মরীচিকা

প্রকাশিত: ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২২

মরীচিকা

 

দিলরুবা আহমেদ

আমের দাঁড়িয়ে আছে বহুক্ষণ। দাঁড়িয়ে আছে সদরঘাট বাস টার্মিনালের কাছে। দাঁড়িয়ে রয়েছে একজনের অপেক্ষায়। এখন পর্যন্ত দেখা নেই তার। আর কতক্ষণ? অনেকক্ষণ তো হলো?
নীলাঞ্জনা। নীল নীল একটা আভা ছড়িয়ে তার আসবার কথা। কিন্তু সে রকম কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি? কই না। চারদিকে খা খা রোদ্দুর। সেই সাথে চলছে কাকের কাকা, লোকের চাচা চিচি। গাড়ির হর্ন। আর ফেরীওয়ালার ব্লা ব্লা। প্রচণ্ড মধ্য দুপুর। গগন জোড়া বিশাল সূর্য যেন হা করে আছে তাকে গিলাতে। এ যুগের কোনো মেয়ের নাম কি হয় নীলাঞ্জনা। কাব্য উপন্যাসে পাওয়া যায় হয়তো বা এ নাম, কিন্তু বাস্তবে কি সত্যি আছে?
আজকাল প্রায়ই আমেরের মনে হয় কোনো এক উপন্যাসের পাতা খুলে যেন নেমে এসেছে মেয়েটি। ধার করা নাম কি এটি? বানোয়াট? তাকে ধোকা দেওয়ার জন্য কি নামটি তৈরি করেছে কেউ? তারপরও এত সৌরভ কেন এই অচেনা অজানা উপাখ্যান ঘিরে?
আমের প্রচণ্ড রকম অস্থিরতাবোধ করতে থাকে। পিপাসায় ছাতি ফাটা যেন একেই বলে। সাদিফ এখনও সাথে আছে। নীলাঞ্জনার সাথে দেখা হলেই সাদিফের বিদায় নেওয়া কথা। সেও আসছে না। এও যাচ্ছে না। একেই এখন সবচেয়ে বিরক্তিকর মনে হচ্ছে। সব রাগ এর উপর ঝারতে মন চাইছে। একে ধরে কয়েকটা কিল ঘুসি মারতে পারলেও ভালো লাগতো। আচ্ছাসে জোরসে ধুমায়ে কিছু কিল ঘুসি যদি দেওয়া যেত। সাদিফ তার মনের কথা বুঝতে পারছে না বলেই কি তাকে এটা ওটা বলে থামানোর চেষ্টা করছে। নাকি বুঝতে পেরেছে বলেই নিজেকে বাঁচানোর জন্যই তাকে খোশ মেজাজে রাখতে চাইছে। তবে তার কোনো কথাই যৌক্তিক না, এই যেমন এখন বলছে,
: ২২ বছর বয়সে প্রেম শুরু করতে হয় না দোস্ত। করতে হয় ২৩ বছরে। সমস্যাটা এখানেই। গ্রহ নক্ষত্রের ফের।
কী রকম একটা অদ্ভুত কথা! এত টেনশন ফিল করছে যে এর কারণ, আবিষ্কারক, উৎপত্তিস্থল কোনো কিছুই জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে না। সাদিফ মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে এদিক ওদিক চাইছে। সম্ভবত আরো অদ্ভুত কোনো কথা আবিষ্কারের চেষ্টা করছে।
তার খুবই ইচ্ছে করছে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে বা একটা একটা করে সব কটা চুল টেনে টেনে ছিঁড়তে। মানুষ তার জীবনের প্রথম প্রেম-কে দেখবে ফুলের বাগানে, নদীর ধারে, ফাইভ স্টার হোটেলে, চায়নিজ রেস্টুরেন্টে, পার্কে, বা নিরিবিলি কোনো জায়গায়, তা না, তার জুটেছে সদরঘাট। বহু লোকের মাঝ থেকে তাকে খুঁজে বের করে নিতে হবে, কে সে, কে সেই একজন। ঝোঁকের মাথায় কেন যে সে বলে বসেছিল হাজার মানুষের ভিড়েও মানসীকে সে খুঁজে নিতে পারবে, ব্যাস এখন করে দেখাও, মরণ আর কাকে বলে। যাকে কখনোই দেখেনি, শুধু গলা চেনা, স্বর শুনে চেনা জানা, তাকে আদৌ সম্ভব খুঁজে পাওয়া এখানে, এত মানুষের মাঝে? একেবারেই অসম্ভব। ঞড়ঃধষষু রসঢ়ড়ংংরনষব। মিশন ইমপসিবল একেই বলে বোধ হয়।
সেই বা তাকে চিনবে কেমন করে?
