বয়ানে রামাদান ২১

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০

বয়ানে রামাদান ২১


চৌধুরী হাফিজ আহমদ

ভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যে জীবনে বারবার কদর রজনী পেয়েছে এবং গোনাহ মাফ করিয়েছে । কদরের এক রজনী ৮৩ বছর সম এই রাত সম্পর্কে আল্লাহ ইরশাদ করেন ** আউজুবিল্লাহিমিনাশ শাইতাতুয়ানির রাজিম / ইন্না আনজালনাহু ফি লাইলাতিল ক্কাদর – ওয়ামা আদরাকামা লাইলাতুল ক্কাদর /লাইলাতুল ক্কাদরী , খাইরুম মিন আলফি শাহর/তানাজযালুল মালাইকাতু ওয়ার রুহু ফি হা বিইজনি রাব্বিহিম , মিন কুল্লি আমরিন , সালামুন হিয়া হাত্তা মাততলায়িল ফাজর **( সুরা ক্কাদর পারা ৩০) এই বক্তব্য দ্বারা আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন আমাদের বলেছেন এই রজনীতে নাজিল হয়েছে মহা শক্তি শালী কোরআন এই রাত হচ্ছে হাজার মাসের চাইতে উত্তম এই রাত্রে অসংখ্য মালাইকা দুনিয়াতে আসেন আল্লাহর আদেশ পালন করেন এই রাত্রে শান্তি বিরাজ করে সর্বত্র ওরা মালাইকারা বিরাজ করে ফজর পর্যন্ত , তাই হচ্ছে ভাগ্যের (কদরের ) এর রাত ।আমরা এখান থেকেই স্পষ্ট জানতে পারি কদরের রাত্রি ই হচ্ছে ভাগ্য রজনী , এই রাত্রে আমরা সবাই কামনা করব উন্নয়নের উন্নতির অগ্রগতির জিবনের সকল চাহিদার যা আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন যে সব ছাড়া আমাদের সংসার অচল এবং পূর্ববর্তী জিবনের পাপের জন্য ক্ষমা আগামি জিবনের দিনগুলায় পাপমুক্ত থাকার । কল্যানের লক্ষে আল্লাহর গোলামী আখিরাতে মুক্তি পেতে তাওবাহ করে আল্লাহর কাছে নিজেকে সোপর্দ করব । আজকে রামাদানের ২১ দিন অতিবাহিত করছি সকল তারিফ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য এবং দুরুদ ও সালাম মানবতার মুক্তি দূত উভয় জাহানের আদরের পাত্র জনাবে মুহাম্মাদ সঃ এর প্রতি – আজ থেকেই ক্কদরের রাত্রি শুরু , সকল বেজোর রাত্রে ই তা হবার সম্ভাবনা ২১/২৩/২৫/২৭/২৯ পর্যন্ত খুঁজতে হবে তবে গ্লোবালী চিন্তা করলে জোর বেজোড় থাকেনা রামাদানের শেষ দশকের যে কোন দিন ই ক্কদরের রজনী হতে পারে তাই প্রত্যেক দিন ইবাদতের মাধ্যমে কাটানো উচিত এবং আমাদের নবী সঃ তাহাই করেছেন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা হজরত আবু বাক্কর হজরত উমার হজরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে শত শত বক্তব্যে এসেছে রাসুলুল্লাহ সঃ রামাদানের শেষ দশকের প্রত্যেক রজনী তেই সমান ভাবে ইবাদত করেছেন , এমন করে কোমর শক্ত করে সালাতে দন্ডায়মান হতেন যা শুধু মাত্র রামাদান মাসের ২০ রজনী থেকেই শুরু করতেন । এই ক্কাদরের রাত্রের জন্য আলাদা কোন বিশেষ আমল নাই বেশী বেশী নফল সালাত এবং তাওবা দু`আ করতে থাকাই ইবাদত , সালাতের মধ্যে রাত কাটানো ই উত্তম বলে জানা যায় আমরা যদি দেখি আমাদের পূর্ববর্তী নেয়ামত প্রাপ্তরা কি রকম ইবাদত করেছেন তা হলে রাসুলুল্লাহ সঃ থেকে শুরু করে সাহাবায়ে কিরাম রঃ হতে আজো পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে চলে আসছে নফল সালাত ও কোরআন তিলাওয়াত এই রাত্রিতে করেছেন । আমরা ও তাই করব হেলায় বা গাফিলতি বা ঘুমিয়ে এই রজনী পার করবোনা এই রাত্রি জেগে থাকাও ইবাদতের মধ্যে পরে । কেউ যদি লাইলাতুল ক্কদরের সৌভাগ্য অর্জন করতে চায় তবে রামাদানের শেষ দশটি রাতকেই যেন কাজে লাগায় , যাহারা ইতিকাফে অবস্তান করেন তাহাদের জন্য এই দশ রাত্রি সুবর্ণ সুজুগ , এই পর্যন্ত