বয়ানে রামাদান ২১

প্রকাশিত: ১১:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২১

বয়ানে রামাদান ২১

— চৌধুরী হাফিজ আহমদ
সৌভাগ্য বান আমরা বার বার জিবনে রামাদান মাস পেয়ে আসছি , জন্ম থেকে নিয়ে এই পর্যন্ত ৫১ বার রামাদান মাস এসেছে আমার জিবনে তবে হয়ত গাফিলতি বা জ্ঞানের অভাবে কাজে লাগাতে পারিনি বা পারছিনা, তবে রামাদান এলে টিক ই মনে আনন্দের ঢেউ খেলে পবিত্রতা কাজ করে দান খয়রাত সহ ভাল ভাল অভ্যাস করতে চাই ও এগিয়ে যাই , রামাদানের পবিত্রতা ক্ষুন্ন করে এমন কাজ থেকে আমি বরাবর বিরত থাকি – যেমন ইফতার পার্টির নামে যে রকম বিলাসিতা চলে তা পরিহার করে চলি বা মেয়ের শশুর বাড়ি ইফতার দেয়া নামক বদ অভ্যাস কে একদম এড়িয়ে চলি , আমার কাছে এই সব মনে হয় একদম অপচয় – এবং অপচয় করতে আল্লাহ মানা করেছেন , অপচয় না করতে সতর্ক বার্তা দিয়ে রেখেছেন – অপচয় যে শাইতানি অভ্যাস তাও বলে রেখেছেন – আমি বরাবর এই সব কে রামাদানের পবিত্রতা ক্ষুন্ন করে বলে মনে করি , আজকে যদি আমি একটি দানা ফেলে দেই বা দানার হিফাজত না করি তা হলে এই অপচয়ের কারনে কালকে আল্লাহ আমার রিজক্ক থেকে খাবার কমিয়ে দেবেন , এই অবহেলার কারনে আমার তাক্কদিরে আসতে পারে দুর্ভোগ তাই রামাদানে অপচয়ের কথা চিন্তায় ও আসেনা – ভাল খাব কিন্তু অল্প খাব – ভাল ব্যবহার আচরন করব কিন্তু বিলাসিতার নামে অপচয় করে শাইতানের ভাই হতে চাইনা – আসছে সামনে ঈদ এই নিয়ে কেনা কাটার মাধ্যমে সিয়াম ও কিয়ামের অর্জন কে বিসর্জন করবনা আশা করি , ঈদের জন্য আয়োজন করা ভাল এবং করা উচিত তবে বেশী বাড়াবাড়ি করলে রামাদানের মান ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে – আগামি বছরের বাজেটে এই নিয়ে আল্লাহ তায়ালা কাট ছাঁট করে দেবেন তাই এই সব ক্ষেত্রে আমাদের উচিত বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা , আমার কাছে অন্যের জিবনে খুশী দেখাই আনন্দ – আমি চাই আমার সাথি পারাপড়শি বন্ধু স্বজন আত্মীয় গরীব দুঃখীর জিবনে আনন্দ বিরাজ করুক তাহাদের মুখে হাসি আমার কাছে গাছে ফুল ফুটার মত মনে হয় – আমরা যাহারা পারি তাহাদের দিকে খেয়াল রাখতে সক্ষম অনুগ্রহ করে এগিয়ে এসে তাহাদের পাসে দাড়াই – আল্লাহ যেন আমাদের সেই তাওফিক্ক দান করেন তা কামনা করছি , এদের মুখে হাসি দেখতে হলে যেই কাজ করতে হবে তা হচ্ছে রামাদান মাসের শিক্ষা বা যে প্রশিক্ষন নিলাম বিগত ২০ দিন সেই অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগিয়ে তা বণ্টন বা বিলিয়ে দিতে হবে , আমরা যে ক্ষধার কষ্ট না পাবার কষ্ট অনুধাবন করলাম তার পরিপ্রেক্ষিতে এমন এক সমাজ গঠন করতে হবে যেখানে থাকবে দিশা আল কোরআন ও হাদিসে রাসুল সঃ , এই রকম সমাজ ঘটনে মানব জিবনে আসবে শান্তি উৎখাত হবে বাতিল – থাকবেনা ঘুস দুর্নীতি মিথ্যা গিবত হিংসা সুদ মদ জুয়া জিনা জুলুম অত্যাচার অবিচার অন্ধকার । রামাদানের ব্যাপারে যে মহান দায়িত্ব আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন তার সুস্ট ভাবে প্রয়োগ করাই হবে আশে পাশের সবাইকে সুখি ও খুশী করার এক মাত্র