বয়ানে রামাদান ১৮

প্রকাশিত: ৯:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২১

বয়ানে রামাদান ১৮

— চৌধুরী হাফিজ আহমদ
রামাদান মাসের একক কর্তৃত্ব আল্লাহর হাতে এই মাস কে পরিচয় দিতে গেলে অনেকেই বলেন এই মাস আল্লাহর মাস , রামাদানের প্রতিটি ক্ষন আল্লাহর সরাসরি মনিটরিং এর মধ্যে – দিবা রাত্রি সমান তালে বর্ষিত হচ্ছে অঝোর ধারায় রহমতের বৃষ্টি , অবিরাম এই বরকতে মানব জাতির জান মাল ইচ্ছা উদ্দেশ্য আশা রুজি তাক্কদির অতীত বর্তমান ভবিস্যত দুনিয়া কবর হাশর ফুলসিরাত জান্নাত জাহান্নামের ফায়সালা করা হয় , অতীতের গোনাহ যদি ক্ষমা করা না হয় তবে বর্তমান অন্ধকার , বর্তমানের গোনাহ যদি মাফ না হয় তা হলে ভবিস্যতের খতরা থেকেই যায় ভবিস্যত যদি আলোকিত না হয় তা হলে আখিরাত একদম বরবাদ , সুতরাং রামাদানে নিজেই নিজের ব্যাপারে তাক্কদির নির্ধারণে বিশাল ভুমিকা নিতে হয় , সিয়াম যেমন বাজ্যিক পবিত্রতা হাসিলের সুজুগ দেয় তেমনি অন্তর বা আত্মিক পবিত্রতা হাসিল বা অর্জনের জন্য এক মহা সুজুগ দেয় – সিয়াম অবস্তায় তাওবা করে যদি কেউ ফিরে আসে সত্যের পথে তা হলে ক্ষমার প্যাকেজের আওতায় আসবে , এখন তাওবা বলতে যদি বুঝি সাময়িক তা হলে ভুল তাওবা হচ্ছে যে কোন ভুল বার বার না করা বা ইচ্ছে করে ভুলের পথে যা যাওয়া , অতীতের অন্ধকারে ফিরে না দেখা ভবিষ্যতের আলোর দিকে জীবন কে চালানো , হারাম যদি পরিত্যাগ করি তা হলে আবার সেই দিকে না ফেরা – সুদ যদি ত্যাগ করি তা হলে সুদের দিকে আবার হাত না বাড়ানো তাওবা মানেই অনুশোচনা করা জিনা ভ্যবিচার না করে হালাল উপায়ের সন্ধান করে সেই হালাল পথ তালাশ করাই হচ্ছে তাওবা , এখন একই গোনাহ করলাম বারংবার আবার ক্ষমা ও চাইলাম ক্ষনে ক্ষনে তা হবে আল্লাহর হুকুমের প্রতি অবজ্ঞা ও চরম তামাশা , আল্লাহর হুকুম কে নিয়ে উপহাস আল্লাহ কে নিয়েই মশকরা করার শামিল । রামাদানে আত্মিক পবিত্রতা আমরা ক`জন আছি অর্জন করতে পারি তাই হচ্ছে কথা – রামাদানে ক্ষুধার কষ্ট অনুধাবন করার কথা কিন্তু এখন হোয় এর বিপরীত – অন্যের কষ্ট হৃদয় দিয়ে অনুভব করার কথা কিন্তু হচ্ছে উলটো – গরীব কে দান করার কথা ছিল অভাব দূর করতে কিন্তু এখন হচ্ছে একদম পাল্টা পালটি ব্যবসা অর্থাৎ সঠিক ভাবে রামাদানের আমলে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে , এখন যদি তা পরিবর্তন করতে না পারি তা হলে তা হবে আমাদের জন্য এক চরম ও পরম দুর্ভাগ্য , এই জন্য ই বলা হয়েছে যে ব্যক্তি রামাদান পেয়ে ও ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারলনা সে হতভাগা। আমি আমার রামাদানের বয়ানে প্রায় ই বলি পরিবর্তনের কথা – তা করা হোক প্রথমত অভ্যাস থেকে দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন করতে যদি পারি তা হলে সার্থকতা আসবেই এখন এই যে অভ্যাস পরিবর্তন করবো তা কি করে ! আগে দেখতে হবে আমার কাছে মন্দ অভ্যাস কি কি আছে এর লিস্ট কত বড় , যদি মিথ্যা বলি তবে নিয়ত করতে হবে আর মিথ্যা বলবনা , যদি হারাম খাই তা হলে নিয়ত করতে হবে আর হারাম খাবনা , অর্থাৎ চলনে বলনে জীবন যাপনে ইসলামাইজেশন করে ফেলা – যদি ডাইনিং টেবিলের পরিবর্তে মাঠিতে বিছানা করে বসে খাবার খাই – সেগুন কাঠের পালঙ্কের পরিবর্তে মাঠিতে বিছনা করে নিদ্রা যাই এই সব সামান্য অভ্যাস পরিবর্তনেই ফিলিংস চেইঞ্জ হয় , একবার যদি ভাবি কবরের বিছানার কথা তবেই এর সুরাহা পেতে কষ্ট হবেনা । আমার পাঠক সমাজে র কাছে অনুরুধ ব্যক্তি জীবন থেকে সামাজিক জিবনে এক এক করে সুন্নতি আমল করুন এবং অন্যকে সুন্নতি আমলের জন্য তাগিদ দিন এতে করে বদলাবে অনেক কিছু ইনশাহআল্লাহ । পরিবর্তনের মাস এখন যাবার পথে আমাদের ছেরে যাবে আবার যদি হায়াতে পাই তবে অপেক্ষা করতে হবে ১১ মাস – এই রহমতের বরকতের ফজিলতের মাগফিরাতের আজকে আমরা অতিক্রম করছি ১৮ দিন ,আমি খুব আশা বাদি আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন এবং হিদায়াতের পথে চালাবেন – কেননা আমি নিয়ত করি সকল মন্দ পরিত্যাগ করার ও সকল ভাল কে আপন করে নেবার , আমি তাওবা করি চালাও সে পথে যে পথে তোমার প্রিয় জন গেছে চলি , আমি মনে প্রানে চাই হিদায়াত পেতে , হিদায়াতের রাস্তায় চলতে , আমি চাই মাওলা কে সন্তস্ট করতে তাহার গোলামি করে । বিশ্বাসে সালাতে সিয়ামে হাজ্জে যাকাতে যেন পরিপূর্ণ ভাবে নিয়ম মেনে হাক্ক আদায় করতে পারি । সাহাবায়ে কিরাম গন আমাদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তাহারা রামাদান আসার ৩ মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতেন আবার রামাদানের পরে ৬ মাস সমান তালে ইবাদত বন্দেগীতে রত থেকে শুকরিয়া আদায় করতেন – তাহাদের ইবাদতের একাগ্রতা ও খুলুসিয়াত নেক নিয়তের কারনে অগ্রিম জান্নাত এর সু সংবাদ প্রাপ্ত তাহাদের আমলের দিকে তাকালে আমি পাই তাহাদের এক মাত্র আমল ই হচ্ছে নেক নিয়ত তাই তাহারা যা যা চেয়েছেন আল্লাহ তাই কবুল করছেন – আমরা তো তাহাদের উত্তরসূরি আমরা কেন পারবনা , ইনশাহআল্লাহ আমরা চাইলে পারব তাই রামাদান কে আমাদের সঠিক ভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন , যার যার যত আমল ভাল হবে সে ততই সফল হয় , ব্যবহারেই আমলের পরিচয় পাওয়া যায় । আজকে একেত ১৮ তম রামাদান এর সাথে জুম`আ বার তাই এর গুরুত্ব আলাদা – সুরা আল কাহফ ও অগুনতি দুরুদ শরিফ পাঠে মর্জি হয় , এই রামাদান থেকে প্রতিদিন নিয়ত করি একটি সুরা পাঠ করব নিয়মিত , সুরা দুহা এমন