমবায় অফিস থেকে ১৯৯৬ সনের ১৪ নভেম্বর সমিতি বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি লি: নামে নিবন্ধন করা হয় । সমিতির নিবন্ধন সংখ্যা ২১৯/৯৬। ঐ মুহূর্তে সমিতির সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ২,৩৭৬ জন । উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সনের ৩০শে সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ভিশন অব বাংলাদেশ তাদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে তখন কার ব্যবস্থাপনা কমিটির নিকট সমিতির সকল দায় দায়িত্ব হস্তান্তর করে যায় এবং প্রায় ৭৫,০০,০০০/- ( পঁচাত্তর লক্ষ) টাকা সমিতির কার্যকরী মুলধন ছিল। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ যাবার মুহূর্তে কিছু অর্থ দিয়ে সমিতিকে সহায়তা করেছে ও অফিস কার্যক্রম সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কিছু আসবাবপত্র ও মহিলাদের নিয়ে সেলাই কাজ করার জন্য ৬টি মেশিন দিয়ে যায় । ১লা নভেম্বর ১৯৯৭ থেকে সমিতিতে নতুন করে ও সমিতির নিজস্ব নিয়ম নীতি নিয়ে সঞ্চয়ী প্রকল্প চালু করা হয়। ১৯৯৮ সনে সমবায় সমিতির নিজস্ব জমি ক্রয় ও আধাপাকা ভবন নির্মাণ করে নতুন রুপে সমিতির কার্যক্রম আরম্ভ করা হয় ও বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য প্রকল্প চালু করে সদস্যদের আরো অধিক সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করে আসছে । সমিতি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা উৎস থেকে ঋণ বা আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করে না । এই সমিতি সদস্যদের শেয়ার, সঞ্চয় আমানত ও অন্যান্য আমানত সংগ্রহ করে ৩০শে জুন ২০২০ পর্যন্ত ৪৭১ কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল ও পুঁজি গঠন করতে সক্ষম হয়েছে । সদস্যদের প্রয়োজনে বিপুল পরিমাণি অর্থ ঋণ প্রদান সহ অন্যান্য কল্যানমূখী ও সেবামুলক কাজ পরিচালনায় স্থির রয়েছে । বর্তমান সমিতি মূল সদস্য সংখ্যা ৬০ হাজার প্রায়।
৫। সমিতির লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য
সামাজিক আর কুসংস্কার থেকে উত্তরণের জন্য নারী সমাজকে সংগঠিত করে সমবায়ের মাধ্যমে উদ্যোগতা সৃষ্টি, আয় বর্ধক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচনসহ সর্বোপরি নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে “সমবায় শক্তি, সমবায় মুক্তি” এই স্লোগান ছিল সমিতি প্রতিষ্ঠার পেছনের ভাবনাজাত চালিকাশক্তি।
সমিতির সদস্যদের মধ্যে মিতব্যয়ী, সঞ্চয়ী মনোভাব বৃদ্ধি, পরস্পরের প্রতি সুসর্ম্পক সৃষ্টি, পারিবারিক সহযোগিতা ও বিশ্বাস স্থাপন, নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা, সদস্যের মৃত্যুর পরেও তার পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা, বাল্য বিবাহ বন্ধ, যৌতুক প্রথা বন্ধকরন, ঋণ নিরাপত্তা স্কীমের মাধ্যমে সদস্যদের মৃত্যুর পরে ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা, শেয়ার নিরাপত্তা স্কীমের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান, সদস্যদের জন্য ফ্লাট তৈরী করে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ প্রদান, বৃদ্ধাশ্রম তৈরী করে বিধবা সদস্যদের মধ্যে সেবা প্রদান, সদস্যদের সন্তান- সন্ততিগণের উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া, আবাসিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ, উৎপাদনমূলক ও ভবিষ্যতে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি/ লাভজনক উদ্দেশ্যে সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণের জন্য তহবিল সৃষ্টি করা এবং সর্বজনীনভাবে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করাই এই সমিতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য। এই উদ্দ্যেশ্যেগুলো সামনে রেখে ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ এর ব্যবস্থাপনা কমিটি ও বিভিন্ন উপ-কমিটিসহ সকলে গতিশীলভাবে এক যোগে কাজ করে যাচ্ছে ।
৬। সমিতির আর্থিক কার্যক্রম: একনজরে
