মিলনে বিরহে

প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১

মিলনে বিরহে

 

 

কাজী নুসরাত সুলতানা

 

 

 

 

 

 

 


মন বলত আশা করত তুমি আসবে
তবু বুঝিনি কভু ভাবিনি তুমি আসবে!
হেন সহসা এই আসা
কেড়ে নিল মোর ভাষা
কে জানত আজ পান্থ তুমি আসবে!
তুমি এলে ভরে দিলে মায়াপ্রীতি
মন হাসল যেন গাইল মধুগীতি
দিন আমার আশা লয়ে
ওগো মিতা যাবে বয়ে
ফিরে কখন হবে লগন তুমি আসবে।

 

 

 

 

 


ঝর ঝর ঝরে বারি নিশি লগনে
বিদ্যুৎ ঝলকায়
ভয়ে হিয়া চমকায়
সভা করি শশীতারা নাই গগনে।
আজি মোর একা রাতি
নিভিয়া গিয়াছে বাতি
কাঁদে মন নিরালায় সাথী স্মরণে।
লুটায়ে কানন ঝুরে
শাখীসব শাখা চূড়ে
গরজন জাগিয়াছে ক্ষ্যাপা পবনে।

 

 

 

 


সপ্তরাগের সুরের মায়া চায় ছড়াতে
আমার এ গান,
আজকে হৃদয় কোন স্বপনে চায় ভরাতে
আমার এ গান।
কাননে কাকলী কুজন আজিকে
করিছে কি গীতি সৃজন আজিকে
সে সুরের সাথে মধুর আবেশে চায় জড়াতে
আমার এ গান।
হাওয়া দেয় দোল, মন উতরোল
লীলাময় চারিধার,
বনে ফুল হাসে, বলাকা আকাশে
গীতময় মন আমার।
মধুপের সাথে মিতালী আমার
নদী কলতানে গীতালী আমার
দখিনা হাওয়াতে মৃদু ঢেউ তুলে চায় হারাতে
আমার এ গান।

 

 


তোমার ভালবাসার মাঝে আমার হৃদয় পথ হারায়,
তৃণের মত তুচ্ছ এ প্রেম যায় উড়ে যায় দুরন্ত বায়।
ভুবন মাঝে কেই বা জানে
কত যে প্রেম ওই ও প্রাণে
ভীরু এ প্রাণ কেমন করে গোপন রাখী আজ জড়ায়!
আমার হৃদয় তোমার কাছে কতই ঋণে পড়ল বাঁধা
তোমার মনের সুরে সুরে আমার মনের সুরটি সাধা
তোমার কাছে শুধুই নেব
বিনিময়ে কিই বা দেব
দুইটি প্রাণের আশা যেন একই রাগের সুর ছড়ায়।

 

 

 

 

 


আকাশ জুড়ে মেঘ খেলে ওই শ্বেত বলাকা হয়ে,
জানত কে আর আজকে প্রভাত আনবে খুশী বয়ে!
মেঘ ভাঙ্গা রোদ হাসছে আজি
লুটিয়ে ভরে পাতার সাজি
হাওয়ায় বাঁশি উঠল বাজি খুশির সমন্বয়ে।
এমনি মিষ্টি দিনে মোদের আবার মিলন হল
এই হৃদয়ের বেদনা আর কিছুই নাহি রল
মিলন মেলায় তাই তে এ প্রাণ
ছড়িয়ে দিল আনন্দগান
হৃদয় বীনায় উঠছে যে তান তাইত রয়ে রয়ে।

 

 

 

 

 


এক ফালি চাঁদ হাসে আকাশের গায়,
সিন্ধ মায়ায় ভরা এই সন্ধ্যায়।
মৃদু মধু হাওয়া বয়
সবই যেন মায়াময়
সব কিছু ভালো লাগে এই সন্ধ্যায়।
মৌমাছি মধু নিয়ে ফিরেছে কুলায়
কত কথা জেগে ওঠে তারায় তারায়
চারিদিকে শুধু গান
ঝিঁঝিঁদের মৃদু তান
সব কিছু মধুময় সাঁঝের মায়ায়।

 

 

 

 

 


