মাধ্যমিক শিক্ষার মান, মানসিক বিকাশ ও ভাষা-দক্ষতা

প্রকাশিত: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

মাধ্যমিক শিক্ষার মান, মানসিক বিকাশ ও ভাষা-দক্ষতা

কাজি নুসরাত সুলতানা

এ দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার মানসম্পন্নতার মাত্রা নিয়ে নানা বিতর্ক প্রায়শ: শুনতে পাওয়া যায়। কোথাও বলা হয় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের সীমা বর্ধিত হয়েছে দারুণভাবে, তারা তাদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে পরীক্ষায় দারুণ ভাল ফল আনতে পারছে; এটা অবশ্যই অভিনন্দন যোগ্য। অর্থাৎ এ রকম কথা যাঁরা বলেন তাঁদের বিচারে, মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের মান বৃদ্ধি পাচ্ছে নি:সন্দেহে। অন্যত্র বলা হচ্ছে শিক্ষার্থীরা কেবল বইনির্ভর মুখস্তবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উচ্চনম্বর পাচ্ছে, বাস্তব জীবননির্ভর দক্ষতায় সমৃদ্ধ হচ্ছে না; এটা দুর্ভাগ্যজনক। অর্থাৎ এরকম যাঁদের বিশ্বাস তাঁদের মতে যারা মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সনদপ্রাপ্ত হচ্ছে তাদের মান পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় নিম্নগামী হয়ে পড়েছে। দুপক্ষই তাঁদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন যুক্তি দিয়ে, তুলে ধরেন উদাহরণ। যুক্তিতর্ক নয়, বর্তমান প্রবন্ধে দ্বিতীয়দলটির মতের স্বপক্ষে কিছু বক্তব্য রাখার এবং এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় সম্বন্ধে কিছু দিকনির্দেশনা চিহ্নিত করার প্রয়াস গৃহীত হয়েছে।
মাধ্যমিক শিক্ষার মান সংক্রান্ত কোন কিছু বলার আগে বিশ শতকের শিক্ষাদার্শনিকেরা শিক্ষা বলতে কি বুঝেছেন তা এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কাকে বলে তা জেনে নেবার চেষ্টা করি। তার আগে বরং প্লেটো, যাঁকে পরবর্তীকালের দার্শনিকেরা শিক্ষাদার্শনিকদের পুরোধা বলে স্বীকার করেছেন, কি বক্তব্য রেখেছেন তা জেনে নিই। তিনি বলছেন,“এখন আমি শিক্ষা বলতে বুঝি সেই প্রশিক্ষণকে যা উপযুক্ত অভ্যাস গঠনের মাধ্যমে শিশুদের সহজাত গুণাবলী বিকাশের জন্য দেওয়া হয়।” আমি যদি প্লেটোর বক্তব্যকে আরো একটু পরিষ্কার ভাবে বুঝতে চাই তাহলে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছোই যে (ক) শিক্ষা হচ্ছে প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রক্রিয়া, (খ) এ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় ব্যক্তির উপযুক্ত অভ্যাস গঠনের জন্য, (গ) ব্যক্তির অভ্যাস গঠন করা হয় তার জন্মগত গুণাবলীর বিকাশ সাধনে সহায়তা করার জন্য।সুতরাং বলা যায় প্লেটোর মতে শিক্ষার মূল অর্থই হচ্ছে সহজাত গুণাবলীর বিকাশ বা জন্মগত ক্ষমতার উদ্বোধন, সম্ভাবনার বাস্তবায়ন।
বিশ শতকের দার্শনিক এ এন হোয়াইটহেড বলেছেন,“ শিক্ষা হচ্ছে জ্ঞান ব্যবহারের কলা বা কৌশল অর্জনের প্রক্রিয়া।” হোয়াইটহেডের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে আমি যা বুঝি তা হল (ক) শিক্ষা হচ্ছে কলা বা কৌশল অর্জনের প্রক্রিয়া, (খ) এই কৌশলের প্রয়োজন হয় অর্জিত জ্ঞান ব্যবহারের নৈপূন্য অর্জনে যোগ্য হওয়ার জন্য। অর্থাৎ তাঁর মতে ভেতরের গুণাবলীর বিকাশের নয়, বাইরে থেকে অর্জিত জ্ঞান (বরং তথ্য) সমূহ ব্যবহার করতে পারার নৈপুন্য অর্জনের নামই শিক্ষা। বিশ শতকের আরেক চিন্তাবিদ টি পি নান বলেছেন, “শিক্ষা হচ্ছে শিশুর ব্যক্তিসত্তার সম্পূর্ণ বিকাশ যার ফলে সে তার সর্বোত্তম যোগ্যতা অনুযায়ী মানব জীবনের জন্য মৌলিক অবদান রাখতে পারে।” নান প্রদত্ত শিক্ষার সংজ্ঞাটিও প্রণিধানযোগ্য। এটি বিশ্লেষণ করে আমি যা বুঝি তা হল: মানব শিশুর মধ্যে সুপ্ত থাকে অমিত সমম্ভাবনা। সেসব সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলেই শিশুটি সার্থক পূর্ণ বয়স্ক মানুষে রূপান্তরিত হবে, পরিনত হবে শক্তিতে, যে শক্তি সে কাজে লাগাবে সেই উদ্দেশ্য সাধনে, সেই স্বকীয় অবদান সম্পাদনে বা উপস্থাপনে যে জন্য সে সৃষ্ট। শিক্ষাই সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হতে পারে, শিশুকে করে তুলতে পারে স্বকীয় অবদান সম্পাদনে বা উপস্থাপনে সক্ষম পরিনত মানুষ। তবে মানবজীবনের জন্য মৌলিক অবদান রাখতে হলে জীবনের বাস্তবতাকে জানতে হবে। আর তার জন্য প্রয়োজন হবে বাস্তব জ্ঞান বা তথ্য অর্জন। সুতরাং দেখা যায় নান সম্ভাবনার বিকাশ ও জ্ঞান অর্জন, উভয়ের মিলিত ফলকেই শিক্ষা বলছেন।
