মানুষের মনের পরিবর্তন

প্রকাশিত: ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২১

মানুষের মনের পরিবর্তন

শেলী সেনগুপ্তা

 

মানুষের সাথে সমুদ্রের অনেক মিল, তার একটি হলো, জোয়ার-ভাটা। সমুদ্রের মতো মানুষের মনেও জোয়ারভাটা থাকে, থাকে ভালো লাগা মন্দ লাগা। এই ভালো লাগা মন্দ লাগার ধারক ও বাহক মানুষের মন। তারপরও মানুষের মনের একটা বড় অংশ অজানা। খুব সামান্য অংশই আমরা জানতে পারি।

এ অজানাকে জানার কত চেষ্টা। এজন্যই বাউলরা দেহের মধ্যে মনকে খোঁজে। আজ পর্যন্ত কেউ ই পায় নি, আবার কেউ কেউ দাবী করেন যে তারা পেয়েছেন। তবে পাওয়াটাই সাফল্য নয়, সন্ধানটাই সাধনা। যুগ যুগ ধরে এ সন্ধানই করে যাচ্ছে বাউল ফকিররা। এ সন্ধানেই এক জীবন কেটে যায়।

যে মনের সন্ধানে মানুষ নিজেকে ছেড়ে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার মধ্যে আছে অনন্ত সম্পদ। এতো সম্পদের আধার যে মন, তা ও পরিবর্তনশীল। মানুষ প্রকৃতিরই অংশ , তাই আবহাওয়ার সাথে সাথে মানুষের মনেরও পরিবর্তন হয়। রৌদ্রোজ্জ্বল দিন, মেঘলা আকাশ, প্রতিদিনের তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ, দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যও মনের পরিবর্তন করতে পারে। ‘মন’ এর ব্যাপারে প্রচলিত কথাটি হলো ‘মানুষের মন আকাশের রঙ এর মতো’ , তা যেকোন সময় বদলে যেতে পারে। কথাটির একটা তাৎপর্যও আছে। যেমন, আকাশের রঙের কোনো স্থায়িত্ব নেই। সে রঙই মানুষকে উদ্দিপ্ত করে, মনোজগতে পরিবর্তন আনে। যেমন লাল রঙ উদ্দীপনা জাগায়, নীল রঙ একাগ্রতা বৃদ্ধি করে, সবুজ রঙ স্নায়ু শিথিল। কোনো রঙের বেশি ব্যবহারে মানুষের মনোভাব এর পরিবর্তন ঘটে, আবার যখন যে ভাব মনে বিরাজ করে মানুষ সে রঙের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। রঙও পারে মানুষের মনে পরিবর্তন আনতে।

আবার রঙের মাধ্যমেই মানুষের চিন্তার জগতে বিশেষ ক্রিয়াশীল। কষ্টের সময় যদি উজ্জ্বল রঙ ধারণ করা হয় তাহলে ধীরে ধীরে মন ভালো হয়ে যায়। আবার কেউ যদি সবসময় বিষন্ন রঙের পোশাক পরিধান করে থাহলে বিষন্নতা ভর করে মনের আঙ্গিনায়।

তাছাড়া, ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের হরমোন একটু জটিল প্রকৃতির মেয়েদের মনের পরিবর্তন খুব দ্রুত হয়ে থাকে । মনের এ পরিবর্তনকে বলা হয় মুডসুইং বা মনের আজব অসুখ। এটি কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় আবার কখনো স্বল্পমেয়াদী। তবে যা ই হোক না কেন, এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বেশিরভাগ এটি হয়ে থাকে নারীর গর্ভকালীন সময়ে।

সব কিছুর পরও মন এমন এক অচিন পাখি যার গতি বোঝা খুবই কঠিন। এই অচিন পাখিকে ধরে রাখা কঠিন, বড়োই ছটফটে পাখিটি জীবনের এক ডাল থেকে অন্য ডালে উড়ে বেড়ায়। তাই কখনো কখনো এ মন ভালোবেসে কারো হাত ধরে রাখে, আবার যখন মনপাখিটি ডানা মেলতে চায় তখন ভালোবাসাময় হাতটা পাথরের মতো ভারী মনে হয়। হয়তো এটিকেই বলা যেতে পারে মানুষের মনের পরিবর্তন। তাই শত ভালবাসা পেয়েও মন বারবার স্থান পরিবর্তন করে।

যে মন একদিন গেয়ে উঠেছিলো,

‘প্রহর শেষের আলোয় রাঙ্গা

সেদিন চৈত্রমাস

তোমার চোখে দেখেছিলাম

আমার সর্বনাশ’—মানুষের মনের পরিবর্তনে সে চোখ তখন ভালবাসার সর্বনাশ ভুলে অন্য সর্বনাশে মগ্ন হয়, যেখান থেকে ফিরে আসা খুবই কঠিন। সর্বনাশের খেলায় মেতে উঠে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় ধ্বংসের দিকে ।

ছড়িয়ে দিন