বিজিএমইএ ঃ কি খেলা তুমি নতুন করে যাবে আবার খেলে ?

প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২০

বিজিএমইএ ঃ  কি খেলা তুমি নতুন করে যাবে আবার খেলে ?

কেন করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে বিভিন্ন পোশাক কারখানা চালুর সিদ্ধান্ত নিলো বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ ? শ্রমিকদের বাড়ি থেকে বের করার ফলে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হবে, এটা তো তারা জানতো । এ কাজের জন্য এরিমধ্যে বিজিএমইএকে দুষছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। মহামারী ঠেকাতে সরকার যখন দেশকে লকডাউন করার অবস্থায় গেছে, তখন কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে বিজিএমইএর এভাবে পোশাক কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে ।

সেটা কি শুধু কাজের জন্য ? বিদেশীদের সঙ্গে চুক্তি ঠিক রাখার জন্য ? নাকি সরকারকে চাপে ফেলে নতুন কিছু খেলার জন্য? ভাবতে শুরু করেছেন তারা ।
এরি মধ্যে করোনাভাইরাস সঙ্কটে পড়া রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে গার্মেন্ট মালিকরা ২ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে ঋণ পাবেন।

বিশেষসূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সঙ্কটের কারণে গার্মেন্টসগুলোর সঙ্গে বেশীর ভাগ চুক্তি স্থগিত করেছে বিদেশী ক্রেতারা । বাতিল হয়েছে শিপমেন্ট ।এখন পর্যন্ত ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছেন । বিজিএমইএ নিজেই এ তথ্য জানিয়েছে ।

সংগঠন সূত্র জানায়, এক হাজার ৯২টি কারখানা জানিয়েছে যে ত ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের ৯৪ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার পিস তৈরি পোশাক পণ্যের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।
এ অবস্থায় গার্মেন্টস খোলা থাকলে বরং মালিক পক্ষেরই ক্ষতি । তাহলে কেন তারা খুলেছেন গার্মেন্টস ? এর পেছনে আসল খেলাটা কি?


তারা জানতেন, খোলা রাখলে সমালোচনা হবে । দু দিনের মধ্যেই আবার বন্ধ করে দিতে হবে । আর এই সুযোগে বিজিএমইএ ক্ষতিপূরণ দাবি করবে সরকারের কাছে ?

দেশে নভেল করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিলেও পোশাক কারখানার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি।

তখন পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ অধিকাংশ কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত দিলে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে যান।

সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি ৪ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়লেও শনি ও রোববার কিছু পোশাক কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত শোনার পর শুক্রবার থেকে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরের পথে রওনা হন অনেক পোশাক শ্রমিক। লকডাউনের মধ্যে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বেশিরভাগই হেঁটে রওনা হন।

গণমাধ্যমে এই খবর দেখে পোশাক মালিকদের বড় সংগঠন বিজিএমইএর সমালোচনা শুরু হয় সোশাল মিডিয়ায়।

সমালোচনার মধ্যে শনিবার রাতে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক পোশাক কারখানাগুলো ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। পরে পোশাক মালিকদের আরেক সংগঠন বিকেএমইএও একই সিদ্ধান্ত জানায়।

এখন বেরিয়ে পড়া এই শ্রমিকরা যদি ফিরতি বাড়ির পথ ধরে, সেটাও নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেওয়া কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সেজন্য ঢাকায় আসা শ্রমিকরা যেন আর ফেরত না যায় সে ব্যবস্থা তৈরি করতে পোশাক মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুশতাক হোসেন, যিনি কোভিড-১৯ মহামারী ঠেকাতে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করছেন।

তিনি বলেন, ভুল সিদ্ধান্তের দায় বিজিএমইএকে নিতে হবে।

আমার পরামর্শ হল, তারা যদি বাড়ি ফিরে যায়, তাহলে তারা যেন সেইফলি পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে যেতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

আর যদি তারা ঢাকায় থাকে তাহলে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করলে তারা আর গ্রামে যাবে না।

বিএমএ’র কার্যকরি পরিষদের সদস্য মুশতাক হোসেন বলেন, শ্রমিকরা বাড়ি যাওয়ার সময় একবার একটা ঝুঁকি তৈরি করেছে। এখন আসার পথে আরেকবার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এখন তারা যদি আবার গ্রামে যায়, আবার ফিরে আসে তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি তো আরও বেশি বেড়ে যাবে।

জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ ড. তৌফিক জোয়ার্দার বলেন, করোনাভাইরাস ঠেকাতে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে বিজিএমইএর এসব কাজ সাংঘর্ষিক।

একবার তারা আসতে বলা, থাকতে বলা, আদৌ তাদের যেতে বলা হবে কি না-এই পুরো বিষয়টি নিয়ে সমন্বয়হীতার ব্যাপার। যে কোনো মহামারীকে যুদ্ধের মতো চিন্তা করতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তহীনতা খারাপ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

তিনি বলেন, মহামারী কোনো প্রশাসনিক ইস্যু নয়, হেলথ ইস্যু। এখানে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এ খাতের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031