বিংশ শতাব্দির শিক্ষাদর্শনের আরেক দিকপাল জন ডিউঈ বলছেন, “ শিক্ষা যদি হয় প্রবনতা ও ক্ষমতার উপযুক্ত বিকাশ তাহলে মনোযোগ দিতে হবে বিশেষ বিশেষ ধরনের বিকাশ প্রক্রিয়ার প্রতি, যে ভাবে তা চলে প্রতিদিন; এটাই হচ্ছে একমাত্র পথ, (সুমার্জিত) পরিণত জীবন অর্জন নিশ্চিত করার জন্য।” ডিউঈর বক্তব্য থেকে এটা বোঝা যায় যে তিনিও শিক্ষাকে প্রবণতা ও ক্ষমতার উপযুক্ত বিকাশ বলে মানছেন এবং বিশেষ বিশেষ বিকাশ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতির প্রতি যে খেয়াল রাখতে হবে তাও জানাচ্ছেন।
বিশ শতকের এই ক’জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের বক্তব্যের মূল সুর ধরে শিক্ষার স্বরূপ যদি ব্যক্ত করি তাহলে তা দাঁড়ায় বোধহয় এই রকম: ‘শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার্থীর জন্মগতভাবে প্রাপ্ত ক্ষমতা ও প্রবণতার ন্বাভাবিক বিকাশে এবং বাইরে থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহারে ও জ্ঞানলাভে যোগ্য হওয়ার কৌশল অর্জনে সহায়তা করার একটি প্রক্রিয়া।’ এই প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিবেশ যা সৃষ্টি করার দায়িত্ব বয়োজ্যেষ্ঠ প্রজন্মের। বর্তমান প্রবন্ধে পরিবেশ সৃষ্টিতে করণীয় সম্বন্ধে কিছু বলার চেষ্টা করা হবে।
মাধ্যমিক শিক্ষা হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর ও উচ্চ শিক্ষা স্তরের মাঝের সময়ের বিদ্যালয় শিক্ষার নাম। তবে প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের ব্যাপ্তিকাল সম্বন্ধে সবাই একমত নন। কারো মতে এটি শিক্ষার্থীর ছয় থেকে বারো বছর অর্থাৎ প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত হলেই চলে; কারো মতে পনের বছর অর্থাৎ অষ্টম শ্রেণীর বিদ্যালয় শিক্ষা পর্যন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। আবার মাধ্যমিক স্তরের সমাপনী সময় নিয়েও বিভিন্নতা রয়েছে। আমাদের দেশে এটি ষোল বছর বয়স অর্থাৎ দশম শ্রেণী পর্যন্ত কিন্তু অনেক দেশেই, বিশেষ করে উন্নত দেশে, আঠার বছর বয়স অর্থাৎ দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয় শিক্ষাকে মাধ্যমিক শিক্ষা বলা হয়। আমি এখানে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত সময়কালকে মাধ্যমিক শিক্ষা ধরে নিয়ে কথা বলব।
এখন তাহলে দেখতে হয় এই স্তরের শিক্ষার মান কেমন হওয়া উচিত বা মানসম্মত মাধ্যমিক শিক্ষা বলতে কি বোঝাতে পারে। মান যাচাই করার জন্য মাপকাঠি প্রয়োজন। নানা উপায়ে তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একটা হতে পারে, সরকার মাধ্যমিক শিক্ষার যে উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছেন তা কতখানি বাস্তবায়িত হচ্ছে বা শিক্ষার্থীরা কতখানি অর্জন করতে পারছে তা পরীক্ষা করা। বর্তমান প্রবন্ধে সে পথেই অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করা হবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০০ অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছিল:
১. শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত মেধা ও সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশে সাহায্য করা।
২. কর্মজগতে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরূপে শিক্ষার্থীকে তৈরী করা।
৩. উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীকে প্রস্তুত করা।
৪. শিক্ষার্থীর প্রাথমিক স্তরে প্রাপ্ত মৌলিক জ্ঞান সম্প্রসারিত ও সুসংহত করা।
৫. শিক্ষার্থীর মৌলিক বিষয়ে অধিকতর জ্ঞানদান।
বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন, ২০০৪ অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারিত হয়েছিল নিম্নরূপ:
১. প্রাথমিক স্তরে প্রাপ্ত মৌলিক শিক্ষাকে সম্প্রসারিত ও সুসংহত করে শিক্ষার্থীর মেধা ও প্রবণতা অনুসারে জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা।
২. শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রবণতা অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তোলা।
৩. সুষম সামাজিক ও নাগরিক যোগ্যতা বিকাশের জন্য ভাষা, গনিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করা।
৪. শিক্ষার্থীকে নিজ মেধা, প্রবনতা ও সৃজনশীলতা অনুযায়ী বিকশিত হওয়ার সুযোগ প্রদান করা এবং সৃজনশীলতাকে সচেতন ভাবে লালনের ব্যাবস্থা করা।
৫. শিক্ষাকে জীবন ও কর্মমূখী করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মনে শ্রমের প্রতি মর্যাদাবোধ সৃষ্টি করা।
৬. শিক্ষায় মৌলিক চিন্তার স্বাধীন প্রকাশে অনুপ্রণিত করা এবং সমাজে মুক্ত চিন্তা ও জীবনমুখী, বস্তুনিষ্ঠ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর বিকাশ ঘটানো।
৭. দেশে ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত মানের সৎ, দায়িত্বশীল ও কর্তব্যপরায়ণ নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা।
