বিএনপির কাছে আসনের নিশ্চয়তা চায় জোট শরীকরা

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৮

বিএনপির কাছে আসনের নিশ্চয়তা চায় জোট শরীকরা

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দীকী তালুকদার:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটের শরীকদের মধ্যে তত বাড়ছে অস্বস্তি। আসন ভাগাভাগির বিষয়ে বিএনপির নির্লিপ্ততাই শরীকদের এ অস্বস্তি ও ক্ষোভের কারণ বলে জানা গেছে।
শরীক জোট নেতাদের সঙ্গে কথাবলে জানা যায়, তারা এখনই আগামী নির্বাচনে কোনদল কতটি আসনে নির্বাচন করবে তা জোট প্রধান বিএনপির কাছ থেকে নিশ্চিত হতে চায়। কিন্তু বিএনপি এ বিষয়ে বরাবরের মত নির্লিপ্ততা দেখিয়ে আসছে আর সে সঙ্গে শরীকদের বোঝানোর চেষ্টা করছে নির্বাচন নয় এ মুহুর্তে তাদের প্রধান লক্ষ্য জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার কারামুক্তি। দলটির বিশ^াস বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচনের আগেই কারাগার থেকে মুক্ত হবেন এবং তিনিই আগামী নির্বাচনে বিএনপি ও জোটের নেতৃত্ব দেবেন। তবে শরীকরা খালেদা মুক্তি আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের হিসেব-নিকেশও এখনই শেষ করতে চায়। সে কারণেই জোটে যত অস্বস্তি।
সূত্র জানায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন শরীক দলগুলো নিজেদের মধ্যেও  নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। নেতাদের বক্তব্য, বিগত ‘১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন বর্জন করে তাদের মত ছোটদলগুলোর কোনো লাভ হয়নি। তৎকালীণ সরকারের প্রলোভনে পা দিলে জোট নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্তমান সরকারের অংশ হয়ে থাকত। নিদেন পক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবেও নিজেরা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকতে পারতো। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে তারা নির্বাচন বয়কট করেছে। বিনিময়ে বিএনপির কাছ থেকে কোনো ফায়দাতো পায়ইনি এমনকি উপযুক্ত সন্মানটুকুও দলটি তাদের দেয়নি। সে কারণে এবার আর তারা ভুল করতে রাজি নয়। যেকোনো মূল্যে জোট শরীকরা এবারের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে। অবশ্য দলগুলোর বিশ^াস বিএনপিও একাদশ নির্বাচনে অংশ নেবে; হোক তা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অথবা খালেদা বিহীন।
জোট সূত্র আরও জানায়, বিগত নির্বাচনের মত এবারও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল মহল জোট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ও বিভিন্ন শর্ত নিয়ে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। শরিক দলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যেই বলাবলি করছেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকে নানা ‘প্রলোভন’ এমনকি ‘ভয়ভীতি’ও তাদের দেয়া হচ্ছে। নানা প্রতিকুল পরিস্থিতি  মোকাবেলা করেই তারা বিএনপি জোট আঁকড়ে রয়েছেন। কিন্তু বিএনপি তাদেরকে এখনও আগের মত গণনায় নিচ্ছে না। নির্বাচন নিয়ে কোনো কথাই বলছেনা দলটি। তবুও কারাবন্দী জোটনেত্রী  খালেদা জিয়ার দিকে তাকিয়ে তারা ২০ দল ছাড়ার কথাও ভাবছেন না। বিএনপি শরিকদের আশ্বস্ত করে বলছে, সময়মতো সবারই মূল্যায়ন হবে। বিএনপি এখন দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি মুক্তি পেলে তার নেতৃত্বেই ২০ দল নির্বাচনে যাবে। তখনই  জোটের আসন বন্টন হবে। তাছাড়া সরকারকে একঘরে করতে জোটের পরিধি আরও বাড়তে পারে। সে প্রচেষ্টাও করে যাচ্ছে বিএনপি ।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় বিএনপি কাছে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী অন্তত ৫০টি আসনে নির্বাচনের নিশ্চয়তা চেয়েছে। এছাড়া জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটি (এলডিপি) ২০টি, খেলাফত মজলিশ ১০টি, জাতীয় পাটি (জাফর) ১৬টি, কল্যাণপার্টি ১০টি, বিজেপি ৩টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম ৮টি,  লেবারপার্টি ৪টি, বাংলাদেশ ন্যাপ ৫টি, এনডিপি ২টি, জাগপা ৪টি,  এনপিপি ৪টি, ডেমোক্রেটিক লীগ ২টি,  ন্যাপ ২ টি এবং সাম্যবাদী দল ১টি আসন চায়।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারামুক্তি করা। এ জন্য আমরা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচীতে আছি। আসন বন্টনের সময় এখন নয়। নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি। দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে আগে বেগম জিয়াকে মুক্ত না করতে পারলে আসন দিয়ে কি হবে। চেয়ারপারসন মুক্তি পেলে, আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে সরকার মেনে নিলে অবশ্যই আমরা নির্বাচনে যাব।
তিনি বলেন, আমাদের পাশাপাশি ২০ দল ও এই সরকারের দু:শাসনের শিকার। সেক্ষেত্রে নিশ্চয়ই  জোট শরীকদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। এ নিয়ে কারও হতাশা হওয়ার কিছুই নেই।
বিএনপি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, জোটের দুুই চারটি ছাড়া অধিকাংশ দলই নামসর্বস্ব ও প্যাডসর্বস্ব।  এর মধ্যে নির্বাচন- কমিশনের নিবন্ধন নেই অন্তত ১২টি দলের। জোট শরিক জামায়াতের নিবন্ধনও বাতিল হয়েছে। যদিও বিষয়টি এখন উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।  ধানের শীষ প্রতীকের বাইরে নির্বাচন করে এসব দলের জিতে আসা কঠিন। তাদের মতে বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা যত ভোট পাবেন, সে অনুপাতে অনেক শরিক দলের বড় নেতাও সে পরিমাণ ভোট পাবেন না, এটাই বাস্তবতা। বিষয়টি শরীকদের উপলব্ধি করতে হবে বলে মনে করেন বিএনপির অধিকাংশ সিনিয় নেতারা। এরপরও বিএনপি জোটকে অবমুল্যায়ন করছে না।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, দলের প্রধান কারাবন্দি। আগামী নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া এখনও অনিশ্চিত। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অথচ বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে জোট শরিকদের কোনো গরজ নেই বলে অভিযোগ বিএনপির। এ বিষয়টি এড়িয়ে তারা সবাই নিজেদের আসনের নিশ্চয়তা। অবশ্য জোটের কয়েক নেতা বলেন, দীর্ঘ সাত বছর শুধু আশ্বাসেই কাটাতে হচ্ছে শরিকদের।
জোটের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির দু:সময়ে কোনো শরিক দল জোট ছেড়ে যায়নি। এ বিষয়টিও বিএনপি স্বীকার করে না। তিনি আরও ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে অনেকাংশে বিএনপির নেয়া সিদ্ধান্তগুলো চাঁপিয়ে দেয়া হয়।
বিশ দলীয় জোট শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর (অব.)  ইবরাহিম বীর প্রতীক বলেন, বিএনপির কাছে শরিক দল হিসেবেই আমরা চাই ১০টি আসন। তবে বড় শরিক দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে যা সিদ্ধান্ত হবে তাকেই সম্মান দেখাবে কল্যাণ পাটি।