ঢাকা ১৯শে জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১২ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

মেঘদূতদের আড্ডা

redtimes.com,bd
প্রকাশিত জানুয়ারি ৭, ২০২২, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মেঘদূতদের আড্ডা

  কামরুল হাসান 
কবি কালিদাসের অমরকাব্য ‘মেঘদূত’ বাংলা সাহিত্যে এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য, সোনালী উত্তরাধিকার। সে নামে কবিতা আবৃত্তির সংগঠন গড়ে তোলেন মসয়ূদ মান্নান ও আবদুল মোমেন সেই ১৯৮৩ সালে। মসয়ূদ তখন বুয়েটের ছাত্র, আবদুল মোমেন বুয়েট থেকেই পাশ করে সদ্য চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। কবিতাপ্রেমী দুই প্রকৌশলবিদ্যার ছাত্র গড়ে তুললেন আবৃত্তির সংগঠন। তখন মেঘদূতের সাথে সংযুক্ত ছিলেন সজল সমাদ্দার, লুনা সিকদার প্রমুখ। প্রধান কাজ ছিল সদস্যদের আবৃত্তি শেখানো।

 

 

সে এক সময় ছিল বাংলাদেশে কবিতা আবৃত্তি আন্দোলন উত্থানের। কামরুল হাসান মঞ্জু গড়ে তুলেছেন ‘স্বরিত’, ইস্তেকবাল হোসেন ‘স্বরশ্রুতি’, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ‘বৃন্দ’। ‘স্বনন’-এর শুরু রাজশাহী থেকে। ‘কণ্ঠশীলন’ প্রতিষ্ঠা করেন ওয়াহিদুল হক। রেজিনা ওয়ালি লীনা প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘মুক্তধারা’, কাজী আরিফ ‘মুক্তকণ্ঠ’। ১৯৮৫ সালে দর্শনীর বিনিময়ে কবিতা আবৃত্তি শোনার আয়োজন হলো ব্রিটিশ কাউন্সিলে। তখন দর্শনীর বিনিময়ে কবিতা আবৃত্তি শোনার লোক ছিল ঢাকায়, এখন বিনামূল্যে শোনার লোক পাওয়া দুস্কর! সেই আয়োজন যেন আবৃত্তি চর্চার হাউই উড়িয়ে দিল হাওয়ায়। ১৯৮৮ জার্মান বাংলা কবিতা আবৃত্তি উৎসব হলো সাড়া জাগিয়ে। পক্ষ, প্রতিপক্ষ নিয়ে টেনশন ছিল, কিন্তু দৃঢ় ভূমিকা দিয়ে তা জয় করেছেন মসয়ূদ মান্নান। তখন গ্যেটে ইনস্টিটিউট ছিল ধানমন্ডির ২ নম্বর রোডে। মসয়ূদের সুস্পষ্ট মনে আছে কবি রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এসেছিল তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে। সে উৎসবে প্রথম কবিতা পড়েছিলেন শমী কায়সার, দ্বিতীয় মসয়ূদ। ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট হয়ে এরশাদবিরোধী মঞ্চে কবিতা পড়েছেন এরশাদের পতনের ঠিক পরের দিন। ১৯৯০ সালে গঠিত হয় আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় হন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

এদেশে চাকরিতে বেতন ভারি কম উপলব্ধি করে মার্কিন মুলুকে পাড়ি দিলেন প্রকৌশলী আব্দুল মোমেন , মেঘদূতের ভার এসে পড়ল মসয়ূদ মান্নানের একক স্কন্ধে। ততদিনে সে যোগ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তরুণ ডিপ্লোম্যাট হয়ে। নব্বই দশকের শুরুতে তার পোস্টিং হলো বিলেতে, মেঘদূত ডানা গুটিয়ে রইল ঢাকায়। এরপর এই হলো নিয়তি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মসয়ূদের পোস্টিং হয়, মেঘদূত পড়ে থাকে বাংলাদেশে। কেবল যখন তার পোস্টিং হয় ঢাকায়, মেঘদূত জেগে ওঠে ডানা ঝাপটিয়ে।

 

 

 

