বয়ানে রামাদান ১২

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, মে ৫, ২০২০

বয়ানে রামাদান ১২


চৌধুরী হাফিজ আহমদ
মেহনতের কামাইতে মজা আলাদা যে কেউ পরিশ্রম করলে তার কাজ অনুযায়ী ফল সে পাবেই তা বিনিময় টাকা খাদ্য বাসস্তান আসবাব ভরন পোষণ যাই হক তার প্রাপ্য মেহনত ছারা যে কামাই তাহাতে হৃদয়ের টান থাকেনা , যে মেহনতে ঘাম ঝরে সেই কাজেই তৃপ্তি বেশী ঘামের সাথে আরামের এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে , আমরা যে দুআ করি তা কবুলের প্রথম শর্ত হচ্ছে হালাল কামাই রুযী ,যে সকল নবী রাসুল আঃ এর কাহিনী জানি তাহারা সবাই ঘাম ঝরে মেহনত করেছেন বলে প্রমান আছে এমন ও পেয়েছি কেহ কেহ গরু ছাগল ভেরা ছড়িয়েছেন আবার কেহ মৎস্য শিকার করে বিক্রি করেছেন জমিনে ফসল ফলিয়েছেন লোহার কামার পেশা ছিল অনেকের , তাহাদের আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন মেহনত করতে , ঘাম ঝরা পরিশ্রমে তাহারা ছিলেন একদম পাক্কা মজবুত তাহাদের দেখে অনেকেই হিংসা করত , এমন ও নবী আঃ ছিলেন যাহাদের ধন সম্পদ ছিল প্রচুর , এরা একদিকে মেহনত করেছেন জমিনে অন্য দিকে আল্লাহর বানী প্রচার করেছেন । যার ফলে বরকত ছিল তাহাদের জীবন ও পরিবারে - ঘাম ঝরা মেহনতে শরীর থাকে ঝরঝরা মেজাজ থাকে ফুরফুরে খাজানায় আসে সম্পদ , দান খয়রাত করার পরে ও কমে না আরও বরকত হয় এতে , আমি নিজেই দেখেছি আমি যত পরিশ্রম করেছি যেখানে শারীরিক মেহনত জরিত আমি খুব আরামে ঘুমিয়েছি এমন ও হয়েছে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতাম মেহনতে শরীরের যে কসরত অরথাত অঙ্গে প্রত্যেঙ্গ রক্ত চলাচল করে ভাল রগের মধ্য যে চর্বি জমে তা মেহনতের ফলে বেরিয়ে যায় ঘাম হয়ে , আল্লাহ তায়ালা বলেছেন জমিনে মেহনত করতে ফসল ফলাতে যা দিয়ে সবাই খেতে পরতে পারবে অভাব হবেনা খাবারের জীবন চালনায় পিছনে থাকাতে হবেনা , এখন এমন অবস্তা হয়েছে কেউ আমরা জমিনে ফসল ফলাতে চাই না সব কিছু হয়ে গেছে যান্ত্রিক বাণিজ্যিক ভাবেই সব কিছু হচ্ছে এতে ভেজাল দিচ্ছে তা কিনে খেয়ে নিজে নিজেই অসুখে পতিত হচ্ছি আমি যে সকল দেশে গিয়েছি সব খানেই এই কমার্সশিয়েল অবস্তা বিরাজমান পেয়েছি অথচ সামান্য ২০/২৫ হাত জায়গায় অনেক ধরনের ফসলাদি ফোলান যায় এবং হয় ও প্রচুর , এক তো নিজের অঙ্গন আরেক তো যত্ন এবং নিজের হাতে ফলানো এর স্বাদ আলাদা , ভেজাল মুক্ত খাবারের রোগ বালাই ও থাকে দূরে - কিন্তু বর্তমান অবস্তায় আমাদের অনীহা যার কারনে জমিনে বরকত নাই আরেকদিকে আমরা মেহনত করতে চাই না যান্ত্রিক জিবনের দিকে ধাবমান আমাদের প্রজন্ম , এতে করে মানবতা হারাচ্ছে তার স্বকীয়তা অন্যদিকে বিস্তার হচ্ছে সমাজে অবৈধ যাহাকে আমরা জানি হারাম বলে তার উপস্তিতি , যখনি হারাম জড়িত হবে তখনি বুঝতে হবে সিয়াম সালাত কিয়াম সহ যে কোন ইবাদত আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবেনা একবার কেন বার বার মাফ চাইলে ও ক্ষমা নাই আল্লাহ বার বার বলেছেন অবৈধ যত কিছুই আছে তা আমার অঙ্গনে হারাম , তুমি হারামে থাকবে আমার কথা না মেনে তখন কি করে আরাম চাও ? হারামের স্তান তাই আল্লাহর কাছে ঘৃণিত - রামাদানের অন্যতম শিক্ষা ই হচ্ছে হারাম থেকে বেচে থাকা , হারামের খাবার খেয়ে দান করলে তা গ্রহণযোগ্য হবেনা সুতরাং দুআ কবুলের প্রশ্নই আসেনা । তবে হারাম ছারার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন কেননা তিনি নিয়তের অবস্তা পর্যবেক্ষণে সক্ষম , ক্ষমা করা না করা একান্তই তাহার ব্যাপার – আমরা চেষ্টা চালাতে পারি মাত্র ,সেই চেষ্টা করব যখন তখন মন্দ সব কিছু থেকেই পানাহ চাইব , রামাদান এক বিশাল বিষয় শুধু মাত্র সকাল সন্ধ্যা উপোষ করলে , তারাহবীতে জাম্বু জেট গতিতে কোরআন তিলাওয়াত শুনলে খুচরা টাকা ভিক্ষুক কে দান করলেই রামাদানের হাক্ক আদায় হয়না এর জন্য প্রয়োজন অনেক অনেক বেশী ত্যাগ তা হলেই আসবে সার্থকতা , আমরা যাহারা সহজে সাওয়াব হাসিলের ধান্ধায় থাকি সবার উচিত হারাম ত্যাগ করে মেহনতের জিন্দেগী পরিচালনা করা এই জন্য কবি বলেছেন ** পরিশ্রমে পুন্য আনে , অলসতায় দরিদ্র , লোভে হয় পাপ , পাপে আনে মৃত্যু**। ইসলাম যে আদর্শ জীবন ব্যবস্তা তা বুঝতে হলে আল- কোরআন পড়া জরুরী এতে রয়েছে চলার জন্য নিয়মাবলী শর্ত ভাল মন্দের যাচাই কঠোরতা শিথিলতা ,সকল বিষয়েই আল্লাহ বক্তব্য রেখেছেন , আল্লাহ যে বয়ান দিয়েছেন মানুষ সৃষ্টি করে সেই সুরাই যদি বুঝে পরি তা হলে বুঝতে অসুবিদা হবেনা আল্লাহ কি চান বা না চান এই বয়ানের সুরার নাম হচ্ছে আর – রাহমান , তিনি শুরুতেই বলেছেন এই রকম ** আর রাহমান / আল্লামাল কোরআন / খালাক্কাল ইনসান / আল্লামাহুল বায়ান ** এই বয়ানে তিনি যে সকল প্রশ্ন করেছেন বারবার এর জবাব কারো দেবার সাধ্য নেই তিনি ই সেই সমাধান দিয়েছেন তাই তাহার প্রতি আমাদের নত হওয়া ছাড়া গতি নাই – এই সুরাতেই এমন এক চ্যেলেঞ্জ দিয়েছেন তা সুধু মানুষ কে নয় যোগ করেছেন আমাদের পূর্ববর্তী জাতী জিন কে ও শেখানে তিনি বলছেন ** ইয়া মায়শারাল জিন্নি ওয়াল ইনসি ইনিস্তাতা`য়তুম আন তানফুজু মিন আকতারিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ , ফানফুজু -লা তানফুজুনা ইল্লা বিস সুলতান **(সুরা আর রাহমান পারা ২৭)কিন্তু সেই চ্যলেঞ্জ মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি – এখানে বলেছেন জিন ও মানুষ কারো কি সাধ্য রয়েছে আসমান জমিন এই রকম বানাতে যেমনটি আমি বানিয়েছি ? যদি তা না মানো তবে দেখি তো বেড়িয়ে গিয়ে দেখাও ? কিন্তু সেই সাহস কি আছে কারো কাছে করে দেখাবার !! সহজ কথায় নাই যেহেতু নাই তখন মেনে নেয়াই উচিত আল্লাহর সকল হুকুম আহকাম তিনি চান ইনসান মেহনত করুক হালাল উপায়ে উপার্জন করুক তিনি এতে বরকত দেবেন সেই হালাল রুজি ভক্ষন করে আমার কাছে যা যা চাইবে আমি রাব্বুল আল আমিন কবুল করবইনা শুধু মাফ করে ও দেব , আজকে চলছে দ্বাদশ তম রামাদান বরকতের খাজানা খোলা আমরা যেন বরকত থেকে বঞ্চিত না হই তা খেয়াল রেখে চলতে হবে, ইসতেগফারে যেন ভুল না হয় এমন কিছু ইসতেগফার আছে যে গুলা ক্ষনে ক্ষনে পাঠ করা যায় কোরআন হাদিস শরীফে রয়েছে অনেকগুলা এর থেকে সামান্য কয়েকটি তুলে ধরলাম আশা করি অনেকের জন্য সহায়ক হবে
১ আসতাগফিরুল্লাহ ইন্নাল্লাহা গফুরুর রাহীম
২সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি
৩ আসতাগফিরুল্লাহা ওয়য়া আতুবু ইলাইহি
৪ রাব্বিগফিরলি ওয়য়া তুব আলাইয়া ইন্নাকা আন্তাত তাওয়াবুর রাহীম
৫ আশোটাগফীড়ূল্লাহ আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহুওয়াল হাইয়ুল কাইউম ওয়া আতুবু ইলাইহি
৬ রাব্বিগফিরলি
৭ রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফিরলানা
অথবা যে কোন করা যায় মনের ভাষা আল্লাহ ভাল জানেন ও বুঝেন মনে মনেই আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি করুন আল্লাহর অনুগ্রহ পেতে হলে নত হয়ে শুকরিয়া আদায় করাই হচ্ছে শ্রেস্ট আমল , যত বিনয়ী হবেন ব্যবহার ভালো করবেন আল্লাহ তায়ালা নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেবেন তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে হালাল রুটি রুজির দিকে , মনোযোগী হতে হবে পরিশ্রমের দিকে , ফসল ফলাতে হবে , বৃক্ষ রোপণ করতে হবে , ফুলের চাস করতে হবে , ফলের গাছ রোপণ রাস্তার পাশে অন্যতম সাদাক্কা , এই সব করলে শরীর মন থাকবে ভাল ইবাদতে আসবে শুদ্ধতা , আজকের এই ১২তম দিনে সিয়াম কিয়াম অবস্তায় পন করে তাওবা করি আল্লাহ যেন আমাদের সুদ মদ জুয়া জিনা থেকে চিরতরে দূরে রাখেন আমাদের কে হিদায়াতের পথে চালান , কর্জ মুক্ত করেন , অভাব মুক্ত রাখেন ,সুস্ততা দান করেন ঈমানে হায়াতে বরকত দান করেন ।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

November 2021
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930