মাদকাসক্তদের একটা বড় অংশই ইয়াবাসেবী

প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৮

মাদকাসক্তদের একটা বড় অংশই  ইয়াবাসেবী

‘এখন দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ এবং তাদের অধিকাংশই ইয়াবাসেবী।’ বিশেষজ্ঞের মতামত এটি ।এর থেকে ধারণা করা যায়, দেশে মাদকের ব্যবহার ও ব্যবসা কি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে !
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ফিলিপাইনের চেয়েও বেশি। কারণ ২০১৬ সালেও সেদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ।’

ফিলিপাইনে রদ্রিগো দুতার্তের সরকার গত বছর মাদকের বিরুদ্ধে যে সশস্ত্র অভিযান শুরু করে তাতে এ পর্যন্ত তিন হাজার আটশ’র বেশি মাদকাসেবী, বিক্রেতা বা পাচারকারী নিহত হয়েছে। যাকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ‘বিচার-বহির্ভূত হত্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতি তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ।’

চলতি মাসের শুরু থেকেই এক মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত ১৭ দিনে ‘বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৩ জন মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারী নিহত’ হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন ধরনের মাদক বিশেষ করে ইয়াবা বিক্রি ও পাচারের সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘‘মাদক ব্যবসার সঙ্গে সন্ত্রাসী-অস্ত্রবাজরা জড়িত হয়ে পড়েছে এবং এ ব্যাপারে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে।’’

কিন্তু দেশে মাদক ব্যবসা এবং ব্যবহারের ব্যাপকতা আসলে ঠিক কতটা?

অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে মাদকাসক্তদের একটা বড় অংশই হচ্ছে ইয়াবাসেবী। এ ছাড়া আছে ফেনসিডিল, হিরোইন এবং অন্যান্য মাদক। এতদিন এ বিষয়টা খোলামেলাভাবে আলোচিত হয়নি, কিন্তু পরিস্থিতি সত্যি ভয়াবহ।

বিভিন্ন নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে আমি মাদকাসক্তদের সঙ্গে কথা বলে যে তথ্য পেয়েছি তা সরকারি পরিসংখ্যানের চাইতে বেশি। সব মিলিয়ে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৭ থেকে ১০ মিলিয়নের মধ্যে হবে। এটা একটা বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটা মোকাবিলার পন্থা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে।’

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, ‘বাংলাদেশে এ সমস্যার মোকাবিলা করতে গেলে এর চাহিদা, সরবরাহ, চিকিৎসা এরকম অনেকগুলো দিক দেখতে হবে। একক কোনো পন্থা নিয়ে এই বিরাট সমস্যার মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব। এর জন্য একটা সামগ্রিক কৌশলগত পরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মাদক পাচারের দুটো দিক আছে। একটি হলো পেডলার বা খুচরো বিক্রেতা, আরেকটা হচ্ছে যারা এই ব্যবসার মূল নিয়ন্তা অর্থাৎ গডফাদার।’

এমদাদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে যারা টার্গেট হচ্ছে তারা প্রধানত খুচরা বিক্রেতা। যারা গডফাদার তারা অনেক সময়ই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে। আর তাদের হাতে কোনো মাদক থাকে না ফলে হাতে নাতে ধরাও সম্ভব না।

সুত্র ঃ বিবিসি বাংলা