৮. মানবিক জীবনের আনন্দ উপভোগ করার জন্য সাংস্কৃতিক, মানবিক, শারীরিক ও সৌন্দর্যবোধের উৎকর্ষ সাধন করা
৯. আত্মনির্ভশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য আধুনিক যুগের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, দেশ-বিদেশের ও মানবসভ্যতার ইতিহাস, দেশ-বিদেশের ভূগোল, অর্থনৈতিব কর্মকান্ড প্রভৃতি সম্পর্কে কর্যকর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিকতম কালে রচিত দুটি শিক্ষানীতি বা শিক্ষা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মাধ্যমিক শিক্ষার লক্ষ্যসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ২০০০ সালের ১ নম্বর লক্ষ্য ও ২০০৪ সালের ৪ নম্বর লক্ষ্য প্রায় এক; ২০০০-এর ৩ নম্বরটি ও ২০০৪-এর ২ নম্বরটি প্রায় এক; ২০০০-এর ৪ নম্বরটি ও ২০০৪-এর ১নম্বরটি প্রায় এক; ২০০০-এর ২ নম্বরটি ও ২০০৪-এর ১নম্বরটির শেষাংশটি প্রায় এক; ২০০০-এর ৫ নম্বরটির সঙ্গে মিল রয়েছে ৩ নম্বরটির। ২০০৪ সালের লক্ষ্যে কিছু বাড়তি প্রসঙ্গ রয়েছে। চুলচেরা বিচার করলে দেখা যাবে সেগুলোর বেশীর ভাগই আগের পাঁচটি থেকে হয় উৎসারিত অথবা অনুসৃত। সুতরাং তুলনামূলক বিচার করে দুটি প্রতিবেদনে যে প্রসঙ্গগুলো অভিন্ন ও বেশী গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় সেগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করা যাক।
১. শিক্ষার্থীর মেধা ও সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশে সাহায্য করা এবং সৃজনশীলতাকে সচেতন ভাবে লালনের ব্যাবস্থা করা।
২. প্রাথমিক স্তরে প্রাপ্ত মৌলিক জ্ঞান সম্প্রসারিত ও সুসংহত করা।
৩. মৌলিক বিষয়ে, অর্থাৎ ভাষা, গনিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করা।
৪. জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা।
৫. উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীকে প্রস্তুত করা।
প্রকৃতপক্ষে নির্বাচিত এই লক্ষ্যগুলো যে কোন দেশের লক্ষের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
এখন দেখার চেষ্টা করব আমাদের মাধ্যমিক স্তর সমাপনের ছাড়পত্র প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তালিকাকৃত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারছে কিনা অথবা কতটুকু পারছে।
শিক্ষা প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার সর্বতোমুখী বিকাশ ঘটানোয় সহায়তা করে। শিক্ষাবিদেরা সাধারণত: বলে থাকেন শিশুর সর্বতোমুখী বিকাশ ঘটাতে হলে তার অস্তিত্বের মোটামুটি ছয়টি দিকের সর্বোত্তম উন্নয়ন ঘটানো প্রয়োজন। সে দিক ছ’টি হল: মানসিক, শারীরিক, সামাজিক, আবেগিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক। শিশুর অস্তি¡ত্বের এই ছয়টি দিকের সম্ভাবনার ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ ঘটলেই কেবল বলা যায় সে জীবনযাত্রার রঙ্গমঞ্চে সফল পদচারণার যোগ্য হয়েছে। শিক্ষার্থীর মানস প্রকৃতির সুষ্ঠু বিকাশ অন্যান্য দিকগুলোর বিকাশের পূর্বশর্তস্বরূপ। উপরে মাধ্যমিক স্তরের জন্য যে পাঁচটি লক্ষ্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে, বিশ্লেষণী মাপকাঠিতে বিচার করলে দেখা যাবে সেগুলো অর্জন করতে হলেও উন্নত মানসিক দক্ষতা একান্ত প্রয়োজন। বর্তমান প্রবন্ধে মানস প্রকৃতির বিকাশ বা মানসিক বিকাশ প্রক্রিয়ার স্বরূপ, মানসিক বিকাশের সঙ্গে শিক্ষার মানের সম্পর্ক, ও শিক্ষার মানের সঙ্গে ভাষা-দক্ষতার সম্পর্ক এবং সমাজ মানস গঠনে এ সবের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করার প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে। ধারণা করি, এই আলোচনার মাধ্যমে, কিছুটা হলেও, বোঝা যাবে মাধ্যমিক সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কত অংশ ঐ লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পেরেছে।
মানস প্রকৃতির বিকাশ প্রক্রিয়া, চিন্তা করার ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ক্ষমতা দু’প্রকারের হয়ে থাকে, যৌক্তিকচিন্তা ও কল্পনা। যৌক্তিক চিন্তন ক্ষমতার সঠিক ব্যবহারই মানুষকে মানুষ করে তোলে কারণ মানুষ হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন প্রাণী। কিন্তু কল্পনাও ফেলনা কিছু নয়। কল্পনাই যৌক্তিকভাবে বিন্যস্ত হয়ে জন্ম দেয় সৃজনশীল চিন্তার। তাই বলা যায় যে যৌক্তিক চিন্তন ক্ষমতার সুষ্ঠু বিকাশ মানুষ হবার পূর্বশর্ত। এ ক্ষমতার বিকাশ ঘটে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে। মানুষ যত বেশী জ্ঞান অর্জন করে তার মানস-পরিধি তত বেশী বি¯তৃত হয়। তবে তথ্য ও জ্ঞান এক কথা নয়। তথ্য আহরিত হওয়ার পর মস্তিস্কে প্রক্রিয়াজাত হয়ে জ্ঞানে রূপায়িত হয়। কেবল তথ্যপূর্ণ ব্যক্তিকে জ্ঞানী বলা যায় না। সেই জন্যই বিশ শতকের দার্শনিক এ.