মনের দিঘীর গতি-বিধি জানা আছে কি?

প্রকাশিত: ১:০০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৮

মনের দিঘীর গতি-বিধি জানা আছে কি?

লুনা হাসান

প্রশ্নটা খুব কঠিন আমার কাছে। আমি অনেক খুঁজেছি দিনে –রাতে। সন্তোষ জনক কোন উত্তর সে আমায় দিতে পারে নাই। এই বাঁধন ছাড়া মন একেক সময় একেক উত্তর দেয়। মাঝে মাঝে এত খুশির খবর জানায় যে, তখন মনে হয়……

“আর কি চাই? এইত ঢের”
আবার মাঝে মাঝে এমন উত্তর দেয় যে আমি অবাক হই। তাকে প্রশ্ন করি…….
“এই তুমি কি সেই??এতটা বদলে গেলে কিভাবে? চিনতেই তো পারি না। নাকি এই ভেজালের ভীড়ে তুমি ও……”

আসলে মনের রুপ বদলানোটা আমার কাছে মুদ্রার এপিঠ- ওপিঠ এর মত মনে হয়। আর এদের গতি খুব তীব্র। অতি অল্প সময় অনেক কিছু ছুঁয়ে যায়। ভরিয়ে দিয়ে যায় শান্তি বা অশান্তি দিয়ে। সে যখন এপার- ওপার করে বেড়ায় তখন তাকে ছোঁয়াটা দুঃসাধ্য।

সেটা হোক ভালোবাসা বা ঘৃনা।
সেটা হোক শ্রদ্ধা বা অশ্রদ্ধা।
সেটা হোক উপচানো আনন্দ বা নিরব কষ্ট।
সেটা হোক অট্টহাসি বা লুকানো কান্না।
সেটা হোক বিশ্বাস বা অবিশ্বাস।
সেটা হোক আদর বা অনাদর।
সেটা হোক কাছে টানা বা অবহেলা।
সেটা হোক সম্মান বা অপমান।

তবে আমি এটা বুঝি জীবনের চলার পথে যদি অনেক বেশী তফাত হয়ে যায় , তবে সেই তফাত টা আর থাকে না। অন্য কিছু দিয়ে পূর্ণ হয়ে যায়। পূর্ণ হতে বাধ্য করে।শিখে যায় একা থাকা। হেরে যায়……

ভালোবাসা
শ্রদ্ধা
উপচানো আনন্দ।
অট্টহাসি
বিশ্বাস
আদর
কাছে টানা
সম্মান

ঝাপটা বাতাসে মনের দিঘীর একুল- ওকুল করাই মনে হয় তার কাজ। এককুল ভেঙে গড়ে দেয় অন্য কুল।

এটা আমি বুঝি মনের জঞ্জাল কখনই পুষে রাখা উচিত না। কখন ও এই জঞ্জাল সংগ্রহ কারি হওয়ার মন ভাব তৈরি করা উচিত নয়। যখন কেউ ক্ষমা করতে চায় না, সে তখন মনের দরজা বন্দ করে দেয়। সে দরজা একদিন হয় তো খুলতে হতেও পারে। জীবন জঞ্জাল পুষে রাখার মত অতটা বড় নয়।

“জঞ্জাল পোষণ অর্থহীন”

[মন তোমায় একবার ছুঁয়ে দেখতে মন চায়। জানতে মন চায়, মন তুমি কেমন আছ?]