বয়ানে রামাদান ১৪

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০২০

বয়ানে রামাদান ১৪


চৌধুরী হাফিজ আহমদ
ইবাদত করতে হলে উপলক্ষ্য এক বিশেষ ভুমিকা রাখে । ইবাদতের মধ্যে ও শ্রেণী বিভাগ আছে ।সকাল দুপুর সন্ধ্যা রাত্রি ভাগ করে দেয়া হয়েছে আমাদের । ৫ ওয়াক্ত সালাতের জন্য ও আলাদা নিয়ম রাকাত সংখ্যার বেশ কম রয়েছে তেমনি রামাদানে ও একেকদিনের জন্য আলাদা আলাদা পাক্যেজ দেয়া হয়েছে একটি ভাগ হল প্রথম দশ দিনের যা আমরা অতিবাহিত করেছি এখন আছি মধ্যম দশ দিনের পাক্যেজের আওতায় – মাঝা মাঝি মানেই শক্ত অবস্তান এই অবস্তায় টিকে গেলেই শেষের দশে ফতেহ আসবে , রামাদানের ইবাদতে ও আছে ভিন্নতা সবাই সবার জন্ম দিনে উপহার পেতে চায় কিন্তু কোরআনের জন্ম মাসে কোরআনের একমাত্র মালিক আল্লাহ তায়ালা তিনি উপহার বিলিয়ে দিতেই পছন্দ করেন , এই উপহারগুলার মধ্যে ও আছে হরেক রকম ব্যবস্তা , এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাগফিরাত দান , আমরা সবাই মাগফিরাতের কাঙ্গাল , গতকাল পর্যন্ত যত গুনাহ করেছি আল্লাহর হুকুম আহকাম অমান্য করেছি তার হিসাব কারো কাছেই নাই – চাইলে ও পিছনে ফিরে যেতে পারবনা যদি যাই তা হলে সামনে এগুতে পারবনা কারন পিছন আমাদের অন্ধকারে ভরা , আমরা যেতে চাই সামনে আলোর ফোয়ারায় যেখানে থাকবেনা সমস্যা বলে কোন কথা ওখানে থাকবে একমাত্র শান্তি এবং সুখ । আজকে চলছে ১৪ তম রামাদান এই দিনের ফজিলত অনেক অনেক তবে ফজিলত বর্ণনায় গেলে অনেক লম্বা আলচনায় যেতে হবে তাই সক্ষেপে বলি আজকের দিনের তুলনা নেই , আমরা প্রায় অর্ধেক মাস অতিবাহিত করেছি সিয়াম কিয়ামে আরও বাকি আছে অর্ধেক আশা করি আল্লাহ আমাদের তাও পালন করার তাওফিক দেবেন – রামাদানের ইবাদতের মাধমে আমরা আমাদের আত্নসুদ্ধি করব রামাদানের শিক্ষার অর্জন অভিজ্ঞতা আমরা কাজে লাগাব বাকী ১১ মাস আমাদের কাজে কর্মে ব্যবহারে ব্যবসায় চলায় বলায় । তবেই বুঝব আমরা সার্থক হয়েছি এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি , না বুঝে শুধু শুধু ইবাদত করেই গেলাম তা কি করে হয় ! ফজরের সালাত আদায় করেছি যোহর পর্যন্ত দুআ কবুল হয়ছে , আসর পর্যন্ত আদায় করেছি বুঝতে হবে আল্লাহ দুআ কবুল করেছেন মাগরিব আদায় করেছি বুঝতে হবে আল্লাহর লিস্টে আছি এশা সালাত আদায় করেছি বুঝতেই হবে আল্লাহ রহম করেছেন অপেক্ষা আবার ফজরের সেই রকম আশা পোষণ করাই হচ্ছে নেক নিয়তের অংশ । ভাল কাজের ফল চলতে ফিরতে আমরা উপভোগ করি নতুবা দুনিয়াতে চলা ফেরা করাই মুশকিল হত , এখানে