বয়ানে রামাদান ০৭

প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২০

বয়ানে রামাদান ০৭


— চৌধুরী হাফিজ আহমদ
সপ্তম দিনে রামাদান পুরো সপ্তাহ আমাদের কে সঙ্গ দিচ্ছে সিয়াম এবং কিয়ামে আমাদের কে ব্যস্ত রাখছে খুব আসলে রামাদান এলেই আমরা ব্যস্ত হয়ে পরি ইবাদাত বন্দেগী দান খয়রাত ইফতারি সেহরী সহ আমাদের সামনে থাকে প্রভুর কাছে তাওবার নিয়ত কি করে তাওবা করলে ভাল হব চরিত্র সংশোধন করতে পারব কোন কোন দুআ পড়লে আল্লাহ শুনবেন এবং মাফ করবেন এই চিন্তা হচ্ছে শুভ লক্ষন আল্লাহ চান বান্দাহ যেন নিজেই তাহাকে উন্নিত করার চিন্তা করে যে নিজে তাহার পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে আসে আল্লাহ তাহাকেই আরও এগিয়ে দেন বরকত রহমত দিয়ে । আল্লাহর রহমত ছারা অনুগ্রহ ব্যথিত কোন আমল বা ঈলম দিয়ে জান্নাতে যেতে পারবেন না ,যদি কেউ তা মনে করে তার ইবাদাত শিক্ষা বুদ্ধি কর্ম দিয়ে জান্নাত লাভ করতে পারবে তা হলে সে বোকা হতভাগ্য , যে যত বড়ই হোক না কেন সমাজে এক দণ্ড দাড়াতে পারবেনা একজন মালাইকার সামনে স্বর্গ তো দূরে থাক তবে আল্লাহ অনুগ্রহ করলে তখন সেই হবে সম্রাট তাহার আর কোন চিন্তা থাকবেনা পেরেশানীর তাই আমাদের উচিত জেনে নেবার আসলেই প্রভু কি চান আমাদের থেকে এবং সেই অনুযায়ী আমল করা , আমলের মধ্যে অন্যতম আমল হচ্ছে তাওবা করা আল্লাহর কাছে যত নত হওয়া যায় তিনি খুশী থাকেন বা রাজী হন রামাদানের সপ্তম দিন চলে যাচ্ছে রহমতের ভাণ্ডার থেকে বিতরন করা হচ্ছে নিয়মিত রাত দিন সমানে সমান আমরা কি তা নিচ্ছি না হেলায় এখন ও বসে আছি !! ইফতারিতে ব্যস্ত হবার মত কিছুই নেই সারা বছর ই আমরা খাচ্ছি কেনা কাঠি করছি আনন্দ করছি সৌজন্য তা প্রকাশ করছি তবু ও আমাদের সমাজে ইফতারির নামে চলে এক বিশাল বাণিজ্য , এত খাবার অপচয় করি এত খাবার খাই যা অন্যায় ই নয় তা রামাদানের সাথে এক চরম অবিচার , ইফতারির নামে ব্যবসা ইফতারির নামে আত্মীয়তা ইফতারের নামে ধান্দাবাজি রামাদান মাসের সাথে প্রতারণা ছারা কিছুই নয় , বাংলাদেশে মেয়েদের বাড়ি ইফতার দেবার যে প্রচলন রয়েছে তা রামাদান মাসের পবিত্রতার সহিত ইচ্ছে কৃত বেয়াদবি এতে রামাদান ক্ষিপ্ত হবেই এতে সন্দেহ নাই , কেন আমরা জেনেশুনে রামাদানের পবিত্রতা ক্ষুন্ন করি বুঝিনা - রামাদানের আদর্শ হচ্ছে না খাওয়া যত কম খাব ততই বুঝব ক্ষিদার কষ্ট , কিন্তু আমরা অনেকেই বেছে নিয়েছি রামাদানের ইফতারে দ্বিগুণ খাদ্য গ্রহন করব , এতে মহিলাদের উপর চলে এক চরম অত্যাচার তাহাদের সিয়ামে এবং সালাতে যে কষ্ট করতে হয় তা বলার মত নয় । মহিলারা রান্না করবে সবাইকে খাবার দেবে আবার ইবাদত বন্দেগী করবে এত দায়িত্ব পালন করবে একা তা আসলেই এক ধরনের অবিচার এতে ও রামাদানের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় , আমার মতে রামাদানে বাজারে প্রতিদিন যাওয়া ই অন্যায় অবশ্য যাহাদের জন্য প্রয়োজন তাহাদের বেলায় অন্য কথা তবে সতর্ক থাকা দরকার , ভাবা উচিত আমাদের আসলেই কি আমরা পবিত্রতার জন্য রামাদান পালন করছি না নিজের খায়েশ মেঠাতে আয়েশ আরামের জন্য রামাদান পালন করছি , যদি নিজের খায়েশে করে থাকি তা হলে ব্যর্থ , রামাদান কিছুই দেবে না রামাদান এদেরকেই দেবে যাহারা রামাদানের আদর্শ মানে ও বুঝে পবিত্রতা রক্ষা করে মর্যাদা দেয় । রামাদান এক বিশাল অধ্যায় এই মাসের নিজস্ব বোধ শক্তি আছে সে নিজেই চলে তার আপন গতিতে এবং রামাদান সে নিজেই আল্লাহর হাতে এবং আল্লাহ তায়ালা ইনসাফের মাধ্যমে ফায়সালা দেন তিনি যখন কোন ফায়সালা দেন তাহাকে ফেরাবার মত সাধ্য কারো নেই , তাই