মুজিব বর্ষ উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে ২৫টি মডেল মেডিকেল শপের উদ্বোধন

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে ২৫টি মডেল মেডিকেল শপের উদ্বোধন

পংকজ কুমার নাগ শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মুজিব বর্ষ উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে ২৫টি মডেল মেডিকেল শপের উদ্বোধন করলেন সরকারি অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড.মো. আব্দুস শহীদ এমপি।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের হাজী আব্দুল ওহাব ম্যানশনে বাংলাদেশ ফার্মেসী মডেল ইনিশিয়েটিভ পাইলট প্রকল্প (বিপিএমআই)-এর আওতায় মুজিব বর্ষ উপলক্ষে উপজেলার এসব মডেল মেডিকেল শপের উদ্বোধন করেন তিনি।

বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি শ্রীমঙ্গল শাখার উদ্যোগে সংগঠনের উপজেলা শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সরকারি অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড.মো. আব্দুস শহীদ এমপি। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অর্ধেন্দু কুমার দেব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ)-এর শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি ডা. হরিপদ রায় প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক ও সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ফুয়াদ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার পঁচিশটি মডেল মেডিকেল শপগুলো হলো- আরোগ্য ঔষধালয়, আম্বিয়া’স প্রেসক্রিপশন পয়েন্ট, হ্যাপি ড্রাগ হাউস, নন্দী মেডিকেল হল, মেডিসিন গ্যালারী, উদয়ন ফার্মেসি, আখলাক ফার্মেসি, ইকোনমিক ফার্মেসি, আকিঞ্চন ফার্মেসি, মুক্তি মেডিকেল, সৈয়দ ফার্মেসি, জননী ফার্মেসি, ব্রাদার্স, মায়া, আদিবা, স্মৃতি, মডেল, রত্না, ফারিয়া, হাসনাত, তাওহীদ, জননী, আইডিয়াল, সাহা এবং অন্নপূর্ণা ফার্মেসী।

বাংলাদেশে ওষুধের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারনেশনাল ডেভলাপমেন্ট (ডিএফআইডি)-এর অর্থায়নে ম্যানেজমেন্ট সাইন্সেস ফর হেলথ (এমএসএইচ)-এর সহায়তায় ‘বাংলাদেশ ফার্মেসি মডেল ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনস্থ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘অ্যাক্রিডিটেটেড ড্রাগ সেলার শপ’ স্থাপন ও অনুমোদনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৬ সালে। এর জন্য সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্পটি গ্রহণ করে। এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে দাতা সংস্থা ডিএফআইডি এবং বাস্তবায়ন করে এমএসএইচ । এই প্রকল্পের আওতায় নেওয়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশে ব্যক্তিমালিকানায় যেসব খুচরা ফার্মেসি পরিচালিত হচ্ছে সেগুলোকে দুইটি স্তরে ভাগ করা হয়। প্রথম স্তর- মডেল ফার্মেসি, দ্বিতীয় স্তর-মডেল মেডিসিন শপ। 

প্রথম স্তর- “মডেল ফার্মেসি” হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো মডেল ফার্মেসিতে একজন বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকবেন, যার দায়িত্বে থাকবে পুরো ফার্মেসিটি। ফার্মেসির আয়তন হবে ন্যূনতম ৩০০ বর্গফুট এবং থাকবে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ওষুধ বিক্রয়ের সঙ্গে রোগীকে ওষুধ সেবনের পদ্ধতি বলে দেওয়া এবং নিয়মিত সঠিকভাবে ওষুধ গ্রহণ করার জন্য কাউন্সিলিং করা।
দ্বিতীয় স্তর- “মডেল মেডিসিন শপ” মূলত বাংলাদেশের সর্বত্র সঠিক ওষুধসেবা নিশ্চিত করার জন্যে মডেল ফার্মেসি থেকে কিছুটা শিথিল শর্ত নিয়ে তৈরি। মডেল মেডিসিন শপের আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে ন্যূনতম ১২০ বর্গফুট। গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টের অপ্রতুলতার কারণে গ্রেড বি (ডিপ্লোমা) ফার্মাসিস্ট বা ন্যূনতম গ্রেড সি ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের কিছু স্বল্পমূল্যের প্রস্তুতি রাখতে হবে; যেমন, সিলিং ফ্যান ও একজস্ট ফ্যান, ফ্রিজ ইত্যাদি। ওষুধ বিক্রয়ের সঙ্গে রোগীকে ওষুধ সেবনের পদ্ধতি বলে দেওয়া এবং নিয়মিত সঠিকভাবে ওষুধ গ্রহণ করার জন্য কাউন্সিলিং করা।
সার্বিকভাবে মডেল ফার্মেসি আর মডেল মেডিসিন শপের পরিচালনার নিয়মকানুন নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি স্ট্যান্ডার্ডও তৈরি করে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক শহর ও গ্রামের ফার্মেসিগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের পর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে ‘মডেল ফার্মেসি’ ও ‘মডেল মেডিসিন শপ’ উদ্বোধন করা হয় এবং লোগো প্রদান করা হয়। এরপূর্বে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের ফার্মেসিতে কাজের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পের মেয়াদ সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২০ পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে মোট ১১টি জেলা।

ছড়িয়ে দিন