এত এত অপরাধ হয় প্রতারনা করা হচ্ছে বৈষম্য মুলক আচরন জুলুম নির্যাতন বর্ণবাদ নারী নির্যাতন যে কোন একটিতে ফেঁসে গেলেই জীবন অচল , কিন্তু আল্লাহ মেহেরবানী করে আমাদের অনেক কে এই সব অন্ধকার রাস্তা থেকে দূরে রেখেছেন তা কি কম ? কত লোক কারাগারে দুর্বিষহ জীবন অতিবাহিত করছে , কাশ্মীরে - ফিলিস্তিনে আমার জন্ম থেকেই চলছে অমানবিকতা নির্যাতন বলে শুনেছি এখন বাস্তবে দেখছি ওরা লক-ডাউন অবস্তায় ৭০/৮০ বছর । আমি যখন এই ভয়াবহ অবস্তা দেখি খবরের কাগজে টেলিভিশনের পর্দায় আঁতকে উঠি ভয়ে - তাহাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু আ করি এবং আমি আমার অবস্তানের জন্য শুকরিয়া আদায় করি , গিয়েছিলাম ফিলিস্তিনে দেখে এসেছি কি করে সেখানে অশ্রের মুখে মুখে মানুষ চলে , দখলদার বাহিনী এমন কোন বর্বরতা নেই যা করছেনা এমন কি শিশু পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছেনা , গিয়েছিলাম কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে – মানবতা যে কত নিষ্টূর তা দেখেছি , এই সব কিছুই মানুষের হাতের কামাই এর জন্য দায়ী হচ্ছে লোভ !! ক্ষমতার লড়াই আধিপত্যের অহংকার । আমাদের উচিত হবে এই সব থেকে শিক্ষা নেয়া – রামাদান আমাদেরকে মানবতার কথাই শিক্ষা দেয় আরও অগ্রিম শিক্ষা দেয় আখিরাতের প্রস্তুতির যখন সেখানের জন্য প্রস্তুতি নেব তখন দুনিয়াতে বর্বরতা জুলুম নির্যাতন লোভ লালচ – মুনাফিকি – শত্রুতা – হত্যা – ধর্ষণ ঘোষ দুর্নীতি বৈষম্য মুলক আচরন সব কিছু উধাও হয়ে যাবে , মৃত্যুর পরবর্তী অবস্তার সেই গায়েবের খবর গুলা দিতেই আল- কোরআনের প্রকাশ্যে আগমন , আমরা কোরআন মাজিদের কাছ থেকে জেনেছি কবর হাশরের হাল হাক্কিকাত- দুনিয়ার জিবনের পুন্য কাজ ভাল ব্যবহার পরউপকারিতা আত্মীয় স্বজন পারা প্রতিবেশীর হাক্ক আদায় প্রার্থনা কাজগুলাই সেখানের অর্থাৎ কবর থেকে হাশরের ময়দানে পৌঁছাবার মাধ্যম ও সম্বল । এই অগ্রিম বার্তা র মাধ্যমে আল- কোরআন জানান দেয় আল্লাহর ক্ষমতা ও শক্তির ,তাহাকে চিনিতে তাহাকে জানতে হলে যে সকল মাধ্যম আছে এর মধ্যে আল কোরআন হচ্ছে এখন একমাত্র উপায় সাক্ষী হচ্ছে হাদিস , এই কোরআনের প্রাপক আমরা সবাই কিন্তু যে দূতের মাধ্যমে পেয়েছি তিনি হলেন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সঃ । তাই মানব জীবন জাতী রাষ্ট্র পরিচালনায় কোরআন হাদিসের বিকল্প সব কিছুই মিথ্যা , আর এই মিথার কারনেই আজকের দুনিয়ার এই অশান্তি ও বিপদ , এই সব থেকে নিজেকে সমাজকে দূরে রাখতেই প্রয়োজন কোরআন