সমিতির সদস্যদের উপর জরিপ কার্য পরিচালনা করতঃ তা পর্যালোচনা করে সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি সমিতির কর্মকান্ড পরিচালনা করে এবং সদস্যদের ঋণ দিয়ে থাকে। এ সমিতির ঋণ আদায়ের হার প্রায় শতভাগ। মাত্র ২০ জন সদস্য নিয়ে সমিতিটি নিবন্ধিত হলেও বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৫৯৭১৪ জন। নিবন্ধনকালীন সময়ে সমিতির আদায়কৃত শেয়ার মুলধনের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা। আদায়কৃত সঞ্চয় আমানতের পরিমান ১০ হাজার টাকা, ভর্তি ফি আদায় ২ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করা এই সমিতির বর্তমান আর্থিক অবস্থা হল মোট অস্থায়ী সম্পদ ৭২,৩৯,৮৫৮ টাকা, ঋন বিনিয়োগ ৩৫৯,৫৪,৬১,৪০৬ টাকা, ব্যাংক হিসাব ২৩,৯৯,১৮,৩৫৩ টাকা পরিশোধিত শেয়ার মূলধন ৩,০৪,৯০,৫০০ টাকা, সংরক্ষিত তহবিল ১,৩৬,০৮,০৯৫ টাকা, কু-ঋণ তহবিল ৩৯,২৪,৮০৯ টাকা, কল্যান তহবিল ৬৪,৭৪,৭৭৫ টাকা, ভূমি তহবিল ১৬,৬৯,২৭,২৪১ টাকা, শ্রমপুঞ্জিভূত বন্টনযোগ্য লভাংশ ৮৭,৬৩,৪২২ টাকা, মরণোত্তর তহবিল ১০,৪৯,২২,৩২১ টাকা, সাধারণ সঞ্চয় ১১৮,৫১,৫৩,৮৫৫ টাকা, বিশেষ সঞ্চয় আমানত ২১০,২৪,৪২,৩৯৩ টাকা। শিক্ষা তহবিল ৭৪,৭৫,২৫২ টাকা, স্থায়ী আমানত ৪৪,০৮,৩৯,৩৫০ টাকা। প্রতি বছর সদস্যদের আমানতের উপর ৭% হারে সুদ প্রদান করা হয় এবং প্রতি বছর গড়ে ১ লক্ষ টাকার অধিক শেয়ারের উপর লভাংশ প্রদান করা হয়েছে। সমিতির বর্তমান কার্যকরী মূলধন প্রায় ৫৫০ (পাঁচশত পঞ্চাশ কোটি) টাকা—- ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত ।
৭। সমিতির ঋণদান কার্যক্রম পরিদর্শন
বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি সদস্যদের ২০ হাজার টাকা থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিয়ে থাকে। সুদের হার ১২%। সদস্য হওয়ার ৬ মাস পর ঋণের জন্য আবেদন করা যায়। ৩৬/৪৮/৬০/৬৬/৭২/৮৪ এমন কিস্তিতে তা আদায় করা হয়। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধকারীদের মোট বার্ষিক সুদের উপর ২০% রিবেট প্রদান করা হয় এবং বিশেষ শেয়ার আমানতের উপর ৮.৫% লভ্যাংশ বা সুদ প্রদান করা হয়ে থাকে। ক্রেডিট প্রকল্পে বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬০৩১৫ জন। জমা হওয়া বিশেষ শেয়ার আমানত ২১,০২,৪৪,২৩,৯৩ /০০ টাকা। সদস্যদের কাছে ঋণের পাওনা আছে ৩৫৫,৭১,৪০,৪৬৬/০০ টাকা।
সমিতির নিজস্ব ভবনে কয়েকটি ফ্লোরে ঋণদান সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দেখে মনে হয় এটি কোনো ব্যাংক। নিয়োজিত কর্মচারী কর্মকর্তারা সকলেই সুন্দর পোশাক পরিহিত, মুখে মাস্ক এবং কথাবার্তায় স্মার্ট। তারা নিজের কাজ সম্পর্কে সম্যকভাবে ওয়াকিফহাল এবং আন্তরিক। তাদের বেতনভাতা বর্তমান বাজারদরের বিবেচনায় কম। বিশেষত যারা নতুন যোগ দিয়েছেন, তাদের বেতন খুবই কম ৫/৬ হাজার টাকা মাত্র। অবশ্য তাদের অনেকেই ছাত্রছাত্রী, পার্টটাইম কাজ করেন। যাদের চাকরি অনেকদিনের পুরোনো, তাদের বেতনভাতা মোটামুটি ভালো— ৪০/৫০ হাজার টাকা। মহিলা কর্মকর্তা কর্মচারীগণ বেতন তুলনামূলকভাবে কম হওয়া সত্ত্বেও সমিতিতে কাজ করতে পেরে খুশি। তারা মনে করেন যে পিছিয়ে থাকা নারীদের উন্নয়নের জন্য তারা সেবা দিচ্ছেন। এটা ত্যাগের মানসিকতা যা অবশ্যই প্রশংসা পাওয়ার হকদার।
যারা ঋণ নিতে এসেছিলেন, কিস্তির টাকা জমা দিতে এসেছিলেন, তাদের সংখ্যা সব মিলিয়ে ২০/৩০ ছিল। আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। কেউ ২০ হাজার, কেউ ৫০ হাজার, কেউ ৮০ হাজার, কেউবা লাখ টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন। কারো কোনো অসন্তোষ নেই। সেবার মান সন্তোষজনক। নতুন করে সদস্য হতে এবং ঋণ পাওয়ার জন্য অনেক আবেদন জমা পড়েছে। সেসব নিয়ে খুব উত্তম পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে। একটি বুথে পরিদর্শনের দিন প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছিলেন। এমন বুথ আছে অনেকগুলো। সেবাগ্রহীতাদের জন্য বসার ব্যবস্থা আছে; ওয়াশরুম আছে; অভিযোগ প্রতিকারের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা আছে। সব মিলিয়ে আমার ভালো লেগেছে। তবে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনভাতা কিছুটা বাড়ানোর জন্য আমি আর মতামত দিয়েছি।
৮। কৌন বানেগা লাখপতি!
বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি সদস্যদের সঞ্চয়ের মাধ্যমে লাখপতি হওয়ার স্কীম চালু করেছে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। মাসিক ৬৫০ টাকা করে জমা দিলে ১৫ বছরে পাবেন ২.৫ লক্ষ টাকা ; মাসিক ১৩০০ টাকা করে দিলে ৫ লাখ টাকা; ২৬০০ টাকা করে দিলে ১০ লাখ টাকা; ৫২০০ টাকা করে দিলে ২০ লাখ টাকা; ৭৮০০ টাকা করে দিলে ৩০ লাখ টাকা এবং ১০২০০ টাকা করে দিলে ৪০ লাখ টাকা পাবেন এককালীন। সব ক্ষেত্রেই সময় ১৫ বছর। এই স্কীমে সাড়া মেলেছে। এযাবত ৫৫৭ জন সদস্য আমানত হিসাবে মোট ৭১,৬৩,২১০/০০ টাকা জমা দিয়েছেন। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
৯। সমিতির হাউজিং প্রকল্প
‘‘ বহুদিন মনে ছিল আশা
ধরণীর এক কোণে
রহিব আপন-মনে;
ধন নয়, মান নয়, একটুকু বাসা
করেছিনু আশা। “(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
প্রায় ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে প্রায় ১৮ কোটি লোক। ঢাকা শহরে কত লোক বাস করে ২কোটি নাকি তারও বেশি একমাত্র আল্লাহই জানেন। তো আবাসন সমস্যা দিনদিন প্রকট থেকে প্রকটতর হয়ে তা সংকটে পরিণত হচ্ছে। সমবায় সমিতিগুলো এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসছে যা খুবই আশাব্যঞ্জক ব্যাপার। বারিধারা সমবায় সমিতি একটি হাউজিং প্রকল্প আছে। এখন অবধি সদস্যসংখ্যা ৯৫৮ জন। সদস্যদের প্রতিমাসে ন্যূনতম ৫০ টাকা করে জমা দিতে হয়। সঞ্চিত আমানতের উপর ৭.৫ % হারে সুদ প্রদান করা হয়। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর জেলার টঙ্গী হায়দারাবাদ এলকায় ১২.৫ বিঘা এবং একই জেলার শফিপুর এলাকায় ২ বিঘা জমি কিনে প্রত্যেক বরাদ্দপ্রাপক সদস্যের মাঝে ২.৫ কাঠা করে ৯৬টি প্লট বিতরণ করা হয়েছে।
১০। নারীর ক্ষমতায়নে সমিতির উদ্যোগ ও ভূমিকা
রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘সবলা’ কবিতার নায়িকা সবলার মুখ দিয়ে বলিয়েছিলেন,
‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার
কেন নাহি দিবে অধিকার
হে বিধাতা?’
আসলে কেউ কাউকে অধিকার দেয় না। অধিকার অর্জন করে নিতে হয়; ন্যায্য অধিকার প্রয়োজনে কেড়ে নিতে হয়। বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, ‘তোমাদের কন্যা শিশুদিগকে শিক্ষিত করিয়া ছাড়িয়া দাও দেখিবে তাহারা নিজেদের অন্ন বস্ত্রের ব্যবস্থা নিজেরাই করিয়া নিতে পারিবে।’ তো নারীর ক্ষশতায়নের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, সম্পদ আর সিদ্ধান্তগ্রহণের শক্তি ও স্বাধীনতা। বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়নে সমিতির বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভূমিকা রয়েছে। সমিতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ক্ষমতায়ন অত্যন্ত জরুরী। সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায় সমিতি অন্যান্য সংগঠন থেকে অধিক কার্যকর তাই পিছিয়ে পড়া নারীদের সমবায় সমিতিতে সদস্য হিসেবে অর্ন্তভুক্তির জন্য সমবায় সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমবায় সমিতি সমাজে জনসাধারণকে সংঘবদ্ধ করে এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য টিম বিল্ডিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সমিতির গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠান করার ফলে নারীদের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটছে।
১১। সমিতির শিক্ষা প্রকল্প
শিক্ষা একজন মানুষের প্রধান শক্তি। একথাটি বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাইবহীন প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী জনাব গোলাপ বানু বুঝেছিলেন যেমন বুঝেছিলেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিরক্ষর হযরত মহম্মদ (সঃ) । তিনি বলেছিলেন, ‘‘ দোলনা হতে কবর পর্যন্ত বিদ্যা অর্জন করো।’’ , “ প্রত্যেক মুসলিম নর ও নারীর বিদ্যার্জন করা ফরজ।’’, “ সুদূর চীনদেশে গিয়ে হলেও বিদ্যা অর্জন করো।’’, “ জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্রও।’’ প্রভৃতি। িএরই সমিতি শিক্ষা তহবিল চালু করেছে। প্রত্যেক সদস্য ঋণ গ্রহণের সময় প্রতি হাজারে ১টাকা করে শিক্ষা তহবিলে জমা দেন। সমিতির সদস্যদের সন্তানদের যারা এসএসসি এবং এইচএসসি-তে জিপিএ ফাইভ পায়, তাদের এই তহবিল থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আমি নিজে উপস্থিত থেকে ২১৯ সালে জিপিএ ফাইভ প্রাপ্ত ৮০/৮৫ জন ছেলেমেয়ের হাতে এই তহবিলের টাকায় প্রযোজিত সম্মাননা , ক্রেস্ট ও টোকেন নগদ অর্থ তুলে দিয়েছিলাম। এই তহবিলের জমা হওয়া টাকা থেকে শিক্ষাখাতে ব্যয়ের পর অবশিষ্ট টাকা ভবিষ্যতে সদস্যদের ছেলেমেয়েদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হবে।