আমরা যাহারা সিয়াম পালন করছি খেয়াল রাখা জরুরী কোন ভাবেই যেন আল্লাহর ক্রোধের সামনে না পরি । যত পারি আমরা ইফতারের অপচয় থেকে বিরত থাকব এবং কম খাব উপলব্দি করব , ইবাদতে নারী বা পুরুষ জোয়ান বূড়ূ সবাই সমান এখানে বেশকম করবোনা , রামাদানে বেশী দুআ করব এমন করে করবো যেন হৃদয় মন থেকে চাহিদা আসে আল্লাহ কাউকেই ধারন ক্ষমতার বেশী না চাওয়াগুলা যেন ন্যায় ও প্রয়োজন অনুযায়ী হয় , জরুরত যা আল্লাহ এমনিতেই সবাইকে দিয়েছেন এখন যা চাইব তা যদি জরুরত না হয় লোভ হয় তা হলে আশা করতে পারি তা গৃহীত হবেনা তাই চাইব এমন কিছু যেন সেই নিয়ামতগুলা অব্যাহত থাকে কি করে কি কি চাইব তাও আল্লাহ আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন কোরানের পাতায় পাতায় সেই সব দুআ গুলা রয়েছে তা আমাদের মুখস্ত করে নিলেই প্রাপ্তির অভাব হবেনা ইনশাহ-আল্লাহ ।রামাদান এমন এক বিশাল ভাণ্ডার এই ভাণ্ডারের সিন্দুক খালি হয়না আমরা আনতে জানিনা বলেই হয়ত কষ্টের মধ্যে অবস্তান করি এবং আক্ষেপ করি আফসোস করি , এর থেকে রেহাই পেতে চলিত রামাদানের বাকী দিনগুলা কাজে লাগাই , বলায় চলায় আমরা সংযম পালন করি সকল বাক্য ইবাদত করার চেষ্টা করি , একটি বাক্য দ্বারা আমরা চাইতে পারি অনেক কিছু যেমন রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন ইসতেগফার এর ব্যাপারে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহের মধ্যে থাকতে পর - আসতাগফিরুল্লাহ ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম । এই রকম প্রচুর দুআ ইস্তেগফার আছে যা বলা যায় চলতে ফিরতে , আমি অনুরুধ করি সবাইকে এই রামাদান নিন নিজেকে পরিবর্তনের জন্য চ্যেলেঞ্জ হিসাবে তা হলেই দেখবেন সুফল আসবে , নিজে নিজেকে পরিবর্তন না করলে কেউ আসবেনা পরিবর্তন করে দিতে , এই কাজে রামাদান এর শিক্ষাই পারে আমাদের বাচাতে । এমন করে চাই যাহাতে থাকবে ভবিষ্যতের জন্য কল্যানের পরিকল্পনা ভুল পথে – ঘুসের কামাই – সুদের – মদের – জিনা – ব্যভিচার – অন্যায় আচরন – জুলুম নির্যাতন ইত্যাদি আর আমার দ্বারা হবেনা এই ধরনের সংকল্প থাকলে আলো জ্বলবেই জ্বলবে সমাজে । ইসলামের কাজ ই হচ্ছে আলো জ্বালানো তাই আমি দেখেছি অন্ধকার পালায় যখন মানুষ সত্য বুঝে ।রামাদানের প্রতি আন্তরিক হতে হলে আমাদের খেয়াল করে সহিহ ভাবে আল- কোরআন পাঠে মনযোগী হতে হবে – কারন আল্লাহ বলেছেন চিন্তাশীল দের জন্য কোরআন বুঝা সহজ ইরশাদ হচ্ছে *** ওয়ালাক্কাদ ইয়াচ্ছারনাল কোরআনা লিজ জিকরি ফাহাল মিন মুদ্দাকির *** সুরা ক্কামার । আমি দেখেছি আসলেই সত্য কোরআন না বুঝার কারনেই আমাদের অনেক ইবাদত বিফলে যায় , কারন আমরা ইবাদত মনে করি কিন্তু আসলে তা ইবাদত নয় তা হচ্ছে লৌকিকতা কিন্তু কোরআন বুঝলে ইবাদত ও হয়ে যায় সহজ । তাই আমরা যে যেখানে যে অবস্তায় আছি কোরআন সহিহ শুদ্ধ করে পড়ব ও বুঝব এর পরে চর্চা করব । শুনে বা দেখে কিছুই করবনা – আল্লাহ আমাদের এমন এক কিতাব দিয়েছেন যাহাতে কোন ভুল নেই আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে জীবন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুর দিক নির্দেশনা রয়েছে , আমরা আমাদের তালিকা অনুযায়ী মেণে চললে অসুবিধা বা কিছুর অভাব হবেনা ,এতে অন্যতা হলে জিল্লতি – অসুবিদা – জুলুম নির্যাতন ই আমাদের সঙ্গী হবে । সম্মানিত পাঠক সমাজ – আসুন এই রামাদানে আমরা সকল মন্দ অন্যায় কে কবর দিয়ে এক নতুন জীবন অধ্যায় শুরু করি ।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

November 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930