বয়ানে রামাদান ২০

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২০

বয়ানে রামাদান ২০


— চৌধুরী হাফিজ আহমদ

মানুষকেই ভাল অভ্যাস গড়ে তুলতে হয় । এমনি এমনি অভ্যাস করা যায়না । জীবন পরিচালিত করতে অভ্যাস এক বিশাল ভুমিকা রাখে । ভাল অভ্যাসের কারনেই অনেকে জীবন মান উন্নতি করতে পেরেছেন । রামাদান মাস হচ্ছে অভ্যাসের পরিবর্তনের মাস । সিয়াম সালাত দুআ এর সাথে সাথে ইতিক্কাফ করা ও রামাদানের আকর্ষণীয় এক ইবাদাত - ইতিক্কাফ অর্থ হল নির্জন স্তানে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখা - শরিয়তের পরিভাষায় ইতিক্কাফ এর অর্থ হচ্ছে বিশেষ সময় বিশেষ নিয়মে নিজেকে মাসজিদে আবদ্ধ করে রাখা নিজেকে । ইতিক্কাফ মানুষকে দুনিয়ার ত্যাগ করার অভ্যাস শিক্ষা দেয় অল্প সময়ের জন্য হলে ও আল্লাহর সাথে সম্পর্ক জুড়িয়ে দেয়, এতে মানুষের অপেক্ষায় অন্তিম কালের দুনিয়া ত্যাগ ক অরা সহজ হয় এবং দুনিয়ার মুহাব্বতের পরিবর্তে আল্লাহর প্রতি ভালবাসা বৃদ্ধি পায় , ইতিক্কাফ কারীর উদাহরণ হচ্ছে সেই নিরুপায় ব্যক্তির ন্যায় , যে কোন মহান ব্যক্তির দরবারে হাত থেকে এবং বলে যতক্ষন পর্যন্ত আমার হাজত পূর্ণ হবেনা ততক্ষন আমার অবস্তান অনড় থাকবে এখান থেকে আমি একচুল ও নড়ব না স্তান ও ত্যাগ করবনা । ইতিক্কাফ তিন প্রকার - ওয়াজিব - সুন্নাত - মুস্তাহাব । (১) ইতিক্কাফ করার জন্য মানত করলে তা তা পূর্ণ করা ওয়ায়জিব এবং সেই ইতিক্কাফ সিয়াম অবস্তায় পূর্ণ করতে হবে (২) রামাদানের শেষ ১০ দিন ইতিক্কাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা , একবার ছাড়া নবী করীম সঃ এটা বারবার করেছেন , তবে আমাদের আলেম উলামারা এটাকে সুন্নাতে সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে ক্কিফায়াহ বলেন - অর্থাৎ মসজিদের মহল্লার অধিবাসীদের মধ্যে কেউ তা করলে অপর লোকেরা গোনাহ থেকে বেঁচে যাবে - আর কেউই না করলে সকলেই গোনাহগার হবে (৩) ওয়াজিব ও সুন্নাত ইতিক্কাফ ছাড়া অপর ইতিক্কাফ মুস্তাহাব তা সল্প সময়ের জন্য হতে পারে , সুন্নাত ইতিক্কাফ এর সময় রামাদান মাসের ২০ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্বে মাসজিদে প্রবেশ করবে - এবং রামাদানের শেষ দিবসে সূর্যাস্তের পরে ,অর্থাৎ ঈদের চাঁদ দেখা গেলে মসজিদ থেকে বের হবেন বাড়ির উদেশ্যে । মাসজিদে অবস্তান কালীন সময়ে চুপ করে না থেকে নফল সালাত তিলাওয়াতে কালামে পাক আল্লাহর জিকির তাসবীহ তে রত থাকবে একেবারে চূপ থাকা দুনিয়াবি কথা বলা উভয়টাই নিষেধ পাঞ্জেগানা মাসজিদে যেখানে নিয়মিত জামাতে সালাত আদায় করা হয় সেখানে ইতিক্কাফ করা জায়েয -তবে জুমআ আদায় হয় এমন মাসজিদে করাই উত্তম – ইতিক্কাফ স্ত্রী লোকের জন্য ও প্রযোজ্য , নারী দের বেলায় নিয়ম শিথিল আছে , তাহারা পর্দার ভিতরেই থাকবেন তাহাদের জন্য নীজ বাড়ি ঘরে ইতিক্কাফ করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে –
ইতিক্কাফের জন্য আলাদা নিয়ম কানুন রয়েছে তা স্তান ভেদে জেনে নিতে হয় এর জন্য মাসজিদের ঈমাম সাহেবদের সাথে আলোচনা করলে ফায়দা – তবে নিয়মের মধ্যে যা জরুরী তা উল্লেখ যায় আর তা হচ্ছে পেশাব পায়খানা অজু গোসল ইত্যাদির জন্য বাহিরে যেতে পারবে তবে সেখানে সময় ক্ষেপন বা দুনিয়াবি কিছুর দিকে দৃষ্টি দেয়া যাবেনা যদি ভিড়ে অপেক্ষা করতে হয় তাও আলাহর জিকিরে থাবে , মাসজিদের অঙ্গন ত্যাগ করা যাবেনা ,ইফতারি – সেহরীর ব্যবস্তা করতে পারা যাবে খুব নীরবে এমন কি রান্না করাও যাবে তাহতে ও আলাদা সময় ক্ষেপন করা যাবেনা , যদি কারো ব্যবসা বানিজ্যের জন্য আলাদা কেউ না থাকে তা হলে সে দোকানে যাবে সীমিত ভাবে বেচা কেনা করবে অন্তরে ইতিক্কাফ এর চিন্তা রেখে , নতুন মালামাল না এনে যা আছে তাই বিক্রি করবে এবং বন্ধ করেই মাসজিদে ফিরবে , অশ্লীলতা যৌনতা ইত্যাদি হারাম , বাকী যে নিয়ম আছে তা যেখানে অবস্তান করা হয় সেখানে থেকেই জেনে নিলে ভাল । সমস্ত প্রশংশাই আল্লাহ মালিকের যত করব ততই কম – দুরুদ ও সালাম নবী মুহাম্মাদ সঃ প্রতি – আজকে আমরা অতিবাহিত করছি ২০ তম দিন রামাদানের দিন শেষে যে রজনী তাহাই হয়ে যেতে পারে কদরের ,বেজোর সংখ্যার রাত গুলাতেই তালাশ করতে বলা হয়েছে তাহাও আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজাত দানের জন্য এক চমক । এরি মধ্যে ইতিক্কাফ করতে যাহারা যাবেন তাহাদের জন্য কদর এর রাত প্রাপ্তি একদম সহজ – ইতিক্কাফ কে আমি বলি কবরের রিহার্সাল , নির্জন বসবাস সেচ্ছায় আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করতে একা নিজেকে বন্ধি করে রাখা খুব কঠিন কাজ বলতে গেলে অসাধ্য কে সাধ্য করা যা সবার জন্য সহজ হয়না , ইতিক্কাফে গেলে বুঝা যায় কবর কাহাকে বলে , আল্লাহ তায়ালা আমাদের মহানবী সঃ এর মাধ্যমে ইতিক্কাফ এর নিয়ম শিক্ষা দিয়ে যে মেহেরবানী দেখিয়েছেন এতে করে কবরের জিন্দেগী কেমন হবে তা সহজেই রপ্ত করা যাবে দুনিয়াতে , ভাল আমলের সাথে কবরের জীবনের সংযোগ স্তাপন করাই হল উদ্দেশ্য । আমাদের কে দুনিয়া ও আখিরাতে চলার পথের সকল ধরনের পন্থা শিক্ষা দিয়ে প্রশিক্ষিত করাই হচ্ছে কোরআনের কাজ – এবং তাই কোরআন করে যাচ্ছে কিন্তু আমরা মানুষ তা বুঝতে বা মানতে এগিয়ে আসছিনা যার ফলে এখনো অর্ধেক জনসংখ্যা ভিন্ন মতবাদে বিশ্বাসী আমরা যাহারা ঈমান এনেছি তাহারা ব্যর্থ হচ্ছি অবিশ্বাসীদের কাছে আল কোরআনের বার্তা পউছাতে, এর জন্য আমাদের মাঝেই শাইতানী আমলের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় – সুদ জুয়া মদ জেনা লোভ লালচ ঘুস দুর্নীতি নির্যাতন জূলূম অত্যাচার নারীদের প্রতি বৈষম্য সমাজকে যেন ঘিরে রেখেছে এই সব পাপ অনাচার থেকে ইতিক্কাফের মত আমলের প্রয়োজন , ঘরে ঘরে ইতিক্কাফের চর্চা অভ্যাহত থাকলে আমরা বেঁচে যেতে পারি ভয়াবহতা থেকে – হাদিস শরীফে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণীত হয়েছে রাসুলুল্লাহ সঃ বার বার ইতিক্কাফ করেছেন এবং বলেগেছেন তা করতে উম্মতদের কে - এতে যে রকম আত্মশুদ্ধি হয় তা অন্য কিছুতেই সম্ভব হয়না নারী পুরুষ যেই হোক না কেন রোগ বিপদ পারিবারিক ঝামেলা সমস্যা বা যে কোন হাজত পুরনে এই ইতিক্কাফের আমল করে দেখতে পারেন সকল ধরনের সমস্যা থেকে সমাধান পেয়ে যেতে পারি - সরবাবস্তায় দুআ আমাদের সহায়ক এই দুনিয়াতে দুআ র মত শক্তিশালী অন্য কিছুই নাই , একে অপরে পরিবারে সমাজে আমরা দুআ র মাধ্যমেই আনতে পারি কল্যান , আসুন আমরা দুআ করেই একে অপরে সফলতা হাসিল করি , কেননা একমাত্র তাওবা ও দু আ ই পারে ভাগ্য বদলে দিতে দুনিয়াতে এবং আখিরাতে মুক্তি নিশ্চিত করতে । বায়ানে রামাদানের আজকের বিশতম পর্বে আমি সকলের কাছে দুআ প্রার্থী - আগামী ১০ দিনের সকল দু আয় যেন আমরা সকলকে মনে করি এবং মাফি ও কল্যান কামনা করি -সবাই বলি ** রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফিরলানা**।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031