মৌলভীবাজারে তাকরীম ফাউন্ডেশনে অনিয়ম

প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২১

মৌলভীবাজারে তাকরীম ফাউন্ডেশনে অনিয়ম

মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, মৌলভীবাজার:


মৌলভীবাজার জেলায় কোভিড -১৯ (সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত) রোগে দাফন কাজে নিয়োজিত তাকরীম ফাউন্ডেশন থেকে এস, এম গোলাম কিবরিয়াকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে মর্মে ফেইসবুক পোস্ট করেছেন সংগঠনের টিম প্রধান সাইফুল ইসলাম সরকার জুনেদ ।

২৯ জুলাই রাতে সংগঠনটির টিম প্রধান সাইফুল ইসলাম সরকার জুনেদের নিজ নামীয় Saiful Juned আইডি থেকে পোস্ট করে জানান যে,
কোভিড -১৯ (সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত) রোগে দাফন কাজে নিয়োজিত মৌলভীবাজার জেলায় ১ম প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাকরীম ফিউনারেল ফাউন্ডেশন এর সহকারী টিম প্রধান এস,এম গোলাম কিবরিয়াকে অব্যাহতি প্রদান করেছে সংগঠনটি।

গত ২৬   জুলাই  তারিখ সোমবার রাতে তাকরীম ফিউনারেল ফাউন্ডেশন এর ওয়াপদা রোডের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংগঠনের সদস্যগনদের নিয়ে জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সংগঠনের সদস্যগণ এস,এম গোলাম কিবরিয়ার পদবী ও সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ প্রসঙ্গে তাকরীম ফিউনারেল ফাউন্ডেশন এর টিম প্রধান সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন তাকরীম ফিউনারেল ফাউন্ডেশনের সহকারী টিম প্রধান এস,এম গোলাম কিবরিয়াকে বার বার সতর্ক করার পরেও তিনি সংগঠনের পরিচয় দিয়ে জনসাধারণ ও প্রবাসীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছেন যা কখনই কাম্য নয়। সংগঠনের সদস্যদের দ্বারা মানবতার ক্ষতি সাধন হয় এমন কিছু এই সংগঠন মেনে নেবেনা। সেজন্য সংগঠনের সহকারী টিম প্রধান এস,এম গোলাম কিবরিয়াকে এই সংগঠন থেকে সদস্যগণ অব্যাহতি প্রদান করেছেন। এখন থেকে এস,এম গোলাম কিবরিয়া তাকরীম ফাউন্ডেশন এর সদস্য নয় এবং তার সাথে সংগঠনের কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ করা হল। আর এ দায়দায়িত্ব তাকরীম ফাউন্ডেশন মেনে নেবেনা।

এ ব্যাপারে এস এম গোলাম কিবরিয়া’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কেন বা কি কারনে সাইফুল ইসলাম সরকার জুনেদ আমাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে মর্মে পোস্ট দিয়ে ভুঁইফোড় রেজিস্ট্রেশন বিহীন দুএকটা অনলাইন পোর্টাল দিয়ে সংবাদ পরিবেশ করিয়েছেন যে আমি বিভিন্ন লোক ও প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছি যা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।

কিবরিয়া আরো জানান যে, সর্বপ্রথম আমি এই সংগঠন করার উদ্যোগ নেই এবং পরে সাইফুল ইসলাম সরকার জুনেদসহ অন্যান্যরা সম্পৃক্ত হোন।

এই সংগঠন তৈরি করি আর্তমানবতার কল্যাণে করোনা মৌলভীবাজারে আক্রান্ত হওয়ার পরই এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। সংগঠনের যাত্রা লগ্নে আমি কিবরিয়া সর্বপ্রথম বরুনা মাদ্রাসার মুহতামিমের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিনের খেদমতে সংগ্রহ করে জুনেদ সাহেবের নিকট প্রদান করি৷ পরবর্তীতে দুবাই ফান সিটির সত্বাধিকারীর কাছে থেকে ৩টি গাড়ি ও সিএনজি সংগ্রহ করি তাছাড়া আমার ব্যক্তিগত পরিচিতির কারনে বিভিন্ন প্রবাসী ও দেশের বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করি এবং সব টাকা জুনেদ সাহেবের নিকট প্রদান করি৷

বেশ কিছুদিন যাবত উনার কাছে আমি টাকা পয়সার হিসেব চাইলেও তিনি কাউকে হিসেব দেননি। আমরা দাফন কাফন আল্লাহর রাস্তায় করে আসলেও সাইফুল ইসলাম সরকার জুনেদ পরবর্তীতে মৃত ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনদের নিকট যোগাযোগ করে টাকা এনেছেন যা আমাদের জানা রয়েছে৷

কিবরিয়া আরো জানান, এসবের হিসেব চাইলে তিনি বলেন হ্যা উনার কিছু সরঞ্জাম উপহার দিয়েছেন কিন্তু টাকার কোন হিসেব দেন নি৷ তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আভ্যন্তরিন কোন্দল চলছে যা অনেকেই অবগত আছেন।

আমি মৌলভীবাজার জেলায় তরুন ১৯ বছরের যুবক হয়ে তাকরীম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে ৩০টিরও বেশি লাশ গোসল ও দাফনে সরাসরি জড়িত ছিলাম এবং এখনো মানব সেবায় নিয়োজিত আছি।

অথচ তাকরীম ফাউন্ডেশনের টিম প্রধান হঠাৎ করে আমাকে অব্যাহতি দেয়ার ব্যাপারে আমাকে কোন অবগত করা হয়নি। এমনকি আমি জানার পর জুনেদ সাহেব কে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তাছাড়া আমি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা উদ্দোক্তা আমাকে কিভাবে কয়কেজনকে নিয়ে আমাকে বহিষ্কার করেন সেটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। সংগঠনে আমরা ২১ জন ছিলাম তারপর তিনি কোথা থেকে কাদের সংগঠনে যুক্ত করেছেন আমি তাদের চিনিও না। আমি যদি কোন অন্যায় বা অর্থ আত্মসাৎ করে থাকি আর তিনি প্রমান দিতে পারেন তাহলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।

তিনি ফেইসবুকে পোস্ট করে আমার মানহানি এবং বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। এ বিষয়ে আমি আইনের আশ্রয় নেব কারন আমার মানহানি করা হয়েছে। মানব সেবায় নিয়োজিত ছিলাম ও ভবিষ্যতেও থাকবো।

ছড়িয়ে দিন