বিজেপি প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপিকে

প্রকাশিত: ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

বিজেপি প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপিকে

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপিকে । একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন শনিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদনে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে এ কথা ।
ফখরুলকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, “আমরা দেশের বাইরে ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলাম। আমরা ভারতীয় হাই কমিশারের সাক্ষাৎ চেয়েছিলাম, তিন দফায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছি।”

তবে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারকে অসন্তুষ্ট করে ভারতীয় কূটনীতিকরা তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তাদের বিষয়গুলো নিয়ে তৎপরতা চালাতে আগ্রহী নয় বলে বিএনপি নেতার মনে হয়েছে।

ফখরুল বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। ভারতে আমাদের সম্পর্কে যে দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে আমরা তেমনটি নই, আমরা সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদে বিশ্বাস করি না। এটা পুরোপুরি মিথ্যা ধারণা যে, আমরা ভারতবিরোধী, এটা আওয়ামী লীগের প্রচারণার অংশ।”

ফখরুলের এই কথার পরপরই ভারতীয় পত্রিকাটি লিখেছে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে সর্বশেষ বিএনপি শাসনমালে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন অনেকে।

“ঢাকায় নিয়োজিত ভারতীয় কূটনীতিকরা মনে করেন, ক্ষমতায় থাকাকালে যা করেছিল, তারই প্রায়শ্চিত্ত করছে বিএনপি।”

তবে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফখরুল বলেন, “আমরা ভারতের নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি, আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১২ সালে দিল্লি সফরও করেছেন। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিষয়গুলোর পরিবর্তন ঘটবে বলে আমরা মনে করেছিলাম। মোদীর সঙ্গে উনার খুব ভালো সাক্ষাৎও হয়েছিল, কিন্তু তারপর আর কিছুই হল না।

বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৫ সালের জুনে ঢাকা সফরে এলে সোনারগাঁও হোটেলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ২০১৫ সালের জুনে ঢাকা সফরে এলে সোনারগাঁও হোটেলে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া
“আমরা হতাশ হয়েছি। এ বছর অগাস্টে ব্যাংককে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের সঙ্গে একটি সাক্ষাতের আয়োজন করতে চেয়েছিলাম আমরা, কিন্তু ভারতীয় পক্ষ তাতে রাজি হয়নি।”

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “জামায়াত নিয়ে প্রশ্ন করলে আমি আপনাকে বলব, দেখেন বিএনপি কিন্তু জামায়াত নয়। বিএনপি ইসলামী আইনে বিশ্বাসী নয়, আমরা মৌলবাদে বিশ্বাস করি না। জামায়াতের প্রতি আমাদের কোনো মোহও নেই।”

তাহলে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানো জামায়াতের প্রায় দুই ডজন নেতাকে ধানের শীষের প্রতীক করার কারণ কী, সে বিষয়েও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।

“জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক কৌশলগত। তারা সঙ্গে থাকলে ৫০টি আসনে আমরা সুবিধা পাই, যেখানে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়।”

ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে হতাশা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ভারত কেন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতন, গুমের মতো অপকর্ম আমলে নিচ্ছে না, তা আমি জানি না। সাধারণ মানুষ ভারতকে দায়ী করছে, এখানে মানুষের ধারণা যে, ভারত আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করছে।

“আওয়ামী লীগ একটি ঘৃণিত রাজনৈতিক দল। কিন্তু শুধু ভারতের কারণে তারা টিকে আছে, ভারতই আওয়ামী লীগকে শক্তি যুগিয়েছে।”

বাংলাদেশের পুলিশ ও প্রশাসনের ভারতীয় হাই কমিশনের সঙ্গে ‘ভালো যোগাযোগ’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।