বয়ানে রামাদান ০২

প্রকাশিত: ১২:২১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২১

বয়ানে রামাদান ০২

চৌধুরী হাফিজ আহমদ
প্রতি বছর রামাদান ঘুরে আসবেই আসবে । রামাদান একটা নির্ধারিত বিষয় অবশ্যই করনীয় এই সিয়াম ধর্মের মূলনীতির অন্যতম আকর্ষণীয় একটি আমি অনেক আগে থেকেই বলছি এই রামাদান নিয়ে আলাদা একটা বিশ্ব বিদ্যালয় করা যায় – এই রামাদান নিয়ে গবেষণা ইন্সটিটিউট করা যায় – সিয়াম পালনে মানব দেহের যে উপকার হয় তা উন্মোচিত হওয়া খুব জরুরী , উপবাস সকল কালেই ছিল – এত উপকারি বিধায় আল্লাহ তায়ালা তা একদম নিয়ম করেই দিয়েছেন , মধ্য প্রাচ্যের অনেক বিশ্ব বিদ্যালয়ে রামাদান নিয়ে অনেকেই গবেষণা মুলক কাজ করেন ও নানা তথ্য দিয়ে জনসাধারণকে অবহিত করছেন তাই জানতে পারছে , আমাদের উপমহাদেশে মাদ্রাসা গুলাতে রামাদান একটা নিয়মিত সাবজেক্ট থাকলে জনগন সিয়ামের উপকারিতার ব্যাপারে জানতে ও বুঝতে পারত – রামাদান শুধু উপোষ থাকার মাস নয় এই মাস হচ্ছে প্রশিক্ষনের – দুনিয়া ও আখিরাতের প্রশিক্ষন নিতে হবে এই সম্পূর্ণ মাসে – একাধারে না খেয়ে যে ত্যাগ আমরা করছি এর ফায়দা জিবনের বাকী মাসগুলাতে প্রয়োগ করতে পারলেই সার্থকটা আসবে নতুবা কিছুই অর্জিত হবেনা । রামাদানের এক মাস কঠিন অনুশীলন এর দরকার – কথা কম ইবাদত বেশী – অপচয় না করে সঞ্চয় থেকে দান করতে হবে গরিবদের কে , এর মধ্যে প্রাধান্য পাবে নিকট জন যাহাদের প্রয়োজন থাকে বেশী – কাছে জনদের দিয়ে তাহাদের বলতে হবে আগামীতে এরা ও যেন এই রকম দান করতে পারে বা তাহাদের নিজের সমকক্ষ করে গড়ে তোলার উপদেশ দেয়া যেতে পারে , এর পরে আসবে পাড়া পড়শি দেশবাসী – রামাদানের আরেক অর্থ হচ্ছে পরিবরতন – এতে করে সমাজে ও পরিবর্তন আসে । একা একা ইবাদত কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হবেনা , রামাদানের প্রকৃত শিক্ষা হচ্ছে সবাই মিলে মিশে সুন্দর সমাজ গঠন করা – ইফতার করব সবাই মিলে – সাহরী করব সকলে এক সাথে এতে করে অপচয় হবেনা এবং খাবারের অভাব থাকবেনা , এমন এক পবিত্র জাতী গঠন করাই হচ্ছে রামাদানের শিক্ষা । এই সব করতে হলে প্রথমেই লাগবে দক্ষ জনবল – এই দক্ষতা এনে দিতেই রামাদান মাসে ট্রেনিং এর ব্যবস্তা – উপোষ থাকা দিনে ও রাতে সিজদায় লুটিয়ে চাওয়া – এতে একা চাইলেই হবেনা চাইতে হবে সকলের জন্য কল্যান । মন্দ থেকে পানাহ মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা ও মন্দ কাজকে প্রতিরোধ করতে ই হবে এক কথায় মন্দ কে সমাজ থেকে উচ্ছেদ করতেই হবে নিয়ত করে । এর পরে নিজেকে রাখতে হবে সকল ময়লা থেকে পরিষ্কার কেননা ময়লা নষ্ট করে পবিত্রতা – মানুষকে অজু করতে শিখানো হয়েছে সকল প্রকার পবিত্রতা রক্ষার্থে – অজু বার বার করার তাগিদ এই কারনেই এসেছে – আমরা কথা বলায় ও পবিত্রতা নষ্ট করি – গীবত হিংসা চুগল খুরি মিথ্যা কারো বিরুদ্ধে অপপ্রচার অন্যের ক্ষতি করা ইত্যাদি যখনি হয় তখন আর পবিত্র থাকা যায়না , তাই বার বার অজু করেই তাওবা করতে হবে যত বেশী ওজুর সহিত থাকা যাবে ততই আমরা সংযম করব – কারন অজু অবস্তায় মিথ্যা হিংসা বা কারো নিন্দা করা আরেক গর্হিত কাজ । যত্র তত্র থু থু ফেলা যাবেনা – মেজাজ চরম করে চলা ফেরা করা যাবেনা এই রকম হাজারো খুঁটি নাটি অভ্যাস কে পরিবর্তন করতেই রামাদান প্রতি বছর ঘুরে ফিরে আসে ও জানিয়ে দেয় কত টুকুন উন্নতি হল ।