বয়ানে রামাদান ১৭

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২০

বয়ানে রামাদান ১৭

চৌধুরী হাফিজ আহমদ
আলহামদুলিল্লাহ , ওয়াস সালাতু আলান নাবী সঃ আমরা সবাই রামাদান মাসের শেষের দিকে যাচ্ছি । আজকে অতিবাহিত করছি ১৭তম দিন । রহমত ও বরকত থেকে শুরু করে এখন আছি মাগফিরাতের মধ্যে , রামাদানের সিয়াম সালাত খাবার দাবার ইত্যাদি যত কর্ম আছে সব কিছুই ইবাদাত । এই এমন একটি চিরস্তায়ী বন্দোবস্ত অন্য কোথাও কিছুতেই নাই । এই পৃথিবীতে যত মতবাদ রয়েছে বা যারা অন্য ধর্মকে প্রমোট করেন তাহারা কারো পক্ষেই এই রকম নিয়ম বা অভ্যাস ঘরে তুলতে পারেন নাই – বছরের এক মাস সম্পূর্ণ ভাবে আল্লাহর গোলামিতে অন্য কোন মাখলুক বা সৃষ্টিতে আছে বলে আমার জানা নেই । একমাত্র ঈমানদার দের জন্য ই এই ব্যবস্থা – কারন রয়েছে অনেক কিন্তু অন্যতম কারন হচ্ছে এই মাস কোরআনের জন্ম মাস বলতে গেলে এই রামাদান মাসকে আল- কোরআনের মাস বলা চলে শুধু নাজিল হয়নি এই মাসেই তা পূর্ণতা পেয়েছে সেই জন্য আল্লাহ রাব্বুল হাকীম শুধু নেয়ামত দিতেই আমাদের জন্য এই ব্যবস্তা করেছেন , এখন আমাদের উচিত হবে এই নিয়ামত কে ধরে রাখা কি করে ধরে রাখব তা শিখতে হলে যে প্রস্তুতির দরকার তা নিতে হলে ঝামেলা বিহীণ সময় লাগে তাই দুনিয়াবি সকল ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে একান্ত মনে সিয়াম সালাত আদায় ই হচ্ছে নিয়ামত প্রাপ্তির একমাত্র উপায় , এবং ধরে রাখব বাকী ১১ মাসের জন্য যা প্রকাশিত হবে আমাদের আচার ব্যবহারে চলার পথে প্রতিদিন ,আল্লাহ যেমন পবিত্র তেমনি তিনি তাহার সৃষ্টি ইনসান কে পবিত্রতা শিক্ষা দিয়েছেন যাহার মাধ্যমে একটি পবিত্র সমাজ উপহার পাওয়া যাবে , জীবনকে ও পবিত্র রাখা যায় , আমরা দেখি আমাদের সমাজে নোংরা অভ্যাসগুলা পিছু নেয় এর কারন হল শাইতান নোংরামি পছন্দ করে , অশ্লীলতা – বেহায়াপনা – বেয়াদবি -অশিক্ষা – কুসংস্কার- ইচ্ছেঘুরি – অত্যাচার লোভ – লালচ -অলসতা – ইত্যাদি যতআছে সব হচ্ছে শাইতানের হাতিয়ার , যা মানুশের মধ্যে একবার প্রবেশ করলেই শুধু পিছুটান , পিছনেই টানতে থাকে অন্ধকারে এবং আলোর কাজ হচ্ছে প্রকাশ হওয়া বিকশিত করা সামনে চলা সভ্যতা আদব আখলাক শিক্ষা দেয়া যেখানে কিছুই লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়না । আমরা সেই আলো বা নুর পাই একমাত্র ইসলামের আদর্শে যেখানে মালিক স্পষ্ট ভাবে সকল কায়দা কানুন অগ্রিম বলে দিয়েছেন তাহার নবী রাসুল আঃ দের মাধ্যমে , শেষ বার্তা নিয়ে এসেছেন তিনি হলেন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সঃ এই বার্তাটির নাম হচ্ছে আল- কোরআন যাহাতে আছে ৩০ পারা – ১১৪ সুরা -৬২৩৬ থেকে ৬৬৬৬ আয়াত -৭৭,৯৩৪ শব্দ নাম হচ্ছে কোরআন মাজিদ জন্ম কদরের রাত্রে , বাড়ি – লাওহে মাহফুজ রচনায় রাব্বুল আল আমিন আল্লাহ বাহক মালাইকা জিব্রিল পরিবেশক ও প্রচারে রাহমাতুল লিল আল আমিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সঃ প্রাপক সকল ইনসান (মানুষ)
প্রচারিত হয়েছে ২৩ বছর স্তান মক্কার মদিনা । এখন এই আয়াতগুলা তে রয়েছে বর্ণনা মানব জিবনের উভয় জাহানের কোথায় কিভাবে শান্তি পাব কখন অশান্তি তে ভুগবো পাপ ও পুন্যের ব্যাপক আলোচনা একজন মানুষের জন্য এক রামাদানেই কোরআন বুঝে চর্চা করা সম্ভব হয়না এর জন্য প্রয়োজন অনেক অনেক রামাদানের তাও সংক্ষেপ করে দিয়েছেন এক রাত্রিকে হাজার রাত্রি সমান এক্সটেনশন করে এবং সেই রাতটির নাম হচ্ছে লাইলাতুল কদর ।