বিনিয়োগে গতি আনতে কমছে ‘নীতি সুদ হার’

প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৬

বিনিয়োগে গতি আনতে কমছে ‘নীতি সুদ হার’

এসবিএন ডেস্ক: নতুন মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে গতি আনতে ‘নীতি সুদ হার’ কমানো হচ্ছে বলে জানালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘উৎপাদন ও মূল্য পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমরা সংযত কিন্তু সমর্থনমূলক মুদ্রানীতির ভঙ্গি দিয়ে যাচ্ছি। এবারে আমরা নীতি সুদ হারগুলো কমিয়েছি।’

তিনি জানান, ব্যাংক খাতের তহবিল ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদ হার কমিয়ে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী ছয় মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশাও আগের তুলনায় কমিয়ে এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংকগুলো যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করে, তখন তার সুদহার ঠিক হয় রেপোর মাধ্যমে। মুদ্রানীতিতে রেপোর হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। রিভার্স রেপোর মাধ্যমে বাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। এক্ষেত্রেও সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে।

২০১৩ সাল থেকে রেপোর সুদ হার ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং রিভার্স রেপোর সুদ হার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ ছিল। রেপো বা রিভার্স রেপোর মাধ্যমে সাধারণত এক দিনের জন্য ধার করা বা জমা রাখা হয়। একে বলা হয় ব্যাংকিং খাতের নীতি উপাদান (পলিসি টুলস)। এর সুদ হারকে বলা হয় নীতি সুদ হার (পলিসি রেট)। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে।

রেপোর সুদ কমলে ব্যাংকগুলো কম খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল পাবে। তাতে তারা কম সুদে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ঋণ দিতে পারবে। অন্যদিকে রিভার্স রেপোর সুদ হার কমানোর অর্থ হলো, ব্যাংকগুলোকে চাপ দেওয়া, যাতে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা ফেলে রেখে মুনাফা না তুলে ব্যবসা ও উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়ায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, বর্তমানে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে কলমানি সুদ হার ৩-৪ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি এবং অন্যান্য সুদ হারও কম। এ পরিস্থিতিতে রেপো বেশি থাকলে ‘বৈপরিত্য’ দেখা দিতে পারে বলেই নীতি সুদ হার কমানো হয়েছে। আমরা মার্কেট রেট এর সাথে রি-অ্যালায়েন্স করছি।

ছড়িয়ে দিন