মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৮

মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

উজানে টানা বৃষ্টির কারণে মনু, কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর পানি বেড়ে মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে ।জেলা প্রশাসন জানিয়েছে , এতে চার উপজেলার তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে । সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ।

শনিবার সকাল থেকে মনু প্রতিরক্ষা বাঁধ (গাইড ওয়ালের) মাত্র দুই ইঞ্চি নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে । যে কোনো মুহুর্তে বাঁধ উপচে বন্যার পানি জেলা শহরে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে কমলগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে নিখোঁজ পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের লাশ শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে জেলায় কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী রনেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী পার্থ জানান, শনিবার সকাল ৯টায় মনু নদী মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাটের কাছে বিপদ সীমার ১৫৯ সেন্টিমিটারে এবং মনু কুলাউড়ায় রেলওয়ে ব্রিজে ১২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অপরদিকে কুশিয়ারা নদী শেরপুরে কাছে ৪০ সেন্টিমিটার ও কমলগঞ্জে ধলাই নদী বিপদ সীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মনু নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝূঁকিপূর্ণ হওয়ায় শহরবাসীকে শতর্ক থাকতে মাইকিং করা হয়েছে বলে পাউবির এ কর্মকর্তা জানান।

গত কয়েকদিন থেকে ভারতের উত্তর ত্রিপুরা এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় মনু, কুশিয়ারা ও ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মনু ও ধলাই নদীর ২২টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার পানি প্রবেশ করে কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও সদর উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। এতে তলিয়ে গেছে এ সব বাড়ি ঘর সহ রাস্তাঘাট।

শঙ্কর বলেন, “মনুর পানি না নামা পর্যন্ত মৌলভীবাজারে বন্যা ঝুঁকি থাকবেই। মনুর পানি নামে কুশিয়ারা দিয়ে; কুশিয়ারাও বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপরে।

“তাই পানি নামছে ধীরে। পানি বৃদ্ধি অভ্যাহত থাকলে মনু নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে শহর তলিয়ে যেতে পারে। এই মুহুর্তে মৌলভীবাজার শহর বড় রকমের ঝুঁকিতে রয়েছে।”

কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও রাজনগরে বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ও আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে বলে পাউবির এ কর্মকর্তা জানান।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর একটি দল মনু নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝূঁকিপূর্ণ স্থানগুলো শুক্রবার রাতে পরিদর্শন করেছে; শনিবার দুপুর থেকে জেলা সদরেও তারা কাজ শুরু করবে।

জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার অন্তত তিন লাখ মানুষ এই মুহুর্তে পানিবন্দি রয়েছে। বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে নগদ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে; পাশাপাশি ১৪৩ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জানান, বন্যা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করেছে তার উপজেলায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সব জায়গার ত্রাণ প্রদান ও উদ্ধার তৎপরতাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার কমলগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে পাঁচজন নিখোঁজ হন। এর মধ্যে শনিবার দুপুরে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে তিনি জানান।

নিহতর হলেন- কমলগঞ্জের ইসলাম পুরের ছাত্তার মিয়া (৫৬) ও তার ছেলে করিম মিয়া (২২) এবং সমশের নগরের প্রতিবন্ধি রমজান মিয়া (৫২)। বাকিদের নাম জানা যায়নি।

এদিকে বন্যার পানিতে জেলার ২৬শ হেক্টর আউশ ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে বলে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.শাহজাহান জানান, পানি না নামলে জেলার সব কৃষি ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

এদিকে ভারত থেকে আসা ছোট ছোট বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া দিয়ে জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম জানান, তাৎক্ষণিক দুর্গতদের মধ্যে কিছু শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছন। ত্রাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।