এন. হোয়াইটহেড বলেছেন, “একজন নিছক তথ্য-সম্বৃদ্ধ ব্যক্তি বিধাতার জগতে সবচেয়ে অকেজো বোঝা।” (অ সবৎবষু বিষষ-রহভড়ৎসবফ সধহ রং ঃযব সড়ংঃ ঁংবষবংং নড়ৎব ড়হ এড়ফ’ং বধৎঃয.) শিক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জ্ঞান অর্জিত হয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তেমনটি হচ্ছে বলে মনে হয়না। “ আমরা যতই বি.এ., এম.এ. পাস করিতেছি, রাশি রাশি বই গিলিতেছি, বুদ্ধিবৃত্তিটা তেমন বেশ বলিষ্ঠ এবং পরিপক্ক হইতেছে না। তেমন মুঠা করিয়া কিছু ধরিতে পারিতেছি না; তেমন আদ্যপ্রান্ত কিছু গড়িতে পারিতেছি না। আমাদের মতামত, কথাবার্তা এবং আচার-অনুষ্ঠান ঠিক সাবালকের মতো নহে। সেই জন্য আমরা অত্যুক্তি, আড়ম্বর এবং আস্ফালনের দ্বারা আমাদের মানসিক দৈন্য ঢাকিবার চেষ্টা করি।” আজ থেকে একশ বছরেরও আগে রবীন্দ্রনাথ তাঁর সময়কার শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফসল সম্পর্কে যা বলেছেন আমাদের বর্তমান অবস্থা তার চেয়ে উন্নত কিছু এমন বোধহয় বলা যাবে না। আমাদেরও সনদপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের অধিকাংশ শিক্ষিতের মান অর্জন করতে পারছেন না। না পারার তিনটি কারণ চিহ্নিত করা যায় (১) যথেষ্ট তথ্য আহরিত হচ্ছে না, (২) তথ্য জ্ঞানে রূপায়িত হচ্ছে না, (৩) তথ্য, জ্ঞান ও জীবনের মধ্যেকার সম্পর্কের উপলব্ধি ঘটছে না। এসবের অভাব ঘটার প্রথম ও প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় ভাষা-দক্ষতার অভাবকে, ভাষাজ্ঞানের দুর্বলতাকে।
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মানোবনতির কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা প্রচূর তথ্য সংগ্রহ করে, সে তথ্যসমূহকে জ্ঞানে রূপায়িত করে জীবনবোধে সমৃদ্ধ হয়ে যাবে এমন আশা করা সঙ্গত নয়। কিন্তু তথ্য সংগ্রহের, তথ্যকে জ্ঞানে রূপায়নের এবং জ্ঞানকে জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত করণের অভ্যাস গঠনের ক্ষমতা অর্জনের এটাই সময়। (জ্ঞানকে জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অবশ্য ভাষাশিক্ষার উপর নির্ভর করে না, করে জীবনাচরণের উপর। তবে বিভিন্ন ধরণের যুগোত্তীর্ণ সাহিত্য পাঠ দিকনির্দেশনার উৎস হতে পারে।) সে সুযোগ শিক্ষার্থীরা বড় একটা পাচ্ছেনা; এটাই পরিতাপের বিষয়। বলা হয়েছে তার একটি কারণ হচ্ছে ভাষাদক্ষতার অভাব। ভাষা হচ্ছে তথ্য সংগ্রহের হাতিয়ার। ভাষার মাধ্যমেই সংগৃহিত তথ্য বিশ্লেষিত-সংশ্লেষিত হয়ে জ্ঞানে রূপায়িত হয়। ভাষার আধারেই তথ্য ও জ্ঞান সংরক্ষিত হয় স্মৃতিতে। সুতরাং ভাষাজ্ঞানে দূবল রয়ে গেলে এর কোনটিই শিক্ষার্থী সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবে না। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ভাষাদক্ষতায় দুর্বলতার দায় বহুলাংশে বর্তায় শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ের উপর। এ স্তরের শিক্ষাব্যবস্থাও শিক্ষার্থীদেরকে এ ব্যাপারে যতœবান হতে অভ্যস্ত করে না। আমরা কেবল তথ্য মুখস্তকরণ এবং সে তথ্য উদ্গিরণের ক্ষমতালাভকেই শিক্ষা প্রক্রিয়ার মোক্ষ নির্ধারণ করে রেখেছি। শুধু তাই নয়, মুখস্ত করার জন্যও যে বিষয়বস্তু উপলব্ধি করা প্রয়োজন সে কথাও ভুলে আছি। না বুঝে মুখস্ত করার ফলে না হয় মুখস্ত, না হয় আতস্থ। এর ফলে জ্ঞানের অর্জন ঘটে না, আর জ্ঞান অর্জিত না হলে তার প্রয়েগের তো প্রশ্নই ওঠে না। সুতরাং অনুমান করা খুব একটা অসংগত হবে না যে আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী উপরে বর্ণিত লক্ষ্যগুলো বিশেষ অর্জন করতে পারছে না।
সত্যিই কি আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঐ অবস্থায় আছে? কিছু উদাহরণ উপস্থাপন করা যাক।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০২ সালের বি.এড পরীক্ষার প্রথম সিমেস্টার-এর শিক্ষানীতি বিষয়ের প্রশ্নের উত্তরে একজন পরীক্ষার্থী লিখেছেন, “শিশু বিকাশ স্তর হল বিদ্যালয় সমাজ শিশু মাতৃঅন্তরে আত্মাপ্রকাশ বিদ্যমান বিদ্যালয় একান্ত প্রয়োজন।” ঐ পরীক্ষার্থীর খাতার প্রায় প্রত্যেকটি বাক্যই ঐ রকম। আর একজন পরীক্ষার্থী লিখেছেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে সর্বাঙ্গীণ উন্নতির পরিচায়ক”। এ হচ্ছে দুজন স্নাতক সনদধারী ব্যক্তির বক্তব্য প্রকাশের উদাহরণ; যদিও ভাষা ব্যবহারে এতখানি দূর্বল ব্যক্তির মাধ্যমিকের বেড়া ডিঙোনোরই কথা নয়।