কভু আমি ছিনু হেথা এ কথাটি মনে রেখো,
যদি জলে ভরে আঁখি আঁচলেতে তারে ঢেকো।
আমি চলে যাই
শুধু বলে যাই
আমি যে ছিলাম হেথা
মনে রেখো তাই।
বেদনার কিছু ছবি হৃদয়েতে তব এঁকো।
হয়তো কোনদিন এমনি শ্রাবণ প্রাতে
আকাশ মেঘে ওই ভরে গিয়েছে,
বাজবে মনের বীণ মনে হবে সেই সাথে
জীবনের ডাকে কে যে সরে গিয়েছে।
আমি আজ তাই
এই বলে যাই
দেখবে যখন চেয়ে
আমি কাছে নাই
মোরে ভেবে শুধু ওগো পিছনেতে চেয়ে দেখো।

 

 


আর একটি আশাভরা দিন গেল বয়ে,
রাত্রি ঘনায়ে এল বেদনারে লয়ে।।
গগনে জোছনা হাসে
মৃদু মধু হাওয়া আসে
ফুলেরা গোপন ভাষে কি যে গেল কয়ে।।
সাথীহারা মন মোর নাহি দেয় সাড়া
প্রকৃতির উৎসবে আজি বানী হারা
চেয়ে থাকি দূর পানে
জাগে ব্যাথা মোর প্রাণে
কোনখানে কেবা জানে সে যে রয়ে গেল।।

 

 

 

 

 


বিদায় নিয়ে যে পথ দিয়ে সেদিন এলেম চলে,
ইচ্ছে ছিল সেই পথেতে ফিরব আবার বলে।।
ফিরব, যখন প্রভাত জাগে
জগত হাসে অরুণ রাগে
কুজন ওঠে কুসুম বাগে সবুজ পাতার কোলে।
ভ্রমর করে আনা গোনা নবীন আমের বোলে।।
সে সাধ আমার পুরণ আজো আর তো হল না
আবার দেখার মধুর সে ক্ষণ আর তো এল না
প্রভাত গিয়ে সাঁঝের মায়া
ঘনায় রাতের কাজল ছায়া
হৃদয় মাঝে অনেক আশা দোদুল দোলায় দোলে,
আবার হবে মিলন মোদের শুভ সময় হলে।।

 

 

 

 

১০
কাছে এসে মৃদু হেসে কি যে বলে যাও,
বলে তো যাও না ওগো কি যে তুমি চাও।।
যাবার পথেতে মোর
দাঁড়ায়ে কেন থাক,
এড়ায়ে চলে যেতে
পিছনে কেন ডাক;
আমারে জ্বালায়ে সুখ কি যে তুমি পাও।।
তোমারে দেখি যবে
শিহর মনে লাগে
পুলকে না কে জানে
কি ভয় মনে জাগে
মন চায় আঁখি পায় সহে না যে তাও।।

 

 

 

 

১১
যদি তুমি বারণ কর আশা কিছুই করব না,
যদি তুমি যাবেই চলে পায়ে তোমার পড়ব না।।
তোমার পথে যাও তুমি যাও
ফিরে আবার কেনই বা চাও
দিন আমার কেটেই যাবে জলে নয়ন ভরব না।।
ভালো যখন বাসই না গো
মায়া কেন লাগে তবে
কেন ভাব তোমায় ছাড়া
জীবন আমার কেমন হবে
শূন্য জীবন যেটুক বাকি
যখন যেথায় যেমন থাকি
বিফল ব্যথার স্মৃতি লয়ে তোমায় তবু স্মরব না।।

 

 

 

 

১২
ছড়ায়েছে ধরার বুকে দিনমনির আলো
চেয়ে থাকি সুদূর পানে নয়ন জুড়ালো।।
মিষ্টি মধুর রবির কিরণ
রঙ ছড়ালো সোনার বরণ
পাতায় ঘাসে ঝিকিমিকি আবেশ জাগালো।।
বাদল ধোয়া ধরার পরে সূর্য জাগে হেসে
গগন জুড়ে সাদা মেঘের বলাকা যায় ভেসে
উতল ঝিরি হাওয়ার পরশ
আনে হৃদে কি এক হরষ
সুনীল গগন উদাস এ প্রাণ সুরে জড়ালো।