এক জীবন পরিবর্তন কারি ঔষধ যা পাঠে ফায়দাই ফায়দা আমাদের মহানবী সঃ কে উপহার দিয়েছেন রাব্বুল ইজ্জত যা ব্যবহারে আমরা ও হতে পারি উপকৃত , ভাল অভ্যাসের মধ্যে শুধু অন্যকে খাবার খাওয়ানো বা সামান্য সামান্য দান খয়রাত ই নয় , বৃক্ষ রোপণ , ইয়াতিম কে আশ্রয় , বিধবা কে বিয়ে করা , অসহায়দের অভিবাকত্ত , ছিন্নমুল দের খিদমাত করা , অপরিচিত দের সাথে সদ্ব্যবহার , নিরক্ষর দের শিক্ষা ও দিক্ষা দেয়া – আল কোরআনের সাহিহ শুদ্ধ তিলাওয়াত , হাদিসের আলোচনা , নবী জীবনীকে জানা , মা বাবার খিদমাত , স্ত্রি বাচ্ছাদের সাথে সময় কাটানো ও সুন্দর ব্যবহার , স্ত্রি কে নিয়ে সমভাবে চলাফেরা করা সরবদা হাসিখুশি থাকা সহ আরও অনেক মহৎ কাজ করতে পারি নিজের ইচ্ছে শক্তি দিয়ে , আসুন আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি তিনি যে আমাদের এই বছরের রামাদান পালনের তাওফিক্ক দিয়েছেন আমরা নিয়মিত সিয়াম সালাতে সময় অতিবাহিত করতে পারছি , সামনে ও যেন আমরা এই রকম আনন্দ চিত্তে আল্লাহর গোলামি করতে পারি সেই তাওফিক্ক চাই – তাওবা ইসতেগফারে আনন্দ ই আসে ও দুঃখ দূর হয় চলা ফেরায় আসতাগফিরুল্লাহ তাসবীহ পাঠে আমরা উপকৃত হতে পারি , একে অন্যে কল্যানের দুআ অব্যাহত রাখব ইনশাহ আল্লাহ – রাব্বি জিদনি ঈলমা / আল্লাহুম্মাকফিনি বি হালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বি ফাদলিকা আম্মান সিওয়াক /রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা/আল্লাহুমাগফিরলি মাউতা ওয়া মাউতাল মুসলিমিন/ রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিয়াতিনা কুর রাতা আআ`য়ুনিং ওয়া জায়ালনা লিল মুত্তাক্কিনা ঈমামা / আল্লহুম্মা ইয়া শাইফিয়াল আমরাদ/ আল্লাহুম্মা ইয়া দাফিয়াল বালিয়াত/ লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জুয়ালিমিন/ রাব্বি আন্নি মাস সানি আদ দূর রু ওয়া আনতা আর হামার রাহিমিন / আল্লাহুম্মা আখরিজনি মিনাজ জুয়ালিমিন/ আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার / সালামুন কাউলাম মির রাব্বির রাহিমিন / ইহদিনাস সিরাতুআল মুসতাক্কিম/ গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দুআল্লিন/ রাব্বানা আতমিম লানা ওয়াগফির লানা ইন্নাকা আলা কুল্লি শাইয়িন ক্কাদির , আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতায়ালা ইবরাহিম ওয়ালা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ , রাদিনা বিল্লাহি রাব্বান ওয়াবিল ইসলামি দিনান ওয়াবি মুহাম্মাদ সঃ নাবিয়ান ওয়া রাসুলান / লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশ হাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সঃ ।