১২। সামাজিক কার্যক্রম
বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ সকল ধর্মের মানুষের সংগঠন। প্রতিষ্ঠানটির কার্য এলাকা দশটি থানা অর্ন্তভুক্ত থাকায় বিস্তৃত পরিসরে কার্যক্রম চালু রেখে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে অবদান রাখতে পারছে। এতে করে জনগণের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক, ও পারিপাশ্বিক উন্নয়ন উল্লেখ যোগ্যভাবে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে পারছে। এছাড়া বিভিন্ন উপ-কমিটির মাধ্যমে লিডার তৈরীসহ তাদের পরিবারে ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি সৃষ্টি হচ্ছে। এটি একটি সফল সমিতি বিধায় সকলেই এর সদস্য হতে আগ্রহী এবং এতে করে সমিতির আকার/ ব্যাপ্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে ও সমিতি তার বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে সামাজিকভাবে সদস্য ও জনগণকে অধিকহারে সেবা প্রদান করতে পারছে। সমিতির কাজের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও স¤প্রীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে ও সমবায়ের মাধ্যমে একমাত্র উন্নয়নের সম্ভবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১৩। সমিতি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে গৃহীত পদক্ষেপ
সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদনসমূহ এবং অডিট রিপোর্টগুলো পড়ে এর সকল কাজে স্বচ্ছতা লক্ষ্য করেছি। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ০৯/০৩/২০১৮ খ্রী. ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে মোট ১২ টি মাসিক সভা হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের অডিট সম্পাদন করা হয়েছে ১১/০৯/২০২০ তারিখে এবং সর্বশেষ বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ ২৯/০১/২০২১ ছিল। রের্কডপত্র সংরক্ষণের অবস্থা সন্তোষজনক। সমিতির রের্কডপত্র সমিতির সকল সদস্যদের প্রয়োজনীয়তার তাগিদে যে কোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে সংগ্রহ করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিনিয়ত অডিট ফি ও সমবায় উন্নয়ন তহবিল (সিডিএফ) পরিশোধ করা হয়। সমিতির পর্যাপ্ত সীলমোহর রয়েছে এছাড়াও সমিতির নিজস্ব লোগো আছে। সমিতির ধারাবাহিকতা ও টেকসই নিশ্চিতকরণে সমবায় সমিতি আইন ২০০১ (সংশোধন ২০০২ ও ২০০৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ (সংশোধন ২০১০) সংশ্লিষ্ট ধারা পতিপালনের ফলে সমিতিতে গতিশীলতা এসেছে। সমিতির কর্মকান্ড দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। সমিতিতে বড়ধরনের কোনো জটিলতা নেই।
১৪। প্রশিক্ষণভিত্তিক কার্যক্রম
প্রশিক্ষণ হচ্ছে সমবায় সমিতির সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত। এই সমিতি সেকাজিটি সুচারুরূপে করে আসছে। বিভাগীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর সমিতির অন্যান্য সদস্যদেরকে প্রশিক্ষণ গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ এবং বিভাগীয় প্রশিক্ষক এর মাধ্যমে সমিতিতে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করা হয়। এছাড়া সমিতিতে প্রতি মাসে সদস্যদের নিয়ে সমবায় আইন ও আদর্শের আলোকে জ্ঞান দান করা হয় । সমিতিতে সদস্যপদ প্রদানের পূর্বে প্রতি মাসে নতুন সদস্যদেরকে নিয়ে সমিতির আইন কানুন ও সমিতির নিয়মকানুন সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন প্রদান করা হয়।
১৫। কর্মসংস্থান:
কর্মসংস্থান সৃষ্টি এই সমিতির অন্যতম সাফল্য। বর্তমানে সমিতিতে ১৩৭ জন (মহিলা ৮৪ জন, পুরুষ ৫৩ জন ) নিয়মিত বেতনধারী কর্মচারী রয়েছে। কর্মচারীদের জন্য চাকুরী বিধিমালা, পদবিন্যাস গ্রাচুইটি ও পিএফ ফান্ডের ব্যবস্থা রাখা আছে। কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ কমিটি গঠন করে ও সমিতির সাথে জড়িত নন এমন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দ্বারা স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া করা হয়ে থাকে।
১৬। সমিতির সার্বিক ব্যবস্থাপনা
