বয়ানে রামাদান ১৬

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২০

বয়ানে রামাদান ১৬


চৌধুরী হাফিজ আহমদ
আলহামদুলিল্লাহ আমরা রামাদানের শেষের দিকে অগ্রসর হচ্ছি । আজকে ১৬তম রামাদানের দিন চলছে । দিন রাত হিসেবে যদি বলি তা হলে একেক রাত একেক দিনের ফজিলত। আসমান এবং জমিনের মধ্যে যত ফাঁকা জায়গা আছে তত জায়গা লিখনি দিয়ে ভরে ফেললে ও গুণগান শেষ হবার নয় আল্লাহর রহমত বরকত শুধু ইনসানরাই পায় না, সকল কল্যানকামী সৃষ্টি ই পায় আবার অন্য ভাবে বললে এই রকম বলতে হবে যাহারা আল্লাহ কে সব সময় সিজদা করে নত হয়ে তাহারাই পায় , আসমানের তারকা থেকে বৃক্ষ লতা পর্যন্ত সিজদা করে তাই কেউ ই আল্লাহর করুনা অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হতে চায় না , মানুষের উন্নতি অবনতি সব কিছুই নির্ভর করে আল্লাহর ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর আল্লাহ যাহাকে নিয়ামত দিতে চান তিনি দেন এবং পরিক্ষা নিয়ে থাকেন ,আমাদের কাজ হচ্ছে ইবাদত করে তাহাকে উপস্তিতি জানান দেয়া যে আমরা তাহার ইবাদতে উপস্তিতি । ঈমান – সালাত – সিয়াম- হাজ্জ – যাকাত সব কিছুই সেই হাজিরির প্রমান , একমাস সিয়াম সালাত – করেই দায়িত্ব শেষ নয় বরং শুরু বলতে হবে কেননা রামাদান হচ্ছে অনুশীলন এর জন্য বাকী ১১ মাস হল তা বাস্তবায়নের জন্য , আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি যে মহান রাব্বুল আলআমিন আমাদের তওফিক দিচ্ছেন রামাদানে তাহাকে সিয়ামে সালাতে কিয়ামে দুআ তে ইবাদতে জিকির করবার জন্য , আমরা যাহারা ইংল্যান্ড ইউরুপে আছি তাহাদের জন্য এবারের রামাদান খুব গুরুত্ব পূর্ণ এই রকম সুজুগ হাজার বছরে ও আসেনি , একযোগে সবাই ঘরে , তাই এবারে রামাদান পালনে যে বা যাহারা বাহানা করবে বুঝে নিতেই হবে তাহার কপাল মন্দ তাহার তাকদিরে হিদায়াত নাই । সরকারের নির্দেশে আমরা সবাই যার যার ঘরে স্বেচ্ছায় অবস্তানে না আছে কাজ না আছে ব্যবসার ঝামেলা এমন কি মাসজিদে তারাহবিতে ও যেতে হচ্ছেনা রুজি রোজগারের চিন্তা ও করতে হচ্ছেনা সেখানে ঘরে বসে শুধু ইবাদত করতে যাহারা অলস ও অপারগ তাহাদের জন্য নিশ্চয় সু সংবাদ থাকবেনা , এমনিতেই গাফিলতি উন্নতি অগ্রগতির জন্য এক বিশাল প্রাচীর , সামনে এগুতেই দেয়না এই গাফিলতি হয় শাইতানের প্ররোচনায় সেই অভ্যাস কে জয় করতেই সালাত সিয়াম এর ব্যবস্তা । নিজেকে সচল করে ঝরঝরে ফুর ফুরে মেজাজে চলাফেরার নাম ই হচ্ছে ইবাদত ফজরে ঘুম থেকে জাগা খুব কষ্টের অনেকের চোখ খুলতেই চায়না কিন্তু এই ফজর ই হচ্ছে জিবনের জন্য জরুরী সকল এলাকায় ই ভোরের বাতাস থাকে খাটি সালাত আদায় করে এই বাতাসে চলাফেরা