বালিয়াডাঙ্গীতে নিরন্ন মানুষের জন্য সাংবাদিকের ‘মেহমান খানা’

প্রকাশিত: ৬:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২১

বালিয়াডাঙ্গীতে নিরন্ন মানুষের জন্য সাংবাদিকের ‘মেহমান খানা’

গৌতম চন্দ্র বর্মন,ঠাকুরগাঁওঃ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী বাজারের পাশে প্রতি শুক্রবার ‘মেহমান খানার’ আয়োজন করেন সাংবাদিক হারুন অর রশিদ। উপজেলার আট ইউনিয়নসহ পাশের রাণীশংকৈল ও সদর উপজেলা থেকে ভিক্ষুক, মানসিক ভারসাম্যহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষ এখানে একবেলা মাছ-মাংস দিয়ে ভাত খেতে আসেন। শুরুতে উপস্থিতি কম থাকলেও এখন প্রতি শুক্রবার ১৫০-২০০ মানুষ পেট ভরে খেতে আসেন। ষাটোর্ধ্ব খদেজা বেওয়া (৬০) বেগম বলেন, ‘হামরা ভিক্ষুক বারে, একবেলা খাই তো একবেলা না খায়ে থাকি। দিনের খাওয়া জোগাড় করা হামার তানে কষ্টের। সেইঠে মাছ-মাংস দিয়া পেট ভরে ভাত খাবা পারিমো এইটা তো স্বপ্নেও ভাবু নাই মুই। কোনো মতে ভিক্ষা করে খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটে মোর বাড়ে।’ কোনো একজনের কাছে খবর পেয়ে ‘মেহমান খানায়’ এসেছেন বলে জানান তিনি। স্থানীয় সাংবাদিক হারুন অর রশিদে এ ‘মেহমান খানার’ আয়োজন করেন। ষষ্ঠ সপ্তাহে ২৫০ ও সপ্তম সপ্তাহে প্রায় ৩০০ মানুষ এখানে খেতে আসেন। এ আয়োজন সম্পর্কে সাংবাদিক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘দুই মাস আগের কথা। শুক্রবার দুপুরে এক ভিক্ষুক এসে আমার নিকট খাবার চেয়ে বসেন। পাঁচজনের বাড়িতে খাবার চাওয়ার পরও তাকে কেউ খাবার দিতে রাজি হয়নি বলে জানান তিনি। সেদিন মনস্থির করেছিলাম সপ্তাহে অন্তত একবার এমন নিরন্ন মানুষের জন্য একবেলা খাবার আয়োজন করার। স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজে নেমে পড়ি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুকে “হতভাগা সেন্টার” নাম দিয়ে নিরন্ন মানুষদের খাবারের আয়োজন করার ঘোষণা দেই। প্রথম শুক্রবার বাজারে আসা ভিক্ষুক, মানসিক ভারসাম্যহীন ও নিন্ম আয়ের মানুষকে একবেলা খাওয়ার জন্য দাওয়াত দিই। প্রথম সপ্তাহে ১১৫ জন এসেছিলেন। এরপর এটার নাম পরিবর্তন করে ‘মেহমান খানা’ রাখা হয়।’ হারুন অর রশিদ জানান, ব্যক্তিগত ব্যয়ে গত ছয় সপ্তাহ ‘মেহমান খানা’ পরিচালনা করেছি। ইতোমধ্যে অনেকেই সহযোগিতা করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন এবং অনেকে সহযোগিতা করেছেন। বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রমজান আলী বলেন, সপ্তাহে ২০০ মানুষকে বিনামূল্যে খাওয়ানোর উদ্যোগ সাহসের। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগটি চালু রাখার জন্য সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

November 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930