বিসিএসও বাদ গেল না!

প্রকাশিত: ১২:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০১৮

বিসিএসও বাদ গেল না!

 আবদুল্লাহ আল ইমরান

চ্যানেল 24 এর অনুসন্ধানের পর বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক, সরকারি চাকরির নিয়োগ ও ভর্তিতে ডিজিটাল জালিয়াতির সর্ববৃহৎ চক্রকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

পাঁচ দিনের এক সাড়াশি অভিযানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিকেএসপির সহকারী পরিচালক অলিপ কুমার বিশ্বাস, বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফা কামাল, ৩৬তম বিসিএসে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহিম এবং ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিতে উত্তীর্ণ আয়ুব আলী বাঁধনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

এছাড়াও পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে ১০ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র সরবরাহের দায়ে রাজধানীর অগ্রনী স্কুলের ইংরেজির এক শিক্ষক, অফিস সহায়ক (পিওন) আনোয়ার হোসেন মজুমদার, মো. নুরুল ইসলাম, ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুলের সমাজবিজ্ঞানের এক শিক্ষক এবং পিওন হাসমত আলী শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গতকাল গ্রেফতারের সময় হাসমতের কাছে ওইদিনের বিসিএস লিখিত পরীক্ষার কয়েক কপি প্রশ্নপত্র এবং ৬০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে।

অলিপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মাস্টার মাইন্ড। ইব্রাহিম, মোস্তফা ও বাঁধন বিসিএসসহ সকল নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মূল হোতা। এদের চারজনের ১০ কোটি টাকার নগদ অর্থ ও সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের পর রাজধানীর আলিয়া মাদ্রাসা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের দুটি কক্ষে বসে অভিজ্ঞদের দিয়ে সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হলে উত্তর সরবরাহ করত এই চক্র।

এদের মধ্যে ইব্রাহীমের ছিল বিলাসী জীবন।
দরিদ্র পরিবারের সন্তান ইব্রাহীম জালিয়াতির মাধ্যমে নিজে ৩৬তম বিসিএসে নন ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। ৩৬ লাখ টাকার দামি গাড়ীতে তার চলাচল। জালিয়াতির টাকায় খুলনার মুজগুন্নী এলাকায় সাড়ে ছয় শতাংস জমির উপর চারতলা ভবন নির্মাণ করেছে। নড়াইলে তৈরি করেছে ডুপ্লেক্স বাড়ি। এছাড়াও অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবসা করত বলেও সে জানিয়েছে ।
গত কয়েক বছরে বিসিএস, বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে শতাধিক ব্যক্তিকে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে ইব্রাহীম।

আজ সকাল ১১.৩০ মিনিটে এ নিয়ে
সিআইডির প্রেস কনফারেন্স। আর সার্চলাইটের বিশেষ পর্ব তো আছেই।

আশা করি অনাগত দিনে কেউ ভর্তি ও নিয়োগ জালিয়াতি করার আগে দশবার ভাববেন। আজ হোক কাল হোক ধরা আপনাকে পড়তেই হবে। কেননা, চোরের দশ দিন গেরস্থের একদিন।