মানুষকে বোকা বানানোর বাজেট ; বিএন‌পি

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০১৮

মানুষকে বোকা বানানোর বাজেট ; বিএন‌পি

বিশাল ঘাটতির ঋণনির্ভর প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমূলক হয়নি । হতাশ হয়েছেন জনগণ বলে মন্তব্য করেছে বিএন‌পি । সি‌নিয়র যুগ্ম মহাস‌চিব রুহুল ক‌বির রিজভী বলেন, ‘মূলতঃ নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বশেষ লুটপাটের জন্যই এ বিশাল বাজেট পেশ করা হয়েছে। ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বাজেট বড় করা হয়েছে। বাজেটের আকার বড় করে জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি করা হয়েছে। এটা মানুষকে বোকা বানানোর বাজেট । এটা প্রতারণার বাজেট।’

৮ জুন শুক্রবার বেলা পৌ‌নে ১২টার দি‌কে নয়াপল্ট‌নে দ‌লের কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে আ‌য়ো‌জিত সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এসব কথা ব‌লেন রিজভী।

রিজভী দাবি করেন, বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা নেই। সুশাসন না থাকায় বর্তমানে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ রয়েছে। শেয়ার মার্কেট থেকে বিদেশি বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে। বর্তমানে দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি। বাজেটে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তেমনভাবে না রাখায় বেকার সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে সব জিনিসপত্রের দাম বে‌ড়ে যা‌বে।

সদ্য‌ঘো‌ষিত বা‌জেট‌কে গণ‌বি‌রোধী বা‌জেট আখ্যা দি‌য়ে বিএন‌পি নেতা ব‌লেন, ‘এই বাজেট গণবিরোধী। নির্বাচনের আগে দলীয় নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার সুযোগ সৃষ্টি, জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি ছাড়া এই বাজেট আর কিছুই নয়। ফ‌লে বা‌জেট‌কে বিএনপি সম্পূর্ণরুপে প্রত্যাখ্যান করছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭.৮। অথচ বিশ্বব্যাংকসহ বিশেষজ্ঞরাও বলছেন যে, প্রবৃদ্ধি ৭-এর নিচে থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৭.৮ প্রবৃদ্ধি অসম্ভব। প্রস্তাবিত ৭.৮ প্রবৃদ্ধি ডাহা মিথ্যাচার।’

‌আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী ব‌লেন, ‘বর্তমান সিইসি ইতোমধ্যেই প্রমাণ দিয়েছে তিনি সুষ্ঠু, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের শত্রু। তাই আমরা (বিএন‌পি) ম‌নে ক‌রি সিইসি’র পদত্যাগ ছাড়া কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বিএনপি না চাইলেও ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে ব‌লে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার বক্ত‌ব্যের ক‌ঠোর সমা‌লোচনা করে‌ছেন বিএন‌পির এই নেতা।

রুহুল ক‌বির ব‌লেন, ‘সিইসি সরকারের সঙ্গে এক অলিখিত বশ্যতায় আবদ্ধ। আগামী নির্বাচনের ফল ক্ষমতাসীনদের পক্ষে নিতে নানা কারসাজি ও নতুন নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে সিইসি।

ইভিএম নিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বিপক্ষে মত দিয়েছে। আর এর পক্ষে সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও সমমনা কয়েকটি দল। আর সিইসি মত দিলেন ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে। ইসি ইতোমধ্যে ২৫৩৫টি ইভিএম মেশিন কিনে ফেলেছে। ইসি’র এই কর্মকাণ্ডগুলো ক্ষমতাসীনদের অনুকূলে একনিষ্ঠভাবে কাজ করা। অনেক দেশেও ইভিএম পদ্ধতি চালু করার পরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
রিজভী ব‌লেন, ‘ইসি ভোট কারচুপি ও জালিয়াতি করতেই ইভিএম পদ্ধতি চালু করার কথা বলছে। মূলত আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার একতরফা নির্বাচন নিশ্চিত করতেই সিইসি ইভিএম’র মতো কারসাজি করার একটি যন্ত্রকে ভোটের কাজে ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছেন।