মোদিবিরোধী মিছিলে হামলা সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত

প্রকাশিত: ১১:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২১

মোদিবিরোধী মিছিলে হামলা  সাংবাদিকসহ  কয়েকজন  আহত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মশাল মিছিলে বেপরোয়া হামলা। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। এতে দুই সাংবাদিকসহ তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

হামলায় মাথা ফেটে যায় প্রথম আলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আসিফ হাওলাদারের। গুরুতর আহত হয়ে তিনি প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে তাঁকে ল্যাবএইডে নিয়ে যাওয়া হয়।

অন্যদিকে আজ বিকেলে মোদিবিরোধী ‘জেয়াফত’ নামের একটি কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়। হামলার ভিডিও ধারণ করার সময় বেপরোয়া মারধর করা হয় বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবিদ হাসান রাসেলকে। এ সময় তাঁর মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই হামলাও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সন্ধ্যা ৭টায় নীলক্ষেত থেকে কর্মসূচি শুরু করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। মশাল মিছিলে প্রগতিশীল নয়টি সংগঠনের কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেয়। এর আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্ত্বরে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও দাবি করেন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাশে অবস্থান নেন। মিছিলটি স্মৃতি চিরন্তনের দিকে এলে এতে হামলা চালোনো হয়। হামলায় জোটের নেতারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

জোটের কিছু নেতাকর্মী ফুলার রোডের দিকে পালিয়ে গেলে সেখানে তাদের মারধর করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন মিডিয়ার ফটো জার্নালিস্টদের ধাওয়া দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পালাতে থাকা জোটকর্মীদের খুঁজে খুঁজে মারধর করা হয় বলে হয় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী দাবি করেন, ‘ছাত্রলীগ আমাদের ওপর ভিসি চত্বরে মিছিল নিয়ে এসে হামলা করে। এতে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ছাত্রলীগের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের সবার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

তবে এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘যারা হামলা করেছে তারা ক্যাম্পাসের কেউ নয়। আর সাংবাদিক চেনা যায় না, অনেকে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে বসে থাকে। ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আবিদ হাসান রাসেল। আজ টিএসসির সঞ্জীব চত্বরে তাঁর ওপরে হামলা হয়।

নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে ‘জেয়াফত’ নামে একটি কর্মসূচি দেয় ‘বাংলাদেশের জনগণ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। কর্মসূচি শুরুর আগে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের মারধর করে ছাত্রলীগ তাদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরেও রাসেলের ওপরে হামলা করা হয়। হামলা থেকে বাঁচতে রাসেল টিএসসির ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও টিএসসির গেট বন্ধ থাকায় সেখানে গিয়ে তাঁকে পেটায় হামলাকারীরা। চার-পাঁচ জন বাঁশের লাঠি দিয়ে রাসেলের মাথা, পিঠ ও ডানহাতে মারধর করেন। হামলায় আহত সাংবাদিক আবিদ হাসান রাসেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।

আহত আবিদ হাসান রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘টিএসসিতে একটি সংগঠন মোদিবিরোধী ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। ছবি তুলতে গেলে হঠাৎ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে মারপিট শুরু করে। পরিচয় দিলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। আমার আইডি কার্ড ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক মাহি বলেন, ‘আমরা তাদের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তারা আবিদকে বেধড়ক মারপিট করে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) নিয়ে আসা হয়।’

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, হামলার শিকার হয়ে এক সাংবাদিক জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

Calendar

April 2021
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

http://jugapath.com