বয়ানে রামাদান ১৭

প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২১

বয়ানে রামাদান ১৭

চৌধুরী হাফিজ আহমদ
আজকে বদর দিবস আমাদের গর্বের ও গুরুত্তের এই দিন , এই দিনেই বাতিলের কবর রচিত হয়েছিল পৃথিবীতে , কুফরি বা বাতিল শক্তির যে দম্ভ বা অহংকার ছিল এই দিনে তা সমূলে ধ্বংস করে বাতিল উৎখাতে সেই দিন থেকেই যাত্রা শুরু হয়েছিল হাক্ক বা সত্যের , বদর আমি গিয়েছি দেখেছি সেই ময়দান সেখানে শহীদগনের কবর জিয়ারত করার তাওফিক্ক আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন আমি অনুভব করেছি এই কবর গুলাতে যেন রহমতের বৃষ্টি ঝরছে অবিরত এত শান্তি বিরাজ করছে যা বোঝানো সম্ভব নয় , এই বদরের যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের জন্য এক কঠিন পরিক্ষা , যা তাহারা উত্তীর্ণ হয়েছেন একমাত্র দুআ মাধ্যমে শাহাদাত বরন করেছেন ঠিক কিন্তু তা জান্নাতের অগ্রিম ঘোষণায় , আমাদের মহানবী সঃ সিজদায় নত হয়ে যখন আল্লাহর কাছে চাইলেন আবার হাত তুলে উপরে ধরে চাইতেই থাকলেন তখন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তা ফিরিয়ে দেন নাই বরং খুশী হয়ে অজস্র মালাঈকা দিয়ে বাতিল নামক যাহারা ছিল তাহাদের দম্ভ ও শক্তিকেই ধ্বংস করেন নাই ধ্বংস করে দিয়েছেন তাহাদের মতবাদ কেও। আজকে রামাদানের ১৭ তম দিবস অতিক্রম করছি এর সাথে সাথে বদরের দিবস কে ও স্মরণ করছি – বদরের যুদ্ধেই প্রমানিত হয়েছে ঈমানের কি দূরান্ত শক্তি বিশাসের মুল যে আরশের সাথে যুক্ত তাহাকে উপরে ফেলার চিন্তা করা ও বোকামি , জমিনে যার শিকড় থাকে তা উপড়ে ফেলা যায় , বা সেই শিকড় কে ও তুলে নিচ থেকে উপরে তুলা যায় কিন্তু যার শিকড় সাত আকাশের উপরে বিস্তৃত সেখান থেকে টানবে এমন কেউ জন্ম নেয়নি বা নিতে পারবেনা কেননা এই বিশ্বাস ঈমানে ই হচ্ছেন ওয়াহদাহু লা শরিক , লাম ইয়া লিদ ওয়া লামইউলাদ ওয়া লাম ইয়া কুল্লাহু কুফুআন আহাদ ,আসলে রামাদানের একেকটা দিন ই যেন আমাদের জন্য বদরের যুদ্ধ , আমাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে নফসের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে ইচ্ছের নিয়মের বিরুদ্ধে , আমি প্রায় ই বলি রামাদান এমন এক সেনাপতি যা প্রশিক্ষন দিয়ে যায় গোটা জীবন পরিচালনার , আমরা মানব জাতি যদি এর থেকে শিক্ষা না নেই তা হলে এর ব্যর্থতা আমাদের কেই বহন করতে হবে , এক আকাশের নিচে অবস্তান করার পরে ও আমরা প্রায় ১৫৫ তি দেশে কয়েক হাজার জাতিতে খণ্ড বিখন্ড ও বিভক্ত , প্রযুক্তির উন্নয়নে ও আমরা আল কোরআনকে সকলার কাছে পৌঁছাতে পারছিনা ইসলামের ছায়াতলে আনতে পারছিনা তা আমাদের আমলের অপর্যাপ্ততা সর্বোপরি বিশ্বাসের ঘাটতি , এই সেই আমল ও বিশ্বাস কে আঁকরে থাকায় ই দুনিয়াতে হাজার হাজার সৈন্যের মোকাবেলায় মাত্র ৩১৩ জন জয়ী হয়েছিলেন , আমরা এই বাহিনীর উত্তরসূরি কিন্তু কেন এখন সামনে এগুতে পারছিনা ! কেন এখন আবার বাতিল মাথাচারা দিয়ে উঁকি ঝুঁকি দেয় , এর পিছনে খুঁজলে পাই আমাদের আল কোরআন সম্পর্কে গাফিলতির – এখন ও আমরা আল কোরআনকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারছিনা , যদি পারতাম তা হলে বর্তমান বিশ্বের অবস্তা হত ভিন্ন , উদ্বাস্তু ও বস্তু হারা হয়ে একটি বনি আদম ও চলাফেরা করতনা , অভুক্ত থাকতনা একটি কিটপতঙ্গ । আমরা যার যার দুনিয়ার স্বার্থ রক্ষা করে চলছি দুনিয়ামুখি হয়ে , ক্ষমতাতন্ত্রের লোভে কবর ও পরকালকে ভুলে বসে আছি , লোভের কাছে হার মানছি দুনিয়াকে প্রাধান্যদিয়ে ঈমান আক্কিদা হুকুম আহকাম কে অবহেলা অবজ্ঞা করে চলছি নিত্য , ঈমান সালাত রামাদান ঈদ হাজ্জ যাকাত কে ব্যবসায় পরিনত করে ইসলামের নামে কামাই রোজগার করে আয়েশি জিন্দেগী চালাচ্ছি , বর্তমান দুনিয়াতে এক পক্ষ খুব সুখে আরামে আবার আরেক