ভারতের ত্রিপুরায় নুতন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ?

প্রকাশিত: ১২:০৮ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২২

ভারতের ত্রিপুরায় নুতন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ?

রেডটাইমস ডেস্ক:

 

 

শনিবার সকলকে চমকে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বিপ্লব দেব।

 

 

শুরুতে সকলের কাছে কারণ অজানা থাকলেও পরে তা আন্দাজ করতে পেরেছে রাজনৈতিক মহল। সূত্রের খবর, কেন্দ্রিয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই মতান্তর তৈরি হয়েছিল বিপ্লব দেবের। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।

বিপ্লব দেব সম্পর্কে দিল্লির নেতাদের কানে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরছিলেন বিজেপি সাংসদ। সেকারণেই নির্বাচনের এক বছর আগে থাকতেই বিপ্লব দেবকে দিল্লিতে ডেকে এই সিদ্ধান্ত নিলেন দীন দয়াল উপাধ্যায় মার্গের নেতারা। শোনা যাচ্ছে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজেপি নেতা মানিক সাহা।
ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে পরিষদীয় দলের বৈঠক। সেখানে মানিক সাহার নাম ঘোষণা করা হতে পারে। দিল্লির নেতাদের নির্দেশে উপস্থিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওদে ইতিমধ্যে পর্যবেক্ষক হিসাবে আগরতলায় পৌঁছেছেন।

 

এমনিতেই দলে বিপ্লব দেবকে নিয়ে আগেও বিস্তর অভিযোগ ছিল। তাঁর কর্মপদ্ধতি নিয়ে বারবার দিল্লির দরবারে নালিশ জানিয়েছিলেন সুদীপ রায় বর্মনরা। পরে অবশ্য বিজেপির শিবির ত্যাগ করেছেন তিনি।
একদিকে আলগা সংগঠন, অন্যদিকে ত্রিপুরায় তৃণমূল এবং তিপ্রা মোথার উত্থান । পাশাপাশি সুদীপ রায় বর্মনের বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেস যোগ। তাই বড় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল বিজেপির কেন্দ্রিয় নেতৃত্ব।

 

ভারতের ত্রিপুরার  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নীরব। শনিবার যে রাজনৈতিক ডামাডোল ঘটতে চলেছে সেটি বিরোধী দলনেতা হিসেবে আগেই জানতেন এমনই গুঞ্জন শাসক বিজেপি ও বিরোধী দল সিপিআইএমের মধ্যে। তবুও মুখ্যমন্ত্রী বদলের পর রাজনৈতিক ঝঞ্ঝাময় পরিস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারের মুখে টুঁ শব্দটি নেই।

 

এই নীরবতা শাসক বিজেপি দলের কাছেও অসহনীয় ঠেকছে! কেন মানিকবাবু নীরব? বিজেপির ত্রিপুরা রাজ্য নেতৃত্ব ও দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতারা তাতেই আশ্চর্য। দীর্ঘ আড়াই দশক মানিকবাবুর বিরোধী কংগ্রেস নেতারা এখন বিজেপির মন্ত্রী, বিধায়ক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলছেন, উনি যেরকম ব্যক্তি তেমনই আচরণ করেছেন। তবে এতটা নীরবতা সত্যিই আশ্চর্যের।

 

যদিও মুখ্যমন্ত্রী বদলের পর ত্রিপুরার প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। দলটির ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী বলেছেন, সরকারের দূর্বলতা ঢাকতে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদল রাজনৈতিক নাটক। এই জোট সরকার পতনের মুখে। কিন্তু বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার শনিবার সবকিছু থেকে যেন দূরে। তিনি কী বলবেন? বিধানসভায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী ড.মানিক সাহার মুখোমুখিয়ে হবেন নিশ্চিত। ত্রিপুরা বিধানসভায় জোড়া মানিক দেখা যাবে। এমনই জল্পনা পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে। আগরতলা থেকে নয়াদিল্লি এমনকি প্রতিবেশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলেও চলেছে চর্চা।

 

তিনদিকে বাংলাদেশের সীমাম্ত ও একদিকে মিজোরাম ও অসমের আন্ত:রাজ্য সীমানা দিয়ে ঘেরা ত্রিপুরা। কূটনৈতিক মহলের বরাবরের গুঞ্জন, আগরতলায় ফিসফিস করে কিছু বললে ঢাকায় নাকি বেশ জোরে শুনতে পাওয়া যায়! দীর্ঘ সময় মুখ্যমন্ত্রী থাকায় মানিক সরকার এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ রপ্ত। তিনি মেপে কথা বলবেন।

 

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পদে টানা কুড়ি বছর ছিলেন সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার। আর বামফ্রন্ট সরকারের টানা মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ‘অত্যন্ত সাধারণ’ মানিক সরকার তেমন পরিচিত ছিলেন না দেশ জুড়ে। তবে সিপিআইএমের শীর্ষ নেতা হিসেবে দলীয় স্তরে তিনি একরকম ফেরেস্তা!

সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও বিশেষ ক্ষেত্রে গলায় লাল স্কার্ফ এই পোশাকে ত্রিপুরার ‘ফেরেস্তা’ আচমকা দেশজুড়ে আলোচিত হন ২০১৮ সালে বিধানসভা ভোটের আগে। সর্বভারতীয়স্তরে মানিক সরকারের বিষয়ে দুটি কথা গুরুত্বপূর্ণ হয়েছিল, তিনি দেশের ‘গরীব মুখ্যমন্ত্রী’, যাঁর নিজের বাসস্থান নেই। দলীয় ভাতায় জীবন চালান। দ্বিতীয়টি হলো, ভয়ঙ্কর উপজাতি সন্ত্রাসবাদের বিষদাঁত তিনিই নীরবে ভেঙে দেন।

দশকের পর দশক ত্রিপুরা গণহত্যা, উপজাতি সন্ত্রাসবাদে রক্তাক্ত হয়েছিল। উপজাতি উগ্র আবেগ ঠাণ্ডা করতে ত্রিপুরার প্রথম কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী নৃপেন চক্রবর্তী উপজাতি স্বশাসিত অঞ্চল গঠন করেন (Tripura Tribal Autonomous District Council) বা এডিসি। কিন্তু নৃপেন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সেই বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর ত্রিপুরায় ফের কংগ্রেস সরকার গঠন করেছিল।

কংগ্রেসের এই আমলে গোষ্ঠিদ্বন্দ্বে পরপর দুজন মুখ্যমন্ত্রী হন। সেই পুরো আশি ও নব্বই দশকে ত্রিপুরা ছিল ভয়াবহ উপজাতি সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র। ক্ষমতার পরিবর্তন হয় ১৯৯৩ সালে। ফের বামফ্রন্ট সরকার গঠন করে। মু়খ্যমন্ত্রী হন উপজাতি ও ত্রিপুরাবাসীর মধ্যে জনপ্রিয় কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা দশরথ দেব। কিন্তু উপজাতি সন্ত্রাসবাদ থামেনি। দশরথ দেবের পর ১৯৯৮ সালে মুখ্যমন্ত্রী হন মানিক সরকার।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

June 2022
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930