মৌলভীবাজারে একটি সেতুর গল্প

প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২১

মৌলভীবাজারে একটি সেতুর গল্প

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

শহরের খুব কাছে কয়েকটি গ্রাম । শুধু একটা সেতু হলেই তাদের সব দুর্ভোগের অবসান হবে । শহরের প্রাণকেন্দ্রে আসা যাবে সহজেই। এলাকার উন্নয়ন হবে । এখন খেয়াঘাটে গ্রীষ্ম -বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে নৌকায়, হেমন্ত – শীত ও বসন্ত মৌসুমে সুপারি গাছের সাঁকো , হাত দিয়ে ধরা জন্য বাশেঁর হাতল, আবার কখনও শীত মৌসুমে পায়ে হেঁটে নিত্যদিনের যাতায়াত করতে হয়। যেখানে মিনিটে শহরে আসা যায় – সেখানে ২৫/ ৩০ মিনিট সময় অপচয় করতে হয়।
ব্রিজের জন্য উদ্যোগী তরুণ বাবুল দেব জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  স্বপ্ন গ্রাম হবে শহর । সেই  লক্ষ্য নিয়েই  আমাদের পথ চলা শুরু হয় । যেখানে মিনিটে শহরকে হাত দিয়ে ছোঁয়া যায়, মৌলভীবাজার জেলা শহরের  প্রাণকেন্দ্র । পশ্চিমবাজার নদীর ওপারে উত্তর অঞ্চলে উন্নয়নের  জন্য তরুণদের এক আন্দোলন । এই গ্রামের তরুণরা শুরু করে ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেয়া । ধারাবাহিক ভাবে এলাকায় মিটিং , বিভিন্ন সংগঠন সহায়তায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় দুইবার। জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন, মন্ত্রী – সচিব মহোদয়ের  কাছে আবেদন এবং ধারাবাহিক ওয়াটস এপ মেসেজে খবর ছড়িয়ে দেয়া হয় । অনেক সাংবাদিক ভাইয়েরা এই খেয়াঘাটের মানুষের কষ্ট পারাপারের দৃশ্য বেশ গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদপত্র টেলিভিশন ও অনলাইন প্রচার করেন । বিগত সাড়ে চারবছর ধরে ব্রিজ নিয়ে হাহাকারের চিত্র তুলে ধরে প্রতিদিন ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি । এতে অনেকে  দুর্গতি ও কষ্টের কথা দেশ বিদেশে জানতে পারেন ।
সাবিয়া গ্রামের সহজ সরল ছেলেটি আরো জানান, আমরা আমাদের মাতৃভূমির অসহনীয় যন্ত্রণা প্রকাশ করতে এসেছি। মৌলভীবাজার জেলা একটি পযর্টন জেলা বলা হয়েছে এমনকি কাগজে কলমে । তাই    শহরের প্রাণকেন্দ্রে দৃষ্টি নন্দন ব্রীজ জরুরী প্রয়োজন, শহরতলির  নিরাপত্তা চাইছি । লন্ডন প্রবাসী গিয়াস আহমদ জানান পযর্টন জেলা শহরতলি দুটি খেয়াঘাটের মধ্যেখানে কুসুমবাগ এলাকায় পাশ দিয়ে মনুনদী উপর ব্রিজ হলে গ্রাম শহর মিলনমেলায় শহর অনেক আলোকিত পরিবেশ হবে। লন্ডন প্রবাসী মালিক আহমদ ( সাবিয়া) বলেন,  একটি ব্রীজ মাধ্যমে কর্মসংস্থান সুবিধা বাড়বেই কারণ জেলা শহরে প্রাণকেন্দ্র। লন্ডন প্রবাসী সালামত তালুকদার ( একাটুনা) কয়েকটি ইউনিয়ন সরাসরি শহরে প্রাণকেন্দ্র কমটাকায়- কমসময়ে নিরাপদে আসা ও যাওয়া করা যাবে। ব্যাংকার বাবলু আহমেদ জানান মা ও শিশু এবং বয়োবৃদ্ধ চিকিৎসা সেবা দ্রুত সময়ে নিতে পারবো। সাংবাদিক বকশী ইকবাল আহমদ জানান, এই সেতু এখন সময়ের দাবি । ।এ-ই ব্রীজের জন্য আবেদন করে ১৩মার্চ ২০১৯ সালে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ঈশান দেব স্বহস্তে প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা কাছে খোলা চিঠি লিখে ।সেটা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের হাতে তুলে দেয়া হয় ।এক ই বছর নভেম্বরে ব্রিজ পাগল বাবুল দেব সরাসরি পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ বাসভবনে গিয়ে তাঁর হাতে ব্রিদের দাবি তুলে দেন। তার ধারাবাহিকতায় পরিকল্পনা মন্ত্রী মৌলভীবাজার পরিশর্দনে আসেন । তখন সার্কিট হাউসে মন্ত্রী মহোদয় সাক্ষর করেন । সরাসরি সচিবালয়ে প্রকৌশলী বরাবর লিখে দেন। এই ফাইল ঢাকা গিয়ে ফেরত আসে কারণ ব্রীজের মাপ- নকশা বা স্থান রিপোর্টে কাগজের সাথে যায়নি, তারপর থেকে সেখানেই এই আবেদন রয়ে যায়।এর পরে মৌলভীবাজার শহরে সৈয়দ মুজতবা আলী পাঠাগারে পশ্চিমবাজার খেয়াঘাটে ব্রীজ নির্মাণের দাবি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় । মতবিনিময় সভা উদ্বোধন করেন জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বকসি ইকবাল আহমদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক কবি সৌমিত্র দেব । সৈয়দ মুজতবা আলী গবেষণা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে ও দৃষ্টিনন্দন ব্রীজ সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল দেব এর সঞ্চালনায় এই সভায় সর্বসম্মতি হয় পরদিন জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন পত্র তুলে দেয়ার। পরদিন তারা সেটা তুলে দেন । ব্রিজ সমন্বয় কমিটির সভাপতি আব্দুল গফফার বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল দেব উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের হাতে তুলে দেন। কয়েকটি গ্রামের তরুণরা মিলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংরক্ষিত আসনের মহিলা এম.পি   সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিনের  কাছে তাদের দাবি তুলে ধরেন। পরবর্তীতে কবি সৌমিত্র দেব এর নেতৃত্বে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার চৌধুরীর কাছে আবেদন পত্র তুলে দেয় হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান আবার মৌলভীবাজার পরিদর্শন করেন । তিনি আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত এ-ই ব্রীজ হবে ।

ছড়িয়ে দিন

Calendar

September 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930