ঢাকা ১৭ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

ভারত কেন ভাঙে না

redtimes.com,bd
প্রকাশিত মে ২১, ২০২৪, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
ভারত কেন ভাঙে না

সৌমিত্র  দেব

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এখন উত্তাল ভারত । পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক এই রাষ্ট্রের মূল ক্ষমতা এখনো সেই দেশের জনগণের হাতে । জনগণের ভোট না নিয়ে সেখানে কোনদিন কোন সামরিক বা বেসামরিক সরকার মসনদে বসতে পারে নি।

অথচ জন্মলগ্ন থেকেই এই রাষ্ট্রটিকে কতিপয় শকুনের অভিশাপ শুনতে হয়েছে । যারা বলেছে , ভারত খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে যাবে । সেই ১৯৪৭ সাল থেকে বলা হচ্ছে , সেখানে গণতন্ত্র টিকবে না । সেখানে বহু জাতি , বহু ধর্ম , বহু ভাষা । রাজনৈতিক মতাদর্শও নানা রকম। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর দেশে বিভিন্ন রাজ্যে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও যথেষ্ট প্রভাবশালী। কাশ্মীর , অন্ধ্র, উত্তর প্রদেশ , পশ্চিমবঙ্গ সহ বহু রাজ্যে মুসলমান ভোট ফ্যাক্টর । মেঘালয় , নাগাল্যান্ড , মিজোরাম রাজ্যগুলোতে খ্রিস্টানরা প্রভাবশালী। সিকিমে বৌদ্ধ রা। সেই হিসেবে অভিশাপ ছাড়াই ভারত ভেঙে যাবার কথা। কিন্তু কেন সেটা ভাঙে না ? সেই ম্যাজিকের কথাই এখানে আলোচনা করছি। কারণ যে শকুনেরা ভারতকে অভিশাপ দেয় , তারা বাংলাদেশকেও ভালোচোখে দেখে না । আমাদের জাতির পতাকাও মাঝেমধ্যে খামচে ধরে সেই পুরনো শকুন। শকুন কি ভারত নেই? আছে এবং অনেক বেশি পরিমাণে আছে । কিন্তু ভারতের সংবিধান তাদের ডানাকে ছেঁটে দিয়েছে।

হিন্দুত্ববাদি শ্লোগান নিয়ে ভারতের ক্ষমতায় বসেছে বিজেপি । হিন্দুত্ববাদে আছে জাতিভেদ । শুদ্র , আদিবাসী , ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে বর্ণ হিন্দুরা মানুষের মর্যাদা দিতে চাইতো না । তাই মুসলমান সহ এই সব সংখ্যালঘুরা ভারত ভেঙে আলাদা দেশ চেয়েছিল । যেখানে সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের সমান অধিকার স্বীকৃত হবে । এ ভাবেই জন্ম হয়েছিল পাকিস্তানের । কিন্তু শুরু থেকেই অন্য সব জাতি ও সম্প্রদায়ের অধিকার খর্ব করলো সেই রাষ্ট্র । এর নাম হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র । অন্যদিকে ভারত কিন্তু হিন্দুত্ববাদ ছেড়ে দিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষ হয়ে গেছে । শুধু পাকিস্তানীদের কাছে তার নাম হিন্দুস্থান । এতো বড় দেশ, এতো ভাষা । অনেকেই আলাদা হতে চায় । স্বাধীন হতে চায় । আবার সংখ্যাগরিষ্ট হিন্দুদের মনে ক্ষোভ । তারা সেক্যুলারদের গালি দেয় । ধর্ম নিরপেক্ষতা চায় না। এ অবস্থায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অনেকেই ভেবেছিল , ভারত এবার হিন্দুস্তান হবে । দেশের শীর্ষ পদে উচ্চ বর্ণের হিন্দু ছাড়া কাউকে বসানো হবে না। কিন্তু দেখা গেল উল্টো হিসাব । মোদি সরকার রাষ্ট্রপতি বানালো হিন্দুদের কাছে হাজার বছর ধরে অবহেলিত, উপেক্ষিত বঞ্চিত সাঁওতাল সম্প্রদায় থেকে। তিনি দ্রৌপদী মুর্মু । এর আগেও বিজেপিনেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন একজন মুসলমান এপিজে আব্দুল কালাম । এরও আগে ভারতের রাষ্ট্রপতিদের মধ্যে মুসলমান ছিলেন বেশ কয়েকজন । তারা হলেন জাকির হুসেইন ১৩ মে ১৯৬৭,মুহাম্মদ হিদায়াতউল্লাহ ২০ জুলাই ১৯৬৯ , ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ ১৯৭৪ । কেউ কেউ বলবেন রাষ্ট্রপতি সম্মানিত পদ হলেও ক্ষমতা তো প্রধানমন্ত্রীর হাতে । সেই পদে কি হিন্দু ছাড়া কোন সংখ্যালঘু গেছেন? তাও গেছেন। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করেছিল তার শিখ দেহরক্ষীরা । ইন্দিরা গান্ধীর দল কংগ্রেস পরবর্তীকালে সেই সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায়ের মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী করেছিল।
একটা সুন্দর আদর্শ নিয়ে পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল । সেটা হতে পারতো উপমহাদেশের পবিত্র ভূমি । পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন অমুসলিম যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল । পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর প্রথম ভাষণেই বলেছিলেন , আজ থেকে হিন্দু – মুসলমান বলে কিছু নেই । আমাদের একটাই পরিচয় , আমরা পাকিস্তানী । সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তিও করেছিল পাকিস্তান । কিন্তু জাতির পিতার মৃত্যুর পরেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলে পড়ে দুর্বৃত্তরা । শুরু হয় রাষ্ট্রিয় সন্ত্রাস । সংবিধান ভূলুণ্ঠিত হয় । আইনের শাসন বলে কিছু থাকে না । বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেন পাকিস্তানের প্রথম আইনমন্ত্রী যোগেন্দ্র নাথ মণ্ডল । এতে কিছু আসে যায় নি । কারণ আমেরিকার সহযোগিতায় তখন পাকিস্তানের রম রমা অবস্থা ।
সবাই ব্যস্ত লুটপাটে । জনগণের ভোটের অধিকারকে বুলেট বিদ্ধ করে সেখানে আসে একের পর এক সামরিক শাসক ।
ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পাকিস্তান ভেঙে গেছে। এক সময়ের প্রভু আমেরিকা তাদের কলার খোসার মতো ফেলে দিয়ে এখন ভারতের কাছে ধর্না দিচ্ছে । এ সব কারণেই পাকিস্তান ভাঙে কিন্তু ভারত ভাঙে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30