সমিতির আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ এর ৫৬ বিধি মোতাবেক সকল রেজিষ্টার সমিতিতে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটির মাধ্যমে প্রতি মাসে এক বার সমিতির আর্থিক কার্যক্রমের নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এতে সমিতিতে কোনো ধরনের কারচুপি সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দক্ষ করে গড়ে তোলার নিমিত্ত সমবায় ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী সৃষ্টির জন্য সমিতিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় মর্মে আমাকে অবহিত করা হয়েছে। আমি তা বিশ্বাসও করেছি।
১৭। সমিতির বর্তমান কার্যক্রম ও প্রকল্পসমুহ
বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতিতে ১৩টি প্রকল্প বা কার্যক্রম চলমান আছে। সেগুলো হচ্ছে:
ক.সঞ্চয়ী প্রকল্প;
খ. ক্রেডিট প্রকল্প;
গ. মরণোত্তর সেবা প্রকল্প;
ঘ.বারিধারা মহিলা স্পেশাল ডিপোজিট স্কীম
(বিএমএসডি প্রকল্প)
ঙ. স্পেশাল (মর্টগেজ) ঋণ প্রকল্প
চ. এফ ডি আর প্রকল্প
ছ.হাউজিং প্রকল্প
জ. প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা (ডায়াবেটিক মাপা,
বাচ্চাদেরভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান,
গর্ভবর্তী মহিলাদের টিকা প্রদান)
ঝ. দ্বিগুণ বা ডাবল ডিপোজিট স্কীম
ঞ. ঋণ নিরাপত্তা স্কীম ( এল পি এস)
ট. শিক্ষা প্রকল্প
ঠ. শেয়ার নিরাপত্তা স্কীম; এবং
ড. লাখপতি স্কীম।
১৮। সমিতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
(১) সমিতির সম্পদ ও পরিসম্পদ ২০২১ সালের মধ্যে ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকরত তা ২০০ জন কর্মকর্তা- কর্মচারীতে উত্তীর্ণ এবং সমিতির সকলকে মানবসম্পদে পরিণত করা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা ।
(২) সমিতির ৫টি সেবা কেন্দ্রে (নর্দ্দা, ভাটারা ছোলমাইদ, বাড্ডা আবদুল্লাবাগ, সাতারকুল ও খিলক্ষেত বরুয়া) স্থায়ীভাবে জমি ক্রয় করে ও নিজস্ব জমিতে বিল্ডিং তৈরী অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করা ও এসব এলাকার সদস্যদের সার্বিক সেবা প্রদান করা, বৃদ্ধাশ্রমের ক্রয়কৃত জমিতে ছয় তালা বিল্ডিং নির্মাণ, সেখানে অসহায় ও বিধবা মহিলাদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা ও সমিতির আয় দিয়ে পরিচালনা করা । ইতোমধ্যে দুটি সেবা কেন্দ্রের জন্য জমি ক্রয় করা হয়েছে ও নিজস্ব বিল্ডিংয়ে অফিসের কাজ চলছে।
(৩) গাজীপুর জেলার শফিপুর এলাকায় বৃদ্ধাশ্রমের জন্য ২ বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে । ২০২২ সালে বিল্ডিং তৈরী করে সমিতির সদস্যদের মধ্যে যারা অসহায় ও বিধবা মহিলা তাদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। সমিতির আয় থেকে এসব কাজ সম্পন্ন করার চিন্তা রয়েছে।
(৪) সমিতির সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও সমিতির নিজস্ব অর্থায়নে
অ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করে পরবর্তীতে গর্ভবতী মহিলা, গুরুতর অসুস্থ্ রোগী ও মৃত সদস্যের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বল্প খরচে সেবা প্রদান করা ।
(৫) প্রতিটি সেবা কেন্দ্রে জমি ক্রয় করে ও বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ এবং সদস্যদের মধ্যে স্বল্প দামে ও সহজ কিস্তিতে ফ্ল্যাট বিক্রয় করা এবং প্রতিটি বিল্ডিংয়ে কমিউনিটি তৈরী করে সামাজিকভাবে সেবা প্রদান ও কর্ম সংস্থানের সৃষ্টি করা।
(৬) প্রতিটি সেবাকেন্দ্রে কোয়ালিটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যাতে স্বল্প ব্যয়ে সদস্যদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার সুযোগ গ্রহণ করতঃ পরিবারকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়েতুলতে পারে।
(৭) বর্তমান ৮ লক্ষ টাকা ঋণের ধাপ বৃদ্ধি করে ১৫ লক্ষ টাকায় উত্তীর্ণ করা ।
(৮) অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা এবং ভবিষ্যতে একটি মিনি হসপিটাল করা।
(৯) আরো হাউজিং প্রকল্প ককরে তার মাধ্যমে জমি ক্রয় করে সদস্যদের মধ্যে স্থায়ীভাবে আবাসন সমস্যা সমাধান করা।
(১০) সমিতির সদস্য ছেলেমেয়েদের মধ্যে স্বল্পব্যয়ে ইংরেজি শিক্ষা কোর্স চালু।
(১১) সমিতির সদস্যদের মধ্যে কুটির শিল্পের মাধ্যমে সদস্যদের আয়ের উৎস বৃদ্ধি করা।
(১২) এলাকার পরিবেশ সুরক্ষা ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকা।