২০০৭ সালে মসয়ূদ বেশ কিছুদিনের জন্য ঢাকায় ডেপুটি চীফ অব প্রটোকল হয়ে এলো, তখন সে মেঘদূতকে চাঙ্গা করে তুলল। একে একে যুক্ত হলন  কবি দিনার সুলতানা বিনতি, কবি সৌমিত্র দেব ও আমি। তিন কবির সাথে যুক্ত হলেন একদল আবৃত্তিকার- চিকিৎসক ফারহানা, ব্যাংকার সালাহ উদ দীন, প্রকৌশলী আমিনুর রশিদ, গৃহবধূ সাগুফতা। এলো মুর্তজা মৌমি, সৈয়দ মুতাকিল্লা, মোহাম্মদ সাকিন, সাজ্জাদ ও ফরহাদ। এরা সবাই তরুণ, তখন ছাত্র বা ছাত্রী। এরা সবাই কবিতা ভালোবাসে, কবিতা আবৃত্তি শিখতে আগ্রহী। সবার মাঝে বয়োঃজেষ্ঠ্য হলেন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রশিদ হায়দার। তিনি মসয়ূদ মান্নানের নানা, সেইসূত্রে আমাদের সকলের ‘নানা’।

 

 

মেঘদূত’ পরপর অনেকগুলো কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান করে ঢাকায়। প্রথম ছিল পাবলো নেরুদার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গুলশানের মেক্সিকান রেস্তোরাঁ এল টরোতে নেরুদার কবিতা পাঠের আসর। জার্মান কালচারাল সেন্টারে জার্মান কবিতা, রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে রাশান কবিতা, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে স্বাধীনতা ও বিজয়ের কবিতা, একুশে ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের কণ্ঠে নিজ নিজ ভাষা নিয়ে লিখিত কবিতা পাঠের আসর বসেছিল। প্রতিটি অনুষ্ঠানের আগে নুজহাত মান্নান ও মসয়ূদ মান্নানের দিলু রোডের বাসায় নিয়মিত আবৃত্তি চর্চা, আড্ডা, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ঘিরে উপরে উল্লেখিত আবৃত্তিকারগণ পরস্পরের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। মসয়ূদ ফের বিদেশে চলে গেলে অনুষ্ঠানমালায় ভাটা পড়ে। বস্তুত ২০১২ সাল থেকেই মসয়ূদ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের ভূমিকায়। তাঁর অনুপস্থিতিতে আর একটি অনুষ্ঠানও আমরা করতে পারিনি, নেতৃত্ব দিতে পারিনি।।এর মাঝে, মসয়ূদের বিদেশকালীন অধ্যায়ে, দুজন মেঘদূত সদস্য ডা. ফারহানা ও শাগুফতা হোসাইন তাদের স্ব স্ব গৃহে মেঘদূত সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়ে আপ্যায়ন করেছিল। ডা. রশিদ হায়দার নিয়ে গিয়েছিলেন গুলশান ক্লাবের পিঠা উৎসবে।

 

 

মসয়ূদ মান্নান তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। শীতকালীন ছুটিতে সে এখন ঢাকায়। মেঘদূত সদস্যদের একত্রিত করার প্রথম সুযোগটি গ্রহণ করে আমি আমন্ত্রণ জানাই সকলকে। মেসেঞ্জারে মেঘদূত গ্রুপ কাজটি সহজ করে দেয়। আমি লিখি, ‘প্রিয় মেঘদূতগণ, নতুন বছরের শুরুতে আপনাদের আমন্ত্রণ আমার গৃহে। অনেকদিন পরে মেঘদূতরা মিলিত হবে মেঘউৎসবে। মেঘরাজ এখন ঢাকায়। তিনি আসবেন তাঁর ধবল ডানা মেলে। দেখা হবে মেঘলোকে।’ ডানা মেলেই তারা এলেন, প্রথমে সালাহ উদ দীন, দ্বিতীয় দিনার সুলতানা বিনতি, তৃতীয় সস্ত্রীক রাষ্ট্রদূত স্বয়ং। এরপর এলেন কবি সৌমিত্র দেব, পলা দেব ও তাদের পুত্র সৌভাগ্য। সাজিদ ও সাকিন এলেন পরপর। কিছুটা বিলম্বে আমিনুর রশীদ এবং সবচেয়ে বিলম্বে সৈয়দ মুতাকিল্লা। অতিথিদের স্বাগত জানানো হলো কমলার রসে, সেমাই ও বিবিধ ফলে। তবে তারা পছন্দ করল লুবনার তৈরি ফ্রুুট সালাদ।