যত হাদিস পড়ার তাওফিক হয়েছে সব খানেই পেয়েছি ক্কাদরের রজনী শেষ দশের মধ্যেই একটা বক্তব্যে এসেছে রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন ** আমি রামাদানের প্রথম ১০ দিন ইতিক্কাফ করলাম ক্কাদর পেলাম না মধ্য দশ দিন ইতিক্কাফ করলাম তাও পেলাম না তখন আমাকে জানানো হল শেষ দশ দিনের কথা সেই থেকেই আমি ইবাদতে মনোনিবেশ করলাম ***তাই যে করেই হউক আমরা সবাই যে যেখানেই আছি সেখানেই এবারে মনোযোগ দিয়ে পালন করব বাকী দিনগুলা রামাদানের , যেহেতু সিয়াম পালন করছি তা হলে একটু ত্যাগ শিকার করে লম্বা সময় সালাতে কিয়াম করে কাঠালে ক্ষতি হবেনা , হাতে পায়ে একটু ব্যথা ঘুমের ব্যাঘাত হাঁটুতে ধরা মাথা ভার দাঁড়ানোর কষ্ট এই সব সাড়াতে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে যখন সালাতে সময় দেবেন তখন দেখবেন লাভ ই লাভ তাই সাহস করে ইবাদত করতেই হবে – আমরা নিজেকে সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে আল্লাহর সাথে পন করতে হবে যা হবে মৃত্যু পর্যন্ত শাইতানি আমল থেকে দূরে থাকব – ঘুষ দুর্নীতি স্বজন প্রীতি সুদ জুয়া মদ জিনা এই সব ই হচ্ছে শাইতানি আমল সেই সব থেকে নিজেকে পরিবার কে সন্তানদেরকে ব্যবসাকে সমাজকে দূরে রাখব এবং পথ চলব আল্লাহ কর্তৃক স্বীকৃত রাসুলুল্লাহ সঃ প্রদর্শিত শান্তি ও কল্যানের যেখানে বিরাজ করবে ক্কাদরের রজনীর মত শান্তি আর শান্তি । বয়ানে রামাদানের আজকে ২১ তম পর্ব বিগত দিনগুলাতে আমরা আলোচনা করেছি অনেক অনেক কিন্তু আজকের আলোচনা শুধু মাত্র ক্কাদরের বিষয়ে – এর গুনাগুন বা ফজিলত বর্ণনা করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় কেননা আল্লাহ নিজে এই রাত্রির ব্যাপারে বয়ান দিয়েছেন যেখানে তিনি মর্যাদা দিয়েছেন সেখানে আমার পক্ষে এর বাহিরে বলার মত কিছুই নাই – তবে অনুরুধ করতে পারি পাঠক সমাজকে যাহারা নিয়মিত পাঠ করছেন সবাইকে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই আমরা পেতে পারি আগামীতে শান্তি এখানে এবং আখিরাতে মুক্তি – ইসলামের বিস্তার শুধু মাত্র দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয় ইসলাম বিস্তৃত মৃত্যু – কবরে -হাশরের ময়দান পর্যন্ত আল- ইসলামের বীজ রোপিত হয়েছিল জান্নাতে এবং এর শেষ ও জান্নাতে , আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে মাফ করেন আগামীতে পাপ মুক্ত জীবন গড়ার তাওফিক দেন আমাদের থেকে আড়ালে যাহারা কবরবাসী হয়েছেন সবার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাহাদের জন্য জান্নাতের সুপারিশ জানাচ্ছি – আমরা যাহারা রোগে ঋণে অভাবে সমস্যায় আছি এর থেকে পরিত্রানে মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক কামনা করছি – আসুন সবাই বলি – ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ আনতা ওয়ালিইয়ি ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ তাওয়াফ ফানি মুসলিমান ওয়া আলহহাক নি সয়ালিহিন / আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকাল আফিয়াহ / আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি / রাব্বানা আতমিম লানা নুরানা ওয়াগফিরলানা ।
আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে কবুল করেন এবং আমাদের কে ক্কাদরের রাত্রের সকল রহমত বরকত ফয়েজ থেকে বঞ্চিত না করেন সেই কামনা করেই আজকে বিদায় নিচ্ছি – আল্লাহ হাফেজ ।

ছড়িয়ে দিন