বুকের ভেতর আগুন জ্বলে

প্রকাশিত: ১:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৮

বুকের ভেতর আগুন জ্বলে

চন্দনকৃষ্ণ পাল

 

১৯৭৫ তার জীবনে যে ক্ষত সৃষ্টি করে রেখে গেছে তা থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার কোন যাদু মন্ত্র নেই। আমৃত্যু তাকে সেই যন্ত্রনা ভোগ করে যেতে হবে। এ থেকে তার মুক্তি নেই। একমাত্র বোন রেহানা ছাড়া তার আর কেউ নেই। হিংসা ঘৃনা রাজনীতি তার জীবন থেকে সব ভালোলাগা ভালোবাসা ছিনিয়ে নিয়েছে। এই হতভাগ্য মানুষটি শেখ হাসিনা। তার ভাগ্য তিনি দেশের বাইরে ছিলেন তাই বেঁচে আছেন। তার এবং এদেশের শক্ররা বসে নেই,ওরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে। এর মাত্র একটি উদাহরণ ২১শে আগষ্টের বোমা হামলা। কিন্তু ওরা জানেনা শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু নয়। তার কন্যাও এদেশে অধিকাংশ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার কর্ম দিয়ে তার কমিটমেন্ট দিয়ে। শুধুমাত্র গত ছয় বছরের শাসন মলে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে কয়েক ধাপ। শক্রুর মুখে ছাই দিয়ে দ্রুত এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তার ঐতিহাসিক এক একটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখায় অল্প সময়েই বাংলাদেশ দারিদ্রমুক্ত,ক্ষুধামুক্ত একটি অপরূপ সুন্দও দেশ হিসাবে পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াবে। এরকম স্বপ্নচারী মানুষদের একজন আনিস মুহম্মদ। তার ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিবেদিত কবিতা এবং তার অনুবাদ নিয়ে একটি সংকলন উপস্থাপন করেন। শেখ হাসিনাকে নিবেদিত কবিতা বা চড়বসং উবফরপধঃবফ ঃড় ঝযধরশয ঐধংরহধ মোট ৩১টি কবিতার সংকলন। নবীন প্রবীণ কবিৃন্দ তাদের ভালোবাসা নিবেদন করেছেন এ কবিতাগুলোর মাধ্যমে। কবিতা সংকলনের একটি ছাড়া সমস্ত কবিতা অনুবাদ করেছেন আনিস মুহম্মদ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকরে যে আগুন মানুষের বুকের ভিতওে জ্বালিয়েছিল হায়েনারা। সে আগুন আজও জ্বলছে মানুষের বুকের ভেতর। মানুষের ভালোবাসার অর্থও রয়েছে বঙ্গবন্ধু আর তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য তারই কয়েক বিন্দু এই কবিতা সংকলন। আসুন পাঠক ঘুরে আসি এই সংকলন ঘিরে। কবিদের ভালোবাসার আনিন্দে চোখ রাখি একবার।

সংকলনের প্রসঙ্গ কথা ও কবিবৃন্দ:

সংকলনের প্রসঙ্গ কথায় আনিস মুহম্মদ বলেন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তাকে গ্রেফতার করে। গনতন্ত্রের মানসকন্যা ষাটের্ধ বঙ্গ দুহিতা শেখ হাসিনাকে সাব জেলের নির্জন প্রকোষ্ঠে বাংলার অগনিত মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় গনতন্ত্রেও দাবিতে অবিচল থাকার কারনে। নির্বাসন অথবা কারাবরন এই অবস্থাতেও গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলার জনগনের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে তিনি আপোষ করেননি। আর এজন্য জনগনের রায় ছিলো তার প্রতি। মানুষের বিশ্বাস ও তিনি রক্ষা করেছেন। সেই কালো সময়ে কবিরা তাদের ভালোবাসা জানিয়েছেন কবিতার মাধ্যমে। এই সংকলনে সংকলিত কবিতার কবি এবং ছড়া কাররা হলেন- বেলাল চোধুরী,রফিক আজাদ, মহাদেব সাহা,নির্মলেন্দু গুন,অসীম সাহা, নুহ-উল-আলম লেনিন, কাজী রোজী, জাহিদুল হক, আনোয়ারা সৈয়দ হক, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, ইয়াফেস ওসমান, মুহাম্মদ সামাদ, আবুল আজাদ, রবীন্দ্র গোপ,আসলাম সানী, কাজী রোকেয়া সুলতানা রাকা, সালাউদ্দিন বাদল, ফারুক নওয়াজ, নজরুল ইসলাম দুলাল, উত্তম সেন, প্রত্যয় জসীম, নিপু শাহাদাত, গোলাম নবী পান্না, মাসুদ পথিক, গিয়াস উদ্দিন চাষা, ইউসুফ রেজা, কাজী মোহিনী ইসলাম, এবং আনিস মুহম্মদ তালিকায় উল্লেখিত কবি এবং ছড়াকারদের প্রায় সকলেই স্বনামে খ্যাত। কবিতার তুলনায় ছড়ার মান ভালো হয়েছে। অধিকাংশ কবিতাই বর্ণনা মূলক গদ্যে লেখা। অথচ হতে পারতো কাব্যিক স্বাচ্ছন্দ্যে। হয়তো সময়ের স্বল্পতা ছিলো। তবে অনুবাদ স্বচ্ছন্দ ও ঝরঝরে। এ ক্ষেত্রে আনিস মুহম্মদ ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।

কালজয়ী কালের প্রচ্ছদ হয়ে ফুটতে থাকো তুমি:

কবিবৃন্দ তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেছেন কবিতায়। স্বীকার করতেই হবে সেই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিখাঁদ। আমরা কিছু চুম্বক পংক্তিতে সেই ভালোবাসার প্রকাশ দেখে আসি।

৩.১ এই গরীব দেশ এর প্রতিটি বৃক্ষ ও মাটি তার জন্য কান্না ধরে রাখে নিজস্ব নিয়মে; আমি কি পাথর নাকি-তার জন্য এই দুই চোখে কোনো জল ধরে কি রাখবোনা?
(তিনি আমাদেরই লোক- রফিক আজাদ)
৩.২ আমি চেয়ে দেখি কেমন মুষড়ে পড়েছে আজ সদ্য ফোটা ফুলগুলি সব থেমে গেছে রাখালের ছন্দময় বাঁশি দুকূল প্লাবিত পদ্মার ঢেউ; দেখি এই বৈশাখী উৎসব অতি কন্ঠে বলে কেন বন্দী বঙ্গ দুহিতা?
(কেন বন্দী মুজিব দুহিতা-মহোদেব সাহা)

৩.৩ আমি সেই সাহসের সন্তান নক্ষত্রের বুক থেকে অগ্নি সঞ্চয় করে জন্ম নেয়া পিতার সাহস নিয়ে মূহুর্তে মূহূর্তে শুধু মহাশূন্য উথাল পাথাল করে বিদ্দ করি অসুরের উদ্ধত বুকের পাঁজর।
(শেখ হাসিনার জবান বন্দী- অসীম সাহা)

৩.৪ ভুমি পূত্র ভূমিদাস সনাতন চাষী ববেন্দেব উষর মাটিতে সেচে গঙ্গার পানি,শ্যামল শস্যে ভরে উঠে মাঠ শ্রমের বৈভবে ভিক্ষাপাত্র ছুড়ে ফেলে স্বয়ম্ভরা বঙ্গলক্ষী দাড়ায় সম্ভ্রমে।
(অনেক দূর যেতে হবে-নূহ-উল-আলম (লেনিন)
৩.৫ পাঠ প্রস্ততিহীন মুখ আর মুখোশের সব রঙ্গ এক হয়ে গেলে থমকে যায় শব্দ শ্রমিকের নির্মাণ; পতাকার সিরি সিরি গান প্রাচীন মাটির বুকে কালজয়ী কালের প্রচ্ছদ হয়ে ফুটতে থাকো তুমি।
(বন্দিশালার দেয়ালে – কাজী মোহিনী ইসলাম)

৩.৬ মুক্ত আকাশের নীচে পল্লী প্রান্তর শহর বন্দর ঘুরে ঘুরে নেভাতে ব্যস্ত তুমি অবিরাম জ্বলতে থাকা প্রতিশোধের জ্বালামুখ অকৃতির ভালোবাসার অশ্রুজলে।
(শোকাতুর সাবজেল – আনিস মুহম্মদ)

ছন্দেছন্দে দৃপ্ত জীবন:

৪. শেখ হাসিনা জননেত্রী। জনমানুষের প্রতি ভালোবাসা তার প্রতিটি কর্মে আজ উজ্জ্বল। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া সর্বত্র এই ছোঁয়া বিদ্যমান। এদেশের সংস্কৃতিবান মানুষেরাও প্রতিনিয়ত তার পাশে দাঁড়িয়ে অন্তরের ভালোবাসা টুকু ছড়িয়ে দিতে কার্পন্য করেননি। দেশের সকল ক্রান্তিকালে ছড়াকাররাও শ্লোগানে আর ছন্দোবন্ধ ছড়ায় মুখরিত করে তুলেছেন শহর বন্দর গ্রাম। এ সংকলনেও তার ছোঁয়া পাই আমরা এবং তা জ্বলজ্বলে উজ্জল। আসুন দেখে নেই কয়েক পংক্তি-

৪.১ আশাহত হবার তো কথা নেই
মশালের লাল ঐ জ্বলছে
পথ পাড়ি দিতে হবে তোমাকেই
এ কথাই সকলে বলছে।
(আশাহত হবার তো কথা নেই- আনোয়ার সৈয়দ হক)
৪.২ বাংলার মাটি আর তার প্রিয়জন কে?
তিনি প্রিয় “ মা ” মাসী না
জননেত্রী তিনি
তিনি শেখ হাসিনা (জননেত্রী তিনি- আসলাম সানী)
৪.৩ আমরা আছি চৌদ্দ কোটি ছড়িয়ে স্বদেশময়
জাতির পিতার কন্যাতুমি
তোমার কিসের ভয়।
দুঃসময়ের নেত্রী তুমি
স্বদেশ-জনতার
জাতির পিতার কন্যা তুমি
জাতির অংহকার।
(জাতির পিতার কন্যা তুমি – ফারুক নওয়াজ)

নিবেদনে নিজেদের সম্মানিত করি:
কাউকে সম্মান করলে বা না করলে তার কিছু আসে যায় না। কাউকে সম্মান করা মানে নিজেকে সম্মান করা। আমরা অনেকেই তা করিনা, পারিনা। এই হীনমন্যতার উর্ধ্ধে ওঠে গুনীজনকে সম্মান জানালে জাতি হিসাবে আমরা নিজেদের সম্মানিত করি। আনিস মুহম্মদ কে ধন্যবাদ এই উদ্যোগ নেয়ার জন্য । অনুবাদ থাকায় ভিন্নভাষার মানুষের কাছেও পৌছাবে এই নিবেদন। এই উদ্যোগ আরও প্রসারিত হোক। এই কামনা ।