মাধ্যম , আমরা দান করেই ক্ষান্ত হবনা – ঈদের আগে ফিতরানা দিলেই হাক্ক আদায় হবেনা তা হতে হবে সঠিক হিসাব করে , আমার আনন্দে যদি খরছ হয় ১০০ টাকা তখন অন্যের খরছ হবে মাত্র ১০/২০ টাকা তা হবেনা – এখানে ও সমতা এনে খুশি বিলাতে হবে – ফিতরা হচ্ছে একধরনের ক্ষতিপুরন – ফুতুর থেকে ফিতরা – এই ব্যাপারে বলেছেন রাসুলুল্লাহ সঃ সবাইকেই ফিতরা দিতে হবে যাহারা স্বাধীন ,ছোট বড় , নারী , পুরুষ সবাই এই আওতার মধ্যেই আছি এক সা পরিমান খেজুর বা যব , এবং তা আদায় করতেই হবে ঈদের সালাতের আগে আগে , ফুতুর মানে খাদ্য এখন এই খাদ্যের বেলায় তার দাম নির্ধারণ করেই পরিশোধ করতে হবে , তাই যে যেখানে আছেন সেখানের বাজার দর অনুযায়ী জেনে নিয়েই তা আদায় করতে মর্জি হয় , ফিতরা দেয়া ওয়াজিব তাই তা মানতে হবে আমাদের সবাইকে , যুগের তালে এখন ফিতরা ও হয়ে গেছে এক ধরনের কামাই রোজগার – এই সব ব্যবসার দিকে না গিয়ে আপন আপন একালায় তা পরিশোধ করাই ভাল ।আজকে রামাদানের ২১ তম দিন – গেল রজনী হয়ত ছিল লাইলাতুল কদর – সকল বেজোর রাত্রিতে লাইলাতুল কদর খুঁজতে আমাদের জানিয়েছেন মহানবী সঃ তাই শেষ দশ দিনের সকল বেজোর রাত্রিকেই মনে করতে হবে লাইলাতুল কদর , এই রাত্রিতে নাজিল হয়েছে আল কোরআন – ইরশাদ হচ্ছে “ আউজুবিল্লাহিমিনাশ শাইতানির রাজিম – ইন্না আনজালনা হু ফি লাইলাতিল কাদর / ওয়ামা আদরা কামা লাইলাতুল ক্কাদর/লাইলাতুল ক্কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর/তানাজ্জালুল মালাইকাতু ওয়ার রুহু ফিহা বি ইজনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমরিন/ সালামুন হিয়া হাত্তা মাতলাইল ফাজর ।এখানে যে রাত্রির কথা বলা হয়েছে এই সেই রাত্রি ই হচ্ছে লাইলাতুল ক্কাদর – যা হাজার মাসের চাইতে উত্তম অর্থাৎ ৮৪ বছরের সমমান এক রাত্রির – অনেকেই আমরা ৮৪ বছরের হায়াত পাবনা তাই এই এক রাতকেই সেচ্ছায় বরণ করে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ , তাই সকল বেজোর রাত্রের এক মুহুরত ও বৃথা যেতে দেবনা , সময় কে সাক্ষি রেখে ইবাদত করব মাগরিব থেকে ফজর পর্যন্ত – এই রাতরের তাওবা হচ্ছে সর্বোত্তম , এই রাত্রের ইবাদত হচ্ছে সবার সেরা , এই রাত্রের সকল নিয়ত হচ্ছে জিবনের সেরা , তাই এই রাতরে যত যত ভাল ভাল আখাংখা ইচ্ছে সব নিয়ত করব যে অভ্যাসের আমল করব মালাইকারা তাই ধারন করে নিয়ে যাবেন এবং সেই অনুযায়ী ফলাফল দেবেন বলে আমি মনে করি , এই ক্কাদরের রাত কে আল্লাহ ৮৪ বছর হাজার মাসের সমমান দিয়ে অগুনিত মালাইকা দিয়ে জমিন কে কেন ঘেরাও করে রাখবেন যদি গুরুত্ব না থাকে ? যেহেতু আল্লাহ স্বয়ং এই রাত কে মর্যাদা দিচ্ছেন তাই আমাদের উচিত এই রাত্রিকে সকল কিছুর উরধে রেখে আনন্দ চিত্তে ইবাদত করা ও ভাল নিয়তের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে চাওয়া , তাওবা ইসতেগফার , জিবনের সকল ইচ্ছের কথা যদি মালিকের দরবারে পেশ করত না পারলাম তা হলে গোলাম হিসাবে আমি পারফেক্ট নয় মনে করতে হবে । মালাইকারা যা ধারন করে নিয়ে যাবে সেই ক্যামেরায় যদি আমি না থাকি তা হলে কি হবে- তাই রাতরি জেগে ইবাদতের