(১৩) আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সমিতির সম্পদ ও পরিসম্পদ ১,০০০ কোটি টাকায় উত্তীর্ণকরণ।
(১৪) আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সমিতির কর্মচারী কর্মকর্তার সংখ্যা ৩০০ তে উন্নীতকরণ।
(১৫) আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সমিতির সম্পদ ও পরিসম্পদ ২,৫০০ কোটি টাকায় উত্তীর্ণকরণ।
(১৬) আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সমিতির কর্মচারী কর্মকতা সংখ্যা ৫০০ তে উন্নীত করা।
১৫। সমিতির সাফল্যের স্বীকৃতি
(১) ২০০৩ সালের ১লা নভেম্বর বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ
জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে মনোনীত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট থেকে স্বর্ণপদক লাভ করে।
(২) সভানেত্রী মিসেস গোলাপ বানু ২০০৫ সনে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে জাতীয়ভাবে মনোনীত হন ।
(৩) ২০১০ সনের নভেম্বরে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে ঢাকা জেলা সমবায় অফিস থেকে সমবায় পত্রিকা প্রকাশ করে। যেখানে বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ- কে ‘সফল সমিতি’ হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
(৪) ২০১১ সালের ৫ জুন ম্যানেজার মি: নিত্য অধিকারী মানবাধিকার পরিবেশ ও সাংবাদিক সোসাইটি (মাপসাস) থেকে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে মাদার তেরেসা গোল্ড মেডেল অর্জন করেন ।
(৫) ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে “ আকুর ” ৪০তম ক্রেডিট ইউনিয়ন ফোরাম মিটিংয়ে বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ তার ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ অর্ন্তজাতিকভাবে সমবায় পুরস্কার অর্জন করে।
(৬) ২০১১ সালের ২৩ অক্টোবর ম্যানেজার মি: নিত্য অধিকারী মানবাধিকার পরিবেশ ও সাংবাদিক সোসাইটি (মাপসাস) থেকে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে মহাত্মা গান্ধী গোল্ড মেডেল অর্জন করেন।
(৭) ২০১১ সালের ১৯ নভেম্বর বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে মনোনীত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন।
(৮) ২০১১ সালের ১৯ নভেম্বর বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ এর সভানেত্রী গোলাপ বানু জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী হিসেবে মনোনীত হন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট থেকে স্বর্ণপদক লাভ করেন।
(৯) ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সমিতির সভানেত্রী মিসেস গোলাপ বানু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকট থেকে ‘বেগম রোকেয়া পদক’ অর্জন করেন।
(১০) ২০১৪ সালের ১৯শে ডিসেম্বর ম্যানেজার মি: নিত্য অধিকারী শ্রেষ্ঠ সমবায়ী ও সমাজ সেবায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘হিউম্যান রাইটস গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেন।
১৯। সমিতির সাফল্যের কয়েকটি প্রধান কারণ
(১) শুভ সূচনা:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন যে আরম্ভের আগেও একটা আরম্ভ থাকে। সেটা যদি ভালো হয়, তবে পুরোটাই ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি যারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তারা শুরুতে ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ নামে একটি আর্ন্তজাতিক এনজিও-এর সদস্য। সেই এনজিও সদস্যদের মাঝে সমবায়ের গুণাবলি বিশেষত একতা, সততা ও সৎসাহস সঞ্চারিত করেছিল সফলভাবে। সেই গুণাবলির পরম্পরা নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় রয়েছে সমিতির সকল স্তরে। “ তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে / এ আগুন ছড়িয়ে গেল সব খানে।।’’— রবীন্দ্রনাথের এই গানের মর্মবাণী যেন ফলে উঠেছে সমিতির সবার মাঝে সবখানে সবকিছুতে।
(২) সৎ, সদস্যবান্ধব, দূরদর্শী ও সৎসাহসী নেতৃত্ব:
এই সমিতির প্রধানতম শক্তি হচ্ছে এর উজ্জ্বল নেতৃত্ব। শুরু থেকেই সমিতির প্রাণ হচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী—প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন জনাব গোলাপ বানু্। তিনি সমবায় অঙ্গনে নেতৃত্বের একজন আইকন। সমবায় আইন ও নীতিমালা অনুসারে একজন একটানা তিনবারের বেশি নির্বাচিত হতে পারেন না। তিনিও তা হননি। কিন্তু আইকন হয়ে রয়েছেন সমিতিতে। পরবর্তীতে যারাই নির্বাচিত হয়েছেন, তারাই গোলাপ বানু সততা, নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা, সৎসাহস নিজেদের মধ্যে ধারণ করেছেন। সেই ধারা আজও সমানভাবে অক্ষুণ্ন।
