বয়ানে রামাদান -৩

প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০২০

বয়ানে রামাদান -৩


চৌধুরী হাফিজ আহমদ
কম খাব কম কথা বলব ঝগড়া করবনা কারো বিরুদ্ধে কিছু করবনা বাজে কিছু করা তো দূরে থাক ,বাজে চিন্তা ও করবনা নিজেকে সঁপে দেব এক আল্লাহর সান্নিধ্যে । যত ভাল আছে তার অভ্যাস করব এবং তাহাকে অনুসরন করেই বাকী ১১ মাস চলব , কারন রামাদান হচ্ছে সকল মাসের রাজা , এই মাসেই নির্ধারিত হয় আগামী বছরের সকল কর্মের ,তাই অনুশীলন করে নিজেকে তৈরি করে নেয়াই হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ । আজকে চলে যাচ্ছে মাসের তৃতীয় দিন এই বরকত ময় দিনে আমরা কি প্রস্তুতি নিচ্ছি কদরের ! রামাদানের একেকটা মুহূর্ত যত টা মুল্য রাখে তা অন্য মাসে রাখেনা , সংযমের এই মাসে যত বেশী ইবাদতে সময় কাঠাবো ততই পাব পুরষ্কার , মুলত আমরা মনে করি ইবাদত করা হলে প্রাপ্য পাব আখিরাতে , তা কিন্তু নয় – ইবাদাতের প্রাপ্তি দুনিয়াতে ও পাওয়া যায় , কারন আল্লাহ বলেছেন – যখনি চাইবে তখন কল্যান চাইবে দুনিয়াতে ও আখিরাতে , – ইরশাদ হচ্ছে ` রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাউং ওয়াফিল আখিরাতি হাসানা ... , তাই দুআ তে চাইব উভয় জাহানের জন্য । ভাল অভ্যাস করলে এখানে সেখানে সর্বত্র কাজে আসে ,রামাদানের সিয়াম আমাদের জন্য প্রত্যেক বছর ভাল কাজ রপ্ত করার জন্য শিক্ষা দেয় , এই মাসের গুরুত্ব মহত্ত্ব আমার পক্ষে বর্ণনা করে শেষ করার নয় যতই প্রশংসা করব কম হবে , আমি আগে ও বলেছি এই রামদান সিয়াম সালাত এইগুলা ঈমানদারদের জন্য বরাদ্দ , কেননা সবার কপালে এইগুলা সয়না যেমনটি হয়নি আমাদের পূর্ববর্তী জাতি গোসটির কাছে , এরা প্রভুর কাছে শর্ত দিত এবং পূরণ হলে বাহানা করত , অনেক জাতির জন্য সিয়াম ছিল ৪০ দিন , কারো জন্য ছিল ৬০ দিন , আবার কারো জন্য ছিল এর ছেয়ে কম কিন্তু এরা সকলেই কথা রাখেনি সে জন্য আজাব গজব এসেছে , এমন কি আল্লাহ উদাহরন সরুপ এদের কে জানোয়ার বানরে পরিনত করেছিলেন , এমন আজাব তাহাদের উপর দিয়েছিলেন যার কারনে ওরা একদম অভিশপ্ত হয়ে আছে এখনো তাই সালাত সিয়াম ইত্যাদি ইবাদত সবার কপালে নেই , সালাত সিয়াম এইগুলা সমাজে দেখিয়ে করতে হয় , জামাতে সালাত কায়েম করার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে সিয়াম পালনে চাঁদ দেখার কথা বলা হয়েছে সেহরী খেতে জাগতে বলা হয়েছে সুতরাং দেখান ছারা উপায় ও নেই , সুতরাং গোপনে সালাত সিয়াম আদায় করা যায়না , গোপন ইবাদত ও আছে এর মধ্যে , দান করা , কাউকে না জানিয়ে কার উপকার করা ইত্যাদি অন্যতম , রামাদানে ইসলামের ইতিহাসে অনেক অনেক ঘটনা ঘটেছে হিজরীর শুরুতে এমন কি যুদ্ধ হয়েছে সিয়ামের মাসে বিজয় ও এসেছে এর কারন হল তাকওয়া আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্তা