একটা লাল ফুল থাকবে হাতে, বেগুনী শার্ট পরে থাকবে, অথবা হলুদ জুতো, সবুজ টুপি কিছুইতো ঠিক করা হয়নি। নীলাঞ্জনা কি আগে থেকেই তাকে চেনে, দেখে রেখেছে? কে এই নীলাঞ্জনা? গত তিনমাস প্রায় প্রতিদিনই কথা হচ্ছে ফোনে। ক্রস কানেকশন থেকে আলাপ। ফোন নাম্বারটা পর্যন্ত এখনও দিল না। প্রতিদিন সেই ফোন করে। আর সে নিজে বসে থাকে তীর্থের কাকের মতন কখন নীলাঞ্জনা ফোন করবে।
সাদেফ বাদাম চিবুচ্ছে। মনে হচ্ছে তাকে নিয়ে বেশ মজাই পাচ্ছে। কোনো একটি মেয়েকেও তার দেখে মনে হলো না, এই সেই রহস্যময়ী। কেউ তার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না। যাচ্ছে। আসছে কত মেয়ে, কত রকমের কত শত মেয়ে, অথচ কারও যেন তার দিকে একটিবারও ফিরে তাকাবার ইচ্ছে হলো না। এতই কদাকার সে। আয়না তো বলে সে বেশ সুপুরুষই। লম্বা, ফর্সা। কোকড়া চুল। আর কী!
: একটি মেয়েও আমাদের দিকে তাকাচ্ছে না কেন বলতো?
আচমকা প্রশ্নটা করেই ফেললো আমের।
সাদেফ বাদাম চিবানো বন্ধ করলো না। সম্ভবত এখন বাদামের চামড়া চিবাচ্ছে। এতক্ষণে তো দুনিয়ার তাবৎ বাদাম সাবাড় হয়ে যাওয়ার কথা।
সাদেফ অতি সুচিন্তিত মতামত দিচ্ছে এমন একটা ভাব করে বলল,
: বাংলাদেশের এ জায়গার মেয়েরা বোঝাই যাচ্ছে ভালোতম, তারা পর পুরুষের দিকে চায় না।
আমের রাগে গজ গজ করতে করতে যে গাছটার নিচে দাঁড়িয়েছিল, তারই চারপাশে ঘুর পাক খেতে লাগল।
: অকাল কুষ্মাণ্ড, মেয়েটির নাম নীলাঞ্জনা, সবুজাঞ্জনা না। সবুজের চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছিস কেন, অষৎবধফু ছয়বার ঘোরা হয়ে গেছে। আরেকবার ঘুরলেই কেল্লাফতে, সাত পাকে বাঁধা পড়বি তাও আবার গাছের সাথে।
সাদিফ কথাটা বলেই হো হো করে হাসছে। নিজেকে আসলেই তার হাসির পাত্র মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে ঐ মেয়ে বললে বোধ হয় সে জলে ডুবে মরে গিয়েও দেখাতে পারে, সে কত সিরিয়াস তার ব্যাপারে। অথচ মরে গেলে এতকিছু দেখিয়ে কী লাভ, এই সাধারণ জিনিসটা যেন তার মাথায় আসছে না, এতটাই বেয়াকুব আর নির্বোধ মনে হচ্ছে তাকে তার নিজের। ২২ বছর বয়সটা আসলেই মনে হয় খুব খারাপ।
সাদিফ তার হাত ধরে টান দিয়ে বলল,
: চল এবার যাই। ঘবীঃ ঃরসব পাকা কাম করবি। নিশানা চাইবি। এটা এ যুগের প্রেম, কলির যুগের প্রেম না। ভাবের রাজ্যে থাকলে হবে দোস্ত। আচ্ছা, তুই তো আগে এত গাধা ছিলি না। হঠাৎ গাধা হলি কেন?
