বিএনপিতে বিশ্বাসঘাতকদের তালিকা চূড়ান্ত

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২৪

বিএনপিতে বিশ্বাসঘাতকদের তালিকা চূড়ান্ত
সদরুল আইনঃ
বিএনপিতে বিশ্বাসঘাতকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এই তালিকা অনুযায়ী বিশ্বাসঘাতকদের দল থেকে বাদ দেওয়া হবে অথবা দলের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে কিংবা নিষ্ক্রিয় করা হবে।
 বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, দলের ভিতর যারা আন্দোলন-সংগ্রামে কাজ করেননি, যারা গা বাঁচিয়ে পালিয়েছেন, গোপনে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন তাদেরকে চিহ্নিত করার কাজ চূড়ান্ত হয়েছে।
 অন্তত শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এই চিহ্নিতের তালিকায় আছেন এবং এরা দলের পদ হারাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া এখন দলের অগ্রাধিকার গুলোকে চিহ্নিত করেছেন। প্রথম অগ্রাধিকারে বিবেচিত হয়েছে যে, দলে যারা নিষ্ক্রিয়, সংকটে যারা ভূমিকা রাখতে পারে না তাদেরকে চিহ্নিত করা এবং তাদেরকে বাদ দেওয়া।
বিএনপির দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হলো সংগঠন পুনর্গঠন এবং নিষ্ক্রিয়দেরকে বাদ দিয়ে যারা রাজপথে কাজ করতে পারে এরকম ব্যক্তিদেরকে সামনে নিয়ে আসা নেতৃত্ব দেওয়া।
তৃতীয়ত, সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং তারপর আন্দোলন গোছানো। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অক্টোবর থেকে নির্বাচনকালীন সময় পর্যন্ত যে সমস্ত বিএনপির নেতারা রাজপথে ছিলেন না, কারাগারে যান নাই এবং কোন রকম কর্মসূচিও পালন করেননি তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
 এদেরকে দলে প্রয়োজন নেই বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাদের বদলে যারা দলের জন্য অবদান রেখেছেন এবং দলের জন্য কাজ করছেন, তাদেরকে সামনে নিয়ে আসা হবে।
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে যে, ২৮ অক্টোবরের পর থেকে বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে তিন ধরনের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অনেকে কারাবরণ করেছেন এবং সরকার তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আন্দোলন বন্ধ করতে চেয়েছিল।
এদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস সহ আরও নেতৃবৃন্দ রয়েছেন। আর কিছু কিছু নেতা আছেন যারা গ্রেপ্তার এড়িয়ে আন্দোলন সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
 এদের মধ্যে ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী অন্যতম বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন। আর কিছু কিছু নেতা পাওয়া গেছে যারা এই সময় রহস্যময় নীরবতা পালন করেছেন। আত্মগোপনের নামে কর্মসূচি পালন করেননি। এরা কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি। এদের অনেকেই গোপনে বা প্রকাশ্যে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের নামও এই তালিকায় রয়েছে। এদের মধ্যে অবশ্য কয়েকজন অসুস্থতাজনিত কারণে কর্মসূচিতে থাকেনি। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে অন্তত ২৫ থেকে ২৬ জন রয়েছেন যারা এই সময়ে কোনো কর্মকাণ্ডে উপস্থিত ছিলেন না। এদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। শাস্তির ধরণ হবে তিন রকমের।
বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন যে, যারা নিষ্ক্রিয় থেকে কিছু কিছু কাজ করেছেন তাদেরকে সতর্ক করা হবে।ভবিষতে তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নেয়া হবে না। যারা একেবারেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন গ্রেপ্তারের ভয়ে তাদেরকে পদ হারাতে হবে।
আর যারা গোপনে গোপনে এ সময় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সরকারের সঙ্গে আপস করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে, তারা দলের পদ হারাবেন।
এরকম বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতা রয়েছেন বলে বিএনপির সূত্রগুলো বলছে। এখন বিএনপির দলের বিশ্বাসঘাতকদের ব্যাপারে অবস্থান হলো দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।
আর এই বাস্তবতায় বিএনপিতে এখন প্রথমে চলবে শুদ্ধ অভিযান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

লাইভ রেডিও

Calendar

April 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930