বয়ানে রামাদান ০৪

প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২১

বয়ানে রামাদান ০৪

চৌধুরী হাফিজ আহমদ
দেহের ওজন কমাতে হরেক রকম পন্থা রয়েছে, মেদ ভুরি কমাতে ও নানা পদ্ধতি আছে কিন্তু নিজের গোনাহের ওজন কমাতে একমাত্র রামাদান ই হচ্ছে মাধ্যম , গোনাহের দিকে তাকালে আমি দেখি জাহান্নাম ছাড়া আমার গন্তব্য অন্য কোথাও নাই আবার নেকী র দিকে তাকালে আমি জান্নাত লাভের আশা করতে পারিনা এর কারন – নিজের আমল দিয়ে জান্নাতে যাব যে তা হবেনা জান্নাত লাভ হবে একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি যদি রহম করেন তবেই জান্নাতে যতে পারি নতুবা যত অক্সিজেন নিচ্ছি নিত্য তার মুল্য পরিশোধ করার ক্ষমতা আমার নাই – আমি আশা করি একমাত্র আল্লাহর উপর তিনি ই তাওয়াককুল এর মালিক অন্যতায় নয় – যদি মনে করি সালাত সিয়াম দ্বারা কাজ উদ্ধার করে ফেলব তা হলে আমরা ভুলের মধ্যে আছি – আল্লাহর দয়া পেতেই বিশ্বাস সালাত সিয়াম হাজ্জ যাকাত এর ব্যবস্তা ,এই সবে আমল করে যদি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হই তবেই পরিত্রান নতুবা নয় ,আজকে আমরা রামাদানের ৪র্থ দিন অতিক্রম করছি – জুম`আ হচ্ছে সপ্তাহের দিনের মধ্যে সেরা এবং মাসের সেরা হচ্ছে রামাদান তাই আনন্দ আলাদা – এই দিনে দুরুদ শরিফ পাঠে আছে মুক্তির সনদ এর ব্যবস্তা , দুরুদ শরিফ ই একমাত্র আমল যা মানুষের মালাইকার সাথে মিলে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা করেন , রাসুল সঃ এর প্রতি সালাম আরজ করতে কোন সময় বা মাস বা বিশেষ দিন নির্ধারিত নয় যে কোন সময় তা পাঠে অনেক বালা মুসিবাত থেকে পরিত্রান পাওয়া যায় – আমি নিজে ও দেখেছি এই দুরুদ শরিফের আমলে দুনিয়াতে অনেক ক্ষেত্রে ই ভাল থাকা যায় এবং ভাল অভ্যাস করতে পারি , দিনে রাত্রে নিয়ম করে যাহারা দুরুদ শরিফ পাঠে মনযোগী হন তাহারা মুক্ত থাকবেন নানা রকম ফিতনা ও ফাসাদ থেকে , আশা করব আমার পাঠক সমাজ সবাই আমরা নিজে দুরুদ শরিফ পাঠ করব এবং অন্যকে উৎসাহিত করব । রামাদানের সিয়াম নিয়ে যত খোলা মেলা আলোচনা করব এতে ফায়দা রয়েছে প্রচুর – এবং এই আলোচনা হচ্ছে আল কোরআনে সরাসরি ।এই মাসেই কোরআন জন্ম নিয়েছে – আকাশ থেকে পাতাল সব কিছুতেই চায় আল কোরআন তার দায়িত্ব পালন করতে এই কোরআন কে প্রতিস্টিত করতে পালন করতে হবে আল কোরআন সৈনিক দের ভুমিকা , আল কোরআন শুধু শুধু কথা প্রচার করতেই আসেনাই সমাজ জিবনে ও এর দায় দায়িত্ব আছে – কোরআনে বর্ণিত পন্থায় ই আমল করতে হবে যেমন টি করেছেন জনাবে মুহাম্মদ সঃ । রামাদান মাস এলেই আমাদের অতিরিক্ত তৎপরতা দেখা যায় , আসলে কিন্তু তা নয় – রামাদান নির্ধারিত বিষয় – এর জন্য প্রস্তুতি ও টিক মত পালন করাই হবে যথার্থতা ,করনীয় কি বর্জনীয় কি তা শিক্ষা নিতেই হবে , রামাদানের আমল গুলা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে – পুরাতন যাহারা তাহারা বলবে নতুন রা শুনবে উভয়ে তা মানবে । রামাদানে যত বেশী কম আহার করা যায় ততই ভাল কেননা ইবাদতে শরির হালকা থাকা ভাল , কম খেতে নির্দেশ ও রয়েছে , সালাতে অধিক সময় অতিবাহিত করেছেন – অনেক হাদিসে পাওয়া যায় রাসুলুল্লাহ সঃ রাত্রে ২৭ থেকে ৩০ রাকাত আদায় করেছেন সাহরীর আগে অবস্তা বুঝে ব্যবস্তা নিয়েছেন অনেক ক্ষেত্রে তিনি কম ও আদায় করেছেন । আবার দিনে তিনি কথা কম বলে বেশী তাসবিহ তাহলিল করেছেন – এবং কোরআনে বর্ণিত আলাপ আলোচনায় সময় কে ব্যয় করেছেন – এই পৃথিবীতে এক মাত্র ব্যাক্তি তিনি রাসুলুল্লাহ সঃ সময়ের সঠিক মুল্য দিয়েছেন , এখন আমরা উম্মতেরা ও এই রকম সময়ের মুল্য দেব – আল্লাহ তায়ালা এই সময় কে নিয়ে ই বলেছেন মানুষেরা ক্ষতির সম্মুখিন – বলা হয়েছে (আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম – ওয়াল আসর ইন্নাল ইনসানা লাফি খুছর ইল্লাল লাজিনা আমানু ওয়া আমিলুস সওয়ালিহাতি ওয়াতাও আ সাউবিল হাক্কি ওয়াতাওআ সাউবিস সাবর ) তাই সময় কে মুল্য দিয়ে ভাল আমল করতে হবে , কাউকে না জানিয়ে কারো উপকার করতে হবে একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদানের আশায় । হিংসা জিদ গীবত পরিত্যাগ করতে হবে – মদ সুদ জুয়া জিনা এই সবের চিন্তা ও করা মানা , এক কথায় সকল হারাম কাজ কেই পরিত্যাগ করে তা প্রতিরোধ করতে হবে – নিজে ও বাজে আমল করবনা অন্য কে ও করতে দেবনা , তা হলে সমাজ থেকে এই সব মন্দ অভ্যাস বা কু সংস্কার দূর হতে বাধ্য । সুন্দর সুশৃঙ্খল সমাজ ঘটনের জন্য ই সার্বজনীন ভাবে রামাদান মাস কে নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে । আমি নিজে ও দেখেছি মিলে মিশে সবাই এক কাতারে বসে খেলে খাবারের অভাব হয়না কেউ না খেয়ে ও থাকবেনা , মাসজিদে নববীতে দেখেছি খানায়ে ক্কাবাতে ও দেখেছি ইফতারের ও সাহুরী তে লাখ লাখ লোকের দৃশ্য কেউ না খেয়ে থাকেনি এই রকম আয়োজনে সকল দেশেই খাবারের অভাব মুচনে সহায়ক হবে ।অন্ন বশ্র বাসস্তান এর সমস্যা ই প্রকট তা মোচনে এই রামাদান পালন করে এক অনন্য ভুমিকা – এক দিকে নিজেকে ভাল আমলে অভ্যস্ত করে এবং অন্যের প্রয়োজন মেঠাতে আগরহী করে ও উৎসাহ দেয় , দান করা খুব কঠিন কাজ মানুষ সহজে চায়না সে কাউকেই কিছু দিতে – এই দেয়া নেয়া কে কেন্দ্র করে সমাজে অনেক রাহাজানি খুন খারাবি হয় , এই সব সন্ত্রাস বন্ধে আল ইসলাম নিরধারন করে দিয়েছে যা সেচ্ছায় দিতেই হবে , এই ব্যবস্তাকে কোন ভাবেই পাশ কাটানো যাবেনা যদি কেউ করে বা করতে চায় তা হলে তার জন্য রয়েছে ভয়াবহ সংবাদ । আল কোরআনে অনেক সুসংবাদ রয়েছে ঈমানদার দের জন্য যা দুনিয়া এবং আখিরাতে কল্যানের বার্তাই দেয় । এর পরে ও রবের কাছে চাইতে হবে খোলা ও খালিছ মনে – এমন করে চাইবে যেন মালিক সন্তোষটি প্রকাশ করে বান্দাহ যা চায় তাই দিয়ে