বয়ানে রামাদান ০৪

প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২০

বয়ানে রামাদান ০৪


চৌধুরী হাফিজ আহমদ
দান খয়রাতে ধন বা সঞ্চয় কমে না । এতে বরকত হয় ,যদি তা সঠিক ভাবে দেয়া হয় । শুধু শুধু দেখানোর জন্য বা প্রদর্শনী বা নাম কামানোর জন্য দিলে ফায়দা তো দূরে থাক, ক্ষতি সহ গোনাহ হবে বেশী । সেই জন্য দান করে প্রচার করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে । গোপনে দানের মজাই আলাদা । এমন এক তৃপ্তি কাজ করে মনের মধ্যে । আনন্দের ঢেউ খেলে সব সময় । দান করতে হলে সতর্ক থাকা চাই ।
আমি যত দান করি গোপনে, এর ফায়দা আমি পেয়েছি আল্লার তরফ থেকে । দান করতে হলে ও নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয় । এমন করে দান করা উচিত, যাকে দান করলাম সে যেন স্বাবলম্বী হয় । গরীবকে ধনী করাই হচ্ছে দানের অন্যতম কারণ । এমন দান করলাম একদিন কিন্তু পরের দিন সে আবার হাত পাতবে অন্যের কাছে, তা হলে গরীব জীবনে আলোর মুখ দেখবেনা । তাই সাহায্য বা দান করতে হয় কি করে তা হাতে কলমে শিখিয়ে দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সঃ) । তাঁর কাছে ভিক্ষুক বা কেউ সাহায্য চাইলে তিনি তাকে খেটে খেতে পারে সেই উপকরণ কিনে দিতেন । তিনি যাকে যে কিছু পরিশ্রমের যোগ্য মনে করতেন সেই কাজে লাগিয়ে দিতেন । ইসলামে দান কয়েক প্রকার । এর মধ্যে জরুরী হচ্ছে জাকাত, যা অবশ্যই দিতে হবে ।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদে আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীর হাক্ক থাকে তা আদায়ে কার্পণ্য ইসলাম মেনে নেয়না । আমাদের উচিত হবে দান খয়রাত সাহায্য সম্পর্কিত নিয়ম কানুন মেনে চলা ।
অন্যথায় কল্যানের পরিবর্তে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে । এই রামাদান মাসে আমাদের উচিত হবে সঠিক ভাবে একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে এক সুখী সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করা । শুধু মাত্র সিয়াম সালাত তিলাওয়াতে লেগে থাকলেই রামাদান পালন হবেনা, গোটা মাস এমন করে সাজানো হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেক্‌ তার অনুশীলন করা আমাদের প্রয়োজন । উপবাস করে কিছুই অর্জন করা যায়না । যদি হৃদয় দিয়ে তা অনুধাবন না করি । রামাদানের এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে । হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসছে এই ধারা । তাকে অব্যহত রাখতেই আল্লাহ তায়ালা বছরে দিয়েছেন এই মাসকে সেরা হিসাবে । সুতরাং সেরা মাসে সেরা কাজ করতে হবে । প্রতিটা মুহূর্ত কাজে লাগাতে হলে খাবার বা ইফতারির আয়োজনের দিকে না তাকিয়ে গঠনমুলক ইবাদত করতে হবে । যে ইবাদতে থাকবে তাকওয়া – তাওবা -অনুশোচনা – উপলব্ধি ।
আমরা আজকে চতুর্থ রামাদান অতিবাহিত করছি, আমি জানিনা বিগত ৩ দিনে কে কত টুকুন অর্জন করেছি বা করতে পেরেছি । যদি না করে থাকি তবে আশা করব আজ থেকেই শুরু করব যেন আন্তত আমরা দুআ র মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে মাফি আদায় করতে পারি । মাফি পাওয়া খুব যে সহজ তা নয় । ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা পাওয়া খুব কঠিন । বিশেষ করে মানুষ সহজে আত্মসমর্পণ করতে চায়না । এমন করে চলবে যেন সেই একদম কিছু একটা এমন দম্ভ ভেঙ্গে সিজদায় নত হতে পারলে অবশ্যই ক্ষমাপ্রাপ্তি হতে পারে । যার জন্মদিন পালনে মহা সমারোহে পুরা এক মাসকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সেই আল- কোরআনকে অনুসরণ না করলে কি করে আশা করতে পারি ক্ষমা পাচ্ছি ! ভেবে দেখার বিষয় আমাদের আগামীর যাত্রাপথের । শুধু জেনেছি আখিরাত কিন্তু আখিরাত কেমন হবে তা বুঝছিনা । এর কিছু রূপরেখামূলক বক্তব্য কোরআনে পাই । এর থেকে যা বুঝতে পারি আখিরাতের যাত্রা পথ খুব কঠিন । ময়দান পর্যন্ত পৌছাতে যদি কষ্টের সামনা সামনি হই তা হলে সেই ময়দানে কতই না কষ্ট পোহাতে হবে । কিন্তু আরও সুসংবাদ পাই সেই যাত্রাপথ ও ময়দান একদম সহজ ও মসৃণ আলোময় হবে । মুমিনের জন্য সেখানে মুমিনদের কষ্ট দূরে থাক ক্লান্তি ও আসবেনা । তাই আমাদের জন্য চলিত রামাদান হোক মুমিন হিসেবে উন্নতির মাস । গোনাহ মাফ সহ প্রয়োজন মত সব কিছু অর্জিত হলেই বুঝব আমরা রামাদান এর সিয়াম সাধনায় উত্তীর্ণ হয়েছি । মুমিন হতে গেলে যে ১০ টি শর্য়াত দেয়া হয়েছে তা আমরা দেখে আমল করতে পারি সুরা মুমিনুন পারা ১৮ তে এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তাই এখনো আমাদের হাতে সময় আছে পর্যাপ্ত কদরের রাত পর্যন্ত পৌছাতে এর আগেই খাঁটি মনে সব দ্বিধা অহংকার ফেলে দিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পরে এক আল্লাহ সমীপে আত্মসমর্পণ করি যাহাতে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আগামী বছর রামাদান পর্যন্ত মুমিন হয়ে চলার তাওফিক দেন , আল্লাহর কাছে তাওবার কান্নার চেয়ে প্রিয় কিছু নাই তিনি আবার কান্না সহ্য করতে পারেন না চখের জল থুতুনিতে পৌছাতে দেরী হয় কিন্তু তাহার মাফি ঘোষণা হয়ে যায় , আমাদের পন করা উচিত অন্তত আগামি রামাদান পর্যন্ত শাইতানি সব আমল যেমন - সুদ - মদ - জুয়া - জিনা - ব্যভিচার - ঘুষ - দুর্নীতি - চুরি - ডাকাতি - বাটপারি - বদমাশি - বখাটে পনা - জূলূম - অত্যাচার - হিংসা - লোভ - গীবত - মিথ্যা - প্রতারণা -অবিচার- অধিক মুনাফা - কালো বাজারই -খাদ্যে ভেজাল -বাজে ব্যবহার - অহঙ্কার - দম্ভ -ফতকাবাজি -চালাকী - জূলূম সহ যত অন্যায় কাজ আছে সব থেকে বিরত থেকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকব , এমন এক চরিত্র ধারন করব যা হবে জান্নাতি আচরন দুনিয়াতে , জান্নাতিদের চরিত্র কেমন হবে তা জেনে নিতে হবে আল- কোরআন থেকেই , রামাদানের সিয়ামে কিয়ামে সফল হলাম কিনা তা বুঝাই যাবে রামাদান পরবর্তী আচার আচরনে । উগ্রতা না ছাড়লে কখনোই মুসলমান হওয়া যায়না আমাদের জন্য জানা দরকার মুসলমান পরিচয়ের মুল নিতীমালা নতুবা নামে মুসলমান পরিচয় পেলে ও সেই অন্ধকারেই ডুবে থাকবে মন ও মগজ । রামাদানের আজকের দিনের সমাপ্তির পথে ইফতারির অপেক্ষায় সকল আসুন আমরা দুআ করি আল্লাহর কাছে ,কারন ইফতারির আগে সকল দুআ কবুল হয় বলেই জানি , এবারের এই রামাদান আমাদের জন্য আলাদা এক বার্তা দিচ্ছে - করনা নামক ভাইরাসে সকল জাতী গোসটি নাজেহাল দিশেহারা সকল দেশের শাসক শোষক চরম কষ্টে গোটা মানবতা সেখানে আমরাই পারি আল্লাহকে মানাতে রাজি করাতে যেন তিনি তাহার দয়ায় আমাদের প্রতি রহম করে বিপদ থেকে মুক্ত করেন ,বরাবরের মত আজকে বলব হেলায় রামাদান কে যেতে দেবনা , প্রতিক্ষনে তাসবীহ ইসতেগফারে সময় কে কাজে লাগাবো , রামাদানে দুরুদ শরিফ পাঠে আনে আলাদা প্রশান্তি `` আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মদ `` এই শব্দদ্বয় জিবনে বদলে দেয় আলাদা আনন্দে মনের তৃপ্ততায় দুরুদ শরিফ হতে পারে আমাদের জন্য এক বিশেষ উপহার , সংযম পালন করা রামাদানের অন্যতম আকর্ষণ , তাই আসুন আমরা দান খয়রাতের ক্ষেরে ও সংযমী হই আল্লাহ যেন আমাদের সকল নেক নিয়ত কবুল করেন এবং রামাদানের সিয়াম কিয়াম কে নাজাতের ওয়য়াসিলা করে দেন একমাত্র তিনি ই পারেন আমাদের রক্ষা করতে । বরতমান মহামারী থেকে পরিত্রান দিতেই তিনি সক্ষম কেননা কবি বলেন ---- ক্কাদিরে কুদরত তো দারী বর কামাল আনতা রাব্বি আনতা হাসবী জূল জালাল , দেশে বিদেশে যে বা যারা এই লেখাটি পাঠ করছেন , তাদের প্রতি অনুরোধ করলাম আমাকে আপনাদের দুআ তে শামিল রাখবেন । দু`আ ই পারে ভাগ্য বদলাতে এবং পারে শান্তি ও মুক্তি দিতে ।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031