 

 

 

\

আড্ডা জমে উঠল প্রবল আর তাতে বরাবরের মতোই প্রধান কথক মসয়ূদ মান্নান। তিনি তুরস্কের রাষ্ট্রদূত, তার ঝোলা ভরা তুরস্কের গল্প। তাতে তুরস্কের ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি, মানুষ, বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদুয়ানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতা, বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উঠে এলো। মসয়ূদ দায়িত্ব নেবার পর তুরস্কের সাথে অনেকগুলো শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশের। সে দেশে বঙ্গবন্ধুর এক মিটার দীর্ঘ পূর্ণদেহ ভাস্কর্য এবং বঙ্গবন্ধু এ্যাভেনু
(ওরা বলে বুলেভার্ড) প্রতিষ্ঠার অনেকগুলো শুভসংবাদ সে আমাদের জানাল। মসয়ূদ যখন টেবিলজুড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বক্তা তখন দিনার সুলতানা বিনতিকে দেখি নিবিষ্টমনে নিজ কাব্যগ্রন্থ উপহার দেবার জন্য দীর্ঘ কথামালা লিখে চলেছে। সালাহ উদ দীন যে আমার ও মসয়ূদের দুবছরের সিনিয়র তা আজ জানলাম। একসময় বিটিভিতে ইংরেজি সংবাদ পাঠ করা ব্যাংকার মানুষটি অবসরে গেছেন তাও দু বছর হতে চল্ল। পলা দেব প্রজাপতির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরময় আর বলছে ‘কী সুন্দর আপনাদের বাসা’। আমি আমার চিররসিক চাচা জিয়াউল কুদ্দুসের অনুকরণে বলি ‘পছন্দ হয়েছে?’ কিশোরীর মতো চঞ্চল ও উচ্ছ্বাসপূর্ণ পলা বৌদি মাথা নাড়ায়, ‘হয়েছে’। আমি তখন বলি, তাহলে থেকে যান (লিয়ে লিন বলি না, কেননা এ বাড়ি তো আমার গিন্নির)। বৌদি বালিকার সরলতায় হাসেন।

 

 

 

সেই যে ২০০৭-২০১২ সময়কালে আমরা একসঙ্গে কবিতা আবৃত্তির চর্চা ও অনুষ্ঠান করতাম সে সময় থেকে ৯ বছরে অনেক জল মেঘনায় ( বুড়িগঙ্গা না বলাই ভালো, ওটা কোনো নদী নাকি?) বয়ে গেছে, মুতাকিল্লা ( কে যেন বল্ল অত স্মার্ট যুবকের অমন প্রাচীনগন্ধী নাম কেন?) পড়াশোনা শেষ করে মধ্যম সারির ব্যাংকার থেকে এখন দেশের একটি নাম করা রিয়েল এস্টেট কোম্পানির  নির্বাহী  পরিচালক  হয়েছে, সাকিন পিএইচডি করছে আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, সাজিদ কৃষিখামার গড়ে তুলছে ত্রিশালে। বিনতি পর্দানশীন হয়েছে। তার পোষাকে আরব দেশের ছাপ, পলা বৌদির বিপরীত। নুজহাত ভাবী সম্ভ্রান্ত বাঙালি পোষাকে। ৯ বছর পরে দেখা হলেও আমরা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়মাখানো চোখে আবিস্কার করলাম খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি আমাদের। সেসময়ে উচ্চারিত বাক্য হলো, ‘আপনি তো সেই আগের মতনই আছেন, খুব একটা বদলানি।’ এ হলো মমতাভরা বাক্য, কারণ ওই ‘খুব একটা বদলাননি’ বলে দেয় বদল ঘটেছে, বিশেষ করে আমরা যারা ভাটির টানে- সালাহ উদ দীন ভাই, মসয়ূদ মান্নান ও আমি নিশ্চিত পাল্টে গেছি।

 

 

 

