বয়ানে রামাদান ২০

প্রকাশিত: ১০:৩২ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০২১

বয়ানে রামাদান ২০

– চৌধুরী  হাফিজ আহমদ
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম – আল্লাহ এমন এক পরিক্ষক তিনি দিয়ে পরিক্ষা করেন আবার নিয়ে ও পরিক্ষা করেন , কে কি করে তাহাকে ভালবাসে তা তিনি জানেন ও বুঝেন কিন্তু এর পরে ও একদম খাঁটি কে তা চিনিতে তিনি একদম চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেন , জান্নাতে তিনি যাহাদের সাক্ষাত দেবেন তাহারা যে একদম অনন্য হতে হবে তা তিনি আগে থেকেই প্রশিক্ষন দিয়ে তৈরি করে নেন – শর্ত দিয়ে যে ভালবাসা হয়না তা একদম পরিষ্কার , তাই আল্লাহ কে ভালবাসতে হবে আপনাকে উজার করে ত্যাগের পরিক্ষার সবরের চরিত্রের দানের ও একাগ্রতার মাধ্যমে । আল্লাহ চান তাহার মুমিন ও ইমানদার বান্দাহ রা যেন যুগোপযোগী ও উন্নত চরিত্রের হয় , আদব আখলাকে যদি কেউ ভদ্র নম্র হয় আল্লাহর কাছে সেই পছন্দের হয় , আল ইসলামে এই রকম লোক ই থাকবে যে ঈমান ও আমলে থাকবে একদম এগিয়ে , তাই এর জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষনের , রামাদান এর সম্পূর্ণ মাসকেই সাজানো হয়েছে এই রকম করে এর প্রথম ভাগে রয়েছে এক রকম ক্লাসের ব্যবস্তা মধ্যম ভাগে রয়েছে আরেক রকমের এবং শেষ ভাগে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্তার এতে বিতরণ করা হয় পুরস্কার দেয়া হয় নানা রকম উপহার , আনন্দে আত্মহারা জাতি যখন আল কোরআনের জন্ম মাসে প্রশিক্ষন নিতে আসে তখন রাহমানুর রাহিমিনের রহমতের দরিয়ায় জোয়ার খেলে তাহার লিখিত সম্পাদিত বই পাঠে নিয়োজিত সকলকেই তিনি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন , এবং পুরস্কৃত করেন অসংখ্য নিয়ামত রাজি দিয়ে । আজকে রামাদানের ২০ তম দিন অতিক্রম করছি , বর্তমান সমস্যা সংকুল পৃথিবীতে আমরা যাহারা সিয়াম পালন করছি বলতে গেলে তা এক অপূর্ব সুজুগ – আল্লাহ যে আমাদের সিয়াম কিয়াম পালনের সুজুগ করে দিচ্ছেন এর জন্য শুকরিয়া আদায় করছি আলহামদুলিল্লাহি আল কুল্লি হাল – ওয়াস সালাতু আস সালামু আলান নাবি সঃ , আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদ । আল্লাহ ও বান্দাহের বিভিন্ন উপায়ে সাক্ষাত হতে পারে , মালিক যখনি চাইবেন তখনি তিনি সাক্ষাত দেন বা ডেকে পাঠান , এই মাসে আল্লাহর সাথে আপন ভাবে সাক্ষাতে ২ রকম প্যাকেজ আছে একটা সাধারনত সবাই করছি সিয়াম ও ক্কিয়াম অন্যটি হচ্ছে ইতিক্কাফ , ইতিক্কাফ হচ্ছে একদম একা নির্জন বা একান্ত সান্নিধ্য- রাসুলুল্লাহ সঃ নিজে ইতিক্কাফ করেছেন অতিরিক্ত সময় একান্ত সময়ে সালাতে কাঠিয়েছেন , এবং ইতিক্কাফ করতে বলেছেন অন্যকে উৎসাহ দিতে বলেছেন , এই ইতিক্কাফ এমন এক মাধ্যম যা লাইলাতুল কদর রজনীকে বরন করতে সাহায্য করে , ইতিক্কাফ কে অভিজ্ঞ জনেরা বলেছেন সৃষ্টি থেকে দূরে স্রষ্টার কাছে বসবাস করা যাহাতে নিবিষ্ট চিত্তে আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া যায় , ইতিক্কাফ করতে হয় নিয়ত করে – ইতক্কাফের নিয়ম নীতি রয়েছে নীতিমালায় আছে সুন্নত ফরজ নফল – নফল ইতিক্কাফ অল্প সময়ের জন্য ও হয়, মাসজিদে ইতিক্কাফ করাই শ্রেয় যদি এর সুব্যবস্তা না থাকে তবে যে কোন জায়গায় নির্জনে সময় কাঠাবার ব্যবস্তা করায় ও আপত্তি নাই , মাসজিদে প্রবেশের আগেই নিয়ত করতে হবে , এই নিয়ত ভঙ্গ হলে সমস্যা – তবে আনুরুধ যার যার অবস্তান থেকে ব্যবস্তা ও নিয়ম নিতি জেনে নিলে সুবিদা বেশী , রামাদানের শেষ ১০ দিন অথবা শেষ ৩ দিন ইতিক্কাফ করা যায় , আমি ইতিক্কাফ কে বলি জীবিত থাকতেই কবর বাস করা , এবং কবরের সাথে এই নির্জনতার মিল ও আছে , ইতিক্কাফের ফজিলত আমার দ্বারা বয়ান করে বুঝানো যাবেনা তবে হাদিসে রাসুল সঃ অনুযায়ী যদি বলি তা হলে বলতে হবে দনিয়াতে থাকা অবস্তায় ই জান্নাতের স্তান দখল করে নেয়া , এত ফায়দা এই ইতিক্কাফের আমলে যা এক জিবনে ব্যবহার করা যাবেনা বলেই এর অবশিষ্ট ফায়দা আখিরাতে ইস্তিমাল করা যাবে , যাহারা সক্ষম তাহারা ইতিক্কাফে মর্জি হয় – নারীরা ও পর্দা সহকারে নিজ নিজ অঙ্গনে ইতিক্কাফ করতে পারবেন – আমি দেখেছি আমার এক নানী নিয়মিত ইতিক্কাফ করতেন – এই রকম আরও অনেক কে আমি দেখেছি ইতিক্কাফ করতে – আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে নেক আমল করার তাওফিক্ক দেন । সম্মানিত পাঠক বর্গ আমি বলছিলাম আজকে রামানাদের ২০ দিন যাচ্ছে সামনে মাত্র ৯/১০ দিন বাকি রামাদান মাস আমাদের ছেরে চলে যাবে আমরা কি পারিনা এই বাকি গুলাকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে ! কোরআন কে সাথী বানাতে – আল্লাহর ভালবাসায় সিক্ত হয়ে মন্দ কাজ কে না বলে ভালোর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে ! আমি কি পারিনা হিংসা বিদ্ধেস রাগ ঘুস সুদ মদ জুয়া জিনা জুলুম ইত্যাচার অশ্লিলতা পরিহার করে – একে অপরে কল্যানের কাজ করতে ! আমরা কি পারিনা তাওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসতে ! দুনিয়াতে জান্নাতি আচরন করে যেতে ! অবশ্য ই পারি এই তো লাইলাতুল কদর সামনে – আসুন না আমরা তাওবা করে নিজেকে সংশোধন করি , সকল বেজোড় রাত্রে রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন কদরের রাত্রি খুঁজতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে নিয়ত করি বাকি জীবন যেন নেক আমল করে যেতে পারি । নিয়মিত দুআ তে আমাকে ভুলে যাবেন না – আল্লাহুম্মাগফিরলি মাউতা ওয়া মাউতাল মুসলিমিন/রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা/ আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার / আল্লাহুম্মা আখরিজনি মিনাজ জুলুমাতি ইলান নুর/ আল্লাহুম্মাস তুর আওরাতি ওয়া আমিন রাওয়াতি/ইয়া মুক্কালল্লিবাল ক্কুলুব সাব্বিত ক্কালবি আলা দিনিক/ইয়া শাফিয়াল আমরাদ /ইয়া মুসাব্বিবাল আসবাব/আসতাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি – রাব্বানা হাবলানা মিন আজওআজিনা ওয়া জুররিয়াতিনা ক্কুর রাতা আয়ইউনিং ওয়া জায়ালনা লিল মুত্তাক্কিনা ঈমামা ।আল্লাহ যেন আমাদের রামাদানে ক্ষমা দান করেন এবং হালাল রিজক্ক দান করেন আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদ । বারমিংহাম ০২-০৫-২০২১