কেন এমন হচ্ছে? রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “যাহা কিছু নিতান্ত আবশ্যক তাহাই কন্ঠস্থ করিতেছি। তেমনি করিয়া কোনমতে কাজ চলে মাত্র কিন্তু বিকাশ লাভ হয় না। হাওয়া খাইলে পেট ভরে না, আহার করিলে পেট ভরে। কিন্তু আহারটি রীতিমত হজম করিবার জন্য হাওয়া খাওয়া দরকার। তেমনি একটি শিক্ষাপুস্তককে রীতিমত হজম করিতে হইলে অনেকগুলি পাঠ্যপুস্তকের সাহায্য আবশ্যক। আনন্দের সহিত পড়িতে পড়িতে পড়িবার শক্তি অলক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাইতে থাকে; গ্রহনশক্তি,ধারণশক্তি, চিন্তাশক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বললাভ করে।” রবীন্দ্রনাথ তাঁর সময়ের শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তা থেকে উত্তরণের যে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছিলেন, ঐ অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায়ও নেই। কোনমতে কাজ চলছে, বিকাশ হচ্ছে না। কিন্তু বিকাশ না ঘটলে তো মানুষ পাওয়া যাবে না, পাওয়া যেতে পারে যন্ত্র, যার কোন বিকাশের সম্ভাবনা নেই। যন্ত্রকে চিন্তা করতে হয়না কারণ তাকে সৃষ্টি নয়, কেবল পুনরাবৃত্তি করতে হয়। আমাদের শিক্ষার্থীদেরও ঐ রকম দশা, ঐ কাজ বর্তমানে। বিদ্যালয়ের নিম্নশ্রেণী থেকে শুরু করে উচ্চতম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষক ও অভিভাবকের কাজ হল শিক্ষাপুস্তকে লেখা প্রশ্নের উত্তর তৈরী করে দেয়া, শিক্ষার্থীকে দিয়ে মুখস্ত করানো,এবং ‘পড়া ধরা’ অর্থাৎ ঠিকমত মুখস্ত হল কিনা তা যাচাই করা; আর শিক্ষার্থীর কাজ হল পরীক্ষার খাতায় মুখস্ত করা বিষয়গুলো যথাযথ ভাবে লেখা। ঐ কাজটি যে শিক্ষার্থী যত ভালভাবে করতে পারল সে তত বেশী নম্বর পেল এবং ভাল ছাত্র বা ছাত্রী হিসেবে বিবেচিত হল। কিন্তু পরীক্ষায় বেশী নম্বর পাওয়া এবং শিক্ষার উদ্দেশ্য অর্জন করা অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত হয়ে অর্থবহ জীবন লাভ করার মধ্যে প্রকৃতই কোন ইতিবাচক সহ-সম্পর্ক ( ঢ়ড়ংরঃরাব পড়ৎৎবষধঃরড়হ) আছে কিনা তা কি কখনও গবেষণা করে যাচাই করা হয়েছে? এ ব্যাপারেও আমাদের দৃষ্টি দেয়া প্রযোজন। মুখস্ত রাখতে পারা একটি বড় গুণ বা ক্ষমতা সন্দেহ নেই। কিন্তু কোন ক্ষমতাই চর্চা ছাড়া কার্যকর থাকে না। প্রাচীনকালে যখন লিপি আবিষ্কৃৃত হয়নি তখন মানুষ ঐশীবানীও শুনে শুনে মুখস্ত রেখেছে। সেই জন্যই বেদ-এর আরেক নাম শ্র“তি। তবে একটি ব্যাপার লক্ষণীয়। ছন্দোবদ্ধ সৃজনশীল সাহিত্যই ছিল চিরকাল মুখস্তের বিষয়; কারণ তা হল আনন্দের একটা সাবলীল উৎস। সুতরাং মুখস্ত করার ক্ষমতাকে কার্যকর রাখতে অথবা বাড়াতে হলেও সৃজনশীল সাহিত্যকেই অবলম্বন করতে হয়, তথ্যকে নয়। অবশ্য প্লেটোর মতে কাব্য-সাহিত্য কেবল আনন্দের নয়, তা নৈতিক শিক্ষার বা স˜গুন শিক্ষারও উৎস হওয়া উচিত। তথ্যও মুখস্ত বা স্মরণ রাখার বিষয় বটে; কিন্তু তা বৈষয়িক প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী বৈষয়িক প্রয়োজনকে নয় আনন্দকেই গুরুত্ব দেয় যা তার বয়সের মনস্তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাছাড়া তথ্য মুখস্ত রাখার প্রয়োজনটাই বা কোথায় আজকাল? আমরা অর্থাৎ মানবজাতি পুস্তক সৃষ্টি করতে শেখার পর থেকে তথ্য মুখস্ত রাখার প্রয়োজন কি কমে আসেনি ধীরে ধীরে? বর্তমানে তো এসে গেছে কম্পিউটার, এ ব্যাপারে আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য। আমাদেরকে শুধু মনে রাখতে হবে কোথায় কোন তথ্য পাওয়া যাবে এবং কি ভাবে তা আহরণ করতে হবে। কিন্তু এই প্রয়োজন তো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নয়ই, নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও খুব একটা আছে বলে মনে হয় না। বরং এই স্তর দুটি তথ্য অর্জনের এবং তথ্যকে জ্ঞানে রূপায়িত করার সময়। অর্থাৎ ঐ স্তরে শিক্ষার্থীকে এমন ভাবে সাহায্য করতে হবে যাতে তার ‘গ্রহনশক্তি,ধারণশক্তি, চিন্তাশক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বললাভ করে’। এ জন্য যা করতে হবে তা হল ভাষাদক্ষতা ও গানিতিক দক্ষতার চর্চা। বর্তমান নিবন্ধে কি করে ভাষাদক্ষতার চর্চার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে সাহায্য করা যায় কেবল সে ব্যপারে কিছু বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে, গানিতিক দক্ষতার নয়। আনন্দের অনুষঙ্গ করে কি ভাবে গানিতিক দক্ষতা চর্চায় শিক্ষার্থীদেরকে সাহায্য করা যায় সে ব্যাপারে প্রাথমিক স্তরের গনিত শিক্ষা নিয়ে যাঁরা গবেষণা করে থাকেন তাঁরাই ভাল বলতে পারবেন।
