মা..মা.. মা

প্রকাশিত: ১:০৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৮

মা..মা.. মা

লুনা হাসান
( একান্ত ই আমার ভাবনার দুয়ার খুলে দিলাম)
আমি যেখানে থাকি সেই রুমে একটা জানালা আছে। বাইরে আছে নানান রকম গাছ। আছে কিছু পাখির বাস। রাতে ডাকে হুতুম পেঁচা। যাকে ছোট বেলায় কুক পক্কি বলতাম। ও ডাকলেই বুজতাম অশুভ কিছু আসছে। তাই ওকে তাড়াবার জন্য ওর সাথেই কুপ.. কুপ করে ডাকতাম। যাতে ও পালায়ে যায়।

তো জানালায় বসে বসে আমার দিন রাতের অনেক সময় কাটিয়ে দেই। মাসে একবার ও ঘর দিয়ে বের হতে মনে চায় না। তাই জানালাই আমার বিনোদনের জায়গা।
আমার কথা বলার সংগী এই গাছপালা। এখানে অনেক পাখি আছে। ওদের দেখি।
দেখি কচি পাতার দুনিয়ায় আসার রুপ।
যাক, যা বলার জন্য আজ জানালায় বসলাম… মানে আমাকে ভাবাতে বাধ্য করল…..
দেখলাম আকাশ কালো মেঘে ছেঁয়ে গেছে।ঝড় হবে হয়তো। প্রথম চিন্তা হল… আমার সালমান স্কুলে। মেয়েটি ঘরে। আল্লাহ সহায়।
এরপর মাথায় এল…
ধরুন……আমি নদীতে, ভীষণ ঝড় শুরু হল..
আমার সামনে লন্ড – ভন্ড হয়ে যাচ্ছে সব।বাঁচতে হবে কিন্তু সাঁতার জানি না। কি করব আমি??

ধরুন….আমি মুভি দেখতেছি। ভালোই ছিল। কোন এক দৃশ্যতে কেউ মারা গেলেন।
দুনিয়াবি সব কাজ সেরে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে শেষ বাড়িতে। ধরলাম সেই খাটে আমি। বন্দ হয়ে গেছে দুনিয়ার সব দেনা পাওনা।

অনুভব করি..
মরনের পর কিভাবে বিদায় দেয়…স্পর্শ করি তাকে…ঘ্রাণ নিয়ে দেখি আতর.. সুরমার। সাদা একটা কাপড় জড়ায়ে ভাবি শব দেহের কথা।
চোখ বন্দ করে ভাবি… আর দেখা হবে না আমার প্রিয়জনদের সাথে। কেউ আর আমায় কোন অভিযোগের কথা শুনাতে পারবেন না। আমিও পারব না শুধরে দিতে।
পারব না বিশ্বাস করাবার জন্য প্রাণপণ চেস্টা করতে। হাতজোড় করে বলতে পারব না… তুমি ভুলে আছ।

ধরুন…একজন মা… যিনি অপেক্ষা করে আছেন তার অনাগত সন্তানের জন্য। প্রতিদিন গুনে কবে আসবে সেই দিন??
ডাঃ এর কাছে গেলে প্রথমেই জানতে চায়…. ও কেমন আছে?? একবার ও জানতে চায় না..ডাঃ আমি কেমন আছি??
এই বাংলাদেশে এখন ও আছে যারা কন্যা শিশু ভালোবাসেন না। তারা চান বংশের বাতি। হ্যাঁ ছেলে দরকার.. তাতো আল্লাহর কাছে। ভাবুন তো মেয়ে হবার অপরাধে মায়ের কি দোষ?? কিছু না…. একদম কিছু না। একবার ও কি মনে আসে না নিজের মায়ের…বোনের মুখ!!
( আমি দেখি জানালায় বসে এক মা পাখি তার বাচ্চাকে খাওয়ায়)

ধরুন… গতকাল বন্ধুদের বলে আসছি…
দোস্ত আগামি দিন যাস আমাদের বাসায়। আড্ডা হবে। জাস্ট ২/৪ জনকে বললেন। কিন্তু আমার / আপনার বাসস্থানে আজ অনেক মানুষ। বিনা দাওয়াতেই আসছে। কারণ আজ একটু পরেই আমার জানাজা।
যেমন…. রাজীব বাড়ী গেছে। বিছানা পেতেছে ওর বাবা মায়ের কাছে। কত বছর পর!! আমি বলি আল্লাহ তুমি অনেক দয়ালু। ওর তো একটা হাত ছিল না। কে দেখতো ওকে?? রাজীব তুমি জান পৃথিবীর হাল চাল বড় কঠিন। এই ভালো তুমি কারো বোঝা হওনি।
অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে চলা যে কত কষ্ট তা তুমি জান রাজীব। সারা জীবন অন্যের আয় করা টাকায় ভাত খাওয়া এই ধরনীর সেরা শাস্তি।

নাহ!! আর লিখব না। কেমন যেন খুব একা একা লাগে। মাথাটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। পেছন ফিরে দেখি সব ধোঁয়াশা। সামনে তাকায়ে দেখি ২ জোড়া চোখ। আমার ২ সন্তান। ওরা ডাকে মা… মা….মা….

আলোকচিত্র ঃ স্বপ্নীল