মেয়েকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা!

প্রকাশিত: ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০১৬

মেয়েকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা!

এসবিএন ডেস্ক: খুলনার আহসান আহমেদ রোডের একটি বাড়ি থেকে বাবা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছে।

পুলিশ বাবা মোড়ল মোস্তফা কামাল (৪৮) ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের (১৪) লাশ উদ্ধার করে। মেয়েটি ছিল শারীরিক ও বাক প্রতিবন্ধী। মোস্তফা কামালের বাড়ি বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার আটটাকা গ্রামে। তিনি খুলনা পরমাণু শক্তি কমিশনে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করতেন এবং আহসান আহমেদ রোডের ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে মোস্তফা কামাল গতকাল রাত ১০টার দিকে ‘আত্মহত্যার চিরকুট’ লেখার পর মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরে নিজে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অফিসের কিছু কাজের ব্যাপারে মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপে ছিলেন মোস্তফা কামাল। তা ছাড়া বড় মেয়ের শারীরিক অসুস্থতাও তাঁকে হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। এ কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, মেয়ে ও বাবা এক কক্ষে থাকতেন। মেয়েকে সেবাযত্ন ও সব সময় কাছে কাছে রাখতেন মোস্তফা কামাল। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মেয়ে ও বাবা একসঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন। সকালে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এ সময় তাঁরা মোস্তফা কামালকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। আর পাশেই পড়ে ছিল মেয়ের লাশ। পরে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

‘আত্মহত্যা চিরকুটে’ মোস্তফা কামাল তাঁর আত্মহত্যার জন্য খুলনা পরমাণু শক্তি কমিশনের পরিচালক অশোক কুমার পালকে দায়ী করে গেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অশোক কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘পিঠের অস্ত্রোপচারের পর ৩ জানুয়ারী কাজে যোগ দেন মোস্তফা কামাল। ওঠা-নামায় সমস্যার কারণে তিনি আমার কাছে নিচতলায় একটি কক্ষ চান। সেই কক্ষের ব্যবস্থাও হয়ে গেছে। এর মধ্যে তিনি মারা গেলেন।’ তাহলে তাঁর নামে অভিযোগ কেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা জানি না।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

August 2022
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031