আস্তাগফিরুল্লাহ এমন এক তাসিবিহ যা জপ করলে জীবন ই পরিবর্তন হয়ে যাবে – আমাদের উচিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে সর্বত ভাবে আত্মসমর্পণ করা – যতক্ষন তা না করব ততক্ষন আমাদের সিয়াম বা কিয়াম ইফতারি সাহরী কিছুই কবুল হবেনা ।রামাদানের শিক্ষার মধ্যে আল কোরআন তিলাওয়াত ও চর্চা হচ্ছে মুল শক্তি – কেননা আল কোরআন জীবিত ও চিরন্তন সত্য – প্রতিক্ষন আল কোরআন কথা বলে – যে কেউ আল কোরআনের সংস্পর্শে আসবে এবং পরিবর্তন হতে পারেনি তা হচ্ছে চরম দুর্ভাগ্য – আল্লাহর সম্পর্ক হচ্ছে আলোর সাথে সেই আলোর মধ্যে মধ্যমনি হচ্ছে আল কোরআন , অতিত বর্তমান ভবিস্যত সব কিছুর বর্ণনা এই প্রথীবিতে অন্য কেউ দিতে পারেনি একসাথে যা সব রয়েছে আল কোরআনের বয়ানে ।তাই রামাদান হচ্ছে বিশাল পরিবর্তন কারি এমন এক মহান কর্মসূচি যার চাবি কাঠি একমাত্র আল্লাহর হাতে – তিনি এর প্রতিদান দেবেন ও রক্ষনা বেক্ষন করবেন , আমরা একদম খাঁটি মনে তার নির্দেশ পালন করব , রামাদানে তাই আমরা অযথা কিছুই করবনা যাহাতে আল্লাহ তায়ালা নারাজ হন – প্রত্যেক দিন একটি ভাল অভ্যাস করব – দুআ করাও এক ভাল অভ্যাস – ক্ষমা করা ও ভাল অভ্যাস – এর সাথে সাথে কম খাব – অপচয় রোধ করব – এবং শিখব যত ভাল আছে তা শিখলে লাভ বেশী এই ভালোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দুআ করার অভ্যাস – রাসুলুল্লাহ সঃ নিজে এই দুআ করেছেন এবং আমরা উম্মতদেকে বলেছেন তা করতে – একে অন্যে কল্যানকামী হলে নিজেদের সমস্যার ৯৯% সমাধান আপনা আপনি হয়ে যায় – এক ভাই আরেক ভায়ের জন্য যদি কল্যান চায় তা হলে কোন বাতিল শক্তি পারেনা ঠেকাতে – শত্রু কে বিনাশ করতে ভাই ভাই কল্যানের দুআ করা চাই – সকল ইবাদাতের মুলেই আছে দুআ – এবং রামাদানে এই দুআ কবুলের আগাম বার্তা দিয়েই রেখেছেন মালিক , আল্লাহুম্মা আখরিজনি মিনান নার / ইয়া মুক্কাল্লিবাল ক্কুলুব ছাব্বিত ক্কালবি আলা দিনিক / রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা/ আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়া ওয়ালিল মু`মিনিনা ইয়াউমাইয়া ক্কুমুল হিসাব /আল্লাহুম্মা আফিনি বি বাদানী/ আল্লাহূম্মাছ তুর আওরাতিনা ওয়া আমিন রাওআতিনা /রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ ওয়া ক্কিনা আজাবান্নার / রাব্বানা লা তুজিগ ক্কুলুবানা বা`আ দা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল দানুংকা রাহমা ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব / আল্লাহুম্মাগফিরলি মাউতা ওয়া মাউতাল মুসলিমিন , সুরা ফাতিহার মত দুআ আমাদের রব শিখিয়েছেন আমরা যদি তা না করি তা হলে অবশ্যই ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে , রামাদানে আমাদের যে সকল সংযম করার কথা রয়েছে তা করি এবং তাকওয়া অর্জনে মনযোগী হই , সিয়াম আমাদের জন্য কল্যান বয়ে এনেছে এখন আমাদের উচিত এই সব কল্যান কে জিবনের সকল স্তরে কাজে লাগানো ও ধরে রাখা , আসুন আমরা সকলে এই আলোকে জিবনের মধ্যেই সঞ্চয় করে রাখি এবং অন্যকে রাখতে সহযোগিতা করি – নিজে শিক্ষা নেব ও অপরকে শিক্ষা দেব এই স্লোগানে আমরা যদি এগিয়ে যাই তা হলে সফলতা আসবেই আসবে , তাই তাওবাতে থাকব আল্লাহর হুকুম আহকাম মেনে চলব রাসুল সঃ এর আনুগত্য করব ।যে সকল কাজে দুনিয়া ও আখিরাতের ফায়দা হয়না সেই সকল কাজ কে বর্জন করব , এই লেখা যখন লিখছি আমরা সবাই অর্থাৎ বিশ্ব ব্যাপি মানব সমাজ এক মহামারীর ছোবলে ক্ষত বিক্ষত – এই রোগ থেকে মানব জাতি আমরা সবাই যেন মু
ক্তি পাই তার জন্য সবাই দুআ করবেন এই আশা রাখি । বারমিংহাম ১৪-০৪-২০২১