বয়ানে রামাদান ০৫

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

বয়ানে রামাদান ০৫

চৌধুরী হাফিজ আহমদ
আলহামদুলিল্লাহ আজকে ৫ দিন অতিবাহিত করছি, এই রামাদান মাস যেন জোয়ারের মত দ্রুত চলে এর থেকেই আমরা উম্মাহ যত পারি বরকত রহমত ধরে রাখতে ততই মঙ্গল । মাগফিরাতে আমাদের খুব কাজে দেবে – রামাদান এলেই মু`মিন হৃদয়ে আনন্দের বন্যার ঢেউ খেলে – একেত ইফতারের স্বাদ আরেক দিকে সালাতে তারাবীহ সালাতুল তাহাজ্জুদ এবং আরেক মজা সাহরী আদায়ে , এই ধারাবাহিকতা চলতেই থাকে – খাব কম কিন্তু মজা পাব বেশী তা একমাত্র রামাদানেই সম্ভব , বাচ্ছা জোয়ান বুড়া সবার কাছেই এই আনন্দ বিরাজ করে বিধায় তা বন্টিত হতে থাকে আপনা আপনি , ধিনীরা বিলিয়ে দিতে চায় গরিবেরা নিয়ে খুশি হয় , প্রাপ্য বুঝিয়ে ডিলেই বোঝা কমে চিন্তার পাহাড় যেন আপনা আপনি সরে যায় । রামাদানে যত বিলিয়ে দেব এর হাজার গুন বেশী পাব অন্যান্য মাসে যদি দেই এক টাকা এই মাসে তা হলে বছরের বাকী ১১ মাসে পাব এর হাজার গুন ফায়দা , কারন আল্লাহ যা দিতে বলেছেন তা দিয়ে দিলে তিনি খুশী হয়ে নিয়ামত বাড়িয়ে দিতেই থাকেন আরেক রামাদান পর্যন্ত , আল্লাহ দিয়ে যেমন পরিক্ষা করেন তেমনি নিয়ে ও পরিক্ষা করেন , কাউকে সাহায্য করে মনে মনে খুশি অনুভব করলেই আসে তৃপ্ততা তাই এই মাস কেই আল্লহ তায়ালা অন্যকে দেবার জন্য বরাদ্ধ করেছেন , কাউকে কিছু দিয়ে খোটা দেয়া কিংবা না কামাইয়ের জন্য বা ব্যবসায়িক ফন্দির জন্য যদি দেন তা হলে ফল হবে উলটো , ডান হাতে দেবেন বাম হাত যেন না জানে , অবজ্ঞা করে বা তাচ্ছিল্য করে দেয়া হলে তা হবে অন্যায় এর থেকে গোনাহের খাতা ভর্তি হতেই থাকবে তাই যা দেবেন দিল সাফ করে খুশি মনেই দিন এতে আল্লাহ তায়ালা খুশি হবেন ও নিয়ামত বাড়িয়ে দেবেন , কৃপণ দের প্রতি আল্লাহ এমনিতেই অসন্তস্ট – যাহারা কৃপণতা করে এদের বাখিল বলে তিরস্কার করেছেন , কৃপণদের সম্পদ তাই দেখা গেছে কোন কাজেই আসেনা না নিজে খায় অন্যকে খাওয়ায় এমনিতেই ঘুন পোকার খাদ্য হয় । জাকাতের হিসাব একদম আলাদা পাই পাই করে যাকাত দেয়া ফরজ , যার যার অবস্তান অনুযায়ী হিসাব নিকাস করেই যেন তা আদায় করা হয় । আমি প্রায় ই আমার বক্তৃতায় বলি অপচয় করবেন না অপচয় কারিকে আল্লাহ পছন্দ করেন না যাহারা ভাত রুটি অর্ধেক ফেলে দেয় এদের মত হতভাগ্য এই পৃথিবীতে আর কেউ নাই – আজকে আপনি দানা ফেলে দিচ্ছেন কালকে আল্লাহ আপনার রিজক্ক থেকে তা সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র দেবেন – এমনিতেই অপচয় কারিকে ভাল বাসেন না – তিনি অপচয় কারিকে শাইতানের ভাই বলেই সম্বোধন করেছেন তাই কৃপণতা ও করবনা আবার অপচয় ও করবনা যখন যা প্রয়োজন তাই করতে হবে । রামাদান হচ্ছে পবিত্রতার মাস এই মাসে যত পারি আল কোরআনের সাথে কাটালে বাকি ১১ মাস এর সুফল পাব । মনে থাকা দরকার এই রামাদান মাস ই হচ্ছে আল কোরআনের জন্ম মাস – এই মাসেই আল্লাহ আমাদের তাকদিরের ফায়সালা করেন তখন যত বেশী দুআ করব ততই মঙ্গল .আত তাকদিরু লা ইয়া রুদ্দু ইল্লা বিদ দোয়া ,