(৩) সমবায়ী গণতন্ত্রের সৎ ও সরল চর্চ্চা:
সমবায় সমিতি আইন, সমবায় সিমিতি বিধমালা এবং সমিতির নিজস্ব উপ-আইন অুনসারে প্রতিটি সমবায় সমিতি হচ্ছে একটি অরাজনৈতিক গণতান্ত্রিক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অনেক সমিতিতে “সমবায়ী গণতন্ত্র” লুণ্ঠিত হয়েছে এবং সেসব সমিতির পতন ঘটেছে অথবা সেসব সমিতির আশানুরূপ সাফল্য অর্জিত হয়নি। বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতিতে আজতক কোনোদিনও গণতান্ত্রিক চর্চ্চা মার খায়নি। কোনো পাওয়ারফুল সদস্য বা ব্যক্তি ছলেবলে কৌশলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কিংবা ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার অপচেষ্টা করেননি। সমিতির সদস্যদের সমর্থনই এই সমিতির নেতৃত্বের ক্ষমতার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পুরুষতন্ত্রের প্রভাব মুক্ত থাকতে পারাটাও এই সমিতির অব্যাহত ও অবিঘ্নিত সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ বলে আমার মনে হয়েছে।
(৪) সাধারণ সদস্যদের জন্য নির্বাচিত নেতৃত্বের শর্তহীন ভালোবাসা ও ত্যাগ স্বীকার:
সমবায় হচ্ছে ভালোবাসা-নির্ভর ভালোবাসা-কেন্দ্রিক ভালোবাসা-চালিত আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়ন পদ্ধতি। যেখানে পারস্পারিক উদার ও নিঃশর্ত ভালোবাসা নেই, সেখানে আর যাই থাক্, সমবায় অনুপস্থিত। সমবায়ের বন্ধন মানেই ভালোবাসার বন্ধন। সমবায়ের মূল পুঁজি সমবেত ভালোবাসা। ” সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। ” এই কাব্যবাণীর মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসার কথা, সম্মিলিত ভালোবাসার কথাই নিহিত রয়েছে। আর এটাই সমবায় সমিতির টেকসই সাফল্যের মূলমন্ত্র। বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি এই সম্মিলিত ভালোবাসাকেই পুঁজি করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।
বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি বছরের পর লাভ করে চলেছে। বেড়ে চলেছে এর মূলধন, বিনিয়োগ ও স্থায়ী সম্পদ। অথচ কোনো ব্যক্তিগত লোভ, অফিসের গাড়ি, বড় অংকের সম্মানীভাতার বাসনা তাদের স্পর্শ করতে পারেন। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভানেত্রী এবং সদস্যগণ মাসে মাত্র ১৩০০/০০ (তের হাজার) টাকা ভাতা নেন। হয়তোবা সেটা তাদের সমিতিতে যাতায়াত ব্যয়ে লেগে যায়। সমিতির অফিসকাজের জন্য ১টি মাত্র মাইক্রোবাস আছে। সভানেত্রী বা অন্য কারো জন্য কোনো যানবাহন নেই।
(৫) সমবায় আইন, বিধমিালা ও উপ-আইনের প্রতি অকুণ্ঠিত শ্রদ্ধাবোধ
বারিধারা মহিলা সমবায় সমবায় সমিতি আইন, সমবায় সমিতি বিধিমালা এবং সমতিরি নিজস্ব উপ-আইন মেনে কাজ করে আসছে। এতে করে সমিতির গণতান্ত্রিক ও সদস্যদের প্রতি দায়বদ্ধ চরিত্র অটুট থেকেছে এবং সমবায় অধিদপ্তরের সঙ্গে কখনো কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। ছোটোখাট মতভিন্নতা থাকতেই পারে কিন্তু সেগুলো অতিক্রম করা অসম্ভব হয়নি কখনো।
(৬) ব্যবস্থাপনা কমিটির নিবেদিত কর্মতৎপরতা
সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতি মমাসে একটি করে সভায় মিলিত হন। তাছাড়াও বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সমিতির সভানেত্রী, সহ-সভানেত্রী এবং সম্পাদিকা এই তিনজন নির্বাহীর দায়িত্বপালন করেন এবং তারা প্রতি অফিসদিন অফিস করেন। তাদের জন্য কোনো যানবাহন নেই। কিন্তু তাতে করে কোনো দায়িত্বপালনে কোনো ত্রুটি কিংবা গাফেলতি ঘটে না।
(৭) মিশনারি প্রেরণা নিয়ে উন্নত সেবা দান
আমি সমিতির কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সেবাদান সেন্টারগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছি এবং বেশ কয়েকজন সেবাগ্রহীতা সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই বলেছেন যে সেবা পেতে কোনো প্রকার হয়রানীর সম্মুখীন হতে হয় না তাদের। যারা সেবা দিচ্ছেন, সেসব কর্মচারীদের অনেকের প্রারম্ভিক বেতন খুবই কম। আমি তাদের প্রায় সবাইকে বেতনভাতার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানিয়েছেন যে বেতনভাতা কিছুটা বাড়ানো হলে তাদের উপকার হয়। কিন্তু কম বেতনেও তারা কাজ করে আনন্দ পান। কারণ তারা মনে করেন যে তারা কেবল চাকরি করেন না, নারীজাতির আর্থসামাজিক উন্নয়নে সেবামূলক ভূমিকা পালন করছেন। ফলে সমিতির প্রতি সাধারণ সদস্যদের আস্থা ও ভালোবাসা আকাশচুম্বী।