আমের কোনো কথা বলছে না।
সাদেফ বলেই চলছে,
: তুই আসলেই প্রেমে পড়েছিস, তাই গাধা হয়েছিস।
: তুই পারলে তো আমাকে এখন ছাগলও বলবি। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি একদম চুপ থাকিস।
সাদেফ হাসতে থাকলো, বলল,
: সেটা সম্ভব না। তোকে বাসায় পৌঁছে দিয়েই চলে যাব।
কী কুক্ষণেই যে সাদাফকে আজকে সাথে আনতে গিয়েছিল। আগামী বহুদিন সে শুধু তার দিকে চেয়ে চেয়ে হেসেই কাটাবে। যেন পৃথিবী বুদ্ধুতম প্রাণীটাকে সে দেখছে। এসেছে আবার এরই স্কুটারের পেছনে চড়ে। ওর পিছনে বসেই আবার ফিরতে হবে। ফেরার পথে কত যে কী শোনাবে কে জানে।
: চল চল ঘণ্টা দেড়েক তো হলো এবার চল। একই জায়গায় এত বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে এই জায়গাটাই দাবিয়ে যাবে। সাদিফ স্বউদ্যোগেই স্কুটারে ঝঃধৎঃ দিচ্ছে। বলছে,
: মেয়েটা ভালোই ভেলকীবাজী দেখালো, কী বলিস।
: করুক এবার ফোন, বুঝবে মজা।
: মজা তো তুই-ই আগে বুঝলি। ছাগল।
আমের কিছু না বলে চুপচাপ বন্ধুর পেছনে উঠে বসলো। এবার করুক ফোন কোনো কথা নয়। ঠাস করে ফোন-টা রেখে দেবে। প্রতিদিনই নীলাঞ্জনা রাত দশটায় ফোন করে। সে তো আর করে না। নাম্বারও জানে না। অজানা কোনো কারণে মেয়েটি নম্বর দেয় না তাকে। অজানা নয় বোঝাই যাচ্ছে কারণটা হচ্ছে পরিচয় গোপন করা। নীলাঞ্জনা নামটাও ভুয়া, বুঝতেই পারছে সে। আগে কেন বুঝতে পারেনি ভেবে নিজের মাথার চুল নিজেই ছিঁড়তে চাইলো। তাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাল হচ্ছে। এবার বুঝবে মজা, ধামাধাম যখন ফোন রেখে দেওয়া হবে তখন বুঝবে মজা।
: এখন কোনোদিকে যাচ্ছিস।
: তোকে আইসক্রীম খাওয়াব।
: আমার মাথা ঠাণ্ডা আছে।
: আমারটা গরম হয়ে গেছে। গরমে। তোর বেয়াকুবি দেখে না। বলে হি হি করে হেসে থামালো স্কুটার। থেমেছে চায়নিজ রেস্টুরেন্টের সামনে। বলেছে অবশ্য আইসক্রিম খাবে।
: এখানে কী?
: ক্ষিদে পেয়েছে। স্যুপ খাব, তারপর আইসক্রীম।
: আমার কাছে টাকা নেই।
: ঐ মেয়েকে নিয়ে না তোর চায়নিজ খাওয়ার কথা ছিল।
: কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিবি না।
: আমিই খাওয়াব। চল।
: যার যার, তার তার। আমেরিকান স্টাইল।
: তুই যে স্বার্থপর, কোনো মেয়ে তোকে ভালোবাসবে?
