মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭

মেয়র  মহিউদ্দিন চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন

চশমাহিলের পারিবারিক কবরস্থানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে দাফন করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজার শেষে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠককে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে সদ্য প্রয়াত সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে শেষ বারের মতো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এর আগে শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মৃত্যুকালে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্র ও কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন।

১৪ বৃহস্পতিবার ডিসেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

তার বড় ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানান, ডাক্তাররা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রেখেছিলেন। সেখানে দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাবার জন্য সবাইকে দোয়া করতে বলেছেন।

এর আগে মহিউদ্দিন চৌধুরী সুস্থ হওয়ার পর গত মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামে ঘরে ফেরেন। ঢাকরে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সড়কপথে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। স্কয়ার হাসপাতালের দু’জন চিকিৎসকও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। এ ছাড়া ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার বড় ছেলে ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও পরিবারের অন্য সদস্যরা।

গত ১১ নভেম্বর রাতে তিনি হার্টের সমস্যা ও কিডনিজনিত রোগে গুরুতর অসুস্থ নগরীর ম্যাক্স হাসাপাতালে ভর্তি হন। পরের দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে করে এনে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ১৬ নভেম্বর অসুস্থ মহিউদ্দিনকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে এনজিওগ্রাম সম্পন্নের পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেন। প্রায় ১০ দিন পর গত ২৬ নভেম্বর তিনি দেশে ফিরে পুনরায় স্কয়ার হাসাপাতালে ভর্তি হন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ৭৪ বছরের জীবনে মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন ১৭ বছর। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি।