বিদায় আনিসুল হক

প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০১৭

বিদায় আনিসুল হক

সৌমিত্র দেব

বিদায় আনিসুল হক । আমরা আর কোনদিন আপনাকে নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেখবো না । আপনাকে মিস করবে বিজিএমই এর পোশাক শ্রমিকেরা । আপনাকে স্মরন করবে এফবিসিসিআইএর ব্যাবসায়ী নেতারা । আপনি এখন রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত । আপনার পরিচয় এখন সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র । ২ ডিসেম্বর শনিবার বাদ আসর জানাজা শেষে আপনাকে আর্মি স্টেডিয়াম থেকে বনানী কবরস্থানে নেওয়া হয়েছিল ।
আনিসুল হককে আমি প্রথম দেখেছি বিটিভিতে । তিনি তখন জনপ্রিয় উপস্থাপক । কিশোর বয়সে আমি ছিলাম তার গুণমুগ্ধ দর্শক । পরবর্তীকালে তাকে আমি পেয়েছি পোশাক ব্যাবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমই এর সভাপতি হিসেবে । মনে পড়ে, ওয়ান ইলেভেনের সময় মানবজমিনের পক্ষ থেকে তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম । এক সঙ্গে খেয়েছিলাম । আমাদের আড্ডা খুব উপভোগ্য হয়েছিল । তিনি আমার মোবাইল নাম্বার সেভ করেছিলেন ।আমিও তার টা । কিন্তু যথারীতি আমার সেট থেকে দ্রুতই তার নাম্বার হারিয়ে ফেলেছি । কিন্তু আমারটা তার কাছে রয়ে গিয়েছিল । সেটা যে কতখানি ছিল তার প্রমাণ আমি পেয়েছি বিভিন্ন দিবসে ।বিজয় দিবস,ঈদে, চাঁদে সবার আগে যিনি আমাকে মোবাইল মেসেজে শুভেচ্ছা পাঠাতেন, তিনি আনিসুল হক । নিজের হাতে হয়তো পাঠাতেন না । কিন্তু আমার নাম্বারে পাঠানোর নির্দেশনা যে ছিল, সেটা তো বলাই বাহুল্য । এমনকি সর্বশেষ শুভেচ্ছাটি যখন পেয়েছি ,তখন তিনি লন্ডনে চিকিতসারত।

তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই আমার বাসায় এসে হাজির হয়েছেন রেডটাইমস ডটকমডট বিডির সচিবালয় প্রতিবেদক কামরুজ্জামান হিমু । আমরা একসঙ্গে আর্মি স্টেডিয়ামে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রওনা হলাম । ভিড়ের কারনে খুব কাছে যেতে পারলাম না । সেখানে আনিসুল হকের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা । সর্বস্তরের জনসাধারণের অংশ গ্রহণ ও ছিল দেখার মতো ।

শুক্রবার লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক জামে মসজিদে প্রথম জানাজা হয় আনিসুল হকের। সেখান থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শনিবার দুপুর ১টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়। পরে তার মরদেহ বনানীর বাড়ি নিয়ে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে যান ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

বাংলাদেশ সময় ৩০ নভেম্বর রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা যান আনিসুল হক। সেসময় তার স্ত্রী রুবানা হক ও সন্তানরা পাশে ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

৩০ নভেম্বর বিকেলে যুক্তরাজ্যে আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তার ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। অবস্থা ভালো নয়। তার জন্য জন্য দোয়া করুন।

মাঝে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটলেও গত ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ফের আইসিইউতে নেওয়া হয় আনিসুলকে। এদিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মেয়র আনিসুল হককে ‘লাইফ সাপোর্টে’ নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৪ আগস্ট মস্তিস্কের রক্তনালিতে সংক্রমণের কারণে লন্ডনের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছিল আনিসুল হককে। পরে ৩১ অক্টোবর অবস্থার উন্নতি হলে তাকে আইসিইউ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিবৃতিতে জানানো হয়।

বনানী কবরস্থানে আনিসুল হকের দাফনের সময় আমি আর কামরুজ্জামান হিমু ভিড়ের মধ্যে  দাড়াই । যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রার্থনা করি । আমাদের প্রার্থনার ভাষা আলাদা। ভঙ্গি আলাদা । কিন্তু লক্ষ্য যে এক ,সেটা  কে না বোঝে !