ভাগ্য বদলায়না হ্যাঁ কোন কোন সময় দোয়ার দ্বারা ভাগ্যের নবায়ন হয়। তাই দুআ করতেই হবে কল্যানের জন্য । রামাদানে পরাশুনা করা উচিত আল কোরআনের পাশাপাশি মুসলিম সাহিত্যের নানা দিক জানলে উপকার হবে অন্যকে জানাতে ও সহায়ক হবে নিজে বই পড়ে তা অন্যকে পড়তে দেয়ার অভ্যাস করলে সমাজে দেখবেন সুস্ততা তৈরি হচ্ছে বিশেষ করে মহিলা ও বাচ্ছাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে হবে , বাচ্চারা হচ্ছে আগামি দিনের কাণ্ডারি তাহারাই আমাদের জন্য বভিস্যতে দু
আ করবে আজকে যেমন আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করছি । রামাদান আমাদের বুহুমুখি শিক্ষা দান করে – আল কোরআন যেমন সকল সমস্যার সমাধান তেমনি রামাদান ও আসে আমাদের দৈনন্দিন জিবনের সমাধান দিতে তাই রামাদানের ভুমিকা আমাদের জিবনে মোম বাতির মত সেখান থেকে বাকী ১১ মাসের জন্য আলো সঞ্চয় করে রাখতে হবে ।ব্যবহারে আমলের পরিচয় বহন করে যার যত আমল ভাল হবে ব্যবহার ও তাহার তত সুন্দর হবে – ব্যবহারের সাথে আমি দেখেছি লেনদেনের ও এক বিশাল সম্পর্ক – কর্জ দেয়া কিংবা হাদিয়া দেয়া নেয়া নিয়ে দেখেছি ব্যবহার ভুমিকা রাখে । রামাদান শুধু শুধু উপোষ করার নাম না – আবার সুরয্যাস্তের সাথে সাথে পেট পুরে খাবারের নাম ই সিয়াম নয় , সিয়াম মানে ই কষ্ট উপলব্দি করা এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়া , সিয়ামের দ্বারা নফসি খায়েশ যদি ধ্বংস করা না হয় তা হলে রামাদান পালন করা আর না করার সমান সমান । নিজের আত্ম সংশোধনের জন্য এক রামাদান যথেষ্ট কিন্তু আমরা পাচ্ছি বার বার আমার জিবনের ৫০ বছরে পেয়েছি ৫০ বার এই মাসকে – কিন্তু মনে হচ্ছে এখনো কাজে লাগাতে পারছিনা , প্রত্যেক বছরেই যেন যেন নতুন নতুন উপলব্দি আসে নতুনত্ব পাই – অথচ আমি দেখি বাহিরে বাজারে হরদম রামাদানের পবিত্রতা লঙ্গন করেই চলেছে বনি আদম , কথায় বলায় চলায় সংযম নাই – পবিত্রতার লক্ষন তো নাই বরং যত্র তত্র থু থু ফেলছি অযথা গালাগাল করছি রাগ দমন না করে বরং যেখানে সেখানে রাগ কে প্রকাশ করছি , মেজাজ এত চরমে যেন মনে হয় সিয়াম অবস্তায় সূর্যের সকল তাপ তাহার মাথার উপরে । রাগ করা রাগ দেখানো একদম অন্যায় ও হারাম , এই রামাদানে তাই আসুন আমরা সকলে চেষ্টা করি অভ্যাস বদলানোর , ভাল অভ্যাস কে ফলো করি – ভাল অভ্যাসের মধ্যে নবী রাসুল আঃ আজমাইনের অভ্যাস ই হচ্ছে উত্তম , তাহাদের অভ্যাস কে অনুসরন যদি করি তা হলে আশা করি কামিয়াব হতে পারব ,কম খাব কম কথা বলব কম চলা ফেরা করব বেশী বেশী অর্থাৎ প্রয়োজনের অতিরিক্ত আমরা গরিব দের বিলিয়ে দিয়ে তাহাদের এক কাতারে টেনে তুলে আনব একে অন্য সহযোগিতা করে চলব উপকার করব কিন্তু অপকার করবনা , সবরের সহিত চলাফেরা করব সবরের ফল সকল সময় মিঠা হয় এবং সবর কারিরাই জান্নাতের বাসিন্দা । মদ সুদ জুয়া জিনা থেকে নিজেকে দূরে রাখব – অন্যায় আচরন করবনা – এমন সমাজ ঘটনে ভুমিকা নেব যাহাতে তাগুতি শক্তি মাথা চারা দিয়ে উঠতে না পারে ।  ভিন্নধর্মাবলম্বীদের   কাছে আমরা আল কোরআনের দাওয়াত প্রচার করব , তাহাদের কাছে আমাদের আচার ব্যবহার তুলে ধরে আল ইসলাম ই যে একমাত্র দুনিয়া আখিরাতের মুক্তির সনদ তা বলব – তাহাদের সাথে ব্যবসা লেন দেনে সচ্ছতা অবলম্বন করব – আল ইসলাম হচ্ছে আদর্শের ভাণ্ডার এর মধ্যে একেটা স্তম্ভ খনিজ সম্পদে ভরপুর – ঈমান এমন এক সাহসের খনি যা বাতিল কে নড়বরে করে দেয় – সালাত আরেক সম্পদ যা ন্যায় নীতিতে অঠল রাখে – সিয়াম আরেক খনিজ সম্পদ যা দিতেই থাকে কখনো ফুরায়না বার বার দিতেই আসে আবার তাও জানান দিয়ে , হাজ্জ এমন এক দৃষ্টান্তের ভাণ্ডার যা দেখলে মন প্রান জুড়ায় উদাহরনের এমন বিষয় যা নিজে না গেলে এবং পালন না করলে বুঝানো দায় , যাকাত এমন এক ভাণ্ডার যার শুরু আছে শেষের কোন সীমানা প্রাচীর নাই এই সব অতুলনীয় বার্তা কে বিধর্মীদের কাছে উপস্তাপন করতে হবে বিনয়ের সাথে যেমনটি করেছেন আমাদের মহানবী সঃ মিষ্টি মিষ্টি ভাবে মন জয় করেন নাই শুধু বিধর্মীদের তাহাদের পাক্কা জান্নাতের আশিক্কে পরিনত করেছেন , আমাদের বন্ধু বানাতে হবে একমাত্র ইমানদার দেখে যাহাদের কাছে আছে সালাত এবং তাক্কওয়া , রামাদান আমাদের কাছে এই সব বার্তাই দিতে আসে মন মগজ কে পরিবর্তন করার নাম ই হচ্ছে সিয়াম । আজকের এই পঞ্চম দিনে রামাদানের আমার এক মাত্র কামনাই হচ্ছে আল্লাহ যেন আমাদের উম্মাহের সকল কে হিদায়াতের নুর দান করেন , আমি আল্লাহর কাছে আমার জিবনের সকল গোনাহের জন্য ক্ষমা চাইছি আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি , ইয়া মুক্কাল্লিবাল ক্কুলুব সাব্বিত ক্কালবি আলা দিনিক , রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা , রাব্বি জিদনি ঈলমা , আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদায়িয়া ওয়া লিল মু`মিনিনা ইয়াউমাইয়া কুমুল হিসাব , আল্লাহুম্মাগফিরলি মাউতা ওয়া মাউতাল মুসলিমিন । এই বিশ্বে আমরা যত অসহায় রুগি আছি আল্লাহ যেন আমাদের দ্রুত শিফা দান করেন – ও আমাদের বেশী বেশী কোরআন চর্চার তাওফিক্ক দিন , সঠিক ভাবে সালাত সিয়াম পালনের তাওফিক্ক দেন আমিন । বারমিংহাম ১৭-০৪-২০২০১