করলে শরির মন ভাল থাকতে বাধ্য আগেকার দিনের ডাক্তারেরা পরামর্শ দিত ভোরে সামান্য সময় দৌড়াতে , এক ডাক্তার ছিলেন খুব নাম করা ইন্ডিয়াতে এক সময়ের ব্যস্ত এক রাজনীতিক নেহেরু নাম তিনি গেলেন হাকীম সাহেবের কাছে গিয়ে বললেন আপনার ওনেক নাম শুনেছি আমাকে একটু পরামর্শ দেন আমি কি করে ঘুমুতে পারি এত ব্যস্ত থাকার পরে ও আমার চোখে ঘুম নেই কত ঔষধ সেবন করলাম কিন্তু কাজ হয়নাই , ডাক্তার তখন তাহাকে বলেছিলেন তাহার ভাসায় নেহুরু জি আমি কথা বলি মাত্র আমার কথা যদি শুনেন তা হলে হয়ত কাজে লাগতে পারে এই কথাটি হল ** সুবাহ কি হাওয়া লাখো রুপিয়া কি দাওয়া ইয়ে হাকিম আজমল খান কি গাওয়া** ভোরের বাতাস এত সচ্চ থাকে তাহাই হয় আমাদের জন্য রোগ প্রতিষেধক সেই জন্য ফজর আমাদের সকলের জন্য এক নিয়ামত এবং ফজর থেকেই দিন শুরু । এই রকম প্রত্যেকটি সালাতের সময় আমাদের জন্য উপকার বয়ে আনে এর পরে সিয়াম আরেকটি রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্তা , সিয়ামের দ্বারা অনেক রোগ থেকেই আল্লাহ আমাদের বাচান বরকত দিয়ে বিশেষ করে ইফতার ও সেহরীর সময়ের বরকতে আমাদের সকল গ্লানী দূর হয়েই যায় , খাবারে এত সতর্ক থাকতেন রাসুলুল্লাহ সঃ তাই তাহার প্রত্যেকটি আমল বিজ্ঞানের আলোকে স্বীকৃত মেডিসিন তিনি খাবার খেতেন অল্প কিন্তু মান হত ভাল এমন কি খেজুর খেতেন তাও উন্নত মানের পানি পান করতেন খাবার থেকে বেশী , ইফতারে ২ খেজুর পানি এবং সেহরিতে ১ খেজুর এই রকম অল্প খাবার খেয়েই তিনি রাসুলের দায়িত্ব পালন করেছেন তাই কম খাবারে অভ্যস্ত হওয়া এক বিরাট সুন্নত – এই ব্যাপারটা আমি ও চিন্তা করে দেখেছি ফায়দা আনে এর মধ্যে লোভ জিনিস টাই উধাও হয়ে যায় , কারন যে জিনিষের চাহিদা নেই তাহার পিছনে অযথা দৌড়ানর কোন মানেই হয়না , নিয়ম মেনে চললে বর্তমান সময়ের যে শ্লোগান ,অন্ন – বস্র- বাসস্তান তা পাল্টাতে বাধ্য তা হতে হবে , কারন হচ্ছে সুন্নতের অনুসরণ করলেই আসবে সেই উন্নতির উন্নয়নের ফসল একেক টা সুন্নত জিবন্ত আমলে নিজেকে সহ সমাজকে বদলাবার ক্ষমতা রাখে চলিত রামাদানে পরিক্ষা করে দেখা যেতে পারে সুন্নতি আমল কতোটুকুন উপকারী আমাদের জন্য , ইফতার ও সেহরির খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি থাকবেনা অভাব বলে কিছুই দেখা যাবেনা । আমাদের সংযম করাটাই উত্তম – রামাদানে তাকওয়া এবং সংযম উভয় জরুরী তাকওয়া না থাকলে সংযম আসবেনা সেই দিকে খেয়াল রেখে চলতে হবে , ফল খেতে হলে বা পেতে হলে ফলের গাছ রোপণ করতে হবে আগে পরিচর্যা করতে হবে এর পরে ফলের আশা করা যায় তেমনি রামাদানে প্রথমে বুঝতে হবে রামাদান কি এবং কেন? না বুঝে যদি হাজার