(৮) সরকারি শেয়ার, উন্নয়নমূলক প্রকল্প না থাকা
বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি সম্পূর্ণভাবে নিজের পায়ে নিজে দাঁড়িয়েছে। এখানে সরকারের কোনো শেয়ার নেই। সরকারের কোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্প কিংবা বাজেট বরাদ্দ নেই। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ তারা ব্যয় করেন মিতব্যয়িতার সাথে। ফলে সমিতির কোনো অর্থ নয়ছয় করা কিংবা সমিতির অর্থ দিয়ে নিজেদের বিলাসিতার ব্যবস্থা করা এসব কিছুই ঘটেনি। সরকারের অর্থায়ন হলেই লুটপাটের লোভ ও দূরাভিসন্ধি পেয়ে বসে।
(৯) সম্মিলিত স্বপ্ন
বলা হয়ে থাকে, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। এটা একটি সংগঠন অথবা সমবায় সমিতির ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি কারো দান বা অনুগ্রহ চায় না। তারা নিজেদের আর্থিক, মেধাগত ও কায়িক শ্রম দিয়ে সমিতির সদস্যদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে চায় এবং নারীর ক্ষমতায়নে মডেল প্রতিষ্ঠানে নিজেদের উন্নীত করতে চায়। এখানে কারও কোনো ব্যক্তিগত ধান্দা নেই। আছে একটি সম্মিলিত বড় স্বপ্ন। সেই সম্মিলিত বড় স্বপ্নটিই তাদের সকল অবস্থায় সঠিক পথ দেখিয়ে চলেছে।
(১০) একজন নিত্য অধিকারী
প্রতিটি সফল সংগঠনের পেছনে এক বা দুজন নিবেদিতপ্রাণ যোগ্য মানুষের অবদান থাকে। সেটা কখনো প্রকাশ্যে, কখনো-বা আড়ালে। বারিধারা মহিলা সমাবয় সমিতির ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনের অন্যতম কারিগর হচ্ছে শুরু অদ্যাবধি সমিতির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মি: নিত্য অধিকারী।
২০। সমবায় অধিদপ্তরের কাছে সমিতির দাবি
সমিতির নেতৃবৃন্দ পরিদর্শনের দিন আমার কাছে ২টি দাবি জানিয়েছেন। সমিতির কাজের আওতো ঢাকা, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জে সম্প্রসারণে অনুমোদন প্রদান এবং নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ ৩ বছরের স্থানে ৫ বছর করে প্রয়োজনে ৩ টার্মের স্থানে ২ টার্ম করা। ২০২১ সালের ১ এপ্রিল তারা সমিতির কাজের ভ্যেগোলিক আওতা বৃধ্দির অুনমোদন চেয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু সেটা নিবন্ধকের কাছে পৌঁছেনি। আমি সমিতির অফিসে বসেই খোঁজ নিয়েছি এবং ঢাকা বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধককে টেলিফোনে অনুরোধ জানিয়েছি সেই আবেদনটি তাদের মতামতসহ নিবন্ধকের কাছে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে পৌঁছে দিতে। আশা করি সেটা হয়ে যাবে। নির্বাচিত কমিটির মেয়াদের বিষয়টি সমবায় সমিতি আইন -২০০১ এর সঙ্গে জড়িত বিধায় তা আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে। সেটাও বিবেচনায় নিয়ে কাজকরবে সমবায় অধিদপ্তর।
এককালের বিদ্রোহী কবি, চিরকালেরর সাম্যবাদী কবি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সুবিখ্যাত ‘ নারী’ কবিতায় বলেছিলেন,
“সেদিন সুদূর নয়-
যে দিন ধরণী পুরুষের সাথে
গাহিবে নারীর ও জয়।”
আর তিনি পিছিয়ে থাকা নিপীড়িত শোষিত বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মুক্তির পথ হিসেবে সমবায়কে সমর্থন জানিয়ে রচনা করেছিলেন ‘ সমবায় সংগীত ‘’:-
ওরে নিপীড়িত,ওরে ভয়ে ভীত, শিখে যা আয়রে আয় ।
দুঃখ জয়ের নবীন মন্ত্র সমবায় সমবায় ।।
ক্ষুধায় জ্বলিয়া মরেছি সুধার কলস থাকিতে ঘরে ।
দারিদ্র্য ঋণ অভাবে মরেছি না চিনে পরস্পরে ।
মিলিত হইনি, তাই আমাদের দুর্গতি ঘরে ঘরে,
সেই দুর্গতি-দুর্গ ভাঙিবো সমবেত পদ ঘায় ।।
মিলি পরমাণু পর্বত হয়, সিন্ধু বিন্দু মিলে ।
মানুষ শুধুই মিলিবে না কিরে মিলনের এ নিখিলে ।
জগতে জাড়ানো বিপুল শক্তি কুড়াইয়া তিলে তিলে
আমরা গড়িব নতুন পৃথিবী সমবেত মহিমায় ।।’’
দ্বিতীয়বারের মতো বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতি পরিদর্শন করে আমি মহান কবি কাজী নজরুলের ইসলামের ‘ নারী ‘ কবিতায় এবং ‘সমবায় সংগীত’–এ উপরে বর্ণিত ‘ভবিষ্যতবাণী’ এবং ‘উন্নয়ন-নির্দেশনা’– এর সফল বাস্তবায়ন দেখেছি। আমার মন ভরে গেছে।
বারিধারা মহিলা সমবায় সমিতির আরম্ভ থেকে বর্তমান সকল উদ্যোক্তা, নেতৃবৃন্দ ও সদস্যকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
জয়তু সমবায়।

ছড়িয়ে দিন