: কোনো মেয়ের ভালোবাসা আমার দরকার নেই।
: ছেলেদের ভালোবাসায় চলবে।
: বাজে বকিস না তো।
সাদেফ হা হা করে হাসতে থাকে।
অঈ র ঠাণ্ডা ঝলক চায়নিজের দরজা খুলতেই আমেরের চোখে মুখে আরামের পরশ বুলালো যেন। ওই মেয়ের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে গায়ের চামড়াই যেন পুড়ে গেছে। মানসিক ধকলই বা কম কিসের। আজ দেখা হবে এ নিয়ে গেল দুদিন ঘুমহারা। নীলাঞ্জনার সাথে তার দেখা হবে এই স্বপ্নে বিভোর ছিল। কতভাবে যে নীলাঞ্জনার মুখটাকে সে এঁকেছে। মেয়েটার পুরোপুরি ব্যাপারটাই কি ধোকা। কারও শুধু সাময়িক বিলাস! সে ছুটছে মরিচীকার পেছনে! মেয়েটি হয়তো কোনো খোলা ছাদে বসে খিল খিল করে হাসছে। অথবা বান্ধবীদের চারপাশে বসিয়ে গল্প করছে রসিয়ে রসিয়ে, কী যে বেয়াকুব বানিয়েছি একজনকে আজ। তবে কেন যে তার মনে হচ্ছিল নীলাঞ্জনার সাথে দেখা তার হয়েই যাবে, সে সদরঘাট হোক আর সুন্দর বনই হোক। পেয়েই যাবে তার দেখা।
সাদেফ সামনে বসে গভীর মন দিয়ে স্যুপ খাচ্ছে। স্যুপের পানির ভেতর যেন তিমি বা বোয়াল খুঁজে বেড়াচ্ছে। তার স্যুপ ঠাণ্ডা হচ্ছে। নাহ্, প্রেমে পড়ার মতন বেয়াকুবি আর কিছুই হতে পারে না। তারও তো এখন অতি আনন্দ সহকারে স্যুপ খাওয়ার কথা। তার বদলে সে এখন দিশেহারা বোধ করছে। এখন ইচ্ছে করছে একবাটি সুপের ভিতর ডুব দিয়ে মরে যেতে।
সাদেফের দিকে চেয়ে হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো,
: কথা বলছিস না কেন?
: তোকে ভাববার সময় দিচ্ছি।
সাদেফ হাসছে। খুবই সুন্দর করে হাসছে। তার হাসিতেই বন্ধুর জন্য এতই দরদ প্রকাশ পেল যে আমেরের মনটা ভিজে উঠলো।
: অনেক শিক্ষা হয়েছে। ঐ চাপটার ক্লোজ। ঘড় গড়ৎব প্রেমপ্রীতি।
: ঈষড়ংব না করতে চাইলেও অসুবিধা নেই। মেয়েটাকে খোঁজার ব্যাপারেও যবষঢ় করতে পারি।
: দরকার নেই খোঁজার।
: টেলিফোন ড়ভভরপব এ খবর দিলে হয়তো জানা যাবে।
: না দোস্ত। দরকার নেই। বুবুরা এসেছে, ওদের একটু সময় দেওয়া দরকার। এই চাপটার ক্লোজ ফর এভার। ন্যাড়া একবারই যায় বেলতলা।
সাদেফ হাসছে। আমের বিরক্ত হয়েই চেয়ে থাকলো। কী হতে কী হয়ে গেল। কার সাথে বসে থাকার কথা কে রয়েছে বসে। শীট্। নাহ এই চাপটার ক্লোজ ফর এভার।
আর ঠিক তখুনি এলো এক মহিলা। মেয়ে বলা যাচ্ছে না, মহিলা বললেও কম বলা হবে। বলা উচিত বয়স্ক মহিলা। ৪৫/৪৬ বয়স হবে হয়তোবা। চোখে চশমা। চুলের দুইধারে পাক ধরেছে। পেটটা বেশ বড়। কঠিন চেহারা। বাহু দুটো বেশ ফুলা। মাসল ম্যান জাতীয় ভাব।