মাধ্যমেই উপস্তিতির প্রমান দিতে হবে – মাগরিব থেকে ফজর পরযন্ত বেজোর রাতগুলাতে ক্কাদরের রাত খুজতে গেলেই দেখবেন মন সায় দেবে ইবাদতে তৃপ্ত কি না । আল্লাহ যেন আমাদের ক্কাদরের রাত্রির সকল বরকত ফজিলত দান করেন – রামাদানের যে সকল আকর্ষণ এর মধ্যে লাইলাতুল ক্কাদর হচ্ছে ১ নাম্বার , তখন এই রজনি মিস করলে চলবেনা , শেষ দশের মধ্যে রয়েছে মাত্র ৯ দিন , কাজে লাগাবার অনুরুধ রহিল সবার প্রতি – এমনিতেই দ্রুত চলে যায় রামাদান মাস , স্রোতের মত , এই জোয়ারে শুধু আনন্দই আনন্দ – আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের এমন আনন্দের মধ্যেই জান্নাত পর্যন্ত পোঁছাবার তাওফিক্ক দেন – আমি আপনাদের সকলের কাছে দুআ প্রার্থী – আল্লাহুম্মাগফিরলি মাউতা ওয়া মাউতাল মুসলিমিন/ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফউআ ফা`ফু আন্নি/ আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার / আল্লাহুম্মা আখরিজনি মিনাজ জুলুমাতি ইলান নুর/আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ ওয়া আউজুকিকা মিনান নার/আল্লাহুমার জুক্ক না শাফায়াতা নাব্বিয়িল কারিম/ লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জুয়ালিমিন/ রাব্বি আন্নি মাসসানি আদ দূররু ওয়া আনতা আর হামুর রাহিমিন/রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাহ ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ ওয়া ক্কিনা আজাবান্নার / রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা/ আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইনা ওয়ালিল মু`মিনিনা ইয়াউমাইয়া ক্কুমুল হিসাব/ আল্লাহ যেন আমাদের সকল নেক হাজতগুলাকে পুরা করে দেন । মামা বাবার হায়াত ও তন্দুরুস্তি দান করেন – ভাই বোন আওলাদ স্বজন সকল কে এক ও নেক বানিয়ে দেন – মজলুম মুজাহিদ সবাইকে সাহায্য করেন , বন্ধি মুসলমানদের আজাদি দান করেন , হালাল কামাই করার তাওফিক দেন , ঋণ থেকে মুক্তি দেন আসতাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি / রাব্বি জিদনি ঈলমা/ সুবহানাজিল মুলকি ওয়াল মালাকুত / সুবহানাজিল ইজ্জাতি ওয়ালাজমতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়া ই ওয়াল জাবারুত/ সুবহানাল মালিকিল হাইইয়িল লাজি লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু/ সুব্বুহুন ক্কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ / আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার ইয়া মুজিরু /রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফিরলানা/ লা হাউলা ওয়ালা ক্কুওআতা ইল্লা বিল্লাহ / ফাতিরাস সামাওআতি ওয়াল আরদ আনতা ওয়ালিই ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ তাওাফফানি মুসলিমান ওয়াল হাক্ক নি বিস সওয়ালিহিন / আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়ালা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতায়ালা ইবরাহিমা ওয়ালা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ । লন্ডন ০৩-০৫-২০২১