মৌলভীবাজারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে 2 টি কমিটি

প্রকাশিত: ১০:৫২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২০

মৌলভীবাজারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে  মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে 2 টি কমিটি

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিনবছরের শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা অনুষন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন। গঠন করা তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার কারন ও পরবর্তীতে এধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে মতামত ও সুপারিশ দাখিলের অনুরোধ জানানো হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বেগম তানিয়া সুলতানাকে আহবায়ক করে কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, জেনারেল ম্যানেজার পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি, মৌলভীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর মনবীর রায় মঞ্জু , দি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রি এর পরিচালক মুহিম দে ও মৌলভীবাজার বিজনেস ফোরাম এর আহবায়ক নুরুল ইসলাম কামরান।

দুর্ঘটনার কারন অনুষন্ধানে মৌলভীবাজার পৌরসভাও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কাউন্সিলার জালাল আহমদকে আহবায়ক করে কমিটির সদস্যরা হলেন- কাউন্সিলার ফয়ছল আহমদ, কাউন্সিলার স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী, পৌরসভার সচিব, মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্ট্রিজ এর প্রতিনিধি, বিজনেস ফোরামের প্রতিনিধি ও পৌরসভার বিদ্যুৎ শাখার প্রতিনিধিসহ অন্যান্যরা। ”

এদিকে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ট্রাজেডিতে শোকার্ত পুরো মৌলভীবাজার। ঘটনার পর থেকে শহরের সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে শহরের সাইফুর রহমান সড়কের পিংকি সু-স্টোর নামের একটি জোতার দোকানে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে পিংকি সু-স্টোরের সত্বাধিকারী সুভাষ রায় (৬০) সজল রায়ের স্ত্রী ও সুভাষ রায়ের বোন দিপ্তী রায় (৪৫) দিপীকা রায়(৪০) ও সজল রায়ের তিন বছর বয়সী কন্যা শিশু বৈশাখী রায় (৩) ও পিয়া রায় (১৫) এর মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়,সকাল ৯টার দিকে পিংকি সু-স্টোরে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত ঘটলে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো দোকানে। এসময় দোকানে প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী থাকায় আগুনের ভয়াবহতা মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়লে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। ঘরটির ছাদ প্রাচীণ আমলের কাঠের তৈরি হওয়ায় উপর তলায় ঘুমিয়ে ছিলেন সুভাষ রায়ের পরিবার । আগুনের লেলিহান শিখায় যখন নিচতলার সবকিছু পুড়ে ছাই তখনও সবাই ঘুমে। আগুনে নিচতলার প্রায় সাতজন বেড়িয়ে আসতে সক্ষম হলেও উপরতলার সবাই শব্দ শুনে ঘুম ভাঙলেও কারো পক্ষে বেড়িয়ে আসা সম্ভব হয়নি। যার কারনে উপর তলার সবাইর ভাগ্যে মৃত্যু ঘটেছে।

এদিকে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের দুটি ইউনিটসহ চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দু’ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।

এর পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ভিতর থেকে আগুনে দগ্ধ মরদেহ গুলো একে একে বের করে নিয়ে এসে এম্বুলেন্সে করে সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বৈদ্যতিক সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যেহেতু এটা জোতার দোকান ছিলো তাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে গ্যাসের লাইনে আগুন লেগে যায় এবং আমরা বালু দিয়ে তা আটকে দেই।

ভয়াবহ এঘটনায় প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কোন পরিসংখ্যান জানা না গেলেও ধারনা করা হচ্ছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় আগুনের লেলিহান শিখায় আশপাশের বাণিজ্যিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

ছড়িয়ে দিন