এমন অঠল ছিল বিধায় মালাইকারা পর্যন্ত সাহায্যের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন রামাদানের শিক্ষার মধ্যে অন্যতম হল অভ্যাসের পরিবর্তন ভিতরের রিপুর দমন নফস কে নিজের মনের রিমোরট দিয়ে লাগাম ধরা , যত বাজে কাজ হয় এর মধ্যে লোভ ও নফস অন্যতম সিয়ামের মাধ্যমে আমরা তাহাকে পরাজিত করব , উপোষ করে অনুধাবন করব ক্ষিদার কষ্ট ভাল খাব কিন্তু অল্প খাব কোন দুর্নীতিতে জরাবনা পন করব ঘুষ বা অবৈধ ভাবে কামাই করবনা , মদ সুদ জুয়া জেনা সহ যত শাইতানি আমল আছে এর থেকে নিজেকে দূরে রাখব এই সব থেকে নিজেকে দূরে রাখার এক মহা পরিকল্পনা করা যায় এই মাসে কার প্রভু নিজেই বলেছেন এই মাস একান্তই তাহার তিনি প্রতিদান দেবেন নিজের হাতে , তাই চাইতে হবে তাহার কাছে জিবনের কল্যানের জন্য এই চাওয়া তে অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে সিজদা , তাই কবি বলেছেন —-
জায়নামাজে বন্ধু সাজে ধ্যানে পাবে মাওলা
যদি হুজুরে কলবে করো সিজদা ……।
এই সিয়াম পালন অবস্তায় সিজদা এক মারাত্মক আন্টিবায়েটিক যা কাজ করে বিদ্যুৎ গতিতে এবং তা প্রামানিত সত্য , এমনিতেই দুআ হচ্ছে সকল কাজের মলম কিন্তু এই মাসের দুআ হচ্ছে খুব উপকারি আমি আশা করব সবাই আমরা একে অপরে কল্যানের জন্য দু`আ করব এবং আল্লাহর কাছ থেকে গোনাহ মাফি চাইব , আমি যদি বলি তা হলে কোরআন তিলাওয়াত হচ্ছে গোনাহ মাফ করানোর মেশিন , যত তিলাওয়াত করব আল- কোরআন ততই আমল নামা পরিষ্কার হবে সুরা দু-হা , সুরা কদর , সুরা কাউসার , সুরা নাস ফালাক্ক ইখলাস বেশী করে পাঠে ফায়দা প্রচুর , আমি নিজে দেখেছি আল- কোরআন তিলাওয়াতের সাথে চলতে পথে মর্যাদার সম্পর্ক রয়েছে , যত কোরআন চর্চা কারী দেখেছি তাহাদের প্রতি আল্লাহর খাস রহমত রয়েছে , এই রামাদান হচ্ছে কোরআন এর জন্ম মাস এই সময়ে কোরআন পাঠের মজাই হবে আলাদা , অন্তত বেশী না হলে প্রতিদিন একপারা পাঠ করা সহজ । কমবেশ না হলে আর বাকী মাত্র ২৭ দিন ,আসুন অবহেলা না করে দিন এবং রাতকে কাজে লাগাই , বরতমান যে সময় যাচ্ছে তা আল্লাহর কাছে নিজেকে বিলিয়ে দেবার এক সুবর্ণ সুযোগ , কারন দেশে দেশে মহামারী চলছে তাই প্রায় সবাই বেকার ঘরে , অফিস আদালত স্কুল কলেজ সহ অনেক কিছুই বন্ধ , এই সময়ে আসুন নারী পুরুষ বৃদ্ধ যুবক কিশোর সবাই রামাদানের হক্ক আদায়ে সচেষ্ট হই , কে জানে এই রামাদান ই হবে আমাদের শেষ সিয়াম এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত খবরে বিশ্ব ব্যাপি প্রায় ৫ লক্ষ্যের মত লোক এই মহামারিতে প্রান হারিয়েছেন আক্রান্ত প্রায় কয়েক শত মিলিয়ন তাই সময় কে কাজে লাগিয়ে তার সদ্ব্যবহার করি , সময়ের মুল্য অনেক অনেক এই সময়ের কাছেই আল্লাহ জবাব চাইবেন , তাই আসুন আমরা ভাল ভাল কাজ ও চিন্তা করে সময়কে সাক্ষী রাখি ।

ছড়িয়ে দিন