দিন উপোষ করি তা হলে হিতে বিপরীত ফল আনবে এর মধ্যে আল্লাহর অসন্তোষটি , আমরা চাইবনা এত মেহনত করার পরে ও আল্লাহ নারাজ থাকেন – উচিত হবে আল্লাহ যে রকম কাজে রাজী খুশী হন সেই রকম পদক্ষেপ নেবার আমাদের ভালোর জন্য উপকারের জন্য দুনিয়াতে এবং আখিরাতে মুক্তির জন্য ই আল্লাহ এই রামাদান উপহার দিয়েছেন এই মাসে এত বরকত রহমত দেবার পরে ও নাজাত দেবার ঘোষণা দিয়েছেন দয়ার মায়ার কারনেই এমন একটি রাত দিয়েছেন যে রাত্রে ঘোষণা দেন তাকদিরের ব্যাপারে যাহাকে আমরা কদর বলে জানি এই রাত হাজার রাত সম গোনাহ মাফির জন্য যথেষ্ট আদি পিতা আদম আঃ এর পরে আর কেউ হাজার বছর জীবিত ছিলেন না ভবিষ্যতে ও থাকবেন না কিন্তু কদরের রাত্রির হাজার শব্দের পরিবর্তন হবেনা কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক বছরেই আমরা যাহারা রামাদান মাস পাব হাজার রাত সম কদরের রজনী পেতেই থাকবো , আল্লাহর নেয়ামত এর ঝর্না ধারা অব্যাহত ই থাকে তিনি দিলে কিছুই ফিরিয়ে নেন না শুকরিয়া আদায় করলে তাও আবার বাড়িয়ে দেন , তিনি হচ্ছেন অভাব হীন এমন এক সম্রাট তাহার সম আর কেউ ছিলনা আসবে ও না তিনি ই একমাত্র আল্লাহ তাহার পরিচয়ে তিনি এমনি বলেছেন ** ক্কুল হু আল্লাহু আহাদ / আল্লাহুস সামাদ / লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ / ওয়া লাম ইয়া কুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ ***( ১১২ পারা ৩০) আমরা সবাই তাহার থেকেই চাই দুনিয়াতে সফলতা আখিরাতে মুক্তি ও শেষ ঠিকানা জান্নাত আর তা পেতে হলে রামাদান আমাদের কে পুরা মাস সুজুগ দিয়েই যাচ্ছে একের পর এক , কর্মের মাধ্যমে তা আমরা পেয়ে যেতে পারি , শুধু মুখে তাসবিহ পাঠেই ফজিলতের সুফল আসবেনা আসবে কাজে কর্মে করে দেখালেই , তাসবীহ পাঠ ভালো কিন্তু কাজে বিপরীত হলে ফজিলতের বদলে জিল্লতিতেই ভোগতে হবে। সুতরাং যা পরব তাসবীহ তে সেই অনুযায়ী কর্ম ও করব , জীবন কে আলোকিত করতে আমাদের উচিত হবে আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে সপে দিয়ে পরিবর্তন আনা সমাজ ও জিবনে এতেই রামাদানের সালাত সিয়াম এর মেহনত কাজে লাগবে । আমরাই আমাদের উন্নতি অগ্রগতি সফলতার জন্য রামাদান কে ব্যবহার করব , ১৬ তম দিন আজকে থেকেই যদি বুঝতে সক্ষম হই এবং নিজেকে শোধরাতে লেগে যাই তা হলে ভাগ্য ই বদলে দিতে পারি , তাই সবাই আমরা যে যেখানে আছি তাওবার সাথেই থাকি । রাসুলের প্রতি দুরুদ ও সালাম প্রেরন করছি আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদ ,পাঠক শুভাকাঙ্ক্ষী সহ উম্মাহর কল্যান কামনা করছি ।

ছড়িয়ে দিন

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031