বিদায় এ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া

প্রকাশিত: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২০

বিদায় এ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া

এডভোকেট সিমকী ইমাম খান

বাংলাদেশের প্রধান একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-(বিএনপি) । এই দলে আছে অসংখ্য নেতা ও কর্মী । আমিও এই দলে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি । নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে দেশ এখন প্রায় অবরুদ্ধ । এ অবস্থায় আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্ত হয়েছেন । এ নিয়ে সারাদেশের নেতা কর্মীরা যখন আনন্দে উদ্বেল , ঠিক সেই সময়ে একটি শোক সংবাদ শুনে আমি যেন পাথর হয়ে গেলাম ।আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক, এ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া মারা গেছেন । স্যারের অকাল মৃত্যু সংবাদে জাতীয়তাবাদী আদর্শের সর্ব-স্তরের নেত্রীবৃন্দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আমি এ্যাড. সিমকী ইমাম খান একজন রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে তার সাথে জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় দলীয় সকল প্রোগ্রামে,জাতীয়তাবাদী দলীয় প্যানেলের সকল প্রকার নির্বাচনে হাই-কোর্ট,সুপ্রীম-কোর্ট প্রাঙ্গন সহ বিএনপির দলীয় প্রতীকের ব্যানারে দেশের সবগুলো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাজ করেছি । সভাসমাবেশে বক্তব্য রেখেছি । দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর,জেলা শহর সফর করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছি। এ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া স্যার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সম্মুখ ভাগ থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আইনজীবীদের ভোটে নির্বাচিত নেতা হয়ে ফোরামের উন্নতির লক্ষে কাজ করে গিয়েছেন। তার নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় সমগ্র বাংলাদেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরে হাজার হাজার আইনজীবী সদস্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। আমি একজন জাতীয়তাবাদী আদর্শের একনিষ্ট সহকর্মী হয়ে তার সঙ্গে রাজপথে বিভিন্ন সময়ে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামের নানামূখী কর্মসূচির মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহন করে ক্ষমতাসীন সরকার দলের বিভিন্ন প্রকার দমনপীড়ন, মামলা,হামলা,লাঞ্ছনা,প্রবঞ্চনার শিকার হয়েছি। য পত্র-পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে দেশ-বিদেশে প্রচারিত হয়েছে।


সানাউল্লাহ স্যারের দলীয় কর্মক্ষেত্রের মধ্যে শতভাগ শহীদ জিয়ার আদর্শ পরিলক্ষিত ছিলো যেটা জাতীয়তাবাদী আদর্শের নেত্রীবৃন্দ কম বেশী সকলেই অবগত আছেন বলে বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ও চার বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী,গণতন্ত্রের মা,দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মিথ্যা মামলা সহ ম্যাডামের আরো বেশ কয়েকটি মামলার আইনজীবী হিসেবে সানাউল্লাহ মিয়া স্যার অনেক সাহসিকতার সাথে সৎ ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই মামলাগুলোতে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তিনি সরকার পক্ষের আইনজীবীদের চক্ষুশূল হয়েছিলেন। তবুও তিনি কখনোই ভয় পান নি বরং অকূতোভয়ে বেগম জিয়ার একজন সৎ আইনজীবী হিসেবে ম্যাডামের পক্ষে সু-বিচারের রায়ের জন্য আদালতে লড়াই করে গেছেন । আমি প্রতিটি মামলায় ঐ সময়ে স্যারের সহযোগী আইনজীবী হিসেবে আদালতে কাজ করেছি । দেখেছি তিনি কতোটা মনোবল ও সাহসিকতার সহিত কাজ করেছেন।
আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি, বিএনপি চেয়ারপার্সন, বেগম খালেদা জিয়া এ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া স্যারকে প্রায়ই তার অফিসে ডেকে খোঁজ খবর নিতেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তাকে খুব পছন্দ করতেন ও বিশ্বাস করতেন তার মেধাবী, সৎ সাহসিকতা এবং আদর্শিক কর্মকান্ডের কারনে। ম্যাডাম খালেদা জিয়া নিজে আমাকে এ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া স্যারের সাথে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী আদর্শের জন্য কাজ করার আহবান করেছিলেন । তারপর থেকেই আমি স্যারের সাথে দীর্ঘ দিন যাবত একসাথে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয়ভাবে কাজ করেছি। শুধু তাই নয় দেশের বাইরেও সানাউল্লাহ মিয়া স্যারের সাথে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের সাথে মিটিং, লন্ডন বিএনপি’র কার্যালয়ের কর্মসূচি পালনে প্রোগ্রাম করেছি। স্যারের সাথে রাজনৈতিক ময়দানে কাজ করতে কখনোই কোন লোভ লালসা বা অহংঙ্কার দেখতে পাই নি । বরং তার কথার মাঝে শিক্ষনীয় বিষয়বস্তু থাকতো । তাঁর গুণাবলি আমাদের মুগ্ধ করতো ।


স্যার হঠাৎ করেই শারিরিকভাবে অসুস্থ হয়ে প্যারালাইজড হয়ে যাবার পর দলীয় কর্মসূচী গুলোতে সবসময় অংশগ্রহন করতে পারতেন না । তবে তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত দলীয় কর্মসূচীর খোঁজখবর রাখতেন । ম্যাডাম জিয়ার মামলা নিয়ে ভাবতেন । সানাউল্লাহ স্যার প্যারালাইজডজনিত কারণে চলাফেরা করতে না পারায় দলীয় অনেক নেত্রীবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন নি । তবে ফোনযোগে প্রায় সকল নেত্রীবৃন্দের সাথেই কম বেশী যোগাযোগ রাখতেন। তার অসুস্থতার সংবাদ জানার পর সুদুর লন্ডন প্রবাস থেকেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব নিজেও স্যারের শারিরিক অবস্থার খোজ খবর রাখতেন।
জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে এ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া স্যার তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং তার প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কে সু-সংগঠিত করতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে কাজ করে গেছেন। আমার ধারণা , মৃত্যুর পূর্বে সানাউল্লাহ মিয়া স্যার অনেকটা আত্বতৃপ্তি নিয়ে চলে গেছেন ম্যাডাম জিয়ার কারামুক্তির খবর শুনে ।
এ্যাড. সানাউল্লাহ মিয়া স্যারের অকাল মৃত্যুতে আমি তার সহযোগী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গভীরভাবে শোকাহত এবং তার পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে মনেকরি, স্যারের প্রতি বিএনপি’র সর্ব-স্তরের নেতাকর্মী তার আদর্শিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও ত্যাগের প্রতি শ্রোদ্ধাশীল থাকবেন এবং দলীয় সকল নেত্রীবৃন্দ তাহার রুহের আত্বার মাগফেরাত কামনা করবেন। আল্লাহ তাহার সকল প্রকার গুনাহ মাফ করে দিয়ে তাকে জান্নাতবাসী করুন -আমীন।

এডভোকেট সিমকী ইমাম খান ঃ সদস্য, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং সাবেক যুগ্ন সম্পাদক, ঢাকা আইনজীবী ফোরাম।

ছড়িয়ে দিন