মানবতার ধর্মই বড় ধর্ম

প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২৪

মানবতার ধর্মই বড় ধর্ম

সুমনা সুমি

ধর্মকে অবলম্বন করে যারা রাজনীতি করে এখনো টিকে থাকতে চায় তাদের বোঝা উচিত এই ধারণাটাই সেকেলে । আমি বলতে চাচ্ছি আগে অশিক্ষিত অবুঝ জনগণকে ধর্ম দিয়ে আবেগ তৈরী করে জনগণের ভোট আদায় করা সম্ভব ছিল ।

এখন তো শিক্ষিতের হার বেড়েছে , তাছাড়া ঘরে ঘরে ইন্টারনেট , পৃথিবীটা এখন হাতের মুঠোয় , সত্যমিথ্যা , ভালো মন্দ অধিকাংশ লোকেরই বোঝার ক্ষমতা আছে । তাই শুধু মাত্র ধর্ম নির্ভরশীল রাজনীতি এখন আর চলছে না , রাষ্ট্র চালাতে হলে রাষ্ট্র পরিচালকের অবশ্যই অসম্প্রদায়িক মনোভাব থাকা দরকার । ধর্ম ব্যক্তি জীবন ও সামাজিক পরিসরের একটা অংশমাত্র ।মানবতার ধর্মই বড় ধর্ম যা কিনা প্রতিটা ধর্ম গ্রন্থেই আছে ।ধর্মের আসল রূপ বা আদর্শ না বুঝে ধর্ম নিয়ে মাতামাতি – কাড়াকাড়ি করা মূর্খতার সামিল ।

তারপরও  প্রতিটা রাষ্টেই ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের কিছু মৌলবাদী আছে , থাকবেই । এরা কিন্তু সংখ্যায় তেমন একটা নয় , তবুও তারা তাদের মত করে কট্টর পন্থি হয়ে ধর্ম পালন করে । এই কট্ররপন্থি মৌলবাদীরা যাতে অন্যদের আঘাত হানতে না পারে , তার জন্য তো সমাজের নিয়ম কানুন রাস্ট্রিয় শাসন সব পৃথিবীর সব জায়গায় আছে । কারণ আইন সকলের জন্য সমান । সব ধর্মেই মৌলবাদীতা লক্ষ্য করা যায় , এরা সমাজের একটা অংশ মাত্র । এদেরকে নির্মুল করা আগেও যেমন সম্ভব হয়নি ভবিষ্যতেও সম্ভব নয় । তাদের সব কথা গ্রাহ্য করা মানেই তাদেরকে আরো বেশী উস্কে দেওয়া সমাজে অশান্তি তৈরি করা ।এই বাস্তবতাটা উন্নত বিশ্ব বুঝতে পারলেও আমার দেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশ মোদি পন্থী হিন্দু সাম্প্রদায়িকরা সেটা বুঝতে নারাজ এবং সেটার প্রভাব তারা এদেশের তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তিদের মগজ ধোলাই করে দিয়েছে , তারা নিজেদেরকে অমুসলিম ভাবতেও দ্বিধা করে না , মুসলিম মৌলবাদীদের নির্মুল করতে । তাই যদি হয় তাদের শিক্ষা তাহলে হিন্দুয়ানিজম নিয়ে ভারত সরকার যে বাড়াবাড়ি করছে সে ব্যপারে নিশ্চুপ কেন। যদিও মোদি সরকার তার এই কর্মকান্ডের জন্য নিজের দেশেই জনপ্রিয়তা হারিয়েছে , তার রাজনৈতিক কৌশল দক্ষিন এশিয় অন্চলে ভারতের ভাবমুর্তী ক্ষুন্ন করেছে ।
আমাদের দেশের বাংলার ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে সকল ধর্মের মানুষই পহেলা বৈশাখ উৎযাপন করে আসছে এবং আসবে ।যেটা কিনা বিশ্ব দরবারে আমাদেরকে একটা আলাদা সুন্দর সংস্কৃতিক বৈশিষ্ট হিসাবে পরিচিত করে। মাঝে মাঝেই কিছু মৌলবাদী যাকে বলে কট্রর পন্থী মুসলিম তারা নিজেদের মতামত বৈশাখ না পালনের জন্য উচ্চবাচ্য করে থাকে , তাই বলে তো সেটা বন্ধ হয়ে যাইনি , আর যাবেও না , যেমন হ্যাপি নিউ ইয়ার , আজকাল তো সৌদি আরবেও হলোইন পালিত হচ্ছে । কট্রর পন্থী মুসলিমদের কথা যেটা কোরআনে নেই স্পস্ট করে বলা সেটা তাঁরা পালন করতে নারাজ । যাঁরাই এই ধর্মান্ধতা নিয়ে চলে তাঁরা কিন্তু ধর্মের মূল ভাবধারা সম্পর্কে জানে না । ধর্ম কি … এটার জন্য বিষদ আলোচনা ও কাউন্সেলিং করে জনগণকে পত্রপত্রিকায় বোঝানো যায় তাহলে কেউ কেউ সঠিক ধারণা পেতে পারে । সত্যি কথা বলতে ধর্ম নিয়ে বেশী তর্কে না যাওয়াই সমীচিন । কেউ যদি বা কোন গোষ্ঠী নিজের ধর্ম পালন করতে গিয়ে অন্যের উপর অন্যায় অবিচার করে অধর্ম করে ফেলে তার জন্য আইন আছেই । আইনের প্রতি সকলের শ্রদ্ধাশীল হওয়া বান্ছনীয় ।আর ধর্ম কে বাদ দিয়ে কোন সমাজ বা রাষ্ট্র চলতেও পারে না ।

 

সুমনা সুমি ঃ লেখক ও আবৃত্তি শিল্পী