যত সমস্যা দুনিয়াতে আখিরাতে বাস্তব জিবনে মনের গভীরে কল্পনায় চিন্তা চেতনায় শুধু মাত্র জিজ্ঞাসায় জবাব প্রস্তুত আছে কোরআনের পাতায় । এই মহান ও পবিত্র কোরআনের সংরক্ষনের দায়িত্বে ও আল্লাহ পাক নিজে তিনি নিজেই এর হিফাজত করতেছেন , কাউকে তিনি দিয়েদেন তা লিখে রাখার আবার কাউকে দিয়ে দেন হৃদয়ে ধারন করার ক্ষমতা , তিনি তাওফিক দিয়েছেন বলেই তা এক এবং ভেজাল মুক্ত ভাবে আজো পর্যন্ত অক্ষত আছে , সমান ভাবে বক্তব্য দিয়েই চলেছে – এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে একদম শেষ দিন পর্যন্ত , শুধু দুনিয়াতেই এর ক্ষমতা বা বিচরন নয় আখিরাতে ও থাকবে সমান ক্ষমতা , এই কোরআন সাক্ষি দিবে , মধ্যস্ততা করবে , অনুরুধ জানাবে , মুক্তির দরখাস্ত জানাবে , জান্নাতে সাথী হবে , যাহারা কোরআনকে বুঝবে তিলাওয়াত করবে , সাথী করবে , নেক আমল করবে , এবং তার প্রচারে সময় দেবে , ব্যবহারে পবিত্রতা বজায় রাখবে দুনিয়াতে , এই কাজগুলাকে সুচারু রুপে করতেই রামাদান এর সিয়ামের ব্যবস্তা করা । শুধু তাসবীহ পাঠেই যেখানে মিলে ফায়দা সেখানে আমল করলে অবশ্যই প্রাপ্তি মিলবে , এই প্রাপ্তি ই হচ্ছে সুন্দর ও শান্তির জীবন , যাহারাই চলবে কোরআন প্রদর্শিত পথে আজ হোক কাল হোক আলো আসবেই আসবে , আশা করতে হবে কারন আল্লাহ বলেছেন আশা করতে , আমরা যাহারা সিয়াম সালাত কিয়াম করছি কখনই হতাশ হবনা অন্ধকার পরেই আলোর দেখা পাওয়া যায় এখন সেই আলোর খনি আমাদের কাছে আজকে চলে যাচ্ছে ১৭ দিন এই বহমান নুরের আলোকে আলিঙ্গন করে অন্ধকারকে তাড়িয়ে দিতে আমরা সকল নারী পুরুষ সক্ষম আল্লাহ বলেতেছেন আমাদেরকে মাফি নিতে মুক্তি পেতে এবং নিয়ামত দ্বারা নিজেকে সমৃদ্ধ করে আগামীর পথ চলতে । ঈমানের দৃঢ়তায় নিজেকে পৌছাতে রামাদান মাসের মত সুজুগ আর আসবেনা সে জন্য ই তাওবার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালাতে হবে তাওবাই পারে আমাদের মুক্তি দিতে রক্ষা করবে আগামীর ক্ষতি ও ভয়াবহতা থেকে , এখনকার একেটা দিন আমাদের জন্য খুব মর্যাদার তালাশ করতে হবে কদরের রাতকে এখানে ও আরেক চমক রয়েছে , আল্লাহ মেহেরবান তিনি চান কেউ যেন কদরের রাতকে না হারায় সেই জন্য সকল বেজোর রাতেই কদর কে খুঁজতে বলেছেন তিনি ও চান যে কোন ভাবেই হোক মানুষদের ক্ষমা দিতে তাই একের পর এক সুজুগ দিতেই থাকেন তিনি আরও দয়াবান জান্নাত বানিয়েছেন বেশী দোজখ ( জাহাণ্ণাম) কম – প্রতিদিনের মত আজকে ও অনুরুধ জানাব সকল পাঠক শুভাকাঙ্ক্ষী দের প্রতি হেলায় বা গাফিলতি করে রামাদানের স্বাদ থেকে বঞ্চিত করবেন না এই বছরের রামাদান ই হতে পারে আখেরি, জিবনে যত বেশী আল্লাহর কাছে নত হব তত বেশী পুরষ্কার পাব এবং নত হবার মধ্যে যত পন্থা আছে এর মধ্যে সিজদা হচ্ছে উত্তম এখন ও পর্যন্ত আমার জিবনে পাইনি সিজদায় কান্না করে বিফল হয়েছেন , পিতা – মাতা- স্বজন – আপন – উস্তাদ – পীর -মাশায়েখ সবার থেকেই সাক্ষ্য পেয়েছি শান্তি ও মুক্তি পেতে আল্লাহর কাছে সিজদা ব্যথিত অন্য কোন কিছুই নেই যা আল্লাহ কে রাজী করাতে পারে , রামাদানের বয়ানে আমি তাওবা ইসতেগফারের সাথে সাথে সবাইকে অনুরুধ করবো নিয়মিত দুরুদ শরীফ পাঠ করতে , দুরুদ শরিফ জিবনের গোনাহ পরিষ্কারের জন্য সাবানের মত , যাহারা দুরুধ শরিফ নিয়মিত পাঠ করেন তাহাদের চরিত্র ভাল হতে বাধ্য কারন দুরুদ শরিফ পাঠের সাথে সাথেই মালাইকারা তা পৌঁছে দেন রাসুল সঃ রাওদা মোবারকে, যখন মালাইকারা সাথী হয় তখন বাতিল সাথে থাকতে পারেনা ।সত্য পথে চলতে তাই আমাদের কোরআন সুন্নাহ কে অনুসরন করতে হবে অন্যতায় আমরা নিজেরাই ক্ষতির সম্মুখিন হব ।

ছড়িয়ে দিন

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031