বয়ানে রামাদান ১৯

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২১

বয়ানে রামাদান ১৯

চৌধুরী হাফিজ আহমদ
রামাদানের মধ্য দশক এলেই আমার কাছে এক অন্যরকম অনুভুতি কাজ করে আমি প্লানিং এ লেগে যাই শেষ দশকের বেজোর রাত্রি গুলাকে কি করে সমাদর করব , কি কি কাজে ব্যস্ত থাকব , কি খাব , কি কাজে সময় ব্যয় করব, এর কারন হচ্ছে লাইলাতুল কদর কে বরণ করে নেয়া , ঐ এক রাত্রির কারনেই আমরা মানব জাতি আজ ধন্য আকাশে জমিনে , এই রাত্রিতেই আল কোরআন নাজিল হয়ে এক মহা চমক সৃষ্টি করে সমস্ত সৃষ্টি কুলে । মানব জাতিকে সুস্পষ্ট ভাবে সঠিক পথ দেখাতে কোরআন এসেছে বলে বা তাহাকে স্মরণে রাখতেই জন্ম দিনের এই মহা আয়োজন , প্রতি বছর একদম সমান তালে সমভাবে পালন করার জন্য তাগিদ দেয়া হয় , এমন প্যাকেজ দিয়ে সাজানো হয়েছে যার জন্য মন চায় শুধু শুকরিয়ায় নত হয়ে জান্নাতের সুঘ্রান পেতেই থাকি । সম্মানিত পাঠক সমাজ আজকে রামাদানের ১৯ তম দিন – প্রতিদিনের মত আমরা অতিক্রম করছি খুব আনন্দ চিত্তে , নিজেকে সংশোধন ও পরিবর্তন করতে আপ্রান চেশ্তা চালিয়ে যাচ্ছি , ইবাদত বন্দেগীতে সময় কে শাক্ষি রাখছি মহৎ কাজকে সময়ের ক্যামেরায় ধারন করছি আগামির পথে যেন আলোকিত হয়েই পথ চলি সেই আশাই করি , কল্যানের কামনা করি নিজের ও অন্যের । রামাদান মাসের কারয্যক্রম খুব বিশাল – এক মাসের মধ্যেই এই বিশাল সৃষ্টির চুলচেরা বিশ্লেষণ তাক্কদির বণ্টন , জিন্দেগী ও মাউতের ফায়সালা করার মত দায়িত্ব পালন করে চলেছে অব্যাহত ভাবে – এর মধ্যে ক্ষমা প্রাপ্তি বা মুক্তি দেয়ার মত কঠিন কাজের আঞ্জাম দিচ্ছেন আমাদের মাওলা , ক্ষমা চাইতে যে সব প্যাকেজ বা সুজুগ সুবিদা অগ্রিম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন তার সকল রকমের ফায়দা নেয়াই বান্দাহ হিসাবে আমাদের একান্ত কর্তব্য , নিজেকে যত পারি পরিবর্তন করে জান্নাতি চরিত্রে উন্নিত করতেই শিক্ষা ও দিক্ষা দেয় পবিত্র ও মহান রামাদানুল মোবারক , আল কোরআন আমাদের কে যত ভাল ও উন্নত শিক্ষা প্রদান করে এর মধ্যে খুলুসিয়াত বা ইখলাস অন্যতম – আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্তার একমাত্র মাধ্যম ই হচ্চে আল কোরআন – তাই আল কোরআনের হুকুম আহকাম অনুযায়ী চলাই হচ্ছে মুমিন বা ঈমানদার দের একমাত্র কাজ , ঈমান কে ঝালাই করে এর থেকে ময়লা ও নোংরা পরিষ্কার করার লক্ষ্যে কাজ করে সিয়াম , মন্দ বা গোনাহ বা বাজে কাজ বা বাজে অভ্যাস সব বাতিল কিছুকে জ্বালিয়ে বিনাশ করে দিতে সক্ষম সিয়ামের অভ্যাস যদি অব্যাহত থাকে তা হলে মুমিন হৃদয়ে স্পিড আসে নতুন প্রেরণায় উদ্ভাসিত হয়ে আল্লাহর গোলামিতে নত হতেই ইচ্ছে করে । আল্লাহ যে রকম নিয়ামত অব্যাহত ভাবে আমাদের দিয়েই যাচ্ছেন তা কিন্তু কম নয় যত শুকরিয়া আদায় করছি বিনিময় বাড়িয়েই দিচ্ছেন , আর উপহার তো আসা অব্যাহত আছেই , যত বেশী গোলামী করব তার চাইতে ঢের বেশী বিনিময় পেয়েই যাচ্ছি এর পরে আছে একস্ট্রা পুরষ্কার সেই ঘোষণাই আসে লাইলাতুল কদরে , আমি আগ্রহী পেতে সেই সু-সংবাদ তাই আমার অপেক্ষা থাকে সারা বছর যেন পাই লাইলাতুল কদর । লাইলাতুল কদর পাওয়া মানেই হাজার বছর হায়াত পাওয়া – হাজার বছরের ফজিলত মাত্র ১২ ঘণ্টায় হাসিল করতে পারা কম কথা নয় , অসাধ্য কে সাধ্যের মধ্যে এনে দিচ্ছেন আমাদের প্রভু ক্ষমা করতেই এই কদরের রজনীতে , তাই আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার খুব ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে লাইলাতুল কদর কে কাছে টেনে আনার , লাইলাতুল কদর কে সাক্ষি রেখে সন্তস্ট করার মত ইবাদত বন্দেগী করে জান্নাতের সু উচ্ছ মোকাম লাভ করা , এর জন্য আল কোরআন তিলাওয়াত হচ্ছে অন্যতম পন্থা – তাসবিহ তাহলিল আদব ব্যবহার উন্নিত করে মানুষের খিদমতের চেষ্টা করা – ভাল অভ্যাস কে আপন করে মন্দ অভ্যাস কে পরিত্যাগ করতে পারাই হবে সার্থকতা , আল্লাহ যেন আমাদের কদরের রাত্রি পাবার সুজুগ দেন , আমাদের সবাইকে মাফ করে দেন , রহমত বরকত মাগফিরাত নাজাত থেকে বঞ্চিত না করেন , আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন যেন আমাদের সকল কে সুস্ত করে দেন , আমাদের অভাব পুরন করে দেন , সকল সমস্যার সমাধান এনে দেন , আমাদের সন্তানদের এক এবং নেক বানিয়ে দেন , মা বাবার খিদমত করার তাওফিক দেন , যাহারা কবর বাসি তাহাদের কে যেন মাগফিরাত দান করেন , ঋণ থেকে মুক্তি দেন , হালাল উপায়ে কামাই রুজি করার তাওফিক্ক দেন , আমাদের সকলের জিবনে নুর দিয়ে আলোকিত করে দেন , সঠিক সত্য শিক্ষা অরজন করার তাওফিক দান করেন , নিয়মিত তাহার গোলামি করার তাওফিক্ক দেন পরকালে জান্নাতে স্তান দেন , আসতাফফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি – আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতায়ালা ইবরাহিম ওয়ালা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ , রাদিতু বিল্লাহি রাব্বান ওয়াবিল ইসলামি দিনান ওয়া বি মুহাম্মাদিন সাঃ নাবিয়ান ওয়া রাসুলান , আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়ারজুক্ক না শাফায়াতা নাবিয়্যিল কারিম । বারমিংহাম ০১-০৫-২০২১