আমরা যখন গল্পে মশগুল তখন লুবনা টেবিল সাজাচ্ছে। পলা দেব রান্নাঘরে গিয়ে প্রতিটি ডিশের ছবি তুলেছে- মাছের কোফতা, চিকেন রোস্ট, টিকিয়া কাবাব, মিক্সড ভেজিটেবল, বীফ কারি, ডিমের সালাদ, পোলাও- এক এক করে উঠে গেছে তার ক্যামেরায়। টেবিলে এসে তারা ভোজনরসিকদের দর্শনের সুখ হয়ে রইল কিয়ৎকাল, পরে ভোজনের তৃপ্তি হয়ে রইল অনেকক্ষণ। লুবনার রান্নার প্রশংসা ঘুরতে লাগল মুখে মুখে সাথে ওই রন্ধনযজ্ঞে আমার অবদান যে অতিসামান্য বা নাই বললেই চলে- তা আবিস্কার করে আমা প্রতি ভর্ৎসনা।

 

 

 

ডিনারের পর আমরা বসবার ঘরের সোফা ও চেয়ারগুলো জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসলাম। মেঘদূতগণ একসঙ্গে আর কবিতা আবৃত্তি হবে না, এও কি কখনো হয়। কবিতা আবৃত্তি চল্ল একের পর এক। কবিরা আবৃত্তি করলেন যার যার কবিতা, বাকিরা অন্যের। ব্যতিক্রমও ঘটল, দুজন আবৃত্তিকার আমিনুর রশীদ ও সালাহ উদ দীন আবৃত্তি করলেন নিজেদের লেখা কবিতা। সালাহ উদ দীন যার ইংরেজি উচ্চারণ এতটাই ভালো যে তিনি বিটিভিতে ইংরেজি নিউজ পড়তেন, আমার টিয়ানা কবিতাটি ইংরেজিতে চমৎকার পড়লেন। কবিতাটি সবার এত পছন্দ হলো যে তারা মূল বাংলাটি খুঁজল। মুতাকিল্লা পড়ল পাবলো নেরুদার সেই কবিতাটি যা সে এল টরোতে পড়েছিল। বিখ্যাত কবিতার একটি পঙক্তি হলো, ‘Tonight I will write the saddest lines.’

 

 

সবচেয়ে প্রভাবশালী কণ্ঠ ছিল আমিনুর রশিদের, আবৃত্তির গুণে কবিতা যে কত আবেদনময় হয়ে ওঠে তা বোঝা যায় তার আবৃত্তিতে। সবাই বেশ লম্বা লম্বা কবিতা পাঠ করছিল। তবে আকর্ষনীয় জয়ে কানে বাজছিল দ্যুতিময় ছোটো কবিতগুলো। সৌমিত্র দেব, আমিনুর রশীদ, সালাহ উদ দীন এমনি তিনটি মুক্তো কবিতা শোনালেন।

 

 

 

 

কবিতা আবৃত্তিতে অনেকটা সময় কাটলে আমরা ফের ডাইনিং টেবিলে ফিরে আসি। অতিথিরা প্রায় সবাই মিষ্টি এনেছেন, মসয়ূদ এনেছে রসগোল্লা, সালাহ উদ দীন চমচম ও সন্দেশ, মুতাকিল্লা আইসক্রিম কেক। লুবনা তৈরি করেছিল গুড়ের সন্দেশ ও পুডিং। ডেজার্ট ঘিরে ফের আড্ডা, দলবদ্ধ ছবি তোলা, স্মৃতিচারণ সব জমে উঠল সিনেমার সেকেন্ড হাফের মতো, আবৃত্তি ছিল।ইন্টারভাল। অতিথিরা লুবনা ও আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে অসীম সৌজন্য দেখিয়ে একে একে বিদায় নিলো। মেঘদূত আড্ডা শেষ হলো রাত্রি সাড়ে ১১ টায় আর দুই মেঘদূত সৌমিত্র (পরিবারসহ) ও বিনতিকে ষথাক্রমে কনকর্ড লেক সিটি ও রামপুরায় নামিয়ে দিয়ে যখন আমি ও ছোটো মেয়ে লাবণ্য মেঘমল্লারে ফিরেছি তখন ঘড়িতে অবিশ্বাস্য ১টা কুড়ি। তাও ওই মধ্যরাতে পথঘাট এডিনবরার মতন ফাঁকা ও মসৃণ ছিল বলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30