মৌলভীবাজারে নাজিরাবাদে আইপিএল নিয়ে জমজমাট জুয়ার আসর, দু’পক্ষের ধাওয়া

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০১৮

মৌলভীবাজারে নাজিরাবাদে আইপিএল নিয়ে জমজমাট  জুয়ার আসর, দু’পক্ষের ধাওয়া

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার :
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ারলীগ (আইপিএল) নিয়ে জমজমাট  জুয়ার আসরে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় মৌলভীবাজারে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন যাবত আইপিএল নিয়ে গোবিন্দপুর বাজারের কয়েকটি স্পটে প্রতি রাতে জোয়ার আসর বসে। এনিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ তৈরী হয়। সর্বশেষ শনিবার রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী জালাল মিয়া বাজারের জননী জুয়েলার্সে চলা জোয়া বন্ধে বাধাঁ দিতে গেলে জোয়াড়ী মাহমুদ মিয়া (৩৫) , বাবুল মিয়া ও আতিক মিয়া তাকে লাঞ্চিত করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসময় অন্যান্য ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। থমথমে পরিস্থিতে স্থানীয় নাজিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ও বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি সৈয়দ এনামুল হক রাজা পুলিশকে খবর দিলে মৌলভীবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) তাপস রায় এর নেতৃত্বে পুলিশ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এস.আই তাপস রায় জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসি।
জানা গেছে এঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী জালাল মিয়া বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় জননী জুয়েলার্সের মালিক সুমন দেব , বাবুল মিয়া, আতিক মিয়া ও মাহমুদ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও জননী জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী জোয়ারী সুমন দেব এর স্বর্ণের দোকানে রাত ১০ টার পর থেকে বসে আইপিএল নিয়ে জোয়ার আসর, এখানে প্রতিরাতে অন্তত ৬-৭ লক্ষ টাকার লেনদেন হয় বলে জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ী জালাল মিয়া। তিনি বলেন, দিনদিন এখানে জোয়ারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকার কারনে বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে চুরির ঘটনা। তিনি বলেন, গত এক সাপ্তাহের মধ্যে বরইউড়ি ও দুঘর গ্রামে কৃষকের গোয়ালঘর থেকে অন্তত ৭টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। জোয়ার টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক যুবক নানা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। যার কারণে এলাকায় বাড়ছে নানা অপরাধ ও ছিনতাই। জুয়ায় আসক্ত হয়ে অনেকেই নিজের সঞ্চয়কৃত টাকা জুয়ার দানে নিয়ে যাচ্ছেন।