পক্ষ খুব দুঃখে কষ্টে চলে এই অবস্তাই ছিল বদরের যুদ্ধের আগে – পক্ষা পক্ষি কে উৎখাত করে সবাইকে এক পক্ষে নিয়ে আসতেই বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এই এক সত্য ও হক্ক পক্ষের আন্দোলনের কর্মসূচি ই হচ্ছে রামাদানুল মোবারক এর সিয়াম কিয়াম ধ্যান জ্ঞান , এমন এক শক্তি সিয়ামের মধ্যে লুকিয়ে আছে যা বাতিল কে নড়বরে করে দিতে সক্ষম , সিয়াম আবার অক্ষমের ও বন্ধু অচল কে সচল করে দিতে ই ১১ মাস পর পর রামাদান ফিরে আসে আমাদের সঠিক পথ দেখাতে – প্রথম থেকে দিতে দিতে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে চায়না বলেই লাইলাতুল কদর নামে রজনীতে দিয়ে যায় হাজার বছর সমমানের বরকত রহমত ফজিলত মাগফিরাত । তাই আমাদের রামাদান থেকে শিক্ষার সাথে সাথে ধন দৌলত সুখ আরাম আয়েশ নেকী লাভ কল্যাণ সব কিছুর ই সাধন করতে হবে নতুবা রামাদানের শিক্ষা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে – পরিক্ষার খাতায় যদি সকল প্রশ্নের উত্তর না দেয়া হয় তা যেমন মান দেবার উপযোগী হয়না তেমনি রামাদানে ইবাদত সম্পূর্ণ না করলে পুরস্কার বা প্রাপ্য পাবার আশা করতে পারিনা তাই ইবাদতে মনোযোগ দিতে হবে – আল্লাহর কাছে এমন করে আখাংখা ইচ্ছে চাহিদা পেশ করতে হবে যাহাতে প্রভু নিজেকে এর যোগ্যতা দান করে দিয়ে দেন , তাওবা এমন করে করা উচিত যাহাতে গোলামির চাকুরী অব্যাহত থাকে , মালিক কে সন্তস্ট করতে যা লাগে তার দিকে খেয়াল রেখে ইবাদত করলে অবশ্য ই কবুল হবে । লোক দেখানো ইবাদত পরিত্যাগ করে আল্লাহ কে সন্তস্ট করতে ইবাদত বন্দেগি করে যাওয়া উচিত , এর সাথে সাথে যত মন্দ কাজ আছে মদ সুদ জুয়া জিনা অন্যায় জুলুম নির্যাতন প্রতারনা টকানো অশ্লিলতা খোঁটা দেয়া জিদ রাগ হিংসা স্বার্থপরতা রিয়া কিনা ভগজ , কারো হাক্ক মেরে দেয়া , ইয়াতিম ও গরিবের সম্পদ আত্মসাৎ , নাম কামাবার জন্য দান করা , মনাফিকি , চোগলখুরি , স্বজনপ্রীতি , অবিচার , মিথ্যা এই সব মন্দ অভ্যাস ছেরে এর পরিবর্তে ভাল অভ্যাস করতে পারলেই তাওবা কাজ করবে নতুবা নিয়তে রাখলাম যেই সেই আর ক্ষমা চাইলাম তা উপহাস করার নামান্তর , আগে নিজেকে সংশোধন করে বাতিল পথে ও মতে চলবনা বলে প্রতিজ্ঞা করে তাওবা করলে আশা করতে পারি ক্ষমা পাব নতুবা জাহান্নাম ই হবে আপন টিকানা যেখান থেকে বের হওয়া অসম্ভব । আজকের এই ১৭ তম রামাদানে আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি জান্নাতে যাবার তা হলে এখন থেকেই আমাদের জান্নাতি অভ্যাস গুলা করা উচিত এবং তা করতে হলে এই রামাদান ই হতে পারে উপযুক্ত সময় , এখনো বাকি আছে ১৩ দিন আসুন তা কাজে লাগাই এবং সঠিক ভাবে তাওবা করি । একে অপরে কল্যানের দুআ করার অভ্যাস করি – রাব্বি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরি ফাক্কির /আল্লাহুম্মাছতুর আউরাতিনা ওয়া আমিন রাওয়াতিনা / আল্লাহুম্মাক ফিনিহিম বিমা শীই`তা / আউজুবিল্লাহি মিন হামাজাতিশ শাইতান / রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা / রাব্বি জিদনি ঈলমা/ আল্লাহুম্মাগফিরলি মাউতা ওয়া মাউতাল মুসলিমিন / রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফিরলানা / আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সায়িদিনা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদ সঃ / আল্লাহুম্মা আখরিজনি মিনাজ জুলুমাতি ইলান নুর/ আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার / আল্লাহুম্মা ইয়া সালামু / সালামুন ক্কাউলাম মির রাব্বির রাহিম / ইয়া লাতিফু ইয়া কারিমু ইয়া হান্নানু ইয়া মান্নান ওয়াবি বারাকাতি রামাদানুল কারিম আল্লাহুম্মা ইয়া দাফিয়াল বালিয়াত / ইয়া হাল্লালাল মুশকিলাত / ইয়া শাফিয়াল আমরাদ / আল্লাহু ইয়াশফিক । বারমিংহাম ২৯-০৪-২০২১