দেবেন , রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাহ ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ ওয়াক্কিনা আজাবান্নার / আল্লাহহুমাগফিরলি ওয়ারহামনী ওয়ারজুক্কনী ওয়াহদিনি ওয়া আফিনি / রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফিরলানা / আল্লাহুম্মা আখরিজনি মিনাজ জুলুমাতি ইলান নুর / ইয়া ফাত্তাহু – ইয়া জাব্বারু – ইয়া ক্কাহহারু – ইয়া হাইউ ইয়া ক্কাইউম বি রাহমাতিকা আসতাগিছু রাব্বি আন্নি মাগলুবুন ফান্তাসির / ওয়া তাওাক্কাল আলাল হাইয়িল লাজি লা ইয়ামুতু আলহামদুলিল্লাহিল লাজি লাম ইয়াত্তাখিজু ওয়ালাদান / রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা / আল্লাহুম্মাগফিরলি মাউতা ওয়া মাউতাল মুসলিমিন / ইয়া আল্লাহ আমাদের হালাল রিজক্ক দান কর / ইয়া আল্লাহ আমাদের তুমি করুনা কর / ইয়া আল্লাহ আমাদের তুমি মন্দ থেকে বাচাও / সৎ পথ দেখাও আমাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি দয়া কর এই রকম দু আ করলে আল্লাহ তায়ালা কবুল করবেন । আমাদের চাইতে হবে দ্বিধা সংকোচ ব্যাতিরেকে নিজের জন্য ও অপরের জন্য কল্যান তাহলেই পাব শান্তির সন্ধান । রামাদান আমাদের শিক্ষা দেয় বহুমুখি কল্যানের – এর পরে ও আমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করতে হবে বারংবার । দম্ভ বা অহঙ্কার মানুষদের মানায় না -যাহাদের কিছুই নাই ওরাই অহংকার করে , মানবগুষ্টির কাছে সব ই আছে , মানব মণ্ডলীর কাছেই এসেছে আল কোরআন , মানব জাতিকেই আল্লাহ করেছেন আশরাফুল মাখলুকাত তাই অহংকার আমাদের মানায় না – আমরা হব বিনয়ি ও ভদ্র কারন আমরাই শিক্ষা নিতে পারি শিক্ষা দিতে পারি এমন কি আমদের থেকেই বনের জঙ্গলের জানোয়ারেরা শিক্ষা নেয় । এমন কি মানুষেরাই সকল সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ট , এবং তা বানানো হয়েছে একমাত্র আল্লাহ কে সিজদা দিতে , ইবাদত করতে , এখন আমাদের উচিত আমরা তাহার উপাসনা করেই শ্রেস্টত্তের প্রমান দিতে , রামাদান হচ্ছে এই রকম প্রমানের অন্যতম একটি পরিক্ষা এই পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হতে আমাদের উচিত নিজে নিজে হোমওয়ার্ক করা , ভাল অভ্যাস নম্রতা হিসাব আচার ব্যবহার সব কিছুই আয়ত্তে নিতে হবে ,নিজে গালি দেবনা গালি শুনব ও না , এমন কাজ করবনা যাহাতে লজ্জা বা অন্ধকার ডেকে আনে । রামাদানের প্রথম কাজ ই হচ্ছে পরিবর্তন করা – মন্দ কে উৎখাত করে ভাল কে প্রতিস্তাপন করতেই বার বার রামাদান মাসের আগমন – আসুন আমরা এই রামাদান থেকে শিখে বাকি ১১ মাস কেই আল দ্বারা উজ্জ্বল করে রাখি । পবিত্র এই মাসে এই রামাদান বয়ান যাহারা পাঠ করছেন তাহাদের প্রতি অনুরুধ করছি আসুন আমরা ভাল ভাল অভ্যাসের সাহবতেই জীবন কাঠাই – আমি সকলের কাছে দুআ প্রারথী – দু ‘আ করছি এবং দু আ চাই । বারমিংহাম ১৬-০৪-২০২১