ভোগান্তিতে পড়েছেন গণপরিবহনের যাত্রীরা

প্রকাশিত: ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২১

ভোগান্তিতে পড়েছেন গণপরিবহনের  যাত্রীরা

করোনার সংক্রমণ রোধের এই কর্মসূচিতে সড়কে পর্যাপ্ত গাড়ি না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
আজ বুধবার থেকে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রেখে চলছে গণপরিবহণ।সকাল থেকে অফিস ও প্রয়োজনীয় কাজে মানুষ রাস্তার বের হয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু, গাড়িতে সিট পাওয়া যেন সোনার হরিণ!

করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের নির্ধারিত নিয়মানুযায়ী আজ বুধবার থেকে গণপরিবহনে ভাড়া আবারও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল থেকে রাজধানীর যাত্রবাড়ী, মিরপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, এয়ারপোর্ট এলাকায় রাস্তায় শত শত যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড থেকে শনির আখড়া এলাকার দেখা যায়, সকাল থেকে শত শত মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। মূল স্টপেজ থেকে বাস যাত্রী নেওয়ার পর পথে আর নেওয়ার সুযোগ নেই। যাত্রীর তুলনায় বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় অফিসগামী লোকজন সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

রায়েরবাগ এলাকায় রাস্তায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা থাকা আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী নামের একজন আইনজীবী এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘১০টায় অফিসে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়েও কোনো সিট পাইনি। গাড়ির জন্য বিপাকে আছি।’

মিরপুর থেকে মোহাম্মদপুরে চলাচলকারী প্রজাপতি পরিবহণের বাসে বর্ধিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এ রুটে মিরপুর থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত আগে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও আজ নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। আর এ নিয়ে কিছু কিছু যাত্রীর সঙ্গে বাসের চালকের সহারীর বাগ্‌বিতণ্ডাও হয়, কারণ বাসে স্বাস্থ‌্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।

উত্তরা থেকে মোহাম্মদপুরের বসিলা পর্যন্ত চলাচলকারী পরিস্থান পরিবহণে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা থাকলেও অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক।

মিরপুর ১ নম্বরে বাসের জন্য অপেক্ষা করেন মোহাম্মদ ইউসুফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু বাসে উঠতে পারছি না। অফিস টাইম পার হয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা পাঠাওয়ের বাইকও পাচ্ছি না। কীভাবে অফিসে যাব সেটাই বুঝতে পারছি না।’

করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘করোনার কারণে সরকার যে নিয়ম করেছে সেটা অবশ্যই ভালো। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ যাত্রীদের জন্য খুব সমস্যা হয়ে যাবে যদি পর্যাপ্ত বাস না থাকে। সড়কে পর্যাপ্ত গণপরিবহণের যাতে চলাচল করে সরকারের সেই ব‌্যবস্থা করা উচিত।’

শফিক নামের এক লেগুনা যাত্রী বলেন, ‘গণপরিবহণে অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও লেগুনাতে আগের মতোই লোক নেওয়া হচ্ছে। আবার অনেকের মুখে মাস্কও নেই।’

করোনা সংক্রমণ রোধে গত ২৯ মার্চ সরকার ১৮টি জরুরি নির্দেশনা জারি করে। এর মধ্যে গণপরিবহণে ৫০ শতাংশ সিট ফাঁকা রাখার কথা বলা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী দুই সপ্তাহের জন্য গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে করোনার সংক্রমণ বাড়ায় গত বছর ৩১ মে বাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল সরকার।