এরিস্টটল বলেছেন, যে সব কাজ করতে পারার আগে আমাদেরকে শিখতে হয়, সে সব কাজ আমরা করে করেই শিখি। আমাদের কবিও বলেন, ‘জলে না নামিলে কেহ শিখে না সাঁতার, হাঁটিতে শিখে না কেহ না খেয়ে আছাড়’। সুতরাং বলা যায় শুনতে শিখতে হবে শুনে শুনে, বলতে শিখতে হবে বলে বলে, পড়তে শিখতে হবে পড়ে পড়ে এবং লিখতে শিখতে হবে লিখে লিখে। এর প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেয়া দরকার। এ দায়িত্ব যেমন শিক্ষকের তথা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তেমনি অভিভাবকের। এ ক্ষেত্রে কার কি দায়িত্ব হতে পারে সে সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা যাক।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: শিক্ষার্থীকে সত্যিকার শিক্ষিত অর্থাৎ আলোকপ্রাপ্ত মানুষ করে গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আমাদের দেশে যেখানে অধিকাংশ অভিভাবক নিরক্ষর অথবা নিতন্তই স্বল্প শিক্ষিত। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা করতে পারে তার মধ্যে কয়েকটি হল:-
(ক) গ্রন্থাগার গড়ে তোলা: প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগার গড়ে তোলা একান্ত আবশ্যিকীয় কর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে য়েমন থাকবে প্রচূর বই, তেমনি আলো-বাতাস সমৃদ্ধ পড়ার জায়গা। বইগুলোর মধ্যে চারভাগের তিনভাগই থাকা উচিত বিভিন্ন ধরণের গল্প ও কবিতার। গল্পের বইয়ের মধ্যে রূপকথা, রহস্য বা রোমাঞ্চকর গল্প, সামাজিক গল্প, ঐতিহাসিক গল্প ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের থাকবে। সুলিখিত ভ্রমনকাহিনী এবং জীবনীও ভাল গদ্যসাহিত্য। তবে ওগুলোর প্রতি শিশুকিশোরদেও আকর্ষণ তত থাকে না যত থাকে রূপকথা, রোমাঞ্চকর বা মজার গল্পের প্রতি। ছড়া বা কবিতা পড়তেও শিশুকিশোরদের বেশ আগ্রহ দেখা যায়। মোটকথা যে সমস্ত বই পড়তে শিশুকিশোর শিক্ষার্থীরা স্বভাবত: আগ্রহী হয় ও আনন্দ পায় বিদ্যালযের পাঠাগারটি সে ধরণের বইপত্র দ্বারা সমৃদ্ধ করে তাদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বিদ্যালয়কে প্রয়াসী হতে হবে। অবশ্য কেবল পুস্তকসমৃদ্ধ গ্রন্থাগার এবং পর্যাপ্ত আলোবাতাসসমৃদ্ধ পাঠাগার থাকলেই যে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে উঠবে এমন নয়। এ জন্য বিদ্যালয়ের আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা দরকার। এর মধ্যে একটি হল দৈনিক সময়তালিকায় প্রত্যেক শ্রেণীর জন্য কমপক্ষে ত্রিশ মিনিটের একটা সময় বরাদ্দ রাখা। এই সময়টুকুর মধ্যে কোন শ্রেণী পাঠাগারে গিয়ে বই পড়তে পারে, কোন শেণীকে শিক্ষক অথবা পালা করে শিক্ষার্থীরাই সতীর্থদের পড়ে শোনাতে পারে। এভাবে পড়ে শোনানোর ব্যবস্থা রাখলে ‘বলা’ ও ‘শোনা’ কৌশল দুটিরও চর্চা হবে। এ ধরণের পাঠ স্বাধীন হওয়াই বাঞ্ছনীয়; অর্থাৎ কোন পরীক্ষার ব্যবস্থা তো থাকবেই না কোন প্রশ্নও না করা ভাল। কারণ ওতে বাধ্যবাধকতা এসে যায় আর বাধ্যবাধকতার অনুষঙ্গ হিসেবেই জন্ম নেয় অনীহা। তবে একা একা পড়া গল্প যদি সতীর্থদের শোনানোর ব্যবস্থা রাখা যায় তাহলে তারা বই যে পড়েছে সেটা যাচাই করা যেতে পারবে পরোক্ষভাবে হলেও। পাঠাভ্যাসে গতি আনতে নিরবপাঠের বিকল্প নেই। তবে তা শিক্ষাদার্শনিক কাজী ইমদাদুল হকের ভাষায় ‘প্রকৃত নিরব পাঠ’ হতে হবে। তাঁর মতে নিরব পাঠের সময় মনে মনে উচ্চারণ করার অভ্যাসটা পরিহার করে শুধুই চোখের মাধ্যমে পড়ে উপল্বদ্ধি করার অভ্যাস গঠন করতে পারলে অনেক দ্রুত পাঠ করার ক্ষমতা জন্মাবে।
(খ) বিচিত্রাানুষ্ঠানের আয়োজন করা: গ্রন্থাগার শিক্ষার্থীদের ভাষা-দক্ষতার দু’টো কৌশলে কুশলী হতে সহায়তা করে। সে দু’টো হল পড়া ও লেখা। তথ্য আহরণে ও তথ্য সংহত করণে এ দু’টো কৌশল অপরহার্য। কিন্তু দৈনন্দিন সামাজিক কর্মকান্ডে সফল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য যে দু’টো কৌশলে কুশলী হওয়া একান্ত প্রয়োজন সে দু’টো হল শোনা ও বলা। আর অন্যের উচ্চারিত বাক্যাবলী সঠিকভাবে অনুধাবনের জন্য শ্রবনেন্দ্রিয়ের এবং অন্যের কাছে নিজের উচ্চারিত বাক্যাবলী উপস্থাপনের জন্য কন্ঠের শীলনের প্রয়োজন। শ্রেণীকক্ষে আবৃত্তি ও সরব পাঠের মাধ্যমে এর চর্চা করানো যায়। আর একটি সুন্দর ও আনন্দঘণ সুযোগ করে দেয়া যায় বিচিত্রানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে। আবৃত্তি, অভিনয়, বিতর্ক, কন্ঠসঙ্গীত, উপস্থাপনা, স্বরচিত গল্প-কবিতা পাঠ ইত্যদির জন্য যেমন মানসম্মত উচ্চারণ প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন সুন্দর বাচনভঙ্গী ও ধ্বনি প্রক্ষেপণের ওপর নিয়ন্ত্রন। সাহসেরও প্রয়োজন, এগিয়ে আসার অভ্যাসেরও প্রয়োজন। অবশ্য এসবের জন্য শুধু বিচিত্রানুষ্ঠানের অয়োজন করলেই যে শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায় করা হবে এমন নয়। আদর্শ অবস্থা হবে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কর্মপরম্পরায় ঐ সব বিষয়ের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা। সেই সাথে বাৎসরিক একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করাও দরকার। বাৎসরিক পরীক্ষায় ঐ বিষয়গুলোর জন্য নম্বরও বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। এতে তথ্যভিত্তিক বিষয়গুলোর সাথে সাথে শিক্ষার্থীর আনুষঙ্গিক অন্য্রান্য কিছু দক্ষতার মূল্যায়ণ হবে। আরো একটা লাভ হবে। প্রকৃতির প্রয়োজন বিভিন্নমুখী। তার সবগুলো মেটানোর যোগ্যতা কোন একজন ব্যক্তির মধ্যে কখনওই থাকে না। গানিতিক সমস্যা সমাধান করার যোগ্যতার প্রয়োজন আছে; তেমনি সুন্দর করে কথা বলার বা গান শোনানোর যোগ্যতাও কম প্রয়োজনীয় নয়। সুযোগ যদি পায় তো কোন শিক্ষার্থী গনিতে কম নম্বর পেয়েও আবৃত্তি বা গানে বেশী নম্বর পেয়ে সাফল্যের স্বাদ পেতে পারে, নিজেকে অকেজো ভাবার হাত থেকে রেহাই পেতে পারে। নিজেকে অকেজা ভেবে বসা যে শিক্ষার্থীও মানসিক স্বাস্থেও জন্য ক্ষতিকর এ কথা নানা গবেষণার মাধ্যমে জেনেছে আধুনিক মনোবিজ্ঞান। তাই মনোবিজ্ঞান সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে নবীন শিক্ষার্থীকে বিফলতার অভিজ্ঞতা থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা স্বাস্থ্যকর; সফলতার অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ করে দেয়া যুক্তিসঙ্গত। সফলতার অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীর জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চাবিকাঠি। এ বিষয়টি নিয়ে কাজী ইমদাদুল হক তাঁর ‘ভাল ছেলে’ প্রবন্ধে বিশদভাবে আলোচনা করেছেন।
ঐ সব বিষয়গুলোতে, শিক্ষাবিজ্ঞানের বর্তমান নিয়মে ওগুলো সহপাঠক্রমিক বিষয়ের অংশ, নম্বর বরাদ্দ রাখার ব্যাপারে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে। তাঁরা বলতে পারেন এরকম সুযোগ থাকলে শিক্ষকেরা তাঁদের পছন্দের ছাত্র বা ছাত্রীকে বেশী নম্বর দিয়ে দেবেন। এভাবে ঢালাও অভিযোগ করা হলে তা শিক্ষকগোষ্ঠিকে অপমান করা হবে। যদি কোন বিদ্যালয়ে ওমন ঘটনা ঘটেও, পরে দেখা যাবে যে সে বিদ্যালয়ের বা শিক্ষকের শিক্ষার্থীরা প্রকৃত ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। তখন সে বিদ্যালয় বা শিক্ষক অবশ্যই সংযত হবেন। তা না হলে তাঁরা শিক্ষার্থীই পাবেন না।
এতক্ষণ শুধু মাতৃভাষা ভালভাবে শেখানোর প্রয়োজনীয়তা এবং পন্থাসমূহ নিয়ে মতামত উপস্থাপন করা হল। কিন্তু বর্তমানের এই গোলকায়নের যুগে কেবল মাতৃভাষা জানা যথেষ্ট নয়। ইংরেজী তো ভাল ভাবে শিখতেই হবে; সম্ভব হলে আরো একটি বিদেশী শেখা দরকার। আমাদের দেশের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শ্রেণী থেকে এবং বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর বেশীরভাগগুলোতে শিশুশ্রেণী থেকেই ইংরেজি পড়ানো হচ্ছে। সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণী থেকে ইংরেজি চালু করা হয় ১৯ সাল থেকে। তার আগে তৃতীয় শ্রেণী থেকে ইংরেজি পড়ানো হত। এই পরিবর্তনের ফলে কোন সুফল ফলেছে কিনা অর্থাৎ আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজিতে বুৎপত্তি অর্জনের ক্ষেত্রে কোন ইতিবাচক বা গুণগত পরিবর্তন এসেছে কিনা এতগুলো ব্ছরে, সে সম্পর্কে কোন গবেষণা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। হওয়া উচিত ছিল। কারণ সমগ্র দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য কোন নীতি নির্ধারণ গবেষণা ভিত্তিক না হওয়াটা নিতান্তই অবৈজ্ঞানিক ব্যাপার। তার ওপর যখন বিদেশী গবেষণার মাধ্যমে আমরা জেনেছি যে মাধ্যমিক স্তরের আগে মাতৃভাষা বা প্রথম ভাষা ছাড়া অন্য ভাষা, শিশুর চারপাশে যে ভাষার পরিবেশ নেই সে রকম কোন ভাষা শেখানোর চেষ্টা বিজ্ঞান সম্মত নয়। আমার মতে এটি সময় ও শ্রমের অপচয়ও বটে।
২। অভিভাবক : মানবশিশুকে মানুষ করে তোলা, অর্থাৎ সর্বাঙ্গীণ বিকাশে সহায়তা করা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব মা-বাবা তথা অভিভাবকের। ভাষা শেখানো তারই একটা অংশ। ভাষা শেখার জন্য ভাষা-পরিবেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। শিশুর প্রাথমিক ভাষা-পরিবেশ তৈরি হয় মা-বাবা, ভাই-বোন, ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দ্বারা। সুতরাং পরিবারে যে ধরণের বা যে মানের ভাষা ব্যবহৃত হয় শিশু সে রকম ভাষাই শেখে। পারিবারিক বা অনানুষ্ঠানিক পরিমন্ডলে আঞ্চলিক বা উপভাষা ব্যাবহার দূষণীয় নয় মোটেও। তবে অন্যান্য দেশের প্রধান ভাষার মত আমাদের বাংলাভাষারও একটা মানপ্রকার তৈরী হয়ে গেছে; আনুষ্ঠানিক সামাজিক পরিবেশে সে প্রকারটির ব্যবহারই বাঞ্ছনীয়। তাই পরিবারের সদস্যদের উচিৎ যতদূর সম্ভব বাংলাভাষার মানপ্রকারটি আয়ত্ব করার ও তা ব্যবহার করার চেষ্টা করতে থাকা। বিভিন্ন উপভাষা ব্যবহারকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠিসমূহ এ ক্ষেত্রে বেশ অসুবিধাজনক অবস্থানে আছেন সন্দেহ নেই। তাঁদেরকে প্রথমে বাংলাভাষাটি শিখতে হবে; তার পর তার মানপ্রকার। কিন্তু মূলধারার জনজীবনের সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত হওয়ার প্রয়োজনে মান বাংলা শেখা ছাড়া উপায়ান্তরও দেখতে পাচ্ছি না এই মূহূর্তে। তবে সুবিধে এই, তাঁদের শিশুরা প্রথমথেকেই বইয়ের মাধ্যমে, লিখিতরূপে হলেও মান বাংলাভাষার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। তাই বাঙ্গালী অথবা আদিবাসী, সব জাতির পরিবারেরই সদস্যদের উচিত যতদূর সম্ভব মানবাংলা আয়ত্ত্ব করার ও তা ব্যবহার করার চেষ্টা করতে থাকা। এর জন্য যে কাজগুলো করা যায় তার মধ্যে রয়েছে:
(ক) রেডিও ও টেলিভিশনের সংবাদ, আলোচনা, আবৃত্তি, গান ইত্যাদি শোনা:
(খ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত বতৃতা, আলোচনা, আবৃত্তি, নাটক ইত্যাদি শোনা ও দেখা এবং সম্ভব হলে অংশগ্রহন করা;
(গ) সম্ভব হলে উচ্চারণ ও কন্ঠশীলন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা;
(ঘ) গ্রন্থাগারের সদস্য হওয়া ও নিয়মিত বইপত্র পড়া।
এ কাজগুলো যেমন মাবাবা নিজেরা করবেন তেমনি সন্তানদেরকেও উৎসাহ দেবেন করার জন্য।
আমাদের দেশের অধিকাংশ অভিভাবক এখনও নিরক্ষও অথবা নিতান্তই অল্প লেখা পড়া জানা। ফলে তাঁদের জন্য নির্ধারিত দায়িত্ব তাঁরা তেমন পালন করতে পারবেন বলে মনে হয়না। তাই দেশের স্বার্থে এই দায়িত্বেরও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। তবে সরকারও বয়স্কশিক্ষা কার্যক্রমকে জোরদার করে অভিভাবকদের আত্মোন্নোয়নের চেষ্টায় সহায়তা করতে পারেন।
বর্তমান নিবন্ধে আমি যা বলতে চেয়েছি তার মূল কথা হল, যে ব্যক্তি ভাষা নামক হাতিয়ারে যত বেশি সমৃদ্ধ তত বে শি তার ব্যক্তিক, পারিবারিক, সামাজিক ও কর্মজীবনে সাফল্যমন্ডিত হওয়ার সম্ভাবনা। ব্যক্তিকে প্রথমে মাতৃভাষায়Ñবাংলাদেশীদের জন্য বাংলাভাষায়Ñ সাবলীল প্রকাশের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে; তারপর দ্বিতীয় ভাষা ইংরেজি শিখতে হবেÑ আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়ায়; সম্ভব হলে আরো একটি বা দুটি ভাষা শেখা উচিত। তবে অবশ্যই শেখানোর প্রচেষ্টায় আধুনিক মতবাদ ও রীতিপদ্ধতি ব্যবহার করলে বেশি ভাল ফললাভ করা যাবে। আমার মনে হয় এই ভাবে ভাষা শিক্ষার পরিকল্পনা গ্রহন করে অগ্রসর হলে মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের মানোন্নয়নেÑ চৌকষ হিসেবে গড়ে তুলতেÑ আমরা এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারব। অবশ্য এ ফলাফল পেতে দশ/বারো বছর সময়ের প্রয়োজন পড়বে। তবে ফল যে ধণাত্মক হবে সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত।

তথ্যনির্দেশ ও টীকা
১. চষধঃড়, খধংি, ংবপ.৬৫৩
২. ঊফঁপধঃরড়হ রং ঃযব ধপপঁরংরঃরড়হ ড়ভ ঃযব ধৎঃ ড়ভ ঁঃরষরুধঃরড়হ ড়ভ শহড়ষিবফমব.’ অ.ঘ. ডযরঃরযবধফ, ঞযব অরসং ড়ভ ঊফঁপধঃরড়হ ধহফ ঙঃযবৎ ঊংংধুং, ঢ়ঢ়. ১৩-২৬, গধপসরষষধহ ঈড়সঢ়ধহু, ঘবি ণড়ৎশ, ১৯৪৯

৩. ‘ঊফঁপধঃরড়হ রং ঃযব পড়সঢ়ষবঃব ফবাবষড়ঢ়সবহঃ ড়ভ রহফরারফঁধষরঃু ড়ভ ঃযব পযরষফ ংড় ঃযধঃ যব পধহ সধশব ধহ ড়ৎরমরহধষ পড়হঃৎরনঁঃরড়হ ঃড় যঁসধহ ষরভব ধপপড়ৎফরহম ঃড় ঃযব নবংঃ ড়ভ যরং পধঢ়ধপরঃু’ ঞ.চ. ঘঁহহ, ঊফঁপধঃরড়হ: ওঃং উধঃধ ধহফ ঋরৎংঃ চৎরহপরঢ়ষবং, খড়হফড়হ, ঊফধিৎফ অৎহড়ষফ, ১৯৪৫
৪. ‘ওহ ংযড়ৎঃ, রভ বফঁপধঃরড়হ রং ঃযব ঢ়ৎড়ঢ়বৎ মৎড়ঃিয ড়ভ ঃবহফবহপরবং ধহফ ঢ়ড়বিৎং, ধঃঃবহঃরড়হ ঃড় ঃযব ঢ়ৎড়পবংং ড়ভ মৎড়রিহম রহ ঃযব ঢ়ধৎঃরপঁষধৎ ভড়ৎস রহ যিরপয রঃ মৎড়বিং ভৎড়স ফধু ঃড় ফধু রং ঃযব ড়হষু ধিু ড়ভ সধশরহম ংবপঁৎব ঃযব ধপপড়সঢ়ষরংযসবহঃং ড়ভ ধফঁষঃ ষরভব.’ ঔড়যহ উববিু ধহফ ঊাবষুহ উববিু, ঝপযড়ষষং ড়ভ ঞড়সড়ৎৎড়,ি ঢ়. ৬, ঔ.গ.উবহঃ ্ ঝড়হং, খঃফ, খড়হফড়হ.

৫. অ.ঘ.যিরঃবযবধফ, রনরফ.

৬. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শিক্ষার হেরফের, শিক্ষা, পৃ. ৮, বিশ্বভারতী, ১৩৯৭
৭. রোল নম্বর ০২-২-২০-০০২, ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
৮. রোল নম্বর ০২-২-২০-০০৬, ১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
৯. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শিক্ষার হেরফের, শিক্ষা, পৃ. ৮, বিশ্বভারতী, ১৩৯৭
১০. প্লেটো, রিপাবলিক, ৩:৩৮৯-৩৯৪
১১. অৎরংঃড়ঃব, ঘরপড়সধপযবধহ ঊঃযরপং, ইড়ড়শ-ওও, পযধঢ়. ১.
১২. কাজী ইমদাদুল হক রচনাবলী, ‘নিরব পাঠ’, পৃ: ৪৮০-৪৮৭, ঢাকা কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড, ১৯৬৮।
১৩. কাজী ইমদাদুল হক, ‘ভাল ছেলে’, শিক্ষক, কাজী ইমদাদুল হক রচনাবলী, ঢাকা কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড, ১৯৬৮।