চর্চার , রামাদান মাস হচ্ছে এর জন্য গুরুত্ব পূর্ণ মাস কোরআন বুঝে নিজেকে তৈরি করতে যে প্রশিক্ষন এর প্রয়োজন এই মাসেই তা করা যায় তাকওয়া ও সংযমের মাধ্যমে – অশ্লিলতা – অপচয় – থেকে চিরতরে মুক্ত রাখতে সিয়াম কিয়াম করে আমরা উপযুক্ত করে তুলব আমাদের কে পবিত্রতার মাধ্যমে । রামাদানে তাই সময়কে ও অপচয় করবনা তাওবা ইসতেগফার তাসবীহ তে জবান কে ব্যস্ত রাখব অন্তর কে পরিষ্কার করতে তিলাওয়াতে কালামে পাক ও রাত্রে সালাতে সময় ব্যয় করব দান করব উপযুক্তদের , হাক্ক আদায় করব আত্মীয় স্বজনের , আল্লাহর সাথে আলাপ করব নিজের সমস্যা নিয়ে সিজদায় আরশে যার অবস্তান তাহাকে জানাবো নিজের হৃদয়ের কথা গুলা নিবেদন করব তাহার কাছে চাহিদার লিস্ট এবং তাওবা করে আবেদন মনজুর করাবার চেষ্টা অব্যহত রা্খাই হবে উত্তম কাজ । রামাদান কে পেয়ে যদি গুনাহ মাফ না করাই তা হলে জীবন বৃথা , আমি এই লেখার মাধ্যমে অনুরুধ জানাই আসুন আমরা এই রামাদানে নিজেকে পরিবর্তন করে দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য সৈনিকের মত প্রস্তুত করি জানিনা কখন কাঁর ডাক আসে এমনিতেই এখন এক চরম অবস্তা বিরাজ করছে বিশ্ব ময় , ভাইরাস জনিত কারনে প্রতিদিন হাজার হাজার প্রানহানী হচ্ছে বনি আদমের , চারিদিকের খবর অনুযায়ী কয়েক লাখের মত হবে মৃত্যু হয়েছে আক্রান্ত কয়েক কোটি । দেশে দেশে মানুষ ঘরে বন্দি সরকারের আদেশে স্কুল কলেজ অফিস আদালত সব কিছু বন্ধ অনির্দিষ্ট কালের জন্য মানুষ দেশে দেশে দিশেহারা , টিক এই সময়ে আমাদের কাছে রামাদান এসেছে আমরা যদি তাহাকে বরন করে সমাদর করতে ব্যর্থ হই তা হলে তা হবে মানুষ হিসাবে আমাদের ব্যর্থতা । আমরা গাফিলতি না করে এই চলিত রামাদান কে কাজে লাগাই নিজের ও সমাজের সুখ শান্তি প্রতিশ্তার , আল্লাহর দরবারে তাওবার মাধ্যমে নিজেকে উজার করে দিয়ে কান্নার বন্যায় মাফি আদায় করি , প্রতি দিনের আমলের মতই বলব দু`আ এমন এক অশ্র যা আরশ কে পর্যন্ত নাড়িয়ে দেয় এর মধ্যে আকারে ছোট অর্থে বিশাল তা আমল করা যেতে পারে * আল্লাহুম্মা আখরিজনি মিনাজ জুলুমাতি ইলান্নুর
আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানী /আল্লাহূম্মা আজিরনি মিনান নার / আল্লাহুম্মা স তুর আওরাতিনা ওয়া আমিন রাওয়াতিনা / ইয়া হাল্লালাল মুশকিলাত / ইহদিনাস সিরাতুয়াল মুস্তাক্কিম / রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফিরলানা *** আমরা তা পাঠে তাওবার পথে অগ্রসর হই এবং সফলতা অর্জন করে সকল মন্দ ও অন্যায় বর্জন করি ।

ছড়িয়ে দিন