এসেই চেয়ার টেনে ধপ করে বসে পড়লো। যেন তার তালুক, জমিদারী। উনি জমিদারনী এসেছেন। এমনিতেই ক্ষ্যাপাটে মেজাজ, তার উপর এই অনাচার। আমেরের খুবই ইচ্ছে হলো চিল্লায়ে উঠতে। কিন্তু ততক্ষণে দেখলো সাদেফ আর আগন্তুন্তক হাসি বিনিময় করছে। এই কঠিন জিনিস হাসতেও জানে তাহলে।
তার দিকে চেয়ে বলল,
: আমি নীলাঞ্জনা।
আমেরের ইচ্ছে হলো টেবিলের নিচে লুকিয়ে যেতে। হুমড়ি খেয়ে চেয়ার থেকে পড়ে যেতে। এক লাফ দিয়ে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে।
কিন্তু সে কিছুই করতে পারলো না। ভেবে অবাক হলো, এসব কী শুনছে সে। কীভাবে এ নীলাঞ্জনা হয়। নীলাঞ্জনা তো হবে ১৮/১৯ বছরের এক রূপসী তরুণী।
আমের বুঝতে পারছে তার কান গরম হয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড পিপাসা বোধ করছে। সেই সাথে টয়লেটে যাওয়ার তাড়নাও বোধ করছে।
উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
: এই সব কী বলছেন আপনি। আপনি কেন নীলাঞ্জনা হতে যাবেন? সে কি আপনাকে প্রক্সি দিতে পাঠিয়েছে?
অত্যন্ত কঠিন চোখে চেয়ে মহিলা তাকে বললেন,
: শোন ছেলে, বোকা বনেছো সেটাই কথা, আর কিছু বলার নেই আমার। এই সাদেফ এবার আমার ট্রিট। আইসক্রীম খাওয়াও। বলেছিলে না ৪৫ হয়েছে আমি বুড়ো হয়ে গেছি কাউকে পটাতে পারবো না। কেমন বাজি জিতলাম!
: তুমি জিতেছো খালা, এই ছেলে যে এত বুদ্ধু আমার তা জানা ছিল না।
মুহূর্তে কী সব স্বপ্ন চুর চুর করে ভেঙে যাচ্ছে!
একটু আগেই ভেবেছিল ভাব বিনিময়ের এই চ্যাপটার ক্লোজ কিন্তু তারপরও জানতো ঐ ধারে আছে কেউ। আমের অনুভব করছে সে এমন একটা পথের শুরুতে দাঁড়িয়ে গেছে যার শেষই নেই, ওধারেও কেউ নেই। এধারে একা সে।
এই মেয়েটিই কি বলেছিল, চল আমরা হাঁটবো কোনো এক বনজোৎস্লায়, বকুলতলায়, মাধবীলতার সৌরভে।
গভীর ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যেতে যেতে কেবলই মনে হতে লাগল আমেরের এই মহিলা কিছুতেই সে হতে পারে না। গলার আওয়াজ কি মিলছে? মিলছে অনেকটা। এই সে। আবার মিলছেও না। আজব ধাঁ ধাঁ। কিন্তু মন মানছে না কিছুতেই। অজানা কোনো এক মরীচিকার উদ্দেশে আপন মনেই সে বলতে লাগল, না সে যাবে পৌঁছে তার কাছে, হাজার পথ পাড়ি দিয়ে, যেভাবেই হোক যেমন করেই হোক খুঁজে সে পাবেই নীলাঞ্জনাকে। কয়েক যুগ পার করে হলেও পেয়ে যাবে তাকে। আছে কোথাও নীলাঞ্জনা। নীল আভা ছড়িয়ে আছে সে কোথাও। দেখা হবেই তার তার সাথে। শুধু জানে না কবে। কানে আসছে সায়েফ আর তার খালার হাসা-হাসি, না এ হাসির শব্দ নীলাঞ্জনার না। সে অবশ্যই খুঁজে পেয়ে